ঢাকা, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০ || ৬ কার্তিক ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ■ ৫ বছরের ধর্ষণ মামলার পরিসংখ্যান জানানোর নির্দেশ ■ কারাগারের ভেতরেই আসামিকে পিটিয়ে হত্যা ■ বান্দরবানে বন্দুকযুদ্ধে রোহিঙ্গা ইয়াবা কারবারি নিহত ■ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৩ লাখ ৮১ হাজার, মৃত্যু ৬ হাজার ■ পাহাড় কাটার সময় দু’শ্রমিক নিহত ■ আ.লীগ কর্মীকে গলা কেটে হত্যা ■ ফ্লোরিডার আগাম ভোটেও জো বাইডেন এগিয়ে ■ আজ থেকে ২৫ টাকায় আলু ■ সব জরিপেই বাইডেনের জয়ের আভাস ■ আজারবাইজানের দখলে আরও ২৪ গ্রাম ■ ইতালিতে কারফিউ জারি
এক কোম্পানিকে অযোগ্য ঘোষণা করতে বেবিচকের তালবাহানা
দেশসংবাদ, ঢাকা
Published : Wednesday, 9 September, 2020 at 5:34 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

বেবিচক

বেবিচক

আপনাকে টেবিলভর্তি খাবার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আপনি কিছুই খেতে পারছেন না। কারণ যারা খাবার সরবরাহ করেছেন তারা আপনার হাতমুখ বেঁধে রেখেছে। এ রকমই ঘটনা ঘটেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দুটি প্রকল্পের ক্ষেত্রে। কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল নির্মাণ এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অ্যাভিয়েশন হ্যাংগার, হ্যাংগার এপ্রোন ও ফায়ার স্টেশনের পাশে পৃথক এপ্রোন নির্মাণ প্রকল্পের ক্ষেত্রে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ সংক্রান্ত কার্যাদেশ দেওয়ার পরে তারা যাতে কাজ করতে না পারে সেজন্য নানা ধরনের অসহযোগিতা করেছে। বেবিচক শুধু এটি করেই থেমে থাকেনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান যাতে বাংলাদেশে আর কোনো কাজ করতে না পারে তার আয়োজনও সম্পন্ন করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, কক্সবাজার বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল নির্মাণের জন্য সিআরএফজি এনডিই জেভির বিপরীতে ২০১৮ সালের ১০ জুলাই বেবিচক কার্যাদেশ ইস্যু করে। সে অনুযায়ী কোম্পানিটি কাজ শুরু করার কথা। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বেবিচক নানা অসহযোগিতা শুরু করে। বেশ কিছুদিন যাবত্ বেবিচক প্রকল্প এলাকা সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে হস্তান্তর করেনি। বিভিন্ন ধরনের লাইটপোস্ট, সেপটিক ট্যাংক, স্যুয়ারেজ লাইন এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো প্রকল্প এলাকায় বিদ্যমান ছিল। বিমানবন্দর চলমান থাকায় কোম্পানির পক্ষ থেকে এগুলো সরানোও সম্ভব হয়নি। এসব অসুবিধা দূর করে বেবিচক ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রকল্প এলাকা কোম্পানিকে হস্তান্তর করেছে। এছাড়া প্রকল্প এলাকায় তিনটি পরিত্যক্ত বিমান, পাইপলাইনসহ পাম্প হাউজ এবং পুরোনো ভবন থাকায় সেখানে কাজ শুরু করা যায়নি। এপ্রোনের উত্তর প্রান্ত এতদিনেও বেবিচক কার্যাদেশ পাওয়া কোম্পানিকে হস্তান্তর করতে পারেনি।

কোম্পানির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, এ ধরনের একটি অত্যাধুনিক কারিগরি কাজে কোনো কারিগরি সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত তা সমাধান করার জন্য এক জন দক্ষ এবং অভিজ্ঞ কনসালটেন্ট থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ প্রকল্পের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো কনসালটেন্ট ছিল না।

এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেরি হচ্ছে উল্লেখ করে বেবিচক সিআরএফজি এনডিই জেভিকে একটি চিঠি দিয়েছে। তার জবাবে কোম্পানিটি জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন দেরি হচ্ছে। এ বিষয়টি বেবিচককে কোম্পানিটি আগেই জানিয়েছে। এছাড়া এনডিইর বিদেশি পার্টনার সিআরএফজির কর্মকর্তারা কোভিড শুরু হবার আগে নিজ দেশে গেলেও করোনার কারণে তারা বাংলাদেশে ফিরতে পারেননি। এ কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। এচিত্র দুনিয়া জুড়ে বলে কোম্পানিটি জানায়।

এদিকে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন দেরি হাবার জন্য বেবিচক এনডিই এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত বিদেশি কোম্পানিকে অভিযুক্ত করেছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, প্রকল্পটির সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব ২০১৯ সালের ২ অক্টোবর জমা দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত তা অনুমোদন করা হয়নি। প্রকল্পের কাজে বক্স কালভার্ট, ড্রেন, পাইল, পাইল ক্যাপ গ্রেড ভিম পেডেস্টাল কলাম প্রভৃতি যুক্ত হবার কারণে প্রকল্পের ব্যয় বাড়া স্বাভাবিক। কিন্তু এ বিষয়টি অনুমোদন না হবার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া প্রকল্পে যেসব কাজ সম্পাদন করা হয়েছে সেগুলোর বিলও পরিশোধ করা হয়নি। এতে প্রকল্পের অন্যান্য কাজ এগিয়ে নিতে বেশ অসুবিধা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বেবিচকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, দরপত্র কেনার আগে আগ্রহী প্রার্থীরা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে। ঐ এলাকা যেভাবে আছে তার ওপর ভিত্তি করেই তারা কাজ নেয়। প্রকল্প এলাকার অনাকাঙ্খিত কিছু সরানো তাদের কাজ। তিনি বলেন, কাজের টাকা আটকে রাখার অভিযোগ ঠিক নয়। যতটুকু কাজ হয়েছে, তার বিল দেওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় কোম্পানি যাতে বেবিচকের আগামী কক্সবাজার রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজে অংশ নিতে না পারে সেজন্য নানা ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এর আগে এই প্রকল্পের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলে নানা অনিয়মের কারণে তা বাতিল করে দেওয়া হয়। সেখানে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানিকে কাজ দেওয়ার সকল আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছিল। ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি নানা অনিয়মের কথা তুলে প্রকল্পের পুরো দরপত্র প্রক্রিয়া বাতিল করে দেয়।

দেশসংবাদ/ইফা/এসআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর   শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর   বেবিচক  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত  ৩ লাখ ৮১ হাজার, মৃত্যু ৬ হাজার
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এম. এ হান্নান
যুগ্ম-সম্পাদক : মোহাম্মদ রুবাইয়াত আনোয়ার
যোগাযোগ
টেলিফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
সেলফোন : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up