ঢাকা, বাংলাদেশ || শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০ || ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়েই যুবদল-যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে জখম ■ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৩৬, আক্রান্ত ১৯০৮ ■ মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার ৪৭ ■ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে বাস, নিহত ৩ ■ সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশির নামে ৮ হাজার কোটি টাকা! ■ বিজ্ঞানী হত্যার চরম প্রতিশোধ নেয়ার ঘোষণা ■ ভাস্কর্য তৈরি হলে টেনে হিঁচড়ে ফেলে দেয়া হবে ■ ফাইজারের করোনা ভ্যাকসিন পরিবহন শুরু ■ গুপ্তহত্যার শিকার কে এই মোহসেন ফাখরিযাদে? ■ করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬ কোটি ১৯ লাখ ছাড়াল ■ ইরানের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানীকে হত্যা ■ বাঁশ-রড দিয়ে পেটানো হলো মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের
অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ
মুক্তবাজার অর্থনীতি মানে নীতিহীন অর্থনীতি নয়
রিয়াজ সবুজ, ঢাকা
Published : Tuesday, 15 September, 2020 at 2:03 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

ড. নাজনিন আহমেদ

ড. নাজনিন আহমেদ

ব্যাংক খাতে আমানতের সুদ হার সর্বকালের মধ্যে নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। স্থায়ী আমানতে ব্যাংকগুলো ৫ শতাংশেরও কম সুদ দিচ্ছে। আগস্টের হিসেবে মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৬৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ফলে ব্যাংকে টাকা রেখে লোকসান গুনতে হচ্ছে গ্রাহকদের। কৃষি ও পল্লিঋণের ওপর মাইক্রো ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউটগুলো (এমএফআই) ২৭ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নিচ্ছে। সেক্ষেত্রে স্প্রেড হচ্ছে ১৮ শতাংশ। কারণ এমএফআইগুলো ব্যাংক থেকে এ ঋণ ৯ শতাংশ সুদে গ্রহণ করলেও গ্রাহক পর্যায়ে তা ২৭ শতাংশে বিতরণ করছে। সুদের হার বাজারে ঋণের চাহিদা ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও লেন্ডিং রেট কমছে না। এটি সাধারণ দৃষ্টিতে মুক্তবাজার অর্থনীতির পরিপন্থি। কারণ দেশের অর্থনীতিতে মুক্তবাজারকে সঠিক ও প্রতিবন্ধকতাহীন ভাবে চলতে দেওয়া হচ্ছে না।

চাহিদা ও জোগানের ওপর নির্ভর করে বাজারে পণ্য বা সেবার মূল্য নির্ধারিত হওয়াই মুক্তবাজার অর্থনীতির মূল কথা। সরবরাহ থাকলেও চাহিদা না থাকলে, পণ্যের দাম কমবে। আবার পণ্যের সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাহিদা যদি বৃদ্ধি পায় তবে দাম বাড়বে অথবা স্থিতিশীল থাকবে। সরকার বা কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাজারের এ নিত্য খেয়ালিপনায় হস্তক্ষেপ করবে না। বাজার তার স্বাভাবিক গতিতেই চলবে এটাই মুক্তবাজার অর্থনীতির মূল সূত্র।

বিদায়ী অর্থবছরে ব্যাংক ভেদে উৎপাদনশীল খাতে সুদহার ১১ থেকে ১৪ শতাংশ, ট্রেডিং খাতে ৯ থেকে ১৬.৫ শতাংশ, ক্ষুদ্র উদ্যোগ ৯ থেকে ১৬ শতাংশ, গৃহ ঋণের সুদহার ১২ থেকে ১৪ শতাংশ, পারসোনাল ঋণের সুদহার ১২ থেকে ১৬ শতাংশ আর ক্রেডিট কার্ডেও সুদহার ১৫ থেকে ২৮ শতাংশ নির্ধারিত ছিল। বর্তমানে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া সব ঋণে ৬-৯ সুদহারের নীতি বাস্তবায় করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্ট্যাডিজ (বিআইডিএস) এর সম্মানিত ফেলো অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে আমাদের কোনো ক্যাপিং থাকার কথা নয়। তবে আমাদের দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে বিশেষ করে বেসরকারি ক্ষেত্রে অনেকে নীতির বাস্তবায়ন করেনি। আমরা দেখেছি যে কয়েক বছর আগে যখন ক্যাপিটাল মার্কেট সমস্যা হয়েছিল। অনেক ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের এডি রেশিও’র বাইরে গিয়ে বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু রেগুলেশন অনুযায়ী সেটা হওয়ার কথা নয়। তখন বেসরকারি ব্যংকগুলো সরকারের কাছে সমস্যার কথা বলে এডি রেশিও বাড়িয়ে নিল এবং রিজার্ভের পরিমাণ কমিয়ে নেয়। তার পরিপেক্ষিতে তারা বলেছিল যে তারা খরচ ও সুদের হার কমিয়ে দেবে কিন্তু তারা সেটা করেনি।

এখন অনেকেই বলছে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সুদহার নির্ধারণ কেনো করল? এটা ভালো নয়। ২০১৮ সালে প্রথম ৬-৯ সুদ হারের কথা আসে। সরকারি ব্যাংকগুলো তখন থেকেই বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছে। তবে বেসরকারি ব্যাংকগুলো তাদের কথা রাখেনি। আমরা মুক্তবাজার অর্থনীতি বলি তবে মুক্তবাজার অর্থনীতি মানে নীতিহীন অর্থনীতি নয়।মুক্তবাজার অর্থনীতিতে যেমন স্বাধীনতা থাকবে আবার সেটার অপব্যবহারে তার বিরুদ্ধে শাস্তির কঠিন হতে হবে।

দেশের অর্থনীতি শৃঙ্খলহীন ভাবে চলছিল বলে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, দেখা যায় আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম গুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবাই সেটা মেনে চলেন না। এবং আমাদের মধ্যে ক্ষমতাশালী লোকজন নিয়মের তোয়াক্কা না করেই সিস্টেমের মধ্যে এক ধরনের জটিলতা তৈরি করে। অনেক ব্যাংক তাদের ইচ্ছামতো ইন্টারেস্ট নিচ্ছিল ও ইচ্ছামত ঋণ বিতরণ করেছিল। এবং ভুল জায়গায় বিনিয়োগের ফলে খেলাপির হার বেড়ে যাচ্ছিল। খেলাপিরা ক্ষমতাশালী হওয়াই তাদের ধরা যাচ্ছিলোনা। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে নিয়ম গুলো যদি কঠোর ভাবে পালন করা যায় তাহলে মার্কেট ইকোনমি ভালোভাবে চলবে। সে ক্ষেত্রে ৬-৯ সুদহার সরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রে কোন খারাপ প্রভাব ফেলেনি।

এমন নয় যে ব্যাংকগুলোতে ঋণ দেয়ার পরিমাণ কমে গেছে অথবা তারল্য সংকট হয়েছে তবে প্রাইভেট সেক্টরের ভালো নয় সেটা কোভিড এবং অন্যান্য কারণ হতে পারে সুদহার নয়।

এই সুদহার আদর্শ অবস্থা নয় মনে করেন ড. নাজনিন, তিনি বলেন, আমি মনে করি ৬-৯ সুদহার বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রেও কোন সমস্যা তৈরি করছে না। তবে আমি বলব না যে ৬-৯ সুদহার মুক্তবাজার অর্থনীতির জন্য আদর্শ অবস্থা। তবে যেভাবে নিয়ম-নীতির ব্যত্যয় ঘটছিল, কিছু সময়ের জন্য সেটা র লাগাম টানা গেছে।

তবে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে বলবো তাদেরকে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাতে হবে বেসরকারি ব্যাংকগুলো তাদের মার্কেট টা এমন ভাবে ক্রিয়েট করেছে এখানে প্রচুর খরচ হচ্ছে। বাংলাদেশের ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা বেতনে যদি ভালো জীবন যাপন করাযায় সেখানে এত বিশাল বেতন বৈষম্য কমিয়ে আনতে হবে।

একটা সময় সকল প্রতিষ্ঠান শৃঙ্খলার ভিতর আসলে এমনিতেই দেখা যাবে তখন আর ৬-৯ সুদহার প্রয়োজন হবে না। মোদ্দাকথা ৬-৯ সুদহারের একটাই উদ্দেশ্য যেন বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায় বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সুদের হার একটা বিশেষ উপাদান। বাকি বিজনেস এনভায়রনমেন্ট, অবকাঠামো, বন্দর-কাস্টমস সিস্টেম উন্নয়ন এবং শৃঙ্খলার মধ্যে চলতে হবে তাহলে কম সুদহার হয়ে অর্থনীতির জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে।

এব্যাপারে বেসরকারি সিটি ব্যাংকের প্রধান নির্বহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন বলেন, ৯ পার্সেন্ট সুদ হারে ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে ব্যাংকের লাভের ক্ষেত্রে তে বড় একটা ইম্প্যাক্ট আছে। কারণ ডিপোজিট সেভাবে পাওয়া যাচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের জন্য ৬-৯ রেট বড় ক্রেডিট গ্রোথ হওয়া উচিত। যা করোনার কারনে হচ্ছেনা।

বেসরকারি খাতের খরচ কমানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে খরচ ক্রমান্বয়ে কমে আসবে দ্রব্যমূল্যের দাম কমে যাবে। বেসরকারি ব্যাংকে ঋণ দেওয়ার ফান্ড আছে। ব্যবসায়ীরা বাজার গোছাচ্ছে তবে লোন রিকুয়েস্ট কম আসছে যেটা করোনার কারণে হতে পারে। আর বেসরকারি ব্যাংক গুলো খরচ কমিয়ে ও অন্যভাবে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছে।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এফএইচ/mmh


আরও সংবাদ   বিষয়:  অর্থনীতি  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা
২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৩৬, আক্রান্ত ১৯০৮
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এম. এ হান্নান
যুগ্ম-সম্পাদক : মোহাম্মদ রুবাইয়াত আনোয়ার
যোগাযোগ
টেলিফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
সেলফোন : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up