ঢাকা, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০ || ৮ কার্তিক ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ নদীতে স্পিডবোট ডুবি, ৫ যাত্রী নিখোঁজ ■ হাইকোর্টে হাজির পুড়িয়ে ফেলা সেই দীলিপ ■ প্রত্যাহার নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট ■ আবারো লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হলেন সাদ হারিরি ■ দুই শতাধিক পর্যটক সেন্টমার্টিনে আটকা ■ নৌ-যান শ্রমিকদের অযৌক্তিক দাবি মানা হবে না ■ আজকের মধ্যেই নৌশ্রমিকদের ধর্মঘট সমাধান ■ প্রত্যেক চালককে ‘ডোপ’ টেস্ট করার নির্দেশ ■ করোনায় মৃত্যু ১১ লাখ ৩৫ হাজার ছাড়াল ■ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রতিমন্ত্রী কায়সারের মৃত্যু পরোয়ানা ■ নাইটক্লাবে বন্দুক হামলায় নিহত ৩ ■ বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ
জীবননগরে আবাদি জমিতে পাওয়ার প্লান্ট, ফুঁসছে এলাকাবাসি
জামাল হোসেন খোকন, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা)
Published : Sunday, 20 September, 2020 at 8:59 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

জীবননগরে আবাদি জমিতে পাওয়ার প্লান্ট, ফুঁসছে এলাকাবাসি

জীবননগরে আবাদি জমিতে পাওয়ার প্লান্ট, ফুঁসছে এলাকাবাসি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আবাদি জমি অধিগ্রহণ করে পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণ করাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসি ফুঁসে উঠেছে। তারা মানববন্ধনসহ একের পর এক নানা কর্মসুচিও পালন করছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুয়ায়ী তিন ফসলী জমিতে কোন শিল্প কলকারখানা নির্মাণ না করার ঘোষণা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন কৃষ্ণপুর গ্রামবাসি। তবে জেলা প্রশাসন বলছেন এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে কোন কিছু জানানো হয়নি। ফসলি জমিতে  কোন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা হবে না। গ্রামেরর কৃষকদের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেয়া হবে।

সরজমিনে দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত একটি গ্রাম কৃষপুর। উপজেলা শহর থেকে ১৭ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত এ গ্রাম। শিক্ষা-দীক্ষায় পিঁছিয়ে পড়া এ গ্রামের  অধিকাংশ মানুষই কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এ গ্রামের মাঠে  জেলার সর্ববৃহৎ পেয়ারা বাগানসহ ভূট্টা, পাট, বাদাম, আলু ও ধান চাষ হয়ে থাকে। কৃষ্ণপুর মাঠে ব্যাপক হারে আলু ও বাদামের আবাদ হয়ে থাকে। আর একারনেই কৃষ্ণপুর গ্রামটি জেলায় আলুর গ্রাম হিসাবে পরিচিত।

তিন ফসলি জমি হওয়ায় সারা বছরই কোন না কোন ফসল ফলিয়ে থাকে এ গ্রামের কৃষকরা। কিন্তু  এ জমিতে সোলার পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সাইক্লিক্ট এনার্জি নামে সিঙ্গাপুর ভিত্তিক বেসরকারী একটি কোম্পানি। ইতিমধ্যেই নির্মাণকারি ওই কোম্পানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের একটি দল এলাকার কৃষ্ণপুর মাঠটি পরিদর্শন করেছেন।

মাঠ পরিদর্শনের  ঘটনা জানতে পেরে ফুঁসে উঠেছে পুরো গ্রামবাসি। গ্রামে যেন সৌর পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণ না হয়,তার জন্য মানববন্ধন,প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মাবকলিপি প্রসদানহ নানা কর্মসুচি পালন করা হয়েছে।

কৃষপুর গ্রামের শরিফুল, বাবুল, মিকাইল, ছাত্তার খান, লতিফসহ অনেকেই জানান, প্রায় ৫-৬ হাজার জনসংখ্যার বসবাস এ গ্রামটিতে। যেখানে ভোটার দেড় সহস্রাধিক এবং চাষ যোগ্য জমির পরিমান  ৬০০-৭০০ বিঘা। অন্যদিকে বসত বাড়ী-ঘর রয়েছে  ৫০০  বিঘা জমিতে। এসব জমিতে  চাষ করে আমরা জীবন- জীবিকা নির্বাহ করে আসছি।

কিন্তু সাবেক উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ গ্রামবাসির সাথে কোন আলোচনা না করে সোলার প্লান্ট কোম্পানির সাথে আতাত করে আমাদের কৃষি সমৃদ্ধ উর্বর জমিকে বেলে ও চাষাবাদের অযোগ্য পতিত জমি হিসাবে চিহ্নিত করে গোপনে একটি প্রত্যয়নপত্র দেন।

এ সময় তারা উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন,আপনারা দেখেন এখানে কোনও জমি অনাবাদি আছে কিনা।

কিন্তু একটি  দালাল চক্র নিজেরা লাভবান হতে  তিন ফসলি জমিকে অনাবাদি জমি দেখিয়ে পাওয়ার প্লান্ট নির্মানের পাঁয়তারা করছে।  তারা মোটা অংকের কমিশনের আশায় এখানে পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণের জন্য সরকারী দলের বেশ কিছু নেতা তদবির শুরু করছেন।

রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার জেহের আলী,কৃষক ঠান্ডু বিশ্বাস,ছাত্তার খান বলেন, সোলার প্লান্ট নির্মাণ করতে জমির প্রয়োজন হবে ৪৫০-৫০০ বিঘা । এ জমি হারিয়ে গেলে গ্রামের মানুষ পথে বসবে। তাই জীবন দিয়ে হলেও আমরা আমাদের জমিতে সৌর প্লান্ট করতে দেব না। আমাদের মাঠে কৃষি কাজ করতে আসে আশে পাশের ১০-১২ টি গ্রামের শ্রমিকেরা।

এ মাঠে ধান,পাট,আখ,আলু,বাদামসহ সব ধরনের সবজির আবাদ হয় সারা বছর জুঁড়ে। অন্যদিকে কৃষকেরা বেশী লাভের আশায় বর্তমানে মাঠে শত শত বিঘা জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পেয়ারা বাগান,ড্রাগন,মাল্টা লেবুসহ বিভিন্ন ফলের আবাদ হচ্ছে। আর সেই মাঠেই পাওয়ার করতে চাওয়ার কারণ কি?

কৃষক অলিয়ার রহমান,সুমাত আলী,শাহজামাল বলেন,এ মাঠে জমি অত্যন্ত উর্বর। এ মাঠের জমিতে ফলে না এমন কোন ফসল নেই। এ মাঠে উৎপাদিত বীজ বাদাম ও আলু দেশের কৃষকদের কাছে ব্যাপক চাহিদা। এলাকার ৫-৬ হাজার মানুষের একটাই মাঠ। এই জমি বিক্রি করে আমরা যাব কোথায়?

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আলী  হাসান  বলেন, প্রস্তাবিত সোলার বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মাণের জন্য কৃষ্ণপুর মৌজাকে নির্বাচিত করা হয়েছে। কৃষকদের পক্ষ থেকে আপত্তি ওঠার কারনে বিদ্যুত মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিবের নেতৃত্বে ৪ সদস্যদের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা সরেজমিনে মাঠটি পরিদর্শন করেছি। কমিটির রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, দেশে দিন দিন কৃষি জমি কমে যাচ্ছে। সেই কারনে প্রধানমন্ত্রী দুই বা তিন ফসলি জমিতে কোন স্থাপনা নির্মাণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণের বিষয়ে সরকারি ভাবে কিছু আমাদেরকে কোন কিছু জানানো হয়নি। জমি অধিগ্রহনের ক্ষমতা জেলা প্রশাসনের। গ্রামবাসির ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন কিছু করা হবে না।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এফএইচ/mmh


আরও সংবাদ   বিষয়:  জীবননগর   কৃষ্ণপুর  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
করোনায় মৃত্যু ১১ লাখ ৩৫ হাজার ছাড়াল
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এম. এ হান্নান
যুগ্ম-সম্পাদক : মোহাম্মদ রুবাইয়াত আনোয়ার
যোগাযোগ
টেলিফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
সেলফোন : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up