ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০ || ৫ কার্তিক ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ বিএনপি'র মতো ব্যর্থ বিরোধীদল আর দেখেনি ■  ময়লার বালতি থেকে লাশ উদ্ধার ■ বাজারে আলু বিক্রি বন্ধ ■ ফের তীব্র গতিতে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ ■ ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন তালিকা ■ সম্রাটের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন ৩০ নভেম্বর ■ এপ্রিল থেকে দেশে ফিরেছেন ২ লক্ষাধিক প্রবাসী ■ নৌযান ধর্মঘটে অচল চট্টগ্রাম বন্দর ■ রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ইরানের অস্ত্র চুক্তি ■ বন্ধুর স্ত্রীকে দফায় দফায় ধর্ষণ, ভিডিও পর্নোসাইটে ■ পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা ■ ৯৪ ইলিশ ধরা ট্রলার ডুবিয়ে দিল নৌ-পুলিশ
ফিরলেন আরেক মৃত ব্যাক্তি
দেশসংবাদ, নারায়ণগঞ্জ
Published : Friday, 2 October, 2020 at 11:56 AM
Zoom In Zoom Out Original Text

ফিরলেন আরেক মৃত ব্যাক্তি

ফিরলেন আরেক মৃত ব্যাক্তি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মামুন নামে এক যুবককে অপহরণের পর বিষযুক্ত শরবত পান করিয়ে নির্মমভাবে হত্যার পর লাশ ফেলে দেওয়া হয় শীতলক্ষ্যায়। বছর ছয়েক আগের ওই ঘটনা তদন্ত করে এমনটাই জানিয়েছিল পুলিশ। ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিটও দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ- সিআইডি। কিন্তু ঘটনার এত বছর পর গত বুধবার দুপুরে ‘মৃত’ সেই মামুন ফিরলেন জীবিত, তাও সুস্থ-স্বাভাবিক অবস্থায়। প্রায় একই ধরনের ঘটনা স্কুলছাত্রী জিসা মণিকে নিয়েও। পর পর এমন দুই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ পুলিশের ভেতরও শুরু হয়েছে তোলপাড়। সর্বত্রই বইছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

জানা যায়, জিসা মণিকে নিয়েও একই গল্প সাজিয়েছিল পুলিশ। তিন আসামিকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে বাধ্য করে। কিন্তু ঘটনার ৪৯ দিন পর জিসা মণি নিজেই স্বাভাবিকভাবে জীবিত ফিরে আসে। ওই ঘটনার রেশ না কাটতেই মামুনকাণ্ড প্রকাশ পাওয়ায় আবারও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের কর্মকাণ্ড। যদিও মামুনকে অপহরণ ও হত্যা মামলার আসামিদের একাধিকবার রিমান্ডে নিয়েও পুলিশ জবানবন্দি আদায় করতে পারেনি। এক সময় জামিনে বেরিয়ে তারা আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন।

মামুনকাণ্ডের সূত্রপাত
 
চাঁদপুরের মতলব থানার সাখারীপাড়া এলাকার মেয়ে তাসলিমা। বাবার নাম রহমতউল্লাহ। একই এলাকার প্রতিবেশী মামুন তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। কিন্তু মেয়েটি রাজি না হওয়ায় ক্ষব্ধ হন মামুন। শুধু কি তাই, মামুনের বাবা-মা এবং ভাই-বোনও ক্ষুব্ধ হন তাসলিমার ওপর। এ বিষয়ে তাসলিমা বলেন, ‘মামুন আমাকে প্রেমের অফার দেয়। সেটা রাখি নাই দেখে সে অনেক গ্যাঞ্জাম করে। বাড়িতে লোক পাঠায়। তারপর গ্রামের মেম্বার-চেয়ারমানের কাছে নালিশ করা হয়। তারপরও তারা (মামুনের বাবা-মা) তাদের ছেলেকে সামলায়ে রাখতে পারে নাই। তখন সে রাস্তাঘাটে আমাকে অনেক ডিস্টার্ব করত। একপর্যায়ে মামুন ও তার পরিবারের ভয়ে আমি আমার ভাই রফিকের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকায় খালা আমেনা বেগমের কাছে চলে আসি। কিন্তু তারা আমার পিছু ছাড়েনি। আমাকে ক্ষতি করার জন্য উঠেপড়ে লাগে। কয়েক দিন পর আমি আবার গ্রামের বাড়ি চলে যাই। বাড়ি যাওয়ার পর পারিবারিকভাবে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিয়ের তিন মাস পর আমার নাকের একটা অপারেশন হয়। ডাক্তারের কাছ থেকে আসার সময় মামুনের মা-ভাই-বোন আমাকে রাস্তায় একা পেয়ে অনেক টর্চার করে। এ সময় আমি গর্ভবতী ছিলাম। আমাকে টেনেহিঁছড়ে ওদের বাড়ির ভেতর নিয়ে যায়। সেখানেও অনেক টর্চার করে। ওই ঘটনায় আমরা কোনো বিচার পাই নাই।’ তাসলিমা বলেন, ‘মামুন তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। কিন্তু ওর বাবা আবুল কালাম একটি মামলা করে। এতে আসামি করা হয় আমিসহ আমার বাবা রহমতউল্লাহ, ভাই রফিক, খালাতো ভাই সোহেল ও সাগর এবং আমার মামা সাত্তারকে। আর এই মামলায় আমি ও আমার ভাই এক বছর করে জেল খাটি। বাকিরা সবাই এক মাস করে জেল খাটে। জেলের মধ্যেও আমাদের ওপর অনেক নির্যাতন-নিপীড়ন করা হয়। আমাকে গর্ভাবস্থাতেই জেল খাটতে হয়েছে। দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে জবানবন্দি আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আমরা জবানবন্দি দেইনি। কারণ আমরা তো আর ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত না। এরই মধ্যে মামুন (৩০ সেপ্টেম্বর) আদালতে হাজির হয়েছে।’

ছয় বছর পর ফিরে আসা মামুন জানান, বাবা-মা তাকে কাজকর্ম করতে বলে। তাই বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। তিনি বলেন, ‘রাজশাহী ও নাটোরের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ছোটখাটো কাজকর্ম করেছি। রেস্টুরেন্টেও কাজ করেছি। এই ছয় বছর পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করিনি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তাসলিমাদের বিরুদ্ধে আমার বাবা মামলা করেছেন এবং তারা জেলে ছিল, এটা আমি জানতাম না। তা ছাড়া মামলা কেন করেছে তাও আমি জানি না। গত ২২ সেপ্টেম্বর আমি বাড়িতে আসি। তখনই মায়ের কাছে জানতে পারি মামলার কথা। পরে আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করে মাকে নিয়ে আদালতে আসি।’

আদালত সূত্র মতে, ২০১৪ সালের ১০ মে মামুন অপহরণ হয়েছে অভিযোগ এনে ঘটনার দুবছর পর ২০১৬ সালের ৯ মে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন তার বাবা আবুল কালাম। ওই মামলায় ছয় জনকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামুনকে অপহরণের পর হত্যা এবং লাশ বস্তাবন্দি করে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। মামলার পর পরই তাসলিমা, রকমত, রফিক, সাগর, সাত্তার ও সোহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। পরে ছয় জনকেই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার জন্য আদালতে পাঠানো হয়। কিন্তু আদালতে গিয়ে কেউই জবানবন্দি দিতে রাজি হননি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মিজানুর রহমান। তিনি আদালতে আসামিদের রিমান্ড চাওয়ার সময়ে আর্জিতে উল্লেখ করেছিলেন, ‘খালাতো বোন তাসলিমা ২০১৪ সালের ১০ মে মামুনকে ডেকে নিয়ে কৌশলে অপহরণ করে বিষাক্ত শরবত পান করিয়ে নির্মমভাবে হত্যার পর লাশ শীতলক্ষ্যায় ফেলে দিয়ে গুম করেছে।’ পরবর্তী সময় মামলাটি তদন্ত করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তাদের তদন্তের একপর্যায়ে মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এতে তিনি এজাহারভুক্ত ছয় জনকেই অভিযুক্ত করেন। সাক্ষী করা হয়েছিল ২১ জনকে।

চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, খালাতো বোন তাসলিমাকে দিয়ে ২০১৪ সালের ১০ মে কৌশলে মামুনকে বাড়ি ডেকে আনা হয়। পরবর্তী সময় তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন তাসলিমা। কিন্তু বিয়েতে রাজি না হওয়ায় বিবাদী ছয়জন মিলে মামুনকে কোমল পানির সঙ্গে চেতনানাশক দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। তবে কোথায় কীভাবে কী অবস্থায় রাখা হয়েছে সেটা জানা যায়নি।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এমদাদ হোসেন সোহেল বলেন, ‘মামলার তদন্ত সংস্থা আসামিদের একাধিকবার রিমান্ডে নিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করে। কিন্তু নির্যাতনের মুখেও তারা স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হননি। পরে ছয়জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। এর মধ্যে এক মাস জেল খাটার পর চারজনকে জামিন করাই। আর ১ বছর ২ মাস জেল খাটার পর তাসলিমা ও ১ বছর ৩ মাস জেল খাটার পর তার ভাই রফিকের জামিন করাই উচ্চ আদালত থেকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ চার বছর পর মামলাটির বিচার নিষ্পত্তির জন্য সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতে আসে। আসামিদের জামিন নেওয়ার জন্য আমি আদালতে উপস্থিত হই। পরে গিয়ে দেখি যাকে অপহরণ ও গুমের অভিযোগে মামলাটি হয়েছে সেই ভিক্টিম আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়েছেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে অ্যাডভাকেট এমদাদ হোসেন বলেন, ‘সিআইডি পুলিশ সঠিক তদন্ত না করে আসামিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চার্জশিট দিয়েছে। নিরপরাধ মানুষগুলোকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। তারা জেল খেটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি আদালতে প্রয়োজনে রিট করব তাদের ক্ষতিপূরণের জন্য। একই সঙ্গে মিথ্যা বানোয়াট মামলা দায়ের করার অপরাধে বাদীরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। আর মামলার তদন্ত সংস্থার বিষয়ে আদালত বলবেন।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শেখ ফরিদ অবশ্য বলেন, ‘আমার মক্কেল কাউকে আসামি করে মামলা করেননি। একটি অজ্ঞাতনামা মামলা করেছিলেন। কিন্তু পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামি হিসেবে তাদের নাম যোগ করেন। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। এরই মধ্যে ভিকটিম ফিরে আসেন এবং আমরা তাকে নিয়ে আদালতে হাজির হই। আদালত ভিকটিমকে আমার জিম্মায় দিয়েছেন।

দেশসংবাদ/বিএন/এমএসআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  নারায়ণগঞ্জ   অপহরণ   হত্যা  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
ফের তীব্র গতিতে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এম. এ হান্নান
যুগ্ম-সম্পাদক : মোহাম্মদ রুবাইয়াত আনোয়ার
যোগাযোগ
টেলিফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
সেলফোন : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up