ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০ || ৯ কার্তিক ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৯ জন দগ্ধ ■ বিক্ষোভে নাইজেরিয়ায় নিহত ৬৯ ■ ভ্যাকসিন কিনতে বিশ্বব্যাংকের কাছে ৪২৫০ কোটি টাকা ঋণ চায় বাংলাদেশ ■ পুলিশ যেখানেই অন্যায় করেছে, আইনের আওতায় আনা হয়েছে ■ ২৪ ঘণ্টায় আরো ১৯ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১০৯৪ ■ চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক ■ ৫৮ লাখ টাকার জাল নোট ও সরঞ্জামসহ আটক ৬ ■ পুরোদমে চলছে মেট্রোরেল নির্মাণ কাজ, ৫০.৪০ শতাংশ শেষ ■ ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের প্রথম জানাজা সম্পন্ন ■ আগুনমুখা নদীতে নিখোঁজ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার ■ চলে গেলেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক ■ আবুধাবি থেকে আসা বিমান থেকে ৫ কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধার
অসংখ্য মামলা ও জালিয়াতির অভিযোগ
ভুয়া এনআইডিতে ৮ বছর বয়সেই তিনি মুক্তিযোদ্ধা!
দেশসংবাদ ডেস্ক
Published : Thursday, 8 October, 2020 at 11:27 AM
Zoom In Zoom Out Original Text

হাজী মো. রমজান হোসেন

হাজী মো. রমজান হোসেন

জন্ম ৫ মে ১৯৬২ সাল। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে বয়স হয়েছিল মাত্র ৮ বছর ৯ মাস ২১ দিন। অথচ তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত মুক্তিযোদ্ধা সনদও আছে তার। আর এই সনদের জোরেই দীর্ঘদিনযাবত ভাতাসহ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকার ঘোষিত সকল সুযোগ-সুবিধাদি অনায়াসেই ভোগ করে আসছেন তিনি।

হাজী মো. রমজান হোসেন, পিতার নাম মৃত মকবুল হোসেন, মাতার নাম মৃত কদরুন নেছা, জাতীয় পরিচয়পত্র নং- ১৯৬২২৬৯১৬৫০১৩৭৩২৫ (পুরাতন), ৭৩২৩৩৪২০২৭ (স্মার্ট কার্ড)। মুক্তিযোদ্ধা গেজেট নং- ৫১৬৫, লাল মুক্তিবার্তা নং- ০২০৪০২০৫৭৯।

জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, বিবাহের কাবিননামা, টিআইএন, বিভিন্ন চুক্তি ও রেজিস্ট্রি দলিলসহ সকল অফিসিয়াল কাগজপত্র অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ০৫ মে ১৯৬২ সাল।

জাতীয় পরিচয়পত্র

জাতীয় পরিচয়পত্র


অথচ ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধার তথ্য ফরমে তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর উল্লেখ করেছেন ১৯৫৪২৬৯১৬৫০১৩৭২৩৫, আর জন্ম তারিখ দিয়েছেন ০৫ জানুয়ারী ১৯৫৪। অথচ নির্বাচন কমিশনের এনআইডি উইংয়ের ওয়েবসাইটে এ নম্বরের কোন জাতীয় পরিচয়পত্রের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়াও তথ্য ফরমের সাথে তিনি যে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি সংযুক্ত করেছেন তাতে এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ মুছে দিয়ে জমা দিয়েছেন।

জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্মতারিখ অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধকালিন তার বয়স ছিল ৮ বছর, অথচ ততকালিন সময় তিনি তার বয়স দেখিয়েছেন ১৭ বছর।

জানা যায়, ৬ ভাই-বোনের মধ্যে হাজী মো. রমজান হোসেন ৩য়। তার সাম্প্রতিক বড় ভাই মো. ফারুক হোসেন মন্টু ০৮ এপ্রিল ২০০৪ সালে ৪৩ বছর বয়সে (ডেথ সার্টিফিকেট অনুযায়ি) মারা যায়, সবার বড় বোন নুর জাহান বেগম এখনো জীবিত আছেন। জাতীয় পরিচয়পত্র (নং- ৮৬৯২৩১১৬৪৩) ও এসএসসি সার্টিফিকেট অনুযায়ি তার জন্ম তারিখ  ০১  জানুয়ারি ১৯৫৫।

লাল মুক্তিবার্তা

লাল মুক্তিবার্তা


অথচ হাজী মো. রমজান হোসেন ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধার তথ্য ফরমে এনআইডি জালিয়াতি করে নিজের বয়স তার অন্তত ৮ বছরের বড় বোনের চাইতেও ১ বছর বেশি দেখিয়েছেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে হাজী মো. রমজান হোসেন টেলিফোনে দেশসংবাদকে বলেন, আমার জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্মতারিখ ভুল হয়েছে, সংশোধনের জন্য দিয়েছি।

কবে সংশোধনের জন্য দিয়েছেন আর সংশোধনের জন্ম তারিখ কত দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মতারিখ ভুল হয়ে থাকলে বাংলাদেশে তা চালু হওয়ারও আগে ২০০৪ সালের ১৭ আগস্ট তারিখে তার নামে ইস্যুকৃত হাতে লেখা আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট (নং-ডব্লিও ০৪৮৮৪৮৯) ও তাদের বিয়ের কাবিননামাসহ বিভিন্ন দলিলপত্রেও একই জন্ম তারিখ কেন জানতে চাইলে এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন।

বেসামরিক গেজেট

বেসামরিক গেজেট


অন্যদিকে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্টসহ সকল কাগজপত্রে তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা ২১ নর্থ রোড (ভূতের গলি), ঢাকা দেয়া থাকলেও ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধার তথ্য ফরমে স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা দেয়া হয়েছে, গ্রাম ও ডাকঘর : শিদলাই, উপজেলা : ব্রাহ্মণপাড়া, জেলা : কুমিল্লা।

সর্বোচ্চ আদালতের রায় ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপণ অনুযায়ী একজন মুক্তিযোদ্ধার সর্বনিম্ন বয়স হতে হবে ১৩ বছর ৬ মাস। অথচ এনআইডি জালিয়াতি করে সম্পূর্ণরুপে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য উপস্থাপন করে নিজের বয়স বাড়িয়ে হাজী মো. রমজান হোসেন দীর্ঘদিনযাবত মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাদি ভোগ করে আসছেন।

কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া এলাকার কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা এই নামে তাদের এলাকায় কোন মুক্তিযোদ্ধার নাম শোনেননি বলে জানান আবার কেউ কেউ তাকে একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে অভিহিত করেন।

৮ বছরের বড় বোন নুর জাহান বেগমের জাতীয় পরিচয়পত্র

৮ বছরের বড় বোন নুর জাহান বেগমের জাতীয় পরিচয়পত্র


ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে নানারকম অবৈধ সুযোগ-সুবিধা ও প্রভাব খাটিয়ে হাজী মো. রমজান হোসেন ইতিমধ্যেই রাজধানীতে গড়ে তুলেছেন কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১০৯ নং ক্রিসেন্ট রোডে ৩টি, ২১ নং নর্থ রোডে ৪টি এবং ২০৩ নং হাতিরপুলে ৭টিসহ মোট ১৪টি ফ্ল্যাট। এছাড়াও নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে রয়েছে তার কয়েক কোটি টাকার এফডিআর।

এছাড়া তিনি রাজধানীর ধানমন্ডি, হাতিরপুল, কলাবাগান, নিউ মার্কেট ও গ্রীণ রোড এলাকায় তিনি বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত বলেও জানা যায়। ২০১৮ সালে তাকে ১ নম্বর আসামি করে রাজধানীর কলাবাগান থানায় পুলিশ বাদি হয়ে একটি মামলা করা হয়। যার নং-১৬, তারিখ ২০/০৯/২০১৮। এটি ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন থানায় তার নামে আরও বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।

হাজী মো. রমজান হোসেনের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট, সনদ ও প্রত্যয়ন অনুবিভাগের উপসচিব (সনদ) ডাঃ দুলাল কৃষ্ণ রায় বলেন, এ বিষয়ে তথ্যপ্রমানসহ তার লাল মুক্তিবার্তা বাতিলের কোন আবেদন পাওয়া গেলে নিয়মানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহন করা হবে।

দেশসংবাদ/এসআর/এফএইচ/mmh


আরও সংবাদ   বিষয়:  মুক্তিযোদ্ধা   হাজী মো. রমজান হোসেন  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
২৪ ঘণ্টায় আরো ১৯ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১০৯৪
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এম. এ হান্নান
যুগ্ম-সম্পাদক : মোহাম্মদ রুবাইয়াত আনোয়ার
যোগাযোগ
টেলিফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
সেলফোন : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up