ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০ || ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ মহাখালীর ৭ তলা বস্তিতে ভয়াবহ আগুন ■ ডিসেম্বরে হাসিনা-মোদি বৈঠক ■  ৪৩তম বিসিএস ক্যাডারে ১৮১৪ জন নিয়োগ হচ্ছে ■ মন্ত্রিসভায় রদবদল হচ্ছে ■ দেশ ও জাতির যেকোনো প্রয়োজনে সেনাবাহিনী প্রস্তুত ■ প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা একই রোলে পরের শ্রেণিতে উঠবে ■ ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ২৪১৯ ■ বিভাগীয় শহরে ঢাবি ভর্তি পরীক্ষা, এমসিকিউ ৪০ লিখিত ৪০ ■ কাল নতুন মন্ত্রিসভার নাম ঘোষণা ■ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা করতে কমিটি গঠন ■ করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের হুঁশিয়ারি ■ শেয়ারবাজারে বড় দরপতন
পূর্বাচলে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ
বদলে যাচ্ছে রূপগঞ্জের দৃশ্যপট
রাসেল মাহমুদ, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
Published : Wednesday, 21 October, 2020 at 11:16 AM
Zoom In Zoom Out Original Text

আইকনিক টাওয়ার

আইকনিক টাওয়ার

একদা যেখানে ছিল ডোবা-নালা আর জঙ্গলে ঘেরা ভূমি। আবাদী অনাবাদী তেপান্তরের মাঠ। খাল বিল আর নদী বেষ্টিত অজো-পাড়াগাঁ। সেই ভূমি এখন সোনার চেয়ে দামী। বলছি শহরের পাশের আরেক শহর  রূপগঞ্জের পূর্বাচলের কথা। মাত্র কয়েকবছর আগের এই অচেনা জায়গাটি এখন রুপ নিচ্ছে বাংলাদেশের স্যাটেলাইট শহরে। নির্মিত হচ্ছে মালয়েশিয়ার পুত্রজায়া শহরের আদলে রাজউকের আধুনিক পূর্বাচল নতুন শহর। শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ষ্টেডিয়াম, দেশের সবচেয়ে বহুতল আইকনিক টাওয়ার, আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলা, বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি, হাসপাতাল, সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর আবাসন প্রকল্প। দেশের বর্তমানের সবচেয়ে আধুনিক নগর বসুন্ধরা আবাসন প্রকল্প। বঙ্গবন্ধু স্কয়ার, মেট্রোরেল প্রকল্পসহ বহু নানন্দিক স্থাপনা।

আধুনিক নগরায়নে প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রপাতি নিয়ে রাতদিন কাজ করছেন হাজার হাজার মানুষ। পূর্বাচলে শুরু হয়েছে বিশাল এক কর্মযজ্ঞ। নজরকাড়া স্থাপত্য শৈলীর মনোরম দৃশ্য সংযোজিত এই উপশহর হবে সর্বাধুনিক। এসব প্রকল্প বদলে দিয়েছে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা। নতুন শহরের হাতছানী নিয়ে ঢাকার পাশে একসময়ে অন্ধকারে থাকা রূপগঞ্জকে আলোকিত করছে আবাসন প্রকল্পগুলো। স্থানীয় মানুষের কাছে পুরো বিষয়টি এখনও অবিশ্বাস্য।

রাজউক(রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) সূত্রে জানা যায়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের অধীনে রাজধানীর পূর্ব প্রবেশদ্বার রূপগঞ্জের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের মোট আয়তন ৬ হাজার একরের বেশী। পুরো প্রকল্পটি ৩০ সেক্টরে বিভক্ত। আবাসিক প্লটের সংখ্যা ২৫ হাজার। ২০ তলা বিশিষ্ট একাধিক ভবনে থাকছে ৬০ হাজার প্লট। ২০১৫ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের কথা থাকলেও নানা জটিলতায় সময় বাড়িয়ে তা ২০২১ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে। পূর্বাচলের ১ নং সেক্টরে ৩৭, ৪৯ একর জমির উপড় ৫০ হাজারের অধিক দর্শক ধারন ক্ষমতাসম্পন্ন শেখ হাসিনা আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট ষ্টেডিয়াম প্রকল্পের কাজ অনেকটা অগ্রগতির দিকে। এখানে একটি পূর্নাঙ্গ ক্রিকেট কমপ্লেক্সও তৈরী হবে। পূর্বাচলের ১৫ নং সেক্টরে ৩১৯ একর জমির উপড় ভিত্তিপ্রস্তর উদ্ধোধন করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের।

ঐতিহাসিক এ স্থাপনায় স্থান পাবে স্বাধীনতার পূর্ববর্তি ইতিহাসসহ ৭৫ এ বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু পর্যন্ত সমস্ত স্মৃতি ও দালিলিক ইতিহাস। প্রস্তাবিত আইকনিক টাওয়ার বা ১৪২ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বি ভবন নির্মিত হবে পূর্বাচলের ১৯ নং সেক্টরে। ৭৩৪ মিটার বা ২৪০৮ ফুট উচ্চতার এ ভবন হবে পৃথীবির অন্যতম উচ্চতর টাওয়ার। এছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে প্রস্তাবিত ৪ ও ৫ নং সেক্টরের সংযোগস্থলে ১১১, ৭১ ও ৫২ তলা বিশিষ্ট আকনিক ট্রাইটাওয়ার নির্মান করছে যৌথভাবে  শিকদার গ্রুপ ও কাজিমা কর্পোরেশন জাপান। ভাষা আন্দোলনের স্মৃতীতে ৫২ তলা ভবন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতীতে ৭১ তলা ভবন ও শেখ হাসিনা লিগ্যাসি স্মরণে ৯৬ তলায় মিউজিয়ামসহ ১১১ তলা ভবন নির্মান করা হচ্ছে। এছাড়া সিবিডিতে গড়ে উঠবে ৪০ তলার আরো ৪৯টি ভবন। পূর্বাচলের ৪ নং সেক্টরে আগামী বৈশাখে ‘ চায়না ফ্রেন্ডশীপ এক্সিবিশন সেন্টারে শুরু হবে আন্তর্জাতিক বানিজ্যমেলা।

চীন-বাংলাদেশ এক্সিবিশন সেন্টার

চীন-বাংলাদেশ এক্সিবিশন সেন্টার


পূর্বাচলের দক্ষিনপাশে নিজস্ব জমিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছে তাদের নিজস্ব আবাসনস্থল। আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা রেখে এ প্রকল্পে ইতিমধ্যে নির্মান করেছে ৩টি বাংলা ও ইংরেজী মাধ্যেমের স্কুল, সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় আবাসন প্রকল্পের কাজও চলমান রয়েছে। উপজেলার কায়েতপাড়া ও কাঞ্চনে গড়ে উঠছে পুলিশ অফিসার্স আবাসন প্রকল্প। পুলিশ বাহিনীর এই নগরেও থাকবে আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা। পূর্বাচলের চারপাশ জুড়েই রয়েছে বাংলাদেশের আধুনিক শহরের স্বপ্নদ্রষ্টা বসুন্ধরা আবাসন প্রকল্পের নিজস্ব আবাসিক অঞ্চল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসসহ দেশের সকল নামীদামি বিদ্যাপীঠ ও হাসপাতালের শাখা থাকবে এই নগরে। মেগা প্রকল্প মেট্রোরেল এর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে পুরোদমে।

কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ও রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম রফিক জানান, পূর্বাচল শুধু আবাসিক এলাকা নয় এখন এটি স্বপ্নের নগর। অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা নিয়ে পূর্বাচলে গড়ে তোলা হবে বসুন্ধরার নান্দনিক এক সিটি। আমার জন্মভূমি রূপগঞ্জে উন্নয়নের এমন মহাকান্ডে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক আনন্দিকত। আগামী ১০ বছরের মধ্যে নতুন এই শহর সম্পূর্ন দৃশ্যমান হবে বলে আমার বিশ্বাস। নতুন এই স্যাটেলাইট শহর নির্মানের যাত্রায় বসুন্ধরা গ্রুপের অশিংদারিত্ব থাকায় আমরা বসুন্ধরা পরিবার গর্বিত।

কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক স্বর্ণপদক প্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও শিল্পপতি নুরুজ্জামান খান বলেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা শহরগুলোর একটি হতে যাচ্ছে রূপগঞ্জের পূর্বাচল। কয়েক বছরে পূর্বাচলের জমির দাম বেড়েছে কয়েকগুন। এছাড়া নতুন শহরের কাজ শুরু হওয়ায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। আর্থিক তারল্য আসায় আগের দিনের কৃষক পরিবারগুলোও বর্তমানে ব্যবসা বানিজ্য করে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়ন ঘটাচ্ছেন। তিনি বলেন,এক শ্রেনীর অসাধু একটি চক্র উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে স্থাণীয়দের মাঝে অপপ্রচার চালিয়ে উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে জনগনের দুরত্ব সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে সরকারকে সর্বোচ্চ নজরদারির আহবান জানান তিনি।

বদলে যাওয়া জীবন যাত্রা সম্পর্কে রূপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব শাজাহান ভূইয়া বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মাঝে রূপগঞ্জের পূর্বাচলে অনেকগুলো স্থাপনার নির্মান কাজ চলমান রয়েছে। এক সময়ের অবহেলিত জনপদ এখন মেঘাসিটি। রূপগঞ্জের এমন অবিশ্বাস্য উন্নয়নে অন্য সকলের মতো আমিও বিস্মিত। রূপগঞ্জের একখন্ড জমি এখন স্বর্নতুল্য। পাল্টে গেছে স্থানীয়দের জীবনযাত্রার মান। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় নামীদামি বাসিন্দাদের পাশাপাশি আধিবাসীরা বসবাস করবেন এই পূর্বাচলে নতুন শহরে।



দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এফএইচ/mmh


আরও সংবাদ   বিষয়:  রূপগঞ্জ   পূর্বাচল  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা
২৪ ঘণ্টায় দেশে ২৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ২৪১৯
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এম. এ হান্নান
যুগ্ম-সম্পাদক : মোহাম্মদ রুবাইয়াত আনোয়ার
যোগাযোগ
টেলিফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
সেলফোন : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up