ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০ || ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ কে এই অ্যান্থনি ব্লিংকেন? ■ ১ ডিসেম্বর আমৃত্যু কারাদণ্ডের রিভিউর রায় ■ করোনায় লণ্ডভণ্ড ভারত, আক্রান্ত ছাড়ালো ৯১ লাখ ■ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হচ্ছেন অ্যান্থনি ব্লিংকেন ■ করোনায় সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের মৃত্যু ■ অবশেষে ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি ট্রাম্প ■ বাইডেন মন্ত্রিসভার ৬ সদস্যের নাম ঘোষণা ■ করোনার ২য় ঢেউ, শুরুতেই কিট সংকট ■ মহাখালি ৭ তলা বস্তিতে আগুন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ■ মহাখালীর ৭ তলা বস্তিতে ভয়াবহ আগুন ■ ডিসেম্বরে হাসিনা-মোদি বৈঠক ■  ৪৩তম বিসিএস ক্যাডারে ১৮১৪ জন নিয়োগ হচ্ছে
প্রবল উত্তেজনায় পরিপূর্ণ মার্কিন নির্বাচন!
মোঃ শাহ জালাল
Published : Thursday, 5 November, 2020 at 3:59 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

জো বাইডেন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প

জো বাইডেন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প

বেশ লড়াই এবং উত্তেজনার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল। আমেরিকানদের ব্যতিরেকেও পুরো বিশ্বের সকলের মধ্যেই একধরনের উৎকন্ঠা কাজ করছে মার্কিন নির্বাচনকে ঘিরে। তা স্বাভাবিকও বটে কারন আগামী বিশ্বের আন্তর্জাতিক রাজনীতি কেমন হবে তা অনেকাংশেই ঘুরপাক খায় আমেরিকার অভ্যন্তরীণ এবং বহির্বিশ্বে তাদের রাজনীতির সমীকরণকে কেন্দ্র করে। বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে এইবারের মার্কিন নির্বাচন অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করছে!

ইতোমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামগ্রীকভাবে সকল রাজ্যের ফল ব্যতিরেকেই হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও সেকেন্ড লেডি কারেন পেন্স। মি. ট্রাম্প বক্তৃতায় ইতিমধ্যে নিজেকে জয়ী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দিয়েছে। এমনকি বক্তৃতার এক পর্যায়ে নিজের জয়কে উদযাপন করার কথা বলতে গিয়ে "বিগ সেলিব্রেশনের" ও কথা বলেন।

অন্যদিকে একই সময়ে মি. জো বাইডেন তারঁ টুইট বার্তায় লিখেছেন, we feel good about where we are. We believe we are on track to win this election. মার্কিন নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের প্রাক্কালে মি. বাইডেনের এই বক্তব্য আমার কাছে অনেক বেশি সংযত ও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সুলভ মনে হয়েছে এমনকি তা একপ্রকার গনতান্ত্রিক আচরণের বার্তা বহন করে। শুধু এই বিষয়টিই লক্ষ্যনীয় নয় আরও অন্যান্য বিষয়ে বাইডেন সেরকমটিই প্রমান করেছে!

বিশ্ব মোড়ল কিংবা বৃহৎ গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে মি. ট্রাম্প সকল অঙ্গরাজ্যের ভোট বিশেষত মেইল ভোটিং এর লক্ষ লক্ষ ভোট কাউন্টিং এর পূর্বেই নিজেকে যে জয়ী ঘোষণা করেছেন তা আমেরিকার গনতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে যায়না! গনতান্ত্রিকভাবে আমেরিকান নাগরিকদের যেমন ভোট দেয়ার অধিকার রয়েছে তেমনিকরে তাদের সকলের ভোট গণনার আওতাভুক্ত হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করাও গনতান্ত্রিক ভ্যালুজ এর সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে ট্রাম্প যে সুইং স্টেট গুলির অনেক ভোট গননা বন্ধ করার হুমকি দিচ্ছে এমনকি মামলা করার কথা বলছে তা মূলত নাগরিকদের অধিকার ক্ষুন্ন করারই নামান্তর।

মেইল ভোট নেয়া এবং পরিপূর্ণভাবে কাউন্ট করা তা আমেরিকার নির্বাচনেরই অংশ। কাজেই তা মেনে নেয়া নির্বাচনের বিধি অনুযায়ীই সিদ্ধ।আমেরিকার নির্বাচন প্রক্রিয়া অনেকাংশেই জটিল! এমনকি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যভেদে আমেরিকার ইলেকটোরাল ভোট,  ভোট কাউন্টিং এবং ফলাফল প্রকাশের বিধিবিধানে কার্যত ভিন্নতা রয়েছে!সকল অঙ্গরাজ্য একই বিধানের অধীনে নয়। কোনো কোনো স্টেটে ৩ দিন পরও ফল প্রকাশ করার বিধান রয়েছে। কাজেই বিষয়টি এমন নয় যে মঙ্গলবার রাতেই পূর্ণাঙ্গ ফলাফল জানাতে হবে। তবে সাধারণত নির্বাচনের দিন রাতেই আমেরিকান তথা পুরো বিশ্ব জানতে পারে কে হচ্ছে হোয়াইট হাউসের বাসিন্দা!

কিন্তু এইবারের নির্বাচনটি নানান দিক থেকে ব্যতিক্রম। বৈশ্বিক ভাবে করোনা স্বাভাবিকভাবে আমেরিকার নির্বাচনেও প্রভাব ফেলেছে। সেটা নির্বাচনের প্রচারণায়ই হোক কিংবা ভোট প্রদান এবং গ্রহন সকল ক্ষেত্রেই একটা দারুন প্রভাব ফেলেছে। বিশেষত এইবারের মার্কিন নির্বাচনের আগাম ভোট দেয়ার দিকে লক্ষ্য করলেই বিষয়টি উপলদ্ধি করতে সহজতর হয়। সর্বমোট আগাম ভোটের হিসেব কষলে দেখা যায় তা ২০১৬ সালের হিলারি ক্লিনটন ও ট্রাম্পের হওয়া নির্বাচনের প্রায় ৭২ শতাংশ ভোট।কাজেই আগাম ভোট পরার প্রবণতাটা এ-থেকেই খুব সহজে অনুমেয়।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি তা হচ্ছে  আগাম ভোটের প্রায় ১০ কোটি মধ্যে প্রায় ৬ কোটিই মেইল ভোট পরেছে যা ইতোপূর্বের মার্কিন নির্বাচনে কখনওই লক্ষ্য করা যায়নি। যা ২০১৬ সালে ছিল প্রায় ২ কোটির মতো। ফলে
এতোসংখ্যক মেইল ভোটের ফলাফল চাইলেই আমেরিকানদের সশরীরে দেয়া ভোটের মতো করে কাউন্ট করতে পারেনা। মেইল ভোটিং এর ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্যগুলিকে বিভিন্ন পদ্ধতি ও সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়।

যার দরুন এখন অবধি অনেক স্টেটেই চূড়ান্ত ফলে আসতে বিলম্বিত হচ্ছে। বিশেষত সুইং স্টেটগুলির এখনও অনেকগুলির চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যায়নি। পেনসিলভানিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা এবং নাভেদা সহ আরও কয়েকটি রাজ্য ভোট গণনা এখনও শেষ হয় নি। ইতিমধ্যে পাওয়া ফলাফলে বাইডেন ২৬৪ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প ২১৪ ইলেকটোরাল ভোট নিশ্চিত করেছেন। জয়ের জন্য ২৭০ ইলেকটোরাল কলেজ পেতে লড়াই যে হাড্ডাহাড্ডি হবে, তার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।মূলত সুইং স্টেটগুলির ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে হোয়াইট হাউসে আগামী ৪ বছর কে থাকছেন।

এখানে একটি বিষয় সহজে অনুমেয় এবং অনেকেই ধারনা করছে মেইল ভোটের অধিকাংশ ভোটই ডেমোক্র্যাটদের দখলে যাবে। তার অবশ্য যৌক্তিক কারনও নিহিত রয়েছে। মি. ট্রাম্প বরাবরের মতোই মেইল ভোট নিয়ে এক ধরনের অর্বাচীন বক্তব্য দিয়ে আসছে এবং মেইল ভোট না দেয়ার জন্য সকলকে নিরুৎসাহিত করেছেন। মেইল ভোট কাউন্ট করতে গিয়ে দেরি হলে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুমকিও দিয়ে রেখেছে অনেক আগ থেকেই!

অন্যদিকে মি. বাইডেনের অবস্থান অনেকটা  বিপরীতধর্মী। সে সমসময়ই তাঁর নীল অঙ্গরাজ্যগুলি সহ অন্যান্যদের করোনার এই সময়ে নিরাপদে মেইল ভোট দেয়ার ঔদ্ধত্য আহবান জানান। ফলে বুঝাই যাচ্ছে মেইল ভোটে ডেমোক্র্যাটদের আধিক্য থাকবে বেশি। এমনকি কি তা সময়ের ক্রমপরম্পরায় তা দৃষ্টিগোচরও হচ্ছে। বাইডেন সুইং স্টেটের অধিকাংশ রাজ্যেই সময়ের সাথে সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। মিশিগান এবং উইসকনসিন এর জয়  তারই ইঙ্গিত বহন করে। প্রত্যেকের চোখ এখন নাভেদার দিকে! নাভেদাই হয়তোবা স্থির করে দিতে পারে আমেরিকার নির্বাচনকে ঘিরে সকল জল্পনা-কল্পনা।

তবে এতো সহজেই কি আমেরিকার চূড়ান্ত ফল পাওয়া সম্ভব। আপাতত মনে হচ্ছে না। তা কিছুটা দীর্ঘায়িত হতে পারে। ইতিমধ্যেই ট্রাম্প কিছু অঙ্গরাজ্যে মামলা করে বসেছে যা ডেমোক্রেটিদের জন্য কিছুটা শঙ্কার এবং একইসাথে চিন্তারও বটে। তার কারন সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিক দিকে সুপ্রিম কোর্ট রিপাবলিকানদের অনুকূলে রয়েছে। সেক্ষেত্রে রাজ্যভেদে ভিন্ন কোনো জটিলতা দেখা দিতে পারে যা নির্বাচনের বিষয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা ও দোদুল্যমানতা তৈরী হতে পারে।

অন্যদিকে সিনেট এবং হাউস নিয়েও তুমুল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছিল রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে। যদি কিছুটা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে সিনেট রিপাবলিকানদের অধীনে এবং হাউস যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটদের দখলে। জনপ্রিয় ভোটেও বাইডেন ট্রাম্প থেকে অনেক বেশি এগিয়ে!তবে ঠিক এই মুহূর্তে  বাইডেন এগিয়ে থাকলেও নির্বাচন নিয়ে নিশ্চিত করে ঠিক পূর্বাভাস দেয়ার সুযোগ নেই।

তবে এর মধ্যে যে বিষয়টি নানানভাবে চলে এসেছে তা হচ্ছে আগামী বিশ্বের জন্য কে বেশি ইতিবাচক হবে?  বাইডেন নাকি ট্রাম্প! ট্রাম্প নির্বাচিত হলে তার পলিসিতে কোনো রকম পরিবর্তন আসবে কিনা কিংবা বাইডেনের ফরেন পলিসি কেমন হতে পারে তা নিয়ে নানান আলাপ অবশ্য আছে দু'জনের পক্ষে-বিপক্ষে। আমাদের দেশের নাগরিকরা ভাবছে দক্ষিন এশিয়ায় তাদের পলিসিগুলি কেমন হতে পারে। অবশ্য এসকল কিছুর পূর্ভাবাস কিছুটা আঁচ করা যায় নির্বাচনের আগে আমেরিকাকে নিয়ে তাদের বিভিন্নরকম কর্মপন্থা ও প্রতিশ্রুতি দিকে আলোকপাত করলে।

এসকল প্রশ্নের জবাব এবং সমীকরণ নিয়ে হয়তো নানান আলোচনা করা যেতে পারে তবে এই মুহূর্তে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কে হতে যাচ্ছে আগামীতে হোয়াইট হাউসের অধিকর্তা। আমেরিকাকে মহান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা মি. ট্রাম্প নাকি নতুন অতিথি মি. বাইডেন। পেন্ডুলামের মতো দুলছে এই মুহূর্তে মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল। এ যেনো প্রবল উত্তেজনায় ভরপুর এক ভিন্নরকম মার্কিন নির্বাচন!

লেখক : মোঃ শাহ জালাল, ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগ, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

দেশসংবাদ/এসজে/এফএইচ/এইচএন


আরও সংবাদ   বিষয়:  ডোনাল্ড ট্রাম্প   জো বাইডেন  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা
করোনায় লণ্ডভণ্ড ভারত, আক্রান্ত ছাড়ালো ৯১ লাখ
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এম. এ হান্নান
যুগ্ম-সম্পাদক : মোহাম্মদ রুবাইয়াত আনোয়ার
যোগাযোগ
টেলিফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
সেলফোন : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up