ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০ || ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ কে এই অ্যান্থনি ব্লিংকেন? ■ ১ ডিসেম্বর আমৃত্যু কারাদণ্ডের রিভিউর রায় ■ করোনায় লণ্ডভণ্ড ভারত, আক্রান্ত ছাড়ালো ৯১ লাখ ■ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হচ্ছেন অ্যান্থনি ব্লিংকেন ■ করোনায় সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের মৃত্যু ■ অবশেষে ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি ট্রাম্প ■ বাইডেন মন্ত্রিসভার ৬ সদস্যের নাম ঘোষণা ■ করোনার ২য় ঢেউ, শুরুতেই কিট সংকট ■ মহাখালি ৭ তলা বস্তিতে আগুন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ■ মহাখালীর ৭ তলা বস্তিতে ভয়াবহ আগুন ■ ডিসেম্বরে হাসিনা-মোদি বৈঠক ■  ৪৩তম বিসিএস ক্যাডারে ১৮১৪ জন নিয়োগ হচ্ছে
শেখ মুজিবের সংগ্রাম অস্বীকার করার উপায় নেই
দেশসংবাদ, ঢাকা
Published : Thursday, 12 November, 2020 at 11:04 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ

সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ভাষণ দিতে গিয়ে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, আমার জন্য বক্তব্য দেওয়া সত্যি খুবই কঠিন। বলতে দ্বিধা নাই জাতীয় নেতৃবৃন্দের মান ও মর্যাদা অবশ্যই দিতে হবে। আমাদের চলার জীবনে অনেক ত্রুটি থাকবে এটিই স্বাভাবিক। একটি দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে ভুলত্রুটি থাকবে এটিই স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক কে, কে ঘোষক নয় এটি নিয়ে যদি বিতর্ক করা হয় তার মধ্যে দিয়ে কি শেখ মুজিবকে বড় ছোট করা যাবে? আমরা যদি এই জায়গা থেকে বির্তক দূর করে দিতে পারি, আমি মনে করি এই খানে এই ধরনের বির্তক আনা উচিতই না। এরমধ্যে দিয়ে কি স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে? শেখ ‍মুজিবের যে দীর্ঘ ২০ বছরের কষ্টার্জিত সংগ্রাম, লড়াই এদেশের মানুষের অধিকারের জন্য সেটা অস্বীকার করার পথ নাই, সেটাকে কেউ অস্বীকার করে না, করা যায় না।

বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ অধিবেশনে বঙ্গবন্ধুর ওপর আনিত প্রস্তাব সাধারণের ওপর বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন।

হারুনুর রশীদ বলেন, আমি কোথা থেকে শুরু করবো বলতে পারছি না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মায়ের লেখা একটি প্রবন্ধ থেকে বক্তব্য শুরু করতে চাই। ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ দৈনিক বাংলা প্রকাশিত বঙ্গমাতার লেখা প্রবন্ধ পাঠ করে বক্তব্য শুরু করেন তিনি।

তিনি বলেন, ২৫ মার্চ রাতে সেদিন বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং বাংলাদেশে অমানবিক পাকিস্তানি শাসকরা নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছিল আমি তার তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য বলেন, আমার জন্ম ষাটের দশকে। আমি মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রাইমারি স্কুলের ছাত্র। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের শিকার হন, তখন আমি ক্লাস এইটে পড়ি। আমি তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের ছাত্র। এখানে সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ধারাবাহিকভাবে বঙ্গবন্ধুর জীবনী স্মৃতিচারণ করছেন, নিঃসন্দেহে মনে করি এটা প্রয়োজন ছিল।

তিনি বলেন, তবে আমি একটি কথা স্পষ্টভাবে বলতে চাই। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুর সিদ্ধান্ত ছিল সঠিক। উনি যদি পালিয়ে যেতেন, উনি যদি ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করতেন, তাহলে আন্তর্জাতিক বিশ্বে পাকিস্তানি শাসকরা বলতো উনি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা। উনি বাংলাদেশকে ভারত পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায়। যেটি উনি বুঝেছিলেন, যে বাংলাদেশ থেকে যদি তিনি আত্মগোপন করেন, হত্যাকাণ্ডেরও শিকার হয়ে যেতে পারেন। তিনি ছিলেন সেই সময় সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের নির্বাচিত নেতা । পাকিস্তানিরা তার হাতে ক্ষমতা দেয়নি। যে কারণেই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছিল। এটি ছিল তার সঠিক সিদ্ধান্ত।

বিএনপির এই এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এখানে বলেছেন স্বাধীনতার ঘোষক কে, কে ঘোষক নয় এটি নিয়ে যদি বিতর্ক করা হয় তার মধ্যে দিয়ে কি শেখ মুজিবকে বড় ছোট করা যাবে? আমরা যদি এই জায়গা থেকে বির্তক দূর করে দিতে পারি, আমি মনে করি এই খানে এই ধরনের বির্তক আনা উচিতই না।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের কথা তুলে ধরে হারুনুর রশীদ বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের যত অমিলই থাকুক না কেন, বঙ্গবন্ধু কোনো বিরোধী দলের নেতাকে কটাক্ষ করে কিছু বলতেন না। বরং তাদের যথাযথ সম্মান দিয়ে কথা বলতেন, রাজনৈতিক শিষ্টাচার তার জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট ছিল। বঙ্গবন্ধু বিরোধী দলের নেতাদের কটাক্ষ করতেন না, সমালোচনা করতেন না, উপহাসও করতেন না বরং তাদের স্নেহ করতেন শ্রদ্ধা করতেন সম্মান করতেন, উনার বিভিন্ন লেখনি থেকে পাই।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে বছরব্যাপী আয়োজন করেছেন যথার্থভাবে ছড়িয়ে দেবার জন্য, যে আয়োজন করেছেন বিশ্ব মহাসংকটের মধ্যে বাংলাদেশও সেখান থেকে বিচ্ছিন্ন নয় আমরাও একটা মহাসংকট মোকাবিলা করছি। পাশাপাশি মুজিববর্ষ উপলক্ষে আমাদের উচিত ছিল রাষ্ট্র মেরামতের পদক্ষেপ নেওয়া। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ধারণ করেছে। আজকে বাংলাদেশে ভয়াবহ আকারে ধর্ষণ ব্যাপক আকার ধারণ করছে। শুধু এখানেই শেষ নয়, সুশাসনের বড় অভাব রয়েছে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা উচিত ছিল এই বছরে মেরামত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা। যে চিত্র দেখছি, বেহাল দশা দেখছি। এটি কল্পনা করা যায়? আজকের রাজনীতিতে সব থেকে দুর্বৃত্তায়ন প্রতারণা, দুর্নীতি জনগণের অর্থ লুটপাট করাকে রাজনীতি বলা যায় না। রাজনীতি নেতৃবৃন্দের মধ্যে গভীর জ্ঞান থাকতে হবে। জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধের চরম আকাঙ্খা থাকতে হবে তাহলেই আমরা আমাদের জায়গায় যেতে পারব।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বলছেন। রাজনৈতিক দলগুলোকে পরমতসহিষ্ণুতা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। এটি রাষ্ট্রপতি তার ভাষণের মধ্যে উল্লেখ করেছেন। আজকে বিবেচনা করতে হবে এই জায়গাগুলো নষ্ট করে ফেলেছি, নষ্ট হয়ে গেছে। কিভাবে এই জায়গাগুলোকে ফিরিয়ে আনবো এটি মুজিবর্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে আলোচনা করব পাশাপাশি এই জায়গাগুলোকে কিভাবে নিশ্চিত করব তার ব্যাপারে পরিকল্পনা থাকতে হবে।

দেশসংবাদ/বার্তা/এসআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  জাতির পিতা   বঙ্গবন্ধু   সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা
করোনায় লণ্ডভণ্ড ভারত, আক্রান্ত ছাড়ালো ৯১ লাখ
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এফ. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এম. এ হান্নান
যুগ্ম-সম্পাদক : মোহাম্মদ রুবাইয়াত আনোয়ার
যোগাযোগ
টেলিফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
সেলফোন : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up