বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১ || ১৪ মাঘ ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ চট্টগ্রামের মেয়র হলেন রেজাউল করিম চৌধুরী ■ চট্টগ্রাম সিটিতে কাউন্সিলর হলেন যারা ■ প্রথম দিন করোনার টিকা নিলেন যারা ■ ৪০তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ (তালিকা) ■ এবার ভারতের সংসদ ভবনে অভিযানের ঘোষণা ■ প্রথম করোনা টিকা নিলেন নার্স রুনু ■ দেশে করোনার টিকাদান কার্যক্রম শুরু ■ বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে উঠলো রিয়াদ ■ অধিকাংশ কেন্দ্রেই নেই বিএনপি’র এজেন্ট ■ চট্টগ্রামে সংঘর্ষ-গোলাগুলি, যুবক নিহত ■ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শোডাউন ■ চট্টগ্রামে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ২১
লম্বা হলো নদী দখলদারের তালিকা
দেশসংবাদ, ঢাকা
Published : Tuesday, 12 January, 2021 at 11:01 PM, Update: 13.01.2021 12:38:54 AM
Zoom In Zoom Out Original Text

লম্বা হলো নদী দখলদারের তালিকা

লম্বা হলো নদী দখলদারের তালিকা

দেশের ৬৪ জেলায় মোট ৬৩ হাজার ২৪৯ জন দখলদার ও দূষণকারীর তালিকা প্রকাশ করেছে জাতীয় নদী রক্ষা জাতীয় কমিশন। এর আগে এই তালিকায় ছিল ৫৭ হাজার ৩৯০ দখলদার। এরমধ্যে গত দুই বছরে ১৮ হাজার ৫৭৯ দখলদারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে কমিশন জানায়।

আজ মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন-২০১৯ প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। এ সময় বলা হয়, নদীর দখল ও দূষণ রোধে শুধু আন্তরিক হলেই হবে না, আইনের সঠিক প্রয়োগ আর কঠোর হাতে দখলদার ও দূষণকারীদের বিরুদ্ধে কাজ করে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী আব্দুল মান্নান বলেন, ‘নদী কমিশনের মাধ্যমে নদীকে বাঁচানোর এ উদ্যোগ আমাদের প্রধানমন্ত্রীর। আমরা এ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। নদী কমিশন যে কাজ করছে তাতে সুধী মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ব্রহ্মপুত্র বাঁচাতে আমরা কাজ করছি। এটি আরও জোরদার করা দরকার। আগামী ক্যাবিনেট সভায় নদী কমিশনের বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করবো, যাতে এটি আরও গুরুত্ব পায়।

নদী কমিশনের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘গত এক বছরে আমরা প্রায় ১৮ হাজার ৫৭৯ দখলদারকে উচ্ছেদ করতে পেরেছি। গত এক বছরে দখল ও দূষণকারীদের তালিকা আরও বড় হয়ে ৫৭ হাজার ৩৯০ থেকে এখন ৬৩ হাজার ২৪৯-তে পৌঁছেছে।’

তিনি জানান, ‘নদীর দখল ও দূষণ রোধে আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ২০০ কোটি টাকা চেয়েছি। পাশাপাশি দুই প্রকল্পের প্রস্তাব জমা দিয়েছি পরিকল্পনা কমিশনে। করোনার কারণে আমাদের কিছু কাজ পিছিয়ে গেছে। অর্থ ও প্রকল্পগুলো অনুমোদন পেলে আমরা যেসব কাজে পিছিয়ে গেছি তা কাটিয়ে উঠতে পারবো।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানজাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠান
তিনি জানান, ‘নদী দখলের কারণে আমাদের নাব্য কমে গেছে। পানি জমে যাচ্ছে। দেশের একদিকে পানি নেই, অন্যদিকে বন্যা হচ্ছে ঘন ঘন। ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা, শীতলক্ষ্যা,  ধলেশ্বরী বড় বড় ব্যবসায়ীরা দখল করে রেখেছে। অনেক জায়গায় বড় বড় প্ল্যান্ট হয়েছে। বড় বড় কারখানা করা হয়েছে। ঢাকার আশপাশের প্রায় ৭৭টি খাল ছিল। সেগুলো প্রায় সব দখল হয়ে গেছে। কিছু ব্রিজ হয়েছে যা নদী দখল করেই করা হচ্ছে। এমন ছোট যে সেটি দিয়ে চলাচল করা যায় না। নাব্যের জায়গাটি খুবই নাজুক অবস্থায় আছে। প্রতি বছর ড্রেজিং করার কথা থাকলেও খুব কম পরিমাণে ড্রেজিং হচ্ছে। ছয় ভাগের এক ভাগও করতে পারছি না।

চেয়ারম্যান বলেন, ‘নদীর বিষয়ে সবার সচেতনতার জায়গাটি আস্তে আস্তে বাড়ছে। অনেক আইন আছে। সেগুলোর মধ্যে কিছু খুব জটিল। ফলে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও অনেক জটিলতা হয় অনেক সময়। পরিবেশের আইন দিয়ে আমরা পরিবেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছি। আইনের যে জরিমানা তা যথেষ্ট নয়। শাস্তি প্রয়োগ করতে হবে। সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কাজ করতে গিয়ে কোথাও সমস্যা হলে সেখানে শক্তভাবে কঠোর হাতে দখলদারকে উচ্ছেদ করতে হবে।

অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সবার আগে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। শুধু দখল আর দূষণ বন্ধ করা নয়, লালনও করতে হবে নদীকে। নদীর প্রতি আমাদের প্রতিজ্ঞা তো আছে, কিন্তু নদীর প্রতি দায়িত্ববোধ একটি বড় বিষয়। সম্মিলিত প্র‍য়াস খুব জরুরি। পরিবেশ এবং উন্নয়ন দুটো বেছে নেওয়া কঠিন। একটা বেছে নিতে হবে।

বাপার সাধারণ সম্পাদক শরিফ জামিল বলেন, ‘এত আন্দোলনের পরও এখন এসে দেখা যাচ্ছে যে নদী দখল এবং দূষণ দুই-ই বেড়েছে। পাশাপাশি আদালতের কড়া রায় করেও তা বন্ধ হচ্ছে না। বাইরের দেশগুলোতে আমাদের নদীর বিষয়ে এসব উদ্যোগের জন্য যেমন প্রশংসা শোনা যায়, তেমনি আইনের যথাযথ প্রয়োগ না করার জন্য আমরা সমালোচিতও হই। সরকার যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে তা খুবই দুর্বল।  সরকারকে বিশ্বাস করতে হবে যে মানুষ নদীকে বাঁচাতে চায়। আদালত যতই শক্তিশালী রায় দিক না কেন, কাজ হবে না যদি না সরকার চায় কাজ হোক। কমিশনও কার্যকর হবে না।’

কমিশনের সদস্য শারমিন সোনিয়া মুরশিদের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মঞ্জিল মোর্শেদ, বাপার সাধারণ সম্পাদক শরিফ জামিল প্রমুখ।

দেশসংবাদ/বাট্রি/এসআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  নদী   জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা
প্রথম দিন করোনার টিকা নিলেন যারা
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এম. এ হান্নান
যুগ্ম-সম্পাদক
মোহাম্মদ রুবাইয়াত আনোয়ার
মেবিন হাসান
যোগাযোগ
টেলিফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
সেলফোন : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up