বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১ || ১২ শ্রাবণ ১৪২৮
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ আ.লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা ■ সাগরে ৭ ট্রলার ডুবি, নিখোঁজ ২০ ■ শহরে মডার্না গ্রামে সিনোফার্ম ■ ইভ্যালিতে যমুনা গ্রুপের ১০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ ■ দেশে একদিনে সর্বোচ্চ ২৫৮ জনের মৃত্যু ■ পাঁচ অতিরিক্ত সচিবকে বদলি ■ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধস, নিহত ৬ ■ শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রীদের ঢল ■ খুলনা বিভাগে আরও ৪৬ জনের মৃত্যু ■ ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা ■ আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুর্নীতিতে দুদকের অনুসন্ধান ■ ঋণের কিস্তি ১৮ মাস স্থগিত
ভাগিনার খোলা চিঠি-০২
দেশসংবাদ ডেস্ক
Published : Thursday, 11 February, 2021 at 1:32 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

এ বি সিদ্দিক

এ বি সিদ্দিক

মামা, দোয়া করবেন। জোয়ার ভাটার দেশ আমাদের বাংলাদেশ। ঘনবসতিপূর্ণ ছোট্ট এই দেশে ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে। আবার অদৃশ্য শক্তির ইশারায় ঘটনাগুলো ভাটির টানে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যায়। শেয়ার কেলেঙ্কারি, নিমতলীর অগ্নিকান্ড, সাভারে রানা প্লাজা দুর্ঘটনা, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকান্ড, বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যাকান্ড, ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি, বালিশ কেলেঙ্কারি, পর্দা কেলেঙ্কারি, সম্প্রতি নরসংদীর মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী পাপিয়া কেলেঙ্কারির ঘটনার পরিসমাপ্তির কোন কূল কিনারা খুঁজে পাই না। মানুষ বেমালুম ঘটনাগুলো ভুলে যাচ্ছে। পত্র-পত্রিকাগুলো প্রথমে একবারে ঘটনার আদি অন্ত বের করে ফেলে, পরে চুপ হয়ে যায়। এমনকি ফলোআপ নিউজও তেমন হয় না। দুঃখজনক। বিচিত্র এই দেশ। মাঝে মধ্যে মানুষের মন মানসিকতা, মানবতা আর দৃষ্টিভঙ্গির কথা চিন্তা করলে হতবাক হয়ে যেতে হয়। উত্থান পতন, ভাঙ্গাগড়া, ক্ষমতার পট পরিবর্তন- অনেক কিছুর সাক্ষী আপনি।

আসলে মামা কথায় বলে- বাজারে কত স্নো আইলো গেলো, তিব্বত স্নো রয়েই গেল। আপনার কোন পরিবর্তন হয়নি। আপনি হলেন আমার ভাবনার কারিগর। সমুদ্রের জাহাজের নাবিকের হাতের কাঁটা কম্পাস। এই করোনাকালে কে কার কথা শুনে? সবাই ত উদ্বেগ, আতঙ্ক, মৃত্যুভয় আর বিষণœতায় দিন কাটাচ্ছে। আমি তো নিজেই গোয়াল ঘরের গরুর মত বন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি। গেটের চাবি আর আমার হাতে নেই। আপনি ত ধৈর্যশীল। আমার কথাগুলো শ্রবন করে মূল্যবান পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। করোনার কারণে আপনাকে দেশ গ্রামের কোন খবর জানাতে পারছি না। বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারের মত মানুষ করোনা আক্রান্ত হচ্ছে। মৃত্যুর মিছিল দিন দিন বাড়ছে। আক্রান্তের দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬তম। মৃত্যুর সংখ্যায় বাংলাদেশের অবস্থান ২৭তম। প্রতিদিন এর গতি পরিবর্তন হচ্ছে। গত চিঠিতে নিয়ন্ত্রণহীন করোনার বেসামাল অবস্থা আমি বুঝানোর চেষ্টা করেছিলাম। তারপরও আরো খোলাসা করে বলছি। শুরুতে জনগণ স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করেনি। সরকারও স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা দিবালোকের মত সত্য। ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে এই মহামারিকে সবচেয়ে বেশি অবহেলা করেছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পড়া নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রহ ছিল কম। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিতে গিয়ে ব্রাজিলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার মন্ত্রিত্ব হারান। বিশ্বে আক্রান্ত ও মৃত্যুহার বিবেচনায় আমেরিকা প্রথম ও ব্রাজিল দ্বিতীয় অবস্থানে আছে।

বাংলাদেশের মানুষ প্রথমে মনে করেছে- অলি আল্লাহর দেশ বাংলাদেশ, এই দেশে করোনা আসতে পারে না। আবার অনেকের ধারনা ছিল, গরীব দেশ, ঘনবসতির দেশ, উষ্ণমন্ডলীয় অঞ্চল, যেখানে ম্যারাডোনা বাংলাদেশ চিনে না সেখানে করোনা বাংলাদেশকে সহজে চিনতে পারবে না। এসব দিক বিবেচনায় আমাদের পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না। খামখেয়ালীভাব ছিল। মহামারী করোনা সকলের ভুল ভেঙ্গে দিল। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর মানবজাতির উপর এতবড় মহাসঙ্কট আর আসেনি। যেন জৈব অস্ত্রে পৃথিবী ছারখার। আমাদের দেশের ফ্রন্টলাইনের লোকজনের মধ্যে রয়েছে ডাক্তার/নার্স, পুলিশ আর সাংবাদিক ভাইয়েরা। পুলিশ নিজেকে সুরক্ষা না করে, দায়িত্বের খাতিরে লাঠি আর রাইফেল নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে। ডাক্তার ও নার্সগণ এমনিতেই জীবন ঝুঁকিতে, তার উপর মানসম্মত সুরক্ষা সামগ্রীর অভাব এবং অসাবধানতাই বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাংবাদিকেরা জাতির বিবেক। নিজেদের সুরক্ষার কথা না ভেবে জনগণের চিন্তায় ছিল বিভোর। তাদেরকেও সেই আক্কেল সেলামী দিতে হচ্ছে। বর্তমানে তারা এমন সতর্ক যে অনলাইনে কাজ সমাধা করে ফেলে। আসলে কথায় আছে, “ঠেকলে ভূতও আজান দেয়।” বিএমএর হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৪৭ জন ডাক্তার মৃত্যুবরণ করেছেন(২৫শে জুন)। চিকিৎসক, নার্স সহ সংক্রমিত ৪০৯৫ জন। এর মধ্যে চিকিৎসক ১০৬৮ জন। এদিকে প্রায় ১০ হাজার পুলিশ করোনায় আক্রান্ত। মৃত্যুবরণ করেছেন ৩৭ জন (২৭ জুন)। আইসোলেশনে আছেন ৪১৯৮ জন। অনেক সাংবাদিক মৃত্যুবরণ করেছেন আবার অনেকেই সংক্রমিত। আইসোলেশনেও আছেন অনেকে। মামা, বাংলাদেশে আসা চীনা বিশেষজ্ঞদল তাদের হোয়াংহো নদীর দুঃখ আমাদের উপর ঢেলে দিলেন। আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থায় নাকি অন্ধকারে ঢিল ছোঁড়ার কাজ হচ্ছে। বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতিতে চিকিৎসা ও সার্বিক ব্যবস্থার উপর হতাশা প্রকাশ করেছেন। করোনা পরীক্ষা বাড়ানো, বিজ্ঞানসম্মতভাবে লকডাউন কার্যকর এবং জনগণকে সচেতন করে তোলার সুপারিশ করেছেন। আসলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনেকটা উপেক্ষিত হয়েছে। সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে হলে সন্দেহজনক ব্যক্তি চিহ্নিত করা, রোগ শনাক্ত করা, শনাক্ত হওয়া রুগীকে আইসোলেশনে নেওয়া, কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং করা- এগুলো কিছুই আমরা করতে পারিনি। আমাদেরকে এখন নিয়তির উপর নির্ভর করতে হবে, এছাড়া উপায় নেই। তাই কাজলরেখার গল্পের কথা মনে পড়ে- “রানী হল দাসী, দাসী হল রানী। কর্মদোষে কাজলরেখার জন্ম অভাগিনী”। আমাদের স্বাস্থ্যখাতের এই অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখলে হতাশা বেড়ে যায়, রাতে ঘুম আসে না।

কি বলব মামা? জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে গেলে কি কারণে ভাগ্যবিধাতা বিমাতাসুলভ আচরণ করে, তা বুঝতে পারি না। আমাদের সকল তদন্ত সংস্থা ও সাংবাদিকমহলের অগোচরেই দৈবাৎ ঘটনা ঘটে যায়। এরপরেই সাংবাদিকসহ সকলেই এর পেছনে এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে এর রসকষ বের করে ইঁদুরের গর্ত সহ আর কোন কিছুই জানার অবশিষ্ট থাকে না। জল পড়ে পাতা নড়ে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যদি শিশুকালে টের পেতে পারে, আমরা কেন ঘটনা ঘটার আগে কোন কিছু বুঝি না। লক্ষীপুর-২ আসনের রাজকুমার সাংসদ শহীদুল ইসলাম পাপুল বর্তমানে কুয়েত কেন্দ্রীয় কারাগারে। মানবপাচার, মুদ্রাপাচার, ভিসা ব্যবসা, ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে শহীদুল ইসলাম পাপুলকে কুয়েত কেন্দ্রীয় কারাগারে ২১ দিন রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কুয়েত কর্তৃপক্ষ সেদেশে ব্যাংকে থাকা ১৩৮ কোটি টাকা জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই ব্যক্তি ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে টাকার জোরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। একই কায়দায় তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম মহিলা সংরক্ষিত আসনে সাংসদ হয়েছেন। জানা গেছে, জামায়াত নেতা মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত মীর কাশেম আলীর সাথে তার সখ্যতা ছিল। ওইদিন মনু মামা কুয়েত কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় গানের আওয়াজ শুনেন। কারাগারের ফটকে গিয়ে দেখেন নোয়াখালীর দারোয়ান মজুমিয়া মনের সুখে গাচ্ছে-“আন্ডা বাড়ি নোয়াখালী, সদর থানায় ভাই। মোল্লা মুন্সি আলেম জালেম কোন কমতি নাই”।

শুনলে মামা লজ্জা পাবেন। দেশের ভিতর প্রতারণার দিক দিয়ে আমরা যেভাবে এগিয়ে আছি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পিছিয়ে নেই। এই বিষয়ে ঝুড়িভরা সুনাম রয়েছে আমাদের। চিংড়ি রপ্তানির প্রতারণার কাহিনী অনেকের জানা। ওজন বাড়ানোর জন্য লোহার পেরেকসহ চিংড়ি রপ্তানি করা হয়। প্রতারণার সার্টিফিকেট পাবার পর এই খাতে আমাদের আয়ের ধস নামে। বিদেশী মুদ্রা অর্জনে পিছিয়ে পড়ি। এরশাদ আমলে গোথিয়া কাপের কথা কেউ ভুলে যায়নি। বিদেশী ৭/৮ বছরের ছেলেদের সাথে বাংলাদেশের ১২/১৩ বছরের ছেলে (বয়স লুকিয়ে) এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ছেলেরা ১০ গোল থেকে ২৫ গোলের ব্যবধানে জয়ী হয়ে গোথিয়া কাপ অর্জন করে। দেশে ঢাক ঢোল পিটিয়ে সুনাম অর্জনের বাহাদুরি জাহির করে। মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতসহ অন্যান্য দেশকে স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। স্বর্ণপদকেও স্বর্ণ না দিয়ে প্রতারণা করে এই পদক বিদেশীর হাতে তুলে দেয়া হয়। ঘটনা জানাজানির পর সকলে হতবাক। দেশের মান সম্মান ভূলুণ্ঠিত। পদক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং গঠিত তদন্ত কমিটির কি রিপোর্ট ছিল তা আদৌ জানতে পারিনি।

এই করোনাকালেও আমরা প্রতারণায় পারদর্শিতা দেখিয়েছি। পরীক্ষা ছাড়াই করোনা শনাক্তের ফল। জোবেদা খাতুন সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (জেকেজি হেলথ কেয়ার) কে বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দেয়। অনুমতি সাপেক্ষে জেকেজি রাজধানী ও নারায়ণগঞ্জে বুথ স্থাপন করে বাসায় বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করত। প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ নমুনা সংগ্রহ করা হতো। শর্ত ছিল সরকার নির্ধারিত ল্যাবে নমুনা পাঠানো এবং সেখান থেকে ফল সংগ্রহ করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু তারা বুকিং বিডি ও হেলথকেয়ার নামে দুটি প্ল্যাটফর্ম চালু করে। ৫০০০-৮০০০ টাকা নিয়ে নমুনা রাস্তায় ফেলে দিয়ে নিজস্ব প্যাডে পজিটিভকে নেগেটিভ আর নেগেটিভ কে পজেটিভ এভাবে মানুষকে ভুয়া ফল দিয়ে প্রতারণা করে। গ্রেফতারকৃতরা আরো কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত আছে বলে জানা যায়। এই ধরনের মরণঘাতী প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি গ্রহণ না করলে আমরা আবারও প্রতারণার ফাঁদে আটকে যাব। আমরা এই প্রতারণার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে শুধু শুধু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিক, শিক্ষক, সমালোচক ও কার্টুনিস্টদের জেলখানায় পাঠাচ্ছি। শ্রদ্ধেয় নেতা মরহুম মোহাম্মদ নাসিম কে নিয়ে সমালোচনা ও ব্যঙ্গচিত্রের কারণে অনেকে এখন কারাগারে। কিন্তু মরহুমের পুত্রবধূ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী এই নিবর্তনমূলক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন উঠিয়ে দিয়ে বন্দীদের মুক্তি ও গণমানুষকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

মামা, আমি এবার আপনাকে বাজেটের উপর কিছু কথা শুনাতে চাই। আমরা তো খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। বাজেট দিয়ে আমাদের কি কাজ। তারপরও কথায় আছে “একে নষ্ট করে, সবে দুঃখ পায়। বালকে আগুন দিলে ঘর পোড়া যায়”। বাজেটও কিন্তু ধনী গরীব সকলকে প্রভাবিত করে। বর্তমান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বিজ্ঞ এবং অভিজ্ঞ। চালাক ও চতুর। নামী দামী চাটার্ড একাউন্টেন্ট। গত বছর ছিলেন ভয়ানক অসুস্থ। পুরোপুরিভাবে বাজেট পেশ করতে পারেননি। এই বছরও কিন্তু করোনার কারণে ভীত সন্ত্রস্ত। তারপরও বাজেট পেশ করেছেন। দীর্ঘ সময় লকডাউনের কারণে বিশাল একটি গোষ্ঠী কর্মহীন হয়ে পড়েছে। প্রায় আড়াই কোটি লোক চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। অন্যদিকে রপ্তানি, প্রবাসী আয়, বিনিয়োগ ও রাজস্ব আয়ে ধস নেমেছে। উৎপাদনশীলতা, বেসরকারীখাতের ঋণ, আমদানি খাতে নিম্নোত্তর প্রবণতা চিন্তা ভাবনা করে এই ক্রান্তিকালে বাজেট পেশ করে অসীম সাহসিকতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। আসলে বাজেট হলো সরকারের এক বছরের আয় ব্যয়ের দলিল।

এবার বাজেটের আকার পাঁচ লাখ আটষট্টি হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এক লাখ নব্বই হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। দুই লাখ পাঁচ হাজার একশত পঁয়তাল্লিশ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন (এডিপি) কর্মসূচি রয়েছে। বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৮.২ শতাংশ। স্বাস্থ্যখাতে থোক বরাদ্দ দশ হাজার কোটি টাকা সহ মোট বরাদ্দ একচল্লিশ হাজার সাতাশ কোটি টাকা, যা বরাদ্দ বাজেটের ৫.১ শতাংশ। গত বছর ছিল ৫.৮ শতাংশ। কিন্তু কিছু স্বাস্থ্যসামগ্রীর উপর মূল্য সংযোজন কর কমানো হয়েছে। আসলে মামা, সমালোচনা নয় কোভিডের কারণে রাষ্ট্রযন্ত্র বহুমাত্রিক ঝুঁকির সম্মুখীন। মানুষের জীবন জীবিকা টিকিয়ে রাখাই হলো মূল লক্ষ্য। আমরা শুধু ছকবাঁধা সমালোচনায় বিভোর।

অর্থমন্ত্রী বলেছেন বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে ব্যয় করার জন্য। আয় কোথা থেকে আসবে তা পরে দেখবেন। আমার দৃষ্টিতে ব্যাকরণ ভাষাকে শাসন করে না, ভাষাই ব্যকরণকে শাসন করে। অর্থাৎ, ব্যয়ই বলে দিবে আয় কোত্থেকে আসবে। পরিবর্তন, সংশোধন, সংযোজন, বিয়োজন এগুলো সময়ই বলে দিবে। আয়ের খাতগুলো তো মুছে যায়নি বা মুছে ফেলা হয়নি। আসলে মামা, আমরা যেমন ভাল ব্যবহার শিখিনি, তেমনি অর্থ ব্যয় করাটাও রপ্ত করতে পারিনি। উন্নয়ন বাজেটের অনেক টাকা ফেরত যায়। স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দকৃত টাকাও ব্যবহার করতে পারিনি। আসলে আইনের শাসন, দুর্নীতি মুক্ত প্রশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবই হল বাজেট বাস্তবায়নের মূল অন্তরায়। এই মৌলিক বিষয়ের উপর নজর না দিলে বাজেট বাস্তবায়ন সফল হবে না এবং ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত সাতক্ষীরা ও খুলনা উপকূলীয় অঞ্চলে খোলা আকাশের নিচে বেড়িবাঁধের উপর বসবাসরত হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে বাজেট হবে মাকাল ফল।

এবার মোবাইল ফোনের উপর কিছুটা শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা হয়েছিল, তা উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত আমার পছন্দ হয়নি। এক সময় প্রচলিত ছিল যে মানুষের মুখের ট্যাক্স নেই। বর্তমানে এই প্রবাদবাক্য আর চলে না কারণ এই মোবাইলের উপর জনগণ ট্যাক্স দিয়ে আসছে। পরিবর্তিত অবস্থায়ও একজন মোবাইল ব্যবহারকারীকে শুল্ক ও ভ্যাটসহ ২২ টাকা প্রদান করতে হচ্ছে। অর্থাৎ ১০০ টাকা রিচার্জে গ্রাহক ৭৮ টাকা ভোগ করছে। এ দেশে ১৬ কোটি ২৯ লাখ মোবাইল ব্যবহারকারী রয়েছে (সরকারী হিসাবমতে ১৫ কোটি ৭৫ লাখ)। এই খাতের ওপর ট্যাক্স/ভ্যাট বসালে দেশের রাজস্বখাতের আয় বাড়বে। মানুষের আলাপ কমে যাবে। এই নীরব খাতের তেমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। মানুষ বুঝতেও পারে না। এতে আমি দোষের কিছু দেখি না।

টকশোতে ইদানীং মন্ত্রী-আমলারা করোনা নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে জবাব দিতে গিয়ে বলে, “আমেরিকা, ব্রাজিল, ইতালি নিয়ন্ত্রন করতে হিমশিম খাচ্ছে, তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি, আমরা কিভাবে পারব?” মন্ত্রী-আমলাদের এই কথাগুলো শুনে একটা গল্প মনে পড়ে গেল মামা। পরীক্ষায় রেজাল্ট দেওয়ার পর এক ছেলে বাবার সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। বাবা পরীক্ষার ফলাফলের কথা জিজ্ঞেস করলে ছেলে বলে উঠল, “আমাদের ক্লাসের ফার্স্ট বয়ও পাস করতে পারেনি এবার। আমি কিভাবে পাস করব?” বাবা রেগে একটা থাপ্পড় দিয়ে বলল, “ফার্স্ট বয় পাস করল কিনা তা শুনে আমার কি লাভ? ওটা আমি জানতে চাই না। তুমি পাস করতে পারোনি কেন বল?” অভিজ্ঞ মামা অভিজ্ঞতার আলোকে বুঝে নিবেন।

প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপদেশ নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন গত ৮ জুন দেশকে করোনামুক্ত ঘোষণা করেন। সঠিক পরিকল্পনা, দৃঢ়তা ও টিম ওয়ার্কই তাদের এই সফলতার মূল কারণ। নিউজিল্যান্ডে ১৯ মার্চ যখন লকডাউন ঘোষণা করা হয় তখন করোনা রোগী ছিল ৩০ জন। পরে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা হলো ১৫২৮ জন। সুস্থ হয়েছেন ১৫০৬ জন। মারা গেছেন ২২ জন। এখন পর্যন্ত নতুন কোন রোগী সংক্রমিত হয়নি। এসব দেশের সফলতার দিকে আমাদের নজর কম, কারণ আমরা শুধু তোষামোদি আর বন্দনাতে ব্যস্ত।

ইতি
আপনার ভাগিনা এ বি সিদ্দিক
মিরপুর, ঢাকা।


(চলবে…।)


আরও সংবাদ   বিষয়:  ভাগিনার খোলা চিঠি  


আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা
শহরে মডার্না গ্রামে সিনোফার্ম
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
সহযোগি সম্পাদক
এনামুল হক ভূঁইয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
এম. এ হান্নান
সহকারি সম্পাদক
মোহাম্মদ রুবাইয়াত আনোয়ার
মেবিন হাসান
যোগাযোগ
টেলিফোন
০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবাইল ফোন
০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল
[email protected]
ফেসবুক
facebook.com/deshsangbad10

Developed & Maintenance by i2soft
logo
up