রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১ || ৫ বৈশাখ ১৪২৮
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ জ্বরে ভুগছেন খালেদা জিয়া, বাসাতেই চিকিৎসা হচ্ছে ■ ভারতেও বাংলাদেশিরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন ■ আরও এক সপ্তাহ বাড়ছে লকডাউন! ■ ইলিয়াস আলী গুমের নেপথ্যে বিএনপি! ■ বাতাসেও ছড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস ■ জুনায়েদ আল হাবীব গ্রেফতার ■ ২৪ ঘণ্টায় আজও ১০১ জনের মৃত্যু ■ পাঁচদিনের রিমান্ডে হেফাজত নেতা মাওলানা জুবায়ের ■ হেফাজতের সহকারী মহাসচিব মাওলানা জালাল গ্রেফতার ■ চট্টগ্রামে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, নিহত ৫ ■ অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমানের মৃতদেহ উদ্ধার ■ সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে পরাজিত করতে হবে
মশার অত্যাচারে নাজেহাল নগরবাসী
দেশসংবাদ ডেস্ক
Published : Tuesday, 2 March, 2021 at 1:32 AM, Update: 02.03.2021 6:09:33 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

মশা

মশা

মশার যন্ত্রণায় নাজেহাল রাজধানীবাসী। দরজা-জানালা বন্ধ রেখেও মিলছে না মুক্তি। সন্ধ্যার পর বাইরে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দায়। কাউকে বাসায় ঢোকাতে দরজা খুললে মুহূর্তের মধ্যে অগণিত মশা ঢুকে পড়ছে ঘরে। মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন ওষুধ ছিটালেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। গবেষণা বলছে, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় রাজধানীতে বর্তমানে মশা বেড়েছে চার গুণ। চলতি মার্চে মশার ঘনত্ব সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছানোর শঙ্কা রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন গ্রুপে মশা নিয়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। মশা নিয়ন্ত্রণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধূপ জ্বালাতে দেখা গেছে।

এদিকে খুদে প্রাণীটির বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধে নেমেছে নগরবাসী। মশারি, কয়েল, অ্যারোসল স্প্রে, ধূপ, মশা মারার ইলেকট্রিক ব্যাট, ইলেকট্রিক আলোর ফাঁদসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কিনে মশা থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে। অনলাইনে মশা মারার নতুন কোনো যন্ত্র দেখলেই ভালো-মন্দ যাচাই না করে কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। এদিকে মশাকে কেন্দ্র করে অনেকে ব্যক্তি উদ্যোগে বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জানালায় নেট লাগানোর ব্যবসা শুরু করেছেন। ধাতব নেট লাগানোর ব্যবস্থা নেই যেসব জানালায়, সেখানে বিশেষ কায়দায় লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে মশারির কাপড়। প্রতি বর্গফুট মশারি লাগাতে খরচ নিচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন দোকান ঘুরে জানা গেছে, দুই মাস আগের তুলনায় মশারি, কয়েল, অ্যারোসল, মশা মারার ইলেকট্রিক ব্যাট বিক্রি অন্তত পাঁচ গুণ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ইলেকট্র্রিক ব্যাট।

গতকাল ভাটারা কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জান্নাত মশারি স্টোরে গিয়ে দেখা যায়, বিরামহীনভাবে চলছে মশারি তৈরির কাজ। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দুই মাস আগের তুলনায় মশারির চাহিদা অন্তত ১০ গুণ বেড়েছে। প্রতি বছরই এই সময়ে মশারি বিক্রি বেড়ে যায়। সারা বছর মশারি তৈরি করে গুদামজাত করে রাখি। এই সময়ে বিক্রি করি। তবে এখন অনেকে খাটে টাঙানো মশারির বদলে মশারির গজ কাপড় কিনে জানালায় লাগাচ্ছেন। এটাও আমরা তৈরি করে দিচ্ছি। শুধু বাসায় গিয়ে লাগিয়ে নিতে হয়। এতে পুরো ঘরটা নিরাপদ থাকছে।

পার্শ্ববর্তী হাজী আবুল হোসেন মার্কেটের মেসার্স কালাম ইলেকট্রনিক্সের ব্যবস্থাপক সাজ্জাদ বলেন, দৈনিক পাঁচ-সাতটি মশা মারা ব্যাট বিক্রি হচ্ছে। এটা দুই মাস আগে কল্পনাও করা যায়নি। ধোঁয়া না হওয়ায় অনেকেই মশা মারতে ইলেকট্র্রিক ব্যাটের দিকে ঝুঁকছে। খিলক্ষেতের ডুমনি এলাকার আলমগীর স্টোরের স্বত্বাধিকারী আলমগীর হোসেন বলেন, কয়েল, স্প্রে বিক্রি হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কয়েল রাখতে হচ্ছে।

এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত ১০ মাসের মধ্যে জানুয়ারির শেষ দিকে ঢাকায় মশার ঘনত্ব চার গুণ বেড়েছে। আর মশা নিয়ন্ত্রণে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ না নিলে চলতি মার্চের মধ্যে মশার ঘনত্ব বেড়ে চরমে পৌঁছাবে। গবেষণা কার্যক্রমের প্রধান জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ড. কবিরুল বাশার বলেন, প্রতি মাসে মশার ঘনত্ব কেমন হচ্ছে তা তুলনা করতে গবেষণাটি পরিচালনা করছি। জানুয়ারির শেষের দিকে রাজধানীর ছয়টা গবেষণা এলাকায় প্রতি ডিপে (মশার ঘনত্ব বের করার পরিমাপক) গড়ে ৬০টির বেশি মশা পাওয়া গেছে।  যেখানে আমরা অন্যান্য সময়ে পাই ১৫-২০টি মশা। এখনকার ৯৯ ভাগই কিউলেক্স মশা। এই মশার কামড়ে গোদ রোগ হয়। হাত পা ফুলে বড় হয়ে যায়। সাধারণত নর্দমা, ড্রেন, ডোবার বদ্ধ পচা পানিতে হয় কিউলেক্স মশা। শীতের শেষে তাপমাত্রা বাড়ায় প্রকৃতিতে যে মশার ডিম থাকে সেগুলো একযোগে ফুটে যায়। যে কারণে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে মশার ঘনত্ব বেড়ে যায়।

ওষুধ ছিটিয়েও মিলছে না সুফল


মশা মারতে দুই সিটি ওষুধ ছিটালেও মিলছে না সুফল। গতকাল মশক নিধনে সপ্তাহব্যাপী ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শেষ করেছে উত্তর সিটি (ডিএনসিসি)। এতে মোট ৪৪ হাজার ৯৬৮টি সড়ক, নর্দমা, জলাশয়, স্থাপনা ইত্যাদি পরিদর্শন করা হয়। ২১০টিতে মশার লার্ভা পাওয়া যায় এবং ৩০ হাজার ১২৯টিতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। মশার লার্ভা ও বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া এবং অন্যান্য অপরাধে ৮৯টি মামলায় মোট ১০ লাখ ৮২ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। তবে অভিযান শেষেও মশার উপদ্রব থেকে রেহাই মেলেনি রাজধানীবাসীর।

এদিকে মশা নিয়ে শুধু নাগরিকরাই নন, অভিযোগ করেছেন খোদ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও মশক নিধনে নিয়োজিত ব্যক্তিরাও। অনেকেই সিটি করপোরেশনের ছিটানো ওষুধ পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন। দক্ষিণ সিটির (ডিএসসিসি) ৬৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী মো. ইবরাহীম মেয়র বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়ে বলেছেন, তার ওয়ার্ডের জন্য সিটি করপোরেশনের বরাদ্দকৃত মশার ওষুধ ছিটানো হলেও সুফল মিলছে না।

মশা মারার ওষুধে কাজ না করা প্রসঙ্গে ড. কবিরুল বাশার বলেন, নির্দিষ্ট  কোনো একটি কীটনাশক একটানা পাঁচ বছরের বেশি ব্যবহার করা হলে মশা সেই কীটনাশকের বিপক্ষে সহনশীলতা তৈরি করে। এজন্যই মশা নিয়ন্ত্রণে প্রতি পাঁচ বছর পরপর কীটনাশক পরিবর্তন দরকার।

দেশসংবাদ/বিপি/এফবি/এসকে


আরও সংবাদ   বিষয়:  মশা  


আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা
ভারতেও বাংলাদেশিরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এম. এ হান্নান
যুগ্ম-সম্পাদক
মোহাম্মদ রুবাইয়াত আনোয়ার
মেবিন হাসান
যোগাযোগ
টেলিফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
সেলফোন : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up