বুধবার, ১২ মে ২০২১ || ২৯ বৈশাখ ১৪২৮
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ কাশিমপুর কারাগারে মামুনুল হকসহ ১৪ হেফাজত নেতা ■ ইসরাইলে নজিরবিহীন রকেট হামলা (ভিডিও) ■ বাবুল আক্তারকে গ্রেফতার দেখাবে পিবিআই ■ ঢাকায় পৌঁছাল ৫ লাখ চীনা টিকা ■ খালেদা জিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র-চীন-জাপান রাষ্ট্রদূতের চিঠি ■ গাজায় ইসরায়েলের ব্যাপক হামলায় নিহত ৩৫ ■ ভারতে করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ■ ৯ দিনে ৮ হাজার কোটি টাকা ■ শিমুলিয়া ঘাটে বাঁধভাঙা জনস্রোত ■ বায়তুল মোকাররমে ঈদের ৫ জামাত ■ সাবেক এসপি বাবুল আক্তার গ্রেফতার ■ সৌদি আরবে বৃহস্পতিবার ঈদ
আপত্তিকর অবস্থায় হাবিপ্রবি ছাত্রলীগ কর্মী আটক!
হাবিপ্রবি প্রতিনিধি
Published : Friday, 2 April, 2021 at 12:47 AM
Zoom In Zoom Out Original Text

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের দুই শিক্ষার্থীকে আপত্তিকর অবস্থায় আটকের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী মোঃ ফারুক হোসেন। অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী হলেন মোঃ দেলোয়ার হোসেন ( ১৫ ব্যাচ) ও মোছা: মারুফা আক্তার মেঘনা (১৬ ব্যাচ)। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মোঃ দেলোয়ার হোসেন হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী।

নিরাপত্তাকর্মী মোঃ ফারুক হোসেন গণমাধ্যমে জানান, বুধবার (৩১ মার্চ) আনুমানিক বিকাল ৫ টায় অভিযুক্ত মেয়ে শিক্ষার্থী (মেঘনা) ফিসারিজ টেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ রিয়াজুল ইসলামের সাথে দেখা করতে ওয়াজেদ ভবনে প্রবেশ করতে চান। কিন্তু তিনি না থাকায় আমি তাকে ভিতরে ঢুকতে নিষেধ করি। পরে মেঘনা ওয়াসরুমে যেতে চাইলে আমি নিচ তলার উত্তর দিকে যেতে বলি। এর কিছুক্ষণ পরে অভিযুক্ত ছেলে (মোঃ দেলোয়ার হোসেন) এসে পুনরায় ফিসারিজ টেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ রিয়াজুল ইসলামের সাথে দেখা করতে চান। আমি পুনরায় তাকেও বলি স্যার চলে গেছেন। পরে অভিযুক্ত ছেলে ১৩৬ নাম্বার ল্যাবে যেতে চাইলে আমি তাকে ভিতরে যেতে অনুমতি দেই। বেশ কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর অভিযুক্ত মেয়ে ওয়াশরুম থেকে না ফেরায় আমি একজন আনসার সদস্যকে ওয়াজেদ ভবনের ভিতরে পাঠাই। তিনি ১৩৬ নাম্বার রুমে গিয়ে দেখেন অভিযুক্ত ছেলেটি নেই। পরে আনসার সদস্য ফিরে এসে আমাকে জানালে আমি তাকে প্রবেশ পথে রেখে মেয়েটি যেদিকে গেছে সেই পাশে যাই। ওয়াশরুমের সামনে যেতেই ওয়াশরুমের ভিতর থেকে অভিযুক্ত ছেলে ও মেয়ের গুনগুন শব্দ শুনতে পারি। এর কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত মেয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসেন।

পরে আমি তাকে প্রশ্ন করা শুরু করলে তিনি আমার সাথে অশোভনীয় আচরণ করেন। এসময় অভিযুক্ত ছেলে একই ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে ওয়াজেদ ভবনের নিচ তলা থেকে দৌঁড় দিয়ে দ্বিতীয় তলায় চলে যান। এসময় তাকে থামতে বললে তিনি কথা না শুনেই উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে চলে যান। এসময় তাকে ধরতে গিয়ে অভিযুক্ত মেয়ে শিক্ষার্থী (মেঘনা) ওয়াজেদ ভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় ওয়াজেদ ভবনের প্রবেশ পথ আটকিয়ে দেয়া হয়। পরে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ খালেদ হোসেনকে ফোন দিলে তিনি সহকারী প্রক্টর মোঃ শিহাবুল আওয়াল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা অফিসার মোঃ মাহমুদুল হাসনকে পাঠায় দেন। কিছুক্ষণ পরে সহকারী প্রক্টর ও নিরাপত্তা অফিসার ওয়াজেদ ভবনের সামনে আসলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের থেকে বিস্তারিত তথ্য নেয়া হয়।

এ ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা অফিসার মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন, আমি ঘটনা স্থলে পৌঁছানোর পর অভিযুক্ত দুইজনকেই অত্যান্ত উত্তেজিত অবস্থায় দেখতে পাই। অভিযুক্ত ছেলেটি সেসময় দৌঁড় দেয়ার কারণে হাঁপাতে দেখেছি । এর কিছুক্ষণ পর সেখানে কিছু ছাত্রলীগের কর্মী এসে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মোঃ দেলোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি মাস্টার্সের কাজে দুপুর তিনটা থেকেই ল্যাবে ছিলাম। তবে আমার গার্ল ফ্রেন্ড ( অভিযুক্ত মেয়ে ) রেজাউল ইসলাম স্যারের কাছে মাস্টার্সে ভর্তি হবেন জন্য দেখা করতে গিয়েছিলো। কিন্তু স্যার না থাকায় ওয়াজেদ ভবন থেকে বেরিয়ে যায়। তবে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মেঘনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামের সামনে থেকে আটক করা হয়। এ সময় আমিও আমার কাজ শেষে বের হওয়ায় আমাকেও আটক করা হয়। যা আমি চক্রান্ত বলে মনে করছি। আমি ক্যাম্পাস রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত বিধায় আমাকে একটি পক্ষ মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

পক্ষান্তরে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ খালেদ হোসেন বলেন, এই ঘটনায় কেউ অভিযোগ দেয়নি আমাদের। যেহেতু নিরাপত্তাকর্মী বিষয়টি জানিয়েছে সেহেতু আমরা রবিবার উক্ত বিষয় নিয়ে প্রশাসনের সাথে আলোচনায় বসবো। অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে। তারাও আসবেন উক্ত দিনে। এরপর আমরা ঘটনা সত্যতা যাচাই-বাছাই করে উক্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবো।

এমন ঘটনার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোরশেদুল আলম রনি বলেন, ঘটনাটি আমি আজকে শুনেছি। দীর্ঘদিন ধরে হাবিপ্রবিতে ছাত্রলীগের কমিটি না দেওয়ার কারণে অনেকেই ছাত্রলীগের নাম নিয়ে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনে এই ধরণের অপকর্মে জড়িত প্রমানিত হলে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইনে বিচার করবেন এটাই প্রত্যাশা করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ঠিক রাখতে ক্যাম্পাসে প্রশাসনের তৎপরতা আরো বাড়ানো দরকার। আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ হাবিপ্রবি শাখার পক্ষ থেকে এই অপ্রীতিকর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ।

আবার উক্ত ঘটনা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কমিটির সহ-সভাপতি রকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য শোনার পর বলেন, যেহেতু তারা উভয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনার সত্যতা যাচাই করে অপরাধীদের শাস্তির ব্যবস্থা করবে এটাই আমার চাওয়া। তবে ছাত্রলীগের এমন কর্মকান্ডে আমি ব্যাক্তিগতভাবে ব্যথিত। করোনা পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাস খুললেই হাবিপ্রবির বর্তমান কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি দেয়া হবে।

উল্লেখ্য যে, উক্ত ঘটনটি ফেসবুকে ভাইরাল করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের একাংশের কর্মীবৃন্দ। তারা নিজেদের টাইমলাইনে পোষ্ট করে এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এফবি/এফএইচ


আরও সংবাদ   বিষয়:  হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়  


আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা
ঢাকায় পৌঁছাল ৫ লাখ চীনা টিকা
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
সহযোগি সম্পাদক
এনামুল হক ভূঁইয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
এম. এ হান্নান
সহকারি সম্পাদক
মোহাম্মদ রুবাইয়াত আনোয়ার
মেবিন হাসান
যোগাযোগ
টেলিফোন
০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবাইল ফোন
০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল
[email protected]
ফেসবুক
facebook.com/deshsangbad10

Developed & Maintenance by i2soft
logo
up