রবিবার, ২০ জুন ২০২১ || ৬ আষাঢ় ১৪২৮
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ শিগগিরই ৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ ■ প্রতি ভরিতে স্বর্ণের দাম কমল ১৫১৬ টাকা ■ রাজধানীর ফুটপাত থেকে মৃতদেহ উদ্ধার ■ সোমবার ফাইজারের টিকা প্রয়োগ শুরু ■ ৫৩ দিন পর বাসায় ফিরলেন খালেদা জিয়া ■ বগুড়ায় লকডাউন ঘোষণা ■ করোনায় আরও ৬৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৩০৫৭ ■ ইরানের প্রেসিডেন্ট হলেন ইব্রাহিম রাইসি ■ জাতিসংঘের মহাসচিব পদে ২য় মেয়াদে গুতেরেস ■ ২৪ ঘণ্টায় বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড ■ রাজধানীতে একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার ■ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে ১২ বস্তা টাকা-স্বর্ণালঙ্কার
সুস্বাস্থ্য রক্ষায় দেশীয় জাতের শাক-সবজি
জাকিয়া মালিহা
Published : Friday, 7 May, 2021 at 9:58 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

সুস্বাস্থ্য রক্ষায় দেশীয় জাতের শাক-সবজি

সুস্বাস্থ্য রক্ষায় দেশীয় জাতের শাক-সবজি

বর্তমান সময়ে হাইব্রিড জাতের সবজি দিয়ে বাজার ভরে যাচ্ছে। দেশি জাতের সবজির খোঁজ পাওয়া যেন এখন অমবস্যার চাঁদ হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে,  আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যে শর্করা, আমিষ, ভিটামিন, পানি, মিনারেল, খনিজ পদার্থ, স্নেহ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ইত্যাদি প্রয়োজন হয় তা দেশি জাতের সবজি খাওয়ার মাধ্যমেই পূরণ হতে পারে। বর্তমান সময়ে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন রোগ দেখা যাচ্ছে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দেশীয় শাকসবজির ভূমিকা অতুলনীয়।

বাংলাদেশের নিজস্ব শাকসবজীর মধ্যে আছে আলু, মিষ্টি আলু, পটল, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়স, পেঁপে, ঝিঙ্গা, ধুন্দল, কাঁচাকলা, কলার মোচা, কলার থোর, জালি কুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, ডাটা, সজনে ডাঁটা, ব্রকোলি,  কাঁচামরিচ,  টমেটো, বরবটি, শিম, মাশরোম, কাঁকরোল, শসা, খীরা, কঁচি কাঠাল, কাঁঠালের বিচি, ধনিয়া পাতা, পুদিনা পাতা, বেগুন, মটরশুঁটি, মুখীকচু,কচুর ডাটা, কচুর লতি, ওলকচু, মানকচু, দুধ কচু, বাধাকপি, ফুলকপি, ওলকপি, শালগম, মূলা, গাজর, করলা, পুঁইশাক, লালশাক,  কচুশাক, পালংশাক, কলমীশাক, পাটশাক, সর্ষে শাক, লাউশাক, ঢেঁকিশাক, মূলা শাক, কচুশাক, মেথিশাক, হেলেঞ্চা, সজিনা পাতা, ঢেঁকিশাক, চিনিগুড়ি, শিয়ালমুতি, থানকুনি ইত্যাদি।

আসুন এবার কিছু শাকসবজীর উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিইঃ

০১. লাউ

-লাউয়ে প্রচুর পানি থাকে, যা মানব দেহে পানির পরিমাণ ঠিক রাখে তাই  ডায়রিয়া জনিত জলশূন্যতা দূর করতে লাউ সাহায্য করে।

-লাউ খেলে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা যায়।

-লাউ খেলে প্রস্রাবের সংক্রমণজনিত সমস্যা দূর হয়। কিডনির কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

-উচ্চ রক্তচাপবিশিষ্ট রোগীদের জন্য লাউ একটি  আদর্শ সবজি।

-এই সবজি দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখে।

-নিদ্রাহীনতা দূর করে পরিপূর্ণ ঘুমের জন্য লাউ কার্যকরী  ভূমিকা পালন করে।

-লাউয়ে রয়েছে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস, যা দেহের ঘামজনিত কারণে  যে লবণ বের হয়ে যায় তার ঘাটতি দূর করে।
- লাউ দাঁত ও হাড়কে মজবুত করে।

-ক্যালরির পরিমাণ কম থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও লাউ যথেষ্ট উপকারী।

-চুলের গোড়া শক্ত করে এবং চুল পেকে যাওয়ার হার কমায়।

-কোষ্ঠকাঠিন্য, অর্শ, পেট ফাঁপা প্রতিরোধে লাউয়ের রয়েছে সহায়ক গুণাবলি।

০২. ঝিঙে

-রক্তকে দূষণ থেকে রক্ষা করতে ঝিঙে অতুলনীয়। যকৃতের পক্ষে খুবই উপকারী এই সবজি আপনার স্বাস্থ্যের সুরক্ষা দিতে অনন্য খাদ্য উপাদান। অ্যালকোহলের প্রভাব বিনষ্টকরনেও ঝিঙে খুবই উপকারী।

-জন্ডিস নিরাময়ে ঝিঙে খুব ব্যবহার হয়ে থাকে। ঝিঙের জুস জন্ডিস আক্রান্ত রোগীদের খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

-অ্যাসিডিটি রোধ করে আলসার থেকে রক্ষা করতে সক্ষম এই ঝিঙে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, এমনকি পাইলস রোগ নিরাময়ে ব্যবহার করা যেতে পারে ঝিঙে।পাকস্থলীর কার্যক্ষমতাও বৃদ্ধি করে এটি।

-ঝিঙেয় বিদ্যমান পেপটিডেস রক্ত ও প্রস্রাবের চিনির পরিমান কমাতে সাহায্য করে।আর এটি রক্তে ইনসুলিনের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ঝিঙে খুবই উপকারী।

-ঝিঙেতে বিদ্যমান পুষ্টি শরীরের প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধি করে। ফলে বিভিন্ন রোগজীবাণু ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া সংক্রামণের থেকে সুরক্ষিত থাকা যায়।

-পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য আঁশ থাকায় হজমে সহায়তা করে।গ্যাসের সমস্যাও দূর করতে সাহায্য করে।

-ঝিঙেয় থাকা খাদ্যশক্তি আপনার দেহের দুর্বলতা কাটিয়ে প্রয়োজনীয় শক্তি যোগাতে সাহায্য করে।

-ঝিঙেতে থাকা পর্যাপ্ত পরিমাণে জলীয় অংশ দেহের জলশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে।

-ঝিঙেতে উপস্থিত ভিটামিন এ এবং সি এর উপস্থিতি শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করে দিতে সহায়তা করে।

-ঝিঙেতে থাকা ফোলেন হার্ট অ্যাটাক রোধেও সাহায্য করে।

সুস্বাস্থ্য রক্ষায় দেশীয় জাতের শাক-সবজি

সুস্বাস্থ্য রক্ষায় দেশীয় জাতের শাক-সবজি


০৩. ঢেঁড়স

-ঢেঁড়স দৃষ্টি ভালো রাখে। ঢেঁড়সে আছে বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন-এ, অ্যান্টি অক্সিজেন, লুটেইন যা চোখের গ্লুকোমা, চোখের ছানি প্রতিরোধে সাহায্য করে।

 -ঢেঁড়স রক্তশূন্যতা রোধ করে। ঢেঁড়সের হিমোগ্লোবিন, আয়রন ও ভিটামিন কে দেহে রক্ত জমাট সমস্যা রোধ করে, দেহে প্রয়োজনীয় লাল প্লেটলেট তৈরি করে এবং দেহের দুর্বলতা রোধ করে থাকে।

-সবজি ঢেঁড়স চুলের জন্য খুব উপকারী এবং ঢেঁড়সে আছে এমন কিছু উপাদান যা চুলের কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে, খুশকি ও উকুন রোধ করে, স্কাল্পের শুষ্কতা ও চুলকানি দূর করে থাকে এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

-ঢেঁড়স ত্বকের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে শরীরের টিস্যু পুনর্গঠনে ও ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে।

-প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকার কারনে এই সবজিটি খেলে একদিকে যেমন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে অন্য দিকে কোষের বিভাজনও ঠিক ঠিক নিয়ম মেনে হয়। ঢেঁড়স ক্যান্সার রোগকে প্রতিরোধ করে।

- সবজিটির  ভেতর থাকা ফাইবার অনেকক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়  তাতে ওজন বাড়ার আশঙ্কা থাকে না।

-প্রতিদিন ৬-৮ টা ঢেঁড়স খেলে শরীরে ইনসুলিনের বৃদ্ধি পায়।ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকে। তাই ডায়াবেটিস  প্রতিরোধে ঢেঁড়স খুবই কার্যকরী।

০৪. চাল কুমড়া বা জালি কুমড়া

- চাল কুমড়ার বেশিরভাগ অংশ জলীয় ও এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার যা দেহে পানির পরিমান ঠিক রাখে এবং হজমে সহায়তা করে।

-চাল কুমড়া এন্টি মাইক্রোবিয়াল এজেন্ট হিসেবে পেট এবং অন্ত্রের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে।

-চাল কুমড়া কে ব্রেইন ফুড বলা হয় কারন এটি মস্তিষ্ক ঠান্ডা রাখে ফলে মানসিক রোগীদের জন্য এটি খুবই উপকারী।

-প্রতিদিন চাল কুমড়ার রস খেলে যক্ষা রোগের উপসর্গ কেটে যায়। চাল কুমড়া রক্তপাত বন্ধ করতে করে। যাদের কাশের সঙ্গে রক্ত বের হয়, এমন ক্ষেত্রে চাল কুমড়ার রস খেলে রক্ত বের হওয়া থেমে যায়।

-চাল কুমড়া শরীরের ওজন ও মেদ কমাতে সাহায্য করে।
 
-বেশিরভাগ অংশ জলীয় থাকায় এটি রক্ত নালীতে রক্ত চলাচল সহজতর করে।

- চাল কুমড়ার রস নিয়মিত চুল ও ত্বকে মাখলে চুল চকচকে হয় ও ত্বক সুন্দর হয়। বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করতেও সাহায্য করে।

০৫. পটল

-পটলে ক্যালরির পরিমান কম থাকায় এটি আমাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। যাদের কোলেস্টেরল এর মাত্রা বেশি তাড়া নিয়মিত পটল খেলে এর মাত্রা স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

-পটলে প্রচুর পরিমানে ফাইবার রয়েছে। তাই বেশি করে পটল খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়।

-নিয়মিত পটল ও পটলে বিচি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

-পটল আমাদের রক্ত, টিস্যু পরিষ্কার করতে সাহায্য করে এবং ত্বকের যত্নও প্রদান করে। পটল রক্ত ​​পরিশোধক হিসাবে ভুমিকা রাখে।

- পটল মাথা ব্যাথা দূর করে। মাথা ব্যাথা হলে পটলের রস মাথায় নিলে ব্যাথা দূর হয়ে যাবে।

-তাছাড়া নতুন চুল গজাতে পটলের রস ব্যবহার করা হয়।

-পটল ওজন নিয়ন্ত্রণে ভুমিকা রাখে। পটলে কম ক্যালরি থাকায় এটি খেলে ওজন বৃদ্ধি পাবে না। বরং নিয়মিত পটল খেলে ওজন স্বাভাবিক অবস্থায় চলে আসবে।

- পটলের সাথে সাথে এর বিচিও অনেক উপকারি এটিতে অধিক পরিমানে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। এতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় কোলেস্টেরল ও চিনির পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে।

সুস্বাস্থ্য রক্ষায় দেশীয় জাতের শাক-সবজি

সুস্বাস্থ্য রক্ষায় দেশীয় জাতের শাক-সবজি


০৬.পেঁপে

- পেঁপে তে যে পাচক তন্তু থাকে, তা হজমে সহায়তা করে।

- পেঁপে তে ক্যালরি কম থাকায় এটি খেলে ওজন কমে।

-পেঁপে খেতে মিষ্টি স্বাদের হলেও এতে চিনির পরিমাণ কম থাকে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি খুবই উপকারী একটি সবজি।

- পেঁপেতে আছে ক্যারোটিনাইডস নামের উপাদান, যা চোখের জন্য উপকারী।

- পেঁপেতে টমেটো বা গাজরের চেয়েও বেশি ভিটামিন এ আছে। এ ছাড়া চোখের মিউকাস মেমব্রেনকে সবল করতে ও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে যে ধরনের উপাদান দরকার, পেঁপেতে তা অধিক পরিমাণে থাকে। বিশেষ করে বেটা ক্যারোটিন, জিয়াক্সনাথিন ও লুটেইনের মতো উপাদানগুলো পেঁপেতে বিদ্যমান।

-প্যাপিন নামের উপাদান আছে পেঁপেতে, যা শরীরের ত্বকের মৃত কোষগুলো সরিয়ে ফেলে এবং  নিষ্ক্রিয় প্রোটিন ভেঙে ফেলে।

- পেঁপেতে প্যাপিন এনজাইম থাকায় তা খাদ্যের বিপাক প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। এটি মাংস নরম করতেও ব্যবহৃত হয়। এতে তন্তু ও পানির পরিমাণ বেশি থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

- পেঁপে পাতার রস খেলে লিভার পরিষ্কার হয়। তাই এই রস প্রতিদিন পরিমিত খেলে লিভারের অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। জন্ডিস ও লিভার সিরোসিস হওয়ার ভয় থাকে না।

০৭. করলা

-প্রতিদিন সকালে খালি পেটে করলার রস খেলে রক্ত পরিষ্কার হয়। রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে এই রস।

- করলায় উপস্থিত পলিপেপটাইড বি দেহের সুগার নিয়ন্ত্রণ রাখে। তাই ডায়াবেটিস রোগী দের জন্য এটি খাওয়া উত্তম।
 
-নিয়মিত করলার রস খেলে অ্যালার্জি জনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

-বাতের ব্যাথায় নিয়মিত করলা রস খেলে ব্যাথা আরোগ্য হয়।

-আর্য়ুবেদের মতে করলা কৃমিনাশক, কফনাশক ও পিত্তনাশক।

-ক্ষতস্থানের উপরে পাতার রসের প্রলেপ দিলে এবং উচ্ছে গাছ সেদ্ধ জলদিয়ে ক্ষত ধুলে কয়েকদিনের মধ্যেই ক্ষত শুকিয়ে যায়।

- করলা উচ্চ রক্তচাপ ও চর্বি কমায়।

- করলায় উপস্থিত ভিটামিন সি ত্বক ও চুল ভালো রাখে।

- করলায় রয়েছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টিকারী লুটিন এবং ক্যান্সার প্রতিরোধকারী লাইকোপিন

০৮. বেগুন

-বেগুন কোলেস্টরলের মাত্রা ও উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

-ধূমপান ছাড়াতে বেগুনের ভুমিকা রয়েছে। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে, বেগুনে নিকোটিন রয়েছে।
-বেগুনে উপস্থিত এই নিকোটিনিক অ্যাসিড ধূমপান ছাড়ানোর কষ্টকে কমাতে পারে।

- বেগুনে থাকে প্রচুর পরিমাণ রিবোফ্ল্যাবিন। নিয়মিত বেগুন খেলে মুখ ও ঠোঁটের ঘা নিরাময় হয়।

-বেগুনে উচ্চ মাত্রায় আশঁ ও কম দ্রবীভূত শর্করা থাকে যা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।

-বেগুনে আছে প্রচুর পরিমাণ ডায়াটারি ফাইবার বা আঁশ যা  হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর করে।

-বেগুনে আছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ‘ই’ এবং ‘কে’। এটি শরীরের ভেতর রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। ফলে রক্ত চলাচল কার্যক্রমকে সচল রাখে।

-বেগুনে আছে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট উপাদান। ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট মস্তিষ্কের কোষগুলোকে ভালো রাখে এবং মস্তিষ্কের মাধ্যমে তথ্য সরবরাহ প্রক্রিয়া সচল ও স্বাভাবিক রাখে।

-বেগুনে আছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন।  তাই বেগুন কেটে রাখলে কালচে কালার হয়ে যায়। নিয়মিত বেগুন খেলে রক্ত স্বল্পতা দূর হয়।

-ডায়রিয়া  ভালো হয়ে যাওয়ার পরবর্তী সময়ে বেগুন খেলে শরীরের জিংকের ঘাটতি পূরণ হয়।

সুস্বাস্থ্য রক্ষায় দেশীয় জাতের শাক-সবজি

সুস্বাস্থ্য রক্ষায় দেশীয় জাতের শাক-সবজি


০৯. বরবটি

-বরবটি ক্যান্সারের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। এতে রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড নামে এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ক্যান্সার কোষ বৃদ্ধি রোধ করতে সহায়তা করে।

-বরবটি অস্থিসন্ধির ব্যথা কমায়। বেগুনে আছে  ভিটামিন কে যা  অস্টিওআর্থারাইটিস সমস্যা থেকে অস্থিসন্ধির যত্ন দেবে। ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে

-বরবটি তে  রয়েছে প্রচুর  আঁশ, যা শরীরের এলডিএল (ক্ষতিকর) কলেস্টেরলের পরিমান কমিয়ে দিয়ে  হার্টের সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

- সালাদের সাথে কাচা বরবটি খেলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায়।

- উচ্চ রক্তচাপ, বুক জ্বালাপোড়া প্রভৃতি সমস্যা দূর করতে ভূমিকা রাখে।

-বরটি খেলে হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় কারন এতে রয়েছে সিলিকন। এটি হাড় মজবুত করতেও সাহায্য করে।

-বরবটি তে রয়েছে আয়রন,  ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম এর মত খনিজ পদার্থ যা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভুমিকা রাখে।

১০. মিষ্টি কুমড়া

- মিষ্টি কুমড়া তে রয়েছে বেটা-ক্যারোটিন বা ভিটামিন-এ যা চোখে ছানি পড়া রোধ করে এবং রেটিনা কোষ কে সুস্থ রাখে।

- মিষ্টি কুমড়া তে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ যা অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করে।

- এটি রক্ত স্বল্পতা দূর করে গর্ভবতী মায়েদের অকাল প্রসবের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।

- মিষ্টি কুমড়া উচ্চ রক্তচাপ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়।

- প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-কে ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকায় এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

- এতে উপস্থিত ভিটামিন সি  ত্বক ও চুল সুন্দর রাখতে সাহায্য করে।

- মিষ্টি কুমড়া তে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম যা হাইপারটেনশন ও হৃদরোগ কমিয়ে দেয়।

-  বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করতেও মিষ্টি কুমড়া সাহায্য করে।

১১. সজিনা ডাঁটা

-ভ্যারিসোলা জোস্টার  নামক ভাইরাসের আক্রমণে জলবসন্ত রোগ হয়।  এই ভাইরাস প্রতিরোধে সজিনা ভালো কাজ করে।

-সজনেডাঁটা খেলে মুখের রুচি বৃদ্ধি পায়। সজনেডাঁটার মত এর পাতারও রয়েছে পুষ্টিগুণ। সজনে পাতা শাক, বর্তা হিসেবেও খাওয়া যায়। এতে মুখের রুচি বাড়ে।

-সজনে দেহের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এতে করে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য এটা খুব উপকারী।

-১/২ মগ পানিতে সজনে  ফুটিয়ে নিয়ে সেই পানি দিয়ে প্রতিদিন কুলকুচা করলে দাঁতের গোড়া  থেকে রক্ত পড়া ও মাড়ি ফুলে যাওয়া কমে যায়।

-সজনে ডাটায় উপস্থিত বিভিন্ন ভিটামিন এবং খনিজ রক্তে-গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, এতে থাকা বিভিন্ন প্রোটিন রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। তাই এটি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য খুবই উপকারী। এটি পিত্তথলির কার্যকারিতাও বাড়াতে পারে, যা রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস করে।

-সজিনা পাতার শুকনো গুড়া প্রতিদিন সকালে এক চামচ করে পানিতে গুলিয়ে খেলে পেটের প্রদাহ, গ্যাস্ট্রিক মুক্তি পাওয়া যায়।

-এলার্জি জনিত সমস্যায় সজিনা পাতা বেটে আক্রান্ত স্থানে প্রলেপ দিলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।

-সজিনার পাতা পোকার কামড়ের তাতক্ষনাৎ এন্টিসেপ্টিক হিসেবে অনেজ ভালো কাজ করে।

-সজিনার পাতা ক্রিমিনাশক হিসেবে কাজ করে। ক্রিমি সমস্যা করলে সজিনা পাতা গুড়ো করে অথবা অন্য খাবারের সাথে খেলে উপকার পাাাও যায়।

-সজনে পাতার রস বা শুকনা গুড়া পেস্ট করে সাথে মধু মিক্স করে বা এমনি মাথায় দিয়ে ম্যাসাজ করুন। এতে চুল পড়া কমবে। মাথার ত্বক পুষ্টি গুণ পাবে। মাথা ঠান্ডা থাকবে। চুল সুন্দর ও ঘন হবে।

১২. কলমী শাক

- প্রস্রাবের রাস্তায় জ্বালাপোড়া করলে কলমী শাকের রস ৩/৪ চামচ করে প্রতিদিন খেলে তা প্রশমন হয়।

- কলমী শাকে প্রচুর পরিমাণে আঁশ থাকার ফলে এই শাক খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়।

- এটি খেলে রক্ত শূন্যতা দূর হয় কারণ এতে প্রচুর পরিমাণ আয়রন থাকে।

-এই শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন-সি। ভিটামিন-সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে রোগ প্রতিরোধ করে।

-জন্মের পর শিশু মায়ের বুকের দুধ না পেলে মাকে কলমি শাক রান্না করে খাওয়ালে শিশু পর্যাপ্ত পরিমানে দুধ পাবে।

- কাঠিন্য হলে কলমি শাকের সঙ্গে আখের গুড় মিশিয়ে শরবত বানিয়ে সকাল-বিকাল এক সপ্তাহ খেলে ভালো উপকার পাওয়া যাবে।

-ফোড়া হলে কলমি পাতা একটু আদাসহ বেটে ফোড়ার চারপাশে লাগালে ফোড়া গলে যাবে এবং পুঁজ বেরিয়ে শুকিয়ে যাবে।

-পিঁপড়া, মৌমাছি কিংবা পোকামাকড় কামড়ালে কলমি শাকের পাতা ডগা সহ রস করে লাগালে যন্ত্রণা কমে যায়।

-গর্ভাবস্থায় মায়েদের শরীরে পানি আসে। কলমি শাক বেশি করে রসুন দিয়ে ভেজে তিন সপ্তাহ খেলে পানি কমে যায় অনেক ক্ষেত্রে।

-এতে রয়েছে ভিটামিন-সি ও ক্যালসিয়াম যা আমাদের দাঁত, দাঁতের মাড়ি, হাড় ও পেশিকে মজবুত করে।

সুস্বাস্থ্য রক্ষায় দেশীয় জাতের শাক-সবজি

সুস্বাস্থ্য রক্ষায় দেশীয় জাতের শাক-সবজি


১৩. ডাঁটা শাক

- ডাঁটা শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ যা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য লাঘব হয়।

-ডাঁটা শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ফলিক এসিড যা চুলের ক্ষয় রোধ করে ও ত্বক ভালো রাখে।

- এই শাকে রয়েছে ভিটামিন এ যা চোখের পুষ্টি জোগায়, রাতকানা রোগ দূর করতে ভূমিকা রাখে।

-এলডিএল কমিয়ে এইচডিএল এর মাত্রা বৃদ্ধি করে।

- রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে কারণ এতে প্রচুর পরিমাণ আয়রন থাকে এবং রক্ত পরিষ্কার রাখতেও অবদান রাখে।

-ডাটা শাকে রয়েছে ভিটামিন ‘কে’ যা হাড়কে মজবুত করে।

১৪. কচু শাক

-কচু শাকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে তাই রক্তশূন্যতায় ভোগা রোগীদের জন্য কচু শাক খাওয়া একরকম আবশ্যক বললেই চলে। যারা রক্তস্বল্পতায় ভূগছে তারা নিয়মিত কচু শাক খেতে পারেন। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে যা রক্তশূন্যতা দূর করতে ভূমিকা রাখে।

-কচু শাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে। এ কারণে এটি দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া চোখ সম্পর্কিত জটিলতা কমায়।

- কচু শাকে থাকা স্যাপোনিনস, টেনিনস, কার্বোহাইড্রেট এবং ফ্লাভোনয়েড উচ্চ রক্তচাপ কমায়। নিয়মিত কচু শাক খেলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে।

-কচু শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ, বি, সি, ক্যালসিয়াম ও লৌহ রয়েছে। ভিটামিন এ জাতীয় খাদ্য রাতকানা প্রতিরোধ করে আর ভিটামিন সি শরীরের ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। তাই শিশুদের ছোট বেলা থেকেই কচু শাক খাওয়ানো উচিত।

-কচু শাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ থাকে যা খাবারকে সহজে হজম করতে সাহায্য করে থাকে। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আছে, তারা কচুশাক খেতে পারেন।

-অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরী ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান থাকায় কচু শাক যেকোন ধরনের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

-জ্বরের সময় রোগীকে দুধ কচু রান্না করে খাওয়ালে জ্বর দ্রুত ভাল হয়।

১৫. পালংশাক

-পালংশাক অন্ত্র সচল রাখতে ভূমিকা রাখে। অন্ত্রের ভেতরে জমে থাকা মল সহজে বের করে দেয়।

-এ শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ যা চোখের জ্যোতি বাড়ায় ও শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

-পালংশাকের বীজের ঘন তেল কৃমি ও মূত্রের রোগ নিরাময়ে কাজ করে।

-জন্ডিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য পালংশাক খুবই উপকারী।

-প্রাপ্ত বয়স্ক ঘন সবুজ পালং পাতায় উচ্চ মাত্রায় ক্লোরোফিল থাকায় এতে ক্যারটিনয়েড বিদ্যমান আর তা আমাদের শরীরে ব্যাথা নাশক ও ক্যানসার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।

-পালং শাকে আছে উচ্চ মাত্রার ম্যাগনেসিয়াম, যা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

বাংলাদেশ বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন জাতের শাকসবজি উৎপন্ন হয়। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য এগুলোর ভূমিকা অপরিহার্য। কিন্তু বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঋতু পরিবর্তন হচ্ছে। আর ঋতু পরিবর্তনের ফলে শাকসবজি গুলো জন্মানোর জন্য প্রয়োজনীয় আবহাওয়া পাচ্ছে না। ফলে অনেক অনেক জাতের সবজি বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং আরো অনেক সবজি বিলুপ্তির পথে। যেমন বন কাঁকরোল, ঠোঁয়াস, বাস ফল ইত্যাদি। দেশি জাতের সবজি সংরক্ষণের জন্য আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। মোটকথা পরিবেশ কে তার নিজের অবস্থায় থাকতে দিতে হবে।


লেখিকাঃ জাকিয়া মালিহা
শিক্ষার্থী, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগ
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।


দেশসংবাদ/টিএ/এফবি/এমএম


আরও সংবাদ   বিষয়:  শাক-সবজি  


আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা
সোমবার ফাইজারের টিকা প্রয়োগ শুরু
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
সহযোগি সম্পাদক
এনামুল হক ভূঁইয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
এম. এ হান্নান
সহকারি সম্পাদক
মোহাম্মদ রুবাইয়াত আনোয়ার
মেবিন হাসান
যোগাযোগ
টেলিফোন
০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবাইল ফোন
০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল
[email protected]
ফেসবুক
facebook.com/deshsangbad10

Developed & Maintenance by i2soft
logo
up