রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ || ১০ আশ্বিন ১৪২৮
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ বার কাউন্সিলের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ (তালিকা) ■ এনআইডি'র আওতায় আসছে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীরা ■ ডিসেম্বরে ৫জি সেবা চালু ■ ইভানার স্বামীসহ দু'জনের বিরুদ্ধে মামলা ■ বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় গুলাব, সতর্কতা জারি ■ ওসি চাইলেই হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা হতে পারেন ■ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীসহ আটক ৪৫ ■ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ইইউ’র সহায়তা চায় বাংলাদেশ ■ করোনামুক্ত বিশ্ব গড়তে অল্পমূল্যে টিকা দাবি ■ আরও ২৫ লাখ ফাইজারের টিকা আসছে ■ দেড় মাস ফেরি বন্ধ; দুর্ভোগে মানুষ ■ ডেঙ্গুতে ২৩ দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৬৫৩৮, মৃত্যু ১৩
আন্ধা গিট্টু এবং আন্ধা কানুন
দেশসংবাদ ডেস্ক
Published : Saturday, 22 May, 2021 at 12:20 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

প্রভাষ আমিন

প্রভাষ আমিন

একটা হিন্দি সিনেমা দেখেছিলাম 'ভেজা ফ্রাই'। ছবিটি ঠিক হাসির নয়, মজার। আমার বেশ ভালো লাগে। একাধিকবার দেখেছি। একজন লোকের বোকামির কারণে একটা ছোট ঘটনা থেকে কত বড় বড় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে তাই দেখানো হয়েছে সিনেমায়। একটা প্যাচ থেকে ছুটতে গিয়ে আরেকটায় জড়িয়ে যায়, কোনোটা থেকেই ছুটতে পারে না। জীবনটা সিনেমার চেয়েও জটিল। একটা মিথ্যা আরেকটা মিথ্যাকে টেনে আনে, একটা ভুল আরেকটা ভুলের কাছে নিয়ে যায়। আমাদের ভুলে, বোকামিতে বা গোয়ার্তুমিতে ছোট্ট জটিলতা বড় হতে থাকে, জীবনকেও জটিল করে তোলে।

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের গ্রেফতার আজ আন্তর্জাতিক ইস্যু। কিন্তু এর শুরুটা একেবারেই সামান্য। রোজিনা দাবি করেছেন, তার সোর্স তাকে ডকুমেন্টস দিয়েছে। আর স্বাস্থ্য সচিবের পিএস'এর অফিসের লোকজন দাবি করেন, তিনি ডকুমেন্টস চুরি করেছেন বা লুকিয়ে ছবি তুলেছেন। অভিযোগ সত্যি হলেও তা কিন্তু বিশাল বড় কিছু নয়। চাইলে স্বাস্থ্য সচিবের মধ্যস্ততায় সেখানেই বিষয়টা মিটমাট হয়ে যেতে পারতো। বড় জোর প্রথম আলোর সিনিয়র কাউকে ডেকে পাঠাতে পারতেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে রোজিনা বারবার স্বাস্থ্যসচিব বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে কথা বলতে চাইছেন। তাকে কথা বলার সুযোগ দিলে সেখানেই বিষয়টি মিটে যেতে পারতো। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রোজিনা বলছেন, সোর্স তাকে ডকুমেন্টস দিয়েছে, তিনি কোনো ডকুমেন্টসে হাত দেননি। তারপরও চাপের মুখে তিনি দুঃখপ্রকাশ করছেন, মুচলেকাও দিতে চেয়েছেন। ছয় ঘণ্টা আটকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থা করলে যে কেউ মুচলেকা দিয়ে হলেও মুক্তি পেতে চাইবেন। স্বাস্থ্য সচিবের অফিসের লোকজন স্মার্ট হলে তখনই অন্য সাংবাদিকদের ডেকে এনে তাদের সামনেই মুচলেকা নিয়ে প্রথম আলোর জিম্মায় ছেড়ে দিতে পারতেন।

সেদিন বিকেলেই ফেসবুকে দুয়েকজনের স্ট্যাটাস দেখেছি, প্রতিবাদ জানাই, নিন্দা জানাই টাইপ। আমি প্রথমে অত গুরুত্ব দেইনি। রোজিনার কথা শুনে আমি মনে করেছি, মন্ত্রী-সচিবদের সাথে যার নিত্যদিনের ওঠাবসা, তাকে আটকে রেখে হেনস্থা করা সহজ নয়। নিশ্চয়ই কোনো ভুল বোঝাবুঝি। কিন্তু সময় যত গড়াতে থাকে, জটিলতা তত বাড়তে থাকে। ঘটনাস্থল থেকে আমাদের রিপোর্টার বললো, রোজিনাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাচ্ছে, তখনই বুঝি পরিস্থিতি জটিলতর হচ্ছে। কিন্তু থানায় নেয়ার পরও মধ্যস্ততার সুযোগ ছিল। মধ্যরাতে যখন মামলা হয়ে গেলো, তখন পরিস্থিতি জটিলতম হলো। আর দুদিন ধরে আদালতে যে নাটক হয়েছে, তা জটিল, জটিলতম, জটিলতর'র অনেক ঊর্ধ্বে। এখন আসলে আন্ধা গিট্টু লেগে গেছে। রোববার রোজিনা জামিন পেলেও এই গিট্টু সহজে ছুটবে না। আমার বন্ধু রোকন রহমান পেটের দায়ে সাংবাদিকতা করলেও আসলে গল্প লেখক। কমলকুমার মজুমদারের ভাবশিষ্য রোকনের গল্প অবশ্য আমার মাথার ওপর দিয়ে যায়। তার তিনটি বইয়ের মধ্যে প্রথমটির নাম 'জটিলের জটিলতাজনিত জটিলতা'। রোজিনার ঘটনার পর আমার মাথায় খালি রোকনের বইয়ের নামটি

ঘটনার পর থেকেই বাসা থেকে আমার স্ত্রী মুক্তি বারবার খোঁজ নিচ্ছিল। আমিও বারবার তাকে আশ্বাস দিচ্ছিলাম, কিছু হবে না, টেনশন করো না। কিন্তু মামলা হওয়ার পর বুঝে গেলাম রোজিনাকে অন্তত রাতটি থানায়ই কাটাতে হবে। রোজিনার মেয়ে আলভিনা কীভাবে মাকে ছাড়া রাতটি কাটাবে তা নিয়ে মুক্তির টেনশনের অন্ত ছিল না। আমি তাকে বুঝিয়েছি, একটাই তো রাত। তখনও বুঝিনি, রাত কত দীর্ঘ হতে যাচ্ছে।

রোজিনার বিরুদ্ধে যে ধারায় মামলা হয়েছে, প্রথম সুযোগেই তার জামিন হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু মঙ্গলবার আদালতে রিমান্ড শুনানি হলেও জামিন শুনানি হয়ইনি। জামিন শুনানির তারিখ ঠিক হয়, বৃহস্পতিবার। আদালত বুঝতে পারেন না, শুনানি দুদিন পিছিয়ে দেয়া মানে একজন নারীর দুদিন কারাগারে থাকা। রোজিনা ইস্যু নিয়ে দেশে-বিদেশে যেমন তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে, তাতে দ্রুত তাকে জামিন দিয়ে ইস্যুটির ইতি টানাই বুদ্ধিমানের কাজ হতো। আমি তাই ধরেই নিয়েছিলাম, বৃহস্পতিবার জামিন শতভাগ নিশ্চিত। কিন্তু বৃহস্পতিবার শুনানি হলেও জামিন হয়নি। জামিন আদেশ রোববার। জামিন আদেশ ঝুলিয়ে দেয়াটা অনাকাঙ্ক্ষিত, অনভিপ্রেত, দুর্ভাগ্যজনক তো বটেই আমার আসলে বিশ্বাসই হয়নি। নীতিনির্ধারকদের মাথায় বুদ্ধি থাকলে তারা যত তাড়াতাড়ি ঝামেলা মিটিয়েই ফেলতে চাইতেন। এখন মনে হচ্ছে, রোজিনাকে আসলে ফাঁসানো হয়েছে এবং সে কারো না কারো ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার।

একটা হিন্দি সিনেমার কথা দিয়ে লেখাটি শুরু করেছিলাম। আরেকটি হিন্দি সিনেমার কথা দিয়ে শেষ করছি। অনেক আগে 'আন্ধা কানুন' নামে একটা সিনেমা দেখেছিলাম। বলা হয়, আইন অন্ধ। আইনের নিজস্ব গতি আছে। কিন্তু সবাই জানেন আইন অন্ধও নয়, আইনের নিজস্ব গতিও নেই। আদালত সরকারের দিকে চেয়ে থাকে। সরকার নির্ধারিত গতিতেই চলে আইন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইনকে সত্যি সত্যি অন্ধ করে দিতে হবে। আইনকে নিজস্ব গতিতেই চলতে দিতে হবে। সূত্র : বার্ত২৪

লেখক: প্রভাষ আমিন: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

দেশসংবাদ/বি২/এফবি/এমএইচ


আরও সংবাদ   বিষয়:  রোজিনা ইসলাম  


আপনার মতামত দিন
করোনা
আরও ২৫ লাখ ফাইজারের টিকা আসছে
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. মোশাররফ হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
সহযোগি সম্পাদক
এনামুল হক ভূঁইয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
এম. এ হান্নান
সহকারি সম্পাদক
মোহাম্মদ রুবাইয়াত আনোয়ার
মেবিন হাসান
যোগাযোগ
টেলিফোন
০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবাইল ফোন
০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল
[email protected]
ফেসবুক
facebook.com/deshsangbad10

Developed & Maintenance by i2soft
logo
up