বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১ || ২ আষাঢ় ১৪২৮
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ পরীমনির বিরুদ্ধে গুলশানে ভাঙচুরের অভিযোগ ■ চট্টগ্রামে ৫৫ হাজার ভুয়া ভোটার ■ নরসিংদীতে আ.লীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ৮ ■ বিদেশে অর্থপাচার রোধে আসছে ১৪ আইন ■ বাংলাদেশের পাশে আছে চীন ■ আরও ১ মাস বাড়ল বিধিনিষেধ ■ করোনায় আরও ৬০ মৃত্যু, আক্রান্ত ৩৯৫৬ ■ চীন ভ্যাকসিন দেয়ার বিষয়ে কিছু জানায়নি ■ অনুমোদন পাচ্ছে বঙ্গভ্যাক্স ■ জাতিসংঘের জরুরি পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ ■ একই পরিবারের তিনজনকে হত্যা ■ রামেকে করোনায় আরও ১৩ জনের মৃত্যু
একাডেমিক ও প্রশাসনিকভাবে
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নেতৃত্বে প্রয়োজন দক্ষ ব্যক্তি
আব্দুল মান্নান
Published : Sunday, 23 May, 2021 at 6:07 PM, Update: 23.05.2021 11:08:55 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নেতৃত্বে প্রয়োজন দক্ষ ব্যক্তি

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নেতৃত্বে প্রয়োজন দক্ষ ব্যক্তি

বিশ্ববিদ্যালয় হলো সেই প্রতিষ্ঠান, যেখানে মানবতাবাদ, ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা, সত্যানুসন্ধান, নতুন নতুন জ্ঞান অন্বেষণ, অনুসন্ধান, গবেষণা, দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা, ইচ্ছা ও বুদ্ধির মুক্ত চর্চা সদগুণ এবং মানবজাতির সার্বিক কল্যাণের শিক্ষা দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এসব বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের জাগ্রত করতে পারলেই কেবল জাতি হিসেবে আমরা শক্তিশালী হবো, অন্যথায় নয়।

বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে যারা রয়েছেন তাঁদের অনেকেই নানা অপকর্ম এবং অনিয়মের মধ্যে জড়িত। তাঁদের নিয়ে বেশিরভাগ সময়ে নেতিবাচক খবরের শিরোনাম ছাড়া ইতিবাচক শিরোনাম খুব কম-ই চোখে পড়ে। কারন উচ্চ শিক্ষার বিদ্যাপীঠের উচ্চ পদে আসীন হয়ে অনেকেই মুই কি হনু রে ভাবা শুরু করেন। এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য যেমন প্রজ্ঞাবান আদর্শ শিক্ষক প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন একজন দক্ষ উপাচার্য ও দক্ষ প্রশাসন।

এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে দূরদর্শিতা, পরিবর্তন আনতে সক্ষম, দক্ষ, চতুর্মুখী নেতৃত্ব প্রদানে সক্ষম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধের প্রতি আস্থাশীল, রাজনৈতিক প্রজ্ঞাবান, প্রতিষ্ঠান ও সমাজের রোল মডেল, সৃষ্টিশীল, অভিজ্ঞ একাডেমিশিয়ান, প্রতিষ্ঠিত গবেষক, একসঙ্গে অনেককে নিয়ে কাজ করার মানসিকতাসম্পন্ন, গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বডিকে শক্তিশালী করার মনোভাবাপন্ন এমন কাউকে বাছাই করা এখন সময়ের দাবি।

সর্বোপরি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে বদ্ধপরিকর এমন একজনকে বাছাই করা প্রয়োজন। যিনি জাতির পিতার আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আমার দেখা এমনই একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জীবপ্রযুক্তি এবং জিন প্রকৌশলবিদ শ্রদ্ধেয় শিক্ষক হচ্ছেন প্রফেসর ড.মোঃ তোফাজ্জল ইসলাম। যিনি একজন বাংলাদেশী বাস্তু রসায়নবিদ, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও লেখক। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর লিখা কলাম সুখপাঠ্য, তথ্যবহুল, গঠনমূলক এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য মূল্যবান দিকনির্দশনামূলক।

প্রফেসর ইসলাম শৈশবকাল থেকেই ছিলেন প্রচন্ড মেধাবী।বিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন ক্লাশ ২-১০ পর্যন্ত কখনো তিনি দ্বিতীয় হননি। মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে এসেও তিনি এসএসসি এবং এইচএসসি উভয় ক্ষেত্রেই প্রথম বিভাগ অর্জন করেছেন। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় ক্ষেত্রে মেধা অনুসারে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করে তিনি তাঁর সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছেন। জাপানের হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাস্তুসংস্থানীয় রসায়ন (১৯৯৯) এবং ফলিত বায়োসায়েন্সে (২০০২) পিএইচডি করেছেন। এক কথায় শিক্ষার প্রতিটি স্তরেই মেধার উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি।

পেশাগত জীবনেও তাঁর মেধার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আমরা পত্রিকায় বিভিন্ন সময়েই দেখতে পাই। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সিমাগো র‍্যাঙ্কিয়ে বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম স্থান হওয়ার যে গৌরব অর্জন করেছে তাঁর সিংহভাগ কৃতিত্ব অধ্যাপক ড. তোফাজ্জল ইসলামের। এরপূর্বেও তাঁর গবেষণাকাজে অবদানের জন্য বশেমুরকৃবি সিমাগো র‍্যাংকিংয়ে ২০১৯ সালে প্রথম অন্তর্ভূক্ত হয় ও ৫ম স্থানলাভ করে এবং ২০২০ এ তৃতীয় অবস্থানে থেকে এ বছর (২০২১)এ প্রথম স্থানে চলে এসেছে। এ তিন বছরে অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলামের গবেষণাদল আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রায় ২৪০টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। সুতরাং বশেমুরকৃবি দেশসেরা হওয়ার পিছনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।উল্লেখ্য যে, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং সামাজিক প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে প্রতি বছরের এপ্রিল মাসে এ র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে স্পেনের গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। ২০০৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করে আসছে।

বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান বিষয়ক প্রকাশনা সংস্থা স্প্রিঞ্জার,এলসেভিয়ার, সিএবিআই, জন উইলি, সিআরসি এবং অন্যান্য প্রকাশনী থেকে তার সম্পাদনায় মোট ৯টি বই এবং উচ্চ ইম্প্যাক্ট ফ্যাক্টর বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী এবং পুস্তকে তাঁর ২৫০টির অধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। গুগল স্কলার সাইটেশনে বাংলাদেশের সকল বায়োটেকনোলজিস্টদের মধ্যেও তার সাইটেশন সর্বোচ্চ।৪ হাজারেও অধিক। তিনি PLOS One-সহ বিশ্বখ্যাত অনেক জার্নালের সম্পাদক এবং তিনি স্প্রিঞ্জার প্রকাশিত দুটি সিরিজ বইয়ের ((CRISPR-Cas Methods Ges Bacilli and Agrobiotechnology) চীফ এডিটর। উইকিপিডিয়া এবং প্রফেসর ইসলামের জীবনবৃত্তান্ত থেকে জানা যায়, ভেষজ উদ্ভিদ এবং অণুজীব থেকে তিনি ৫০টির অধিক নতুন প্রাকৃতিক যৌগ বা এন্টিবায়োটিক আবিষ্কার করেছেন। তিনি গমের ব্লাস্ট রোগসহ কৃষিতে গুরুত্বপর্ণ ১০০টি অণুজীবের জীবনরহস্য বিশ্লেষণ করে জিনোম গবেষণায় একজন পথিকৃৎ হিসেবে দেশে এবং বিদেশে পরিচিতি লাভ করেছেন।

২০১৬ সালে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ৮ জেলায় ১৫,০০০ হেক্টর জমিতে ঘটে যাওয়া গমের মহামারীর সংকটকালে তিনিই প্রথম রোগজীবাণু ছত্রাকটির জীবনরহস্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে গমের শত্রু চিহ্নিত করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। সম্প্রতি তিনি গমের ব্লাস্ট রোগ দ্রুত শনাক্তকরনের জন্য একটি সহজ জীবপ্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন,যা বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের গম আমদানি-রপ্তানিতে (সঙ্গনিরোধে), গবেষণায় এবং কৃষকের মাঠে ব্যাপক ব্যবহার হবে। তার নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি গবেষকদল বর্তমানে আইবিজিই-তে নতুন জীবপ্রযুক্তি উদ্ভাবনে নিয়োজিত আছে। এছাড়া তাঁর তত্ত্বাবধানে ৪২ জন এমএস, ৪ জন পিএইচডি এবং ৪ জন গবেষক পোস্ট-ডক গবেষণা সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তার গবেষণা টিমে দুই (২) জন পোস্ট-ডক, দুই (২) জন পিএইচডি এবং ৮ জন এমএস গবেষক কাজ করছেন।

 প্রফেসর ইসলাম যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, জাপান, চীন, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার অনেক বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীর সাথে যৌথভাবে গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করছেন। আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে তাঁর ১০০টির অধিক প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়েছে। গবেষণা কাজে সাফল্যের জন্য তিনি ২০১৬ সালে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের সংস্থা বিজ্ঞান একাডেমির ফেলো নির্বাচিত হন। মৌলিক গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ দেশে-বিদেশে অনেক পুরষ্কার, মেডেল এবং এওয়ার্ড লাভ করেন তিনি। তন্মধ্যে, জীববিজ্ঞানে অসামান্য অবদানের জন্য জ্যেষ্ঠ ক্যাটাগরিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট থেকে বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমী স্বর্ণপদক-২০১১ (২০১৪ সালে প্রদত্ত), কমনওয়েলথ ইনোভেশন এওয়ার্ড-২০১৯, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ইসলামিক ডেভলপমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট এর কাছ থেকে আইডিবি ইনোভেশন এওয়ার্ড-২০১৮, দু’বার (২০০৪ এবং ২০০৭) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন গবেষণা এওয়ার্ড এবং জাপানের জেএসবিবিএ শ্রেষ্ঠ তরুণ বিজ্ঞানী পদক-২০০৩ উল্লেখযোগ্য। স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় কৃষি অনুষদে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক-১৯৮৯, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বৃত্তি, স্নাতক শ্রেনীতে কৃষি অনুষদে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চ্যান্সেলর পুরস্কার অর্জন করেন।

একাডেমিক কাজে তিনি যেমন কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন তেমনি প্রশাসনি ও সাংগঠনিক বিভিন্ন দায়িত্ব পালনেও উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখেছেন প্রফেসর ড.তোফাজ্জল ইসলাম। প্রশাসনিক বিভিন্ন দায়িত্বে থাকলেও দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং আঞ্চলিকতার উর্ধে থেকে দলমত নির্বিশেষে দেশ ও জাতির কল্যাণার্থে কাজ করেছেন তিনি। কখনো তাঁকে দুর্নীতির বিন্দুমাত্র ছোঁয়া স্পর্শ করতে পারেনি। বরং মানুষের উপকারের জন্য কাজ করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই তিনি নিজ যোগ্যতা থাকা স্বত্তেও ক্ষমতা,দুর্নীতি এবং স্বজনপ্রীতির কাছে পরাস্ত হয়েছেন। যার অন্যতম উদাহারণ হচ্ছে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণীতে ১ম হওয়া স্বত্তেও বাকৃবিতে শিক্ষক তাঁর হিসেবে নিয়োগ না পাওয়া।

প্রফেসর ড.তোফাজ্জল ইসলাম এর নেতৃত্বে বশেমুরকৃবি-তে আইবিজিই-এর প্রতিষ্ঠা হয় এবং তিনি এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক (২০১৯-২০২১)হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি  বায়োটেকনোলজি বিভাগেও দু’বার বিভাগীয় প্রধান হিসেবে ছিলেন।এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালক (বহিরাঙ্গন কার্যক্রম) (২০১২-২০১৩) এবং পরিচালক (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) (২০১৭) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য (২০১৪-২০১৬), হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য (২০১২- ২০১৭), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অভ লাইফ সাইন্স এর এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য (২০১১-২০১৩) এবং ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের এডজাঙ্কট প্রফেসর (২০১৪-২০১৭) হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বাউবি’র কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন অনুষদে ভারপ্রাপ্ত ডীন এবং বাউবি’র বোর্ড অব গভরনর্স-এর সদস্য এবং ২০০৪-২০১০ সাল পর্যন্ত বাউবি’র একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। তিনি জেএসপিএস এলামনাই এসোসিয়েশন (২০১১-২০১৩) এবং এসোসিয়েশন অব আলেক্সান্ডার ফন হুমবোল্ড ফেলোজ বাংলাদেশ (২০১১-২০১৮) এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বাংলাদেশে ৪টি আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়াম আয়োজন করেন। বর্তমানে তিনি আমেরিকান সোসাইটি ফর মাইক্রোবায়োলজি, আমেরিকান এসোসিয়েশন ফর দ্যা আডভান্সমেন্ট অব সায়েন্সস, এক্সপার্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ অব হুইট ইনিসিয়েটিভ, ডিভসীক ইন্টারন্যাশনাল, কেআইবিসহ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বহু পেশাজীবী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য।

পারিবারিকভাবে আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত প্রফেসর ইসলাম ছাত্র জীবন থেকেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনকারী এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শিক্ষকদের প্যানলে থেকে নির্বাচন করে পরপর দু’বার (২০২০ এবং ২০২১) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদের নির্বাচিত সাধারন সম্পাদক। তিনি বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য (২০১৭-২০২১)। তিনি নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের অন্যতম নেতা এবং ১৯৯০-১৯৯১ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ নাজমুল আহসান হল ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। তার ছোট ভাই এফতহোরুল ইসলাম (শামীম মাস্টার) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তী ইউনয়িনরে আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক।

সর্বোপরি,সম্প্রতি গাজীপুরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরকৃবি)কেনাকাটায় উপাচার্যের দুর্নীতির যে চিত্র পত্রিকায় এসেছে তা রীতিমত সবাইকে চমকে দিয়েছে।উপাচার্যের এসব কর্মকান্ডের ফলে সিমাগো র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দেশসেরা হওয়ার যে সাফল্য বশেমুরকৃবি অর্জন করেছেন এবং যারা এই সাফল্য অর্জনে নিরলস পরিশ্রম করেছেন তা ম্লান করে দিয়েছে।এমতাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়টিকে এই দুরাবস্থা এবং সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন জীবপ্রযুক্তি এবং জিন প্রকৌশলবিদ, সামাজিকভাবে সচেতন,বঙ্গবন্ধুর আদর্শের লালনকারী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক দক্ষতা সম্পন্ন ব্যক্তিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে আনতে হবে। আর এক্ষেত্রে সেখানকার প্রফেসর ড.মো.তোফাজ্জল ইসলাম যদি দায়িত্ব পায় তাহলে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি বিশ্বদরবারে উজ্জ্বল হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। অন্যথায় বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যে চরম নেতৃত্ব সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তাতে করে উচ্চ শিক্ষার বিদ্যারপীঠ আর বিদ্যাপীঠ থাকবে না দুর্নীতির আবাসস্থলে পরিণত হবে।

লেখক : আব্দুল মান্নান, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এফএইচ/বি


আরও সংবাদ   বিষয়:  বিশ্ববিদ্যালয়  


আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা
করোনায় আরও ৬০ মৃত্যু, আক্রান্ত ৩৯৫৬
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
সহযোগি সম্পাদক
এনামুল হক ভূঁইয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
এম. এ হান্নান
সহকারি সম্পাদক
মোহাম্মদ রুবাইয়াত আনোয়ার
মেবিন হাসান
যোগাযোগ
টেলিফোন
০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবাইল ফোন
০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল
[email protected]
ফেসবুক
facebook.com/deshsangbad10

Developed & Maintenance by i2soft
logo
up