রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ || ১০ আশ্বিন ১৪২৮
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ বার কাউন্সিলের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ (তালিকা) ■ এনআইডি'র আওতায় আসছে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীরা ■ ডিসেম্বরে ৫জি সেবা চালু ■ ইভানার স্বামীসহ দু'জনের বিরুদ্ধে মামলা ■ বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় গুলাব, সতর্কতা জারি ■ ওসি চাইলেই হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা হতে পারেন ■ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীসহ আটক ৪৫ ■ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ইইউ’র সহায়তা চায় বাংলাদেশ ■ করোনামুক্ত বিশ্ব গড়তে অল্পমূল্যে টিকা দাবি ■ আরও ২৫ লাখ ফাইজারের টিকা আসছে ■ দেড় মাস ফেরি বন্ধ; দুর্ভোগে মানুষ ■ ডেঙ্গুতে ২৩ দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৬৫৩৮, মৃত্যু ১৩
রমজানের নৈতিক শিক্ষা ও পরিবেশ রক্ষার তাৎপর্য
জিনান বিনতে জামান
Published : Thursday, 27 May, 2021 at 10:03 PM, Update: 27.05.2021 10:08:23 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

জিনান বিনতে জামান

জিনান বিনতে জামান

পবিত্র রমজান মাস বিদায় নিয়েছে অল্প কিছু দিন হলো। কিন্তু মানবজাতির জন্য প্রশিক্ষণকালস্বরূপ এ মাসের শিক্ষার রয়েছে এক গভীর তাৎপর্য।

রমজানের রোজার আরবি প্রতিশব্দ ‘সাওম’ যার অর্থ বিরত থাকা। সাধারণভাবে এর দ্বারা পানাহার থেকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিরত থাকা বুঝালেও এর গূঢ় অর্থ রয়েছে। বছরে বার মাসের মাঝে একটি হলো রমজান। এই একটি মাসকে মানবজাতির প্রশিক্ষণকাল বলা যায়। এ মাসের আচার-আচরণ যেন সারা বছর আমাদের চালিত করতে পারে পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান ইসলাম আমাদের সে শিক্ষাই দেয়। আমরা নানা প্রতিকূলতা আর অশুভের সাথে যুদ্ধ করি, কিন্তু সবচেয়ে বড় যুদ্ধ হলো নিজের নফস্ বা আত্মসত্তার সাথে যুদ্ধ। এ যুদ্ধের অন্যতম হাতিয়ার হলো সংযম। সংযমী মানুষই পরিশুদ্ধতার পথে এগিয়ে থাকে। পবিত্র রমজানের ‘সাওম’ তথা পানাহারে সংযম তাই অনেকটা প্রতীকী অর্থে আমাদের আত্মসংযমের পথনির্দেশ করে। সামনে উপস্থিত সহজলভ্য পানি চূড়ান্ত তৃষ্ণায় থেকেও যখন একজন রোজাদার পান করা থেকে বিরত থাকেন তখন পার্থিব অপ্রয়োজনীয় বিলাস থেকেও তিনি নিজেকে সংযত করার ক্ষমতা রাখেন। একারণে রমজানের মৌলিক শিক্ষা হলো আত্মসংযমের শিক্ষা- তা বলা হলেও বোধ করি ভুল হবে না। রমজান আমাদের সংযত কওে নৈতিক চেতনায় উজ্জীবিত করে বলেই ইসলামে বলা হয়েছে, ‘রোজা মুমিনের ঢালস্বরূপ’। সহজ কথায় পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা অপ্রয়োজনীয় বিলাস আর লোভনীয় জীবন প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে সংবরন করার জন্য রোজা যুদ্ধের ময়দানে জীবন রক্ষাকারী ঢালের মতোই কাজ করে।

রমজানের এই মহান সংযমের শিক্ষারই অনুরণন দেখি আমরা সমাজচিন্তা, রাষ্ট্রচিন্তা এমনকি অতি সাম্প্রতিক পরিবেশ চিন্তার ক্ষেত্রেও। বিশ্বব্যাপী যে বিষয়গুলো আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে তার একটি হলো ‘পরিবেশ’। প্রতিনিয়ত মানুষের আগ্রাসনে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপর্যস্ত। যেজন্য দিন দিন বাসের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে এ পৃথিবী, বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে বিশ্ব নেতাদেরও। আন্তর্জাতিকভাবে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও বনায়ন বৃদ্ধি করতে বা জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত্র নানা ইস্যুতে হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেও সহজ সমাধান মিলছে না। এসব সংকট নিয়ে পরিবেশের প্রতি আমাদের অর্থাৎ মানুষের আচরণের মূল্যায়ন করার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আলোচনায় ১৯৭০ সালে নরওয়ের বংশোদ্ভূত দার্শনিক ও পরিবেশ চিন্তাবিদ আর্ন নায়েস গভীর বাস্তুতন্ত্রের কথা বলেন। যেখানে পরিবেশ তথা সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য সুরক্ষার জন্য তিনি মানুষের গভীর অর্ন্তদৃষ্টির আহবান জানান। তিনি আটটি মূলনীতির মাধ্যমে তার গভীর বাস্তুতান্ত্রিক চিন্তাকে প্রকাশ করেন। তাঁর আলোচিত মূলনীতিগুলোতে তিনি মানুষের পাশাপাশি পরিবেশের অন্যসব উপাদানের মূল্যকে স্বীকার করে নিয়ে তাদের প্রতি মানব আচরনের দিকটি বিশ্লেষণ করেন। দেখা যায় মানুষ বিনা প্রয়োজনে বা কেবল আধুনিক বিলাসী জীবনে বশবর্তী হয়ে পরিবেশের ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ করে। ফলে এর ভারসাম্য নষ্ট হয়। কিন্তু মানুষ যদি তার অত্যাবশকীয় চাহিদা পূরণেই সন্তুষ্ট থাকে, তাহলে এমন আগ্রাসনের হার প্রায় শেষ হয়ে যায়। ফলে পরিবেশও সুরক্ষিত ও বাসযোগ্য থাকে।

লক্ষ্য করলে দেখা যায়, আর্ন নায়েসের পরিবেশবাদী চিন্তার কেন্দ্রেও কিন্তু রয়েছে মানুষের সংযমী জীবনের তাগিদ। রমজানের রোজা আমাদের অত্যাবশ্যকীয় চাহিদাগুলোকেও নিয়ন্ত্রনের শিক্ষা দেয়। তাই আত্মসংযমের মাধ্যমে প্রকৃতির উন্নয়ন সাধনেও রোজার যে বিশেষ ভূমিকা আছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

১৮৮৬ সালে রুশ সাহিত্যিক লিও টলস্টয় তাঁর বিখ্যাত ছোটগল্প ‘How much land does a man need?’ এ দেখিয়েছেন অসীম জায়গা জমি নয়, দিনশেষে মাত্র ছয় ফুট জায়গাই যথেষ্ট। আসলেই তো নিজের প্রয়োজন বুঝে সম্পদের ব্যবস্থাপনার মাঝেই মানবীয় গুনের বিকাশ ঘটে। আর এ বোধ তৈরিতে রমজান মাসের মতো ঐশী সময়কালের বিকল্প নেই।

শুধু এ পরিবেশ বিষয়েই নয়, অতি সম্প্রতি ‘অটোফেজি’র ধারণা নিয়ে গবেষণার ফলস্বরূপ জাপানি বিজ্ঞানী ২০১৬ সালে নোবেল পুরষ্কার লাভ করার পর থেকেই রমজান মাস এলে এ বিষয়ে নানা আলোচনা দেখা যায়। আসলে অটোফেজি’র আক্ষরিক অর্থ হলো- স্বভক্ষন। সহজভাবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটি এমন একটা প্রক্রিয়া যেখানে শরীর তার ক্ষতিগ্রস্থ কোষ বা ক্ষতিকর প্রোটিনকে ধ্বংস বা পরিশুদ্ধ করে নতুন পরিপুষ্ট কো তৈরিতে ভূমিকা রাখে। তবে এ প্রক্রিয়াকে সচল করার জন্য দরকার হয় ‘সবিরত আহার’। অর্থাৎ পুরোপুরি বা অনিয়মিত অনাহার নয় বরং নির্দিষ্ট বিরতিতে আহার। রমজানের রোজা যেহেতু এক সুনির্দিষ্ট নিয়মানুসারে পানাহার ত্যাগ করা হয় তাই রোজা আমাদেও দৈহিক সুস্থতার জন্য ‘অটোফেজি’র বিশেষ সহায়কস্বরূপ। এছাড়া বর্তমানকালে শারীরিক সুস্থতায় বহুল অনুসৃত ‘কিটো ডায়েট’ এর অংশ হিসেবেও রোজার প্রচলন দেখা যায়। মোটকথা আমাদের দৈহিক সুস্থতায় রোজার ইতিবাচক প্রভাব মোটাদাগে রমজানের রোজার উপকারিতাকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে বুঝতে সাহায্য করে। কিন্তু একটু বিস্তৃত মানসিকতা নিয়ে রমজান মাসের রোজাকে ব্যাখ্যা করলে আধুনিক বিজ্ঞান বা দর্শনের অনেক শাখার মতোই   পরিবেশ বিজ্ঞান কিংবা পরিবেশ নৈতিকতার সাথেও এর একটি সুক্ষ্ন সম্বন্ধ আমাদের গোচরীভূত হয়।

তাই এক কথায় বলা যায়, রমজান চলে গেলেও এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য জীবনব্যাপী প্রভাব রাখতে সহায়ক।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, দর্শন বিভাগ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা।
E-mail: [email protected]


দেশসংবাদ/কেবি/এফবি/এইচএন


আরও সংবাদ   বিষয়:  রমজান  


আপনার মতামত দিন
করোনা
আরও ২৫ লাখ ফাইজারের টিকা আসছে
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. মোশাররফ হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
সহযোগি সম্পাদক
এনামুল হক ভূঁইয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
এম. এ হান্নান
সহকারি সম্পাদক
মোহাম্মদ রুবাইয়াত আনোয়ার
মেবিন হাসান
যোগাযোগ
টেলিফোন
০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবাইল ফোন
০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল
[email protected]
ফেসবুক
facebook.com/deshsangbad10

Developed & Maintenance by i2soft
logo
up