রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ || ৪ আশ্বিন ১৪২৮
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ প্রতি মাসে ২ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে ■ দুর্নীতিবাজরা যেন শাস্তি পায় ■ করোনায় আরও ৪৩ জনের মৃত্যু, আক্রন্ত ১৩৮৩ ■ ই-কমার্সের গ্রাহকদের লোভ কমানোর পরামর্শ ■ খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ ৬ মাস বৃদ্ধি ■ মঙ্গলবার থেকে ফের বিএনপি’র ধারাবাহিক বৈঠক ■ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় আ.লীগের ৪৩ প্রার্থী জয়ী ■ হোটেল ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা ■ আরও ২৩২ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি ■ ঢাবির হল ৫ অক্টোবর খুলছে ■ দেশে করোনায় আরও ৩৫ জনের মৃত্যু ■ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে ফাইজারের টিকা
সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ
সংগীতজ্ঞ পণ্ডিত পতিত পাবন গুরুতর অসুস্থ
গোলাম মোস্তফা রবি
Published : Thursday, 8 July, 2021 at 4:06 PM, Update: 08.07.2021 10:04:54 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

সংগীতজ্ঞ পণ্ডিত পতিত পাবন গুরুতর অসুস্থ

সংগীতজ্ঞ পণ্ডিত পতিত পাবন গুরুতর অসুস্থ

ধ্রুপদ গান ভারতীয় রাগ সংগীতের প্রাচীনতম ও বিশুদ্ধ এক গীতধারা। কিন্তু খেয়াল গানের সৃষ্টি ও তার জনপ্রিয়তার সাথে সাথে ধ্রুপদ শ্রোতাদের কাছে থেকে কিছুটা পিছিয়ে পরতে থাকে। তার সাথে সাথে ধ্রুপদের সাথে সংগতকারী প্রধান ও একমাত্র তালবাদ্য যন্ত্র পাখোয়াজও যেনো অনেকটা জনপ্রিয়তা হারাতে থাকে। পাখোয়াজ ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রাচীন ও স্বতন্ত্র একটি তালবাদ্য। তবলা উৎপত্তির বহুআগেই পাখোয়াজের উৎপত্তি হয়। তবে খেয়ালগানের জনপ্রিয়তার সাথে সাথে এর সংগতকারী তবলারও জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। সঙ্গতের পাশাপাশি এর স্বতন্ত্র বাদনও আজ শুধু ভারতবর্ষে নয় সারা পৃথিবীতে দেশি বিদেশি শ্রোতাদের কাছে তবলা কতটা জনপ্রিয় এ কথা বলাই বাহুল্য। তবে পাখোয়াজের মত প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী তাল বাদ্যযন্ত্র প্রচার প্রসার ও বাদনে বাংলাদেশে যিনি অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি পণ্ডিত পতিত পাবন নট্ট। শুধু পাখোয়াজ নয়, তিনি বাংলাদেশের অন্যতম একজন তবলাশিল্পী ও গুরু। সাধনা করেছেন কন্ঠ সংগীতেও।

পাবন নট্টর ছোট ছেলে বিশ্বজিৎ নট্ট দেশসংবাদকে বলেন এই কথা অনস্বীকার্য যে আমাদের দেশের সবকিছুই যেন রাজধানী ঢাকা কেন্দ্রিক, কিন্তু আমার বাবা ঢাকায় অবস্থান না করে ঝালকাঠির মত একটি মফস্বল শহরে থেকে সাধনা চালিয়ে গেছেন এবং অসংখ্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংগীতের দীক্ষা ও শিক্ষা দিয়ে গেছেন আজীবন। তাই সত্যিকারে নিভৃতচারী ও প্রচারবিমুখ এই সংগীতসাধক রয়ে গেছেন অনেকটা আড়ালে। জীবনসায়হ্নে এসে এই মহান সংগীত সাধক কিডনির জটিল সমস্যা ও ব্রেনস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যাশায়ী। গুণী এই সংগীত সাধকের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিকট আকুল আবেদন জানাই।
 
আরও একটি বিষয় আলোকপাত করি, এই মহান সংগীত সাধক সংগীত-সংস্কৃতি প্রচার প্রসারে অবদানের জন্য অনেক সম্মাননা পেয়েছেন। তাঁর এই অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ রাষ্ট্রীয় কোন সম্মাননা তিনি এখনও পাননি। এই মহান সংগীত সাধকের জীবদ্দশায় তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেয়ার জন্য দাবি জানাই।

পন্ডিত পতিত পাবন নট্ট (জন্ম: ১৯৪২ খ্রীস্টাব্দ) বিশিষ্ট তবলা ও পাখোয়াজ শিল্পী পন্ডিত পতিত পাবন নট্ট  ১৯৪২ খ্রীষ্টাব্দের ২১ মে (৭ জৈষ্ঠ্য ১৩৪৯ বাংলা, বৃহস্পতিবার ) বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি জেলার পাঁজিপুথি পাড়া (শশাংক) গ্রামে এক সংগীত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা পন্ডিত হিরণ চন্দ্র নট্ট ছিলেন (১৯০৬-১৯৮৫), একজন প্রখ্যাত তবলাশিল্পী। পিতামহ শশী ভূষণ নট্ট তৎকালীন সুবিখ্যাত যাত্রাদল  ”নট্ট কোম্পানী’র প্রতিষ্ঠাতা, সত্ত্বাধিকারী এবং তবলাশিল্পী ছিলেন। পন্ডিত পতিত পাবন নট্ট তার পিতার কাছেই দীর্ঘদিন তবলা ও পাখোয়াজের শিক্ষালাভ করেন। ১৯৭৮ খ্রীষ্টাব্দে তিনি বাংলাদেশ বেতার আয়োজিত সংগীত প্রতিযোগীতায় যন্ত্রসংগীত ‘তবলা’ বিষয়ে প্রথম স্থান লাভ করার গৌরব অর্জন করেন। ১৯৭৯ খ্রীষ্টাব্দের ১ জুলাই থেকে তিনি বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভূক্ত শিল্পী হিসেবে খুলনা কেন্দ্র হতে নিয়মিত একক তবলা ও পাখোয়াজ বাদন পরিবেশন করতে থাকেন। বাংলাদ্যেশ বেতারের ‘প্রথম শ্রেণী- বিশেষ গ্রেড’ এর এই গুণীশিল্পী (২০০২), খ্রিষ্টাব্দ থেকে বরিশাল বেতার কেন্দ্র থেকে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে থাকেন।

সংগীতজ্ঞ পণ্ডিত পতিত পাবন গুরুতর অসুস্থ

সংগীতজ্ঞ পণ্ডিত পতিত পাবন গুরুতর অসুস্থ


এছাড়া তিনি বিভিন্ন সময়ে ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুর কেন্দ্রেও তবলা পাখোয়াজ সংগত করেছেন। শুধুমাত্র তালযন্ত্র তবলা পাখোয়াজেই নয়, কন্ঠ সংগীতেও তিনি যথেষ্ট পারদর্শী ছিলেন। ঝালকাঠির সংগীতগুণী শ্রী হেমন্ত কুমার শীল এর কাছে তিনি কন্ঠসংগীতের তালিম পেয়েছিলেন। প্রথম জীবনে বাংলাদেশ বেতারে কয়েকটি অনুষ্ঠানে ঠুমরী গান পরিবেশন করেন। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের সংগীত সম্মেলনগুলোতে অসংখ্যবার আমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে তবলা ও পাখোয়াজ একক বাদন পরিবেশন করেন। তার মধ্যে ঢাকার শুদ্ধ সংগীত প্রসার গোষ্ঠী আয়োজিত শীতকালীন উচ্চাঙ্গ সংগীত সম্মেলন (২০০৪ ও ২০১২)  চট্টগ্রামে সদারঙ্গ উচ্চাঙ্গ সংগীত পরিষদ আয়োজিত জাতীয় উচ্চাঙ্গ সংগীত সম্মেলন (২০১১),  ঢাকায় প্রথম জাতীয় তবলা উৎসব (২০০৮), বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী আয়োজিত প্রথম যন্ত্র সংগীত উৎসব (২০১৮),  বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী আয়োজিত উচ্চাঙ্গ সংগীত সম্মেলন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

তিনি বাংলাদেশের যে সকল খ্যাতনামা শাস্ত্রীয় সংগীত শিল্পীদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে তবলা ও পাখোয়াজ সংগত করেন তাদের মধ্যে শ্রী শুকলাল চক্রবর্তী (বাগেরহাট) শ্রী হেমন্ত কুমার শীল (ঝালকাঠি), পন্ডিত রামকানাই দাশ (সিলেট), পন্ডিত গোপাল দত্ত (নেত্রকোণা), ওস্তাদ ফুল মোহাম্মদ খান (সিলেট), ওস্তাদ শুক্কুর আলী (চট্টগ্রাম), ওস্তাদ মোশাররফ হোসেন খান (যশোর) শ্রী রনজিতৎ কুমার দেবনাথ (খুলনা) শ্রী সাধন সরকার (খুলনা)  শ্রী নিতাই রায় (ঢাকা), শ্রী মঙ্গল চন্দ্র মঙ্গল (ঢাকা), সেতারবাদক বাবু বিনয় রায় (ঢাকা), পন্ডিত অবনী মোহন, পন্ডিত মধুসূদন নট্ট, পন্ডিত শ্রী ভাস্কর প্রসুখের নাম উল্লেখযোগ্য।

যাত্রা শিল্পের স্বর্ণ যুগে পন্ডিত পাবন নট্ট কিছুকাল যাত্রা জগতেও তার প্রতিভার সাক্ষর রেখেছিলেন।( ১৯৬২) খ্রীষ্টাব্দে তিনি নাথ কোম্পানী ও আর্য কোম্পানী যাত্রাপার্টি এবং (১৯৭২ -৭৩), খ্রীষ্টাব্দে ভাগ্যলক্ষ্মী অপেরা, ভোলানাথ ও রামপ্রসাদ প্রভৃতি সুবিখ্যাত যাত্রা দলের সঙ্গে সারা দেশ ঘুড়ে বেড়িয়েছেন। একজন গুণী এবং দাপুটে বাদক হিসেবে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল সারাদেশে। তার পিতা প্রখ্যাত তবলা শিল্পী পন্ডিত হিরণ চন্দ্র নট্ট স্মরণে (১৯৮৫ -২০০৮ ), সাল পর্যন্ত তিনি দেশের গুণী শাস্ত্রীয় সংগীত শিল্পীদের নিয়ে প্রতিবছর দুইদিনব্যাপী শাস্ত্রীয় সংগীত সম্মেলন আয়োজন করেছেন।

পৃষ্ঠপোশকতার অভাব ও নানা প্রতিকূলতার কারণে এখন আর সেটির ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারছেন না। (১৯৮৬), খ্রীষ্টাব্দে তিনি ঝালকাঠিতে পন্ডিত হিরণ চন্দ্র নট্ট সংগীত শিক্ষালয় প্রতিষ্ঠা করেন। একজন সফল সংগীতগুরু হিসেবে তিনি অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে তবলা, পাখোয়াজ ও কন্ঠসংগীতের তালিম দিয়ে যাচ্ছেন সারা জীবন ধরে। তাদেরও অনেকেই আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। ২০০০ খ্রীষ্টাব্দে ঢাকায় ছায়ানট সংগীত বিদ্যায়তন এর আমন্ত্রণে কিছুদিন ছায়ানটের শুদ্ধ সংগীত বিভাগে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন আয়োজিত অত্যন্ত জনপ্রিয় শিশুবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুড়ি’তে একাধিকবার সম্মিলিত বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। (১৯৯৮), খ্রীষ্টাব্দে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের উচ্চাঙ্গসংগীতের অনুষ্ঠান রাগ লহরীতে পাখোয়াজ বাদন পরিবেশন করেন।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এফএইচ/বি


আরও সংবাদ   বিষয়:  পতিত পাবন নট্ট  


আপনার মতামত দিন
করোনা
প্রতি মাসে ২ কোটি  মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. মোশাররফ হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
সহযোগি সম্পাদক
এনামুল হক ভূঁইয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
এম. এ হান্নান
সহকারি সম্পাদক
মোহাম্মদ রুবাইয়াত আনোয়ার
মেবিন হাসান
যোগাযোগ
টেলিফোন
০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবাইল ফোন
০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল
[email protected]
ফেসবুক
facebook.com/deshsangbad10

Developed & Maintenance by i2soft
logo
up