রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ || ৪ আশ্বিন ১৪২৮
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ প্রতি মাসে ২ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে ■ দুর্নীতিবাজরা যেন শাস্তি পায় ■ করোনায় আরও ৪৩ জনের মৃত্যু, আক্রন্ত ১৩৮৩ ■ ই-কমার্সের গ্রাহকদের লোভ কমানোর পরামর্শ ■ খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ ৬ মাস বৃদ্ধি ■ মঙ্গলবার থেকে ফের বিএনপি’র ধারাবাহিক বৈঠক ■ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় আ.লীগের ৪৩ প্রার্থী জয়ী ■ হোটেল ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা ■ আরও ২৩২ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি ■ ঢাবির হল ৫ অক্টোবর খুলছে ■ দেশে করোনায় আরও ৩৫ জনের মৃত্যু ■ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে ফাইজারের টিকা
গঙ্গাচড়ায় আকস্মিক বন্যা, পানিবন্দী ১০ হাজার পরিবার
আফরোজা সরকার, রংপুর
Published : Saturday, 10 July, 2021 at 7:08 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

গঙ্গাচড়ায় আকস্মিক বন্যা, পানিবন্দী ১০ হাজার পরিবার

গঙ্গাচড়ায় আকস্মিক বন্যা, পানিবন্দী ১০ হাজার পরিবার

তিস্তা তীরবর্তী গঙ্গাচড়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় দেখা দিয়েছে  রংপুরে আকস্মিক বন্যা।উজানে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে অভিন্ন এই নদীর ভারতীয় অংশের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিস্তা ব্যারাজের ৬৫ কিলোমিটার উজানে ভারত তাদের গজলডোবা ব্যারেজের সবগুলো গেট খুলে দেওয়ায় ভাটির দেশ বাংলাদেশের অংশে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত সপ্তাহে বৃষ্টির পানি আর উজানের পাহাড়ি ঢলে কিছু এলাকা প্লাবিত হলেও দু-তিন দিনের মধ্যে পানি নেমে যায়। শুকাতে থাকে পানিবন্দি পরিবারগুলোর বসতবাড়ির আঙ্গিনা। কিন্তু কাঁদামাটি শুকাতে না শুকাতেই বৃহস্পতিবার (০৮ জুলাই) রাতে হঠাৎ তিস্তায় পানি বেড়ে যাওয়ায় নদী পাড়ের গ্রামগুলোতে অকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে।

এবার পানির তোড়জোড়ে উপজেলার আলমবিদিতর, লক্ষ্মীটারি, কোলকোন্দ, নোহালী ও গজঘণ্টাসহ পাঁচ ইউনিয়নের প্রায় দশ-বারো হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়াতে বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। অনেক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিলেও এখনো অনেকেই পানির মধ্যে অবস্থান করছে।

শুক্রবার (০৯ জুলাই) সকালে লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নের বাগেরহাট এলাকায় গেলে সেখানে কথা হয় আশরাফুল আলম নামের ওই কৃষকের সাথে। তিনি  বলেন, ‌‘সকাল থাকি ‌পানি একনা নামি গেইছে। কিন্তু হামার দুর্ভোগ তো কমোচে (কমছে) না। চৌকির ওপর টিভি, হাড়িপাতিল, বিছানাসহ মালামাল তুলি তুইছি। ফির যে পানি হবার নায়, তার কি গ্যারান্টি আছে। অন্যটে যে আশ্রয় নেবার যামো, সেই জায়গাও তো নাই।’

সরেজমিনে দেখা যায়, কোলকোন্দ ইউনিয়নের পূর্ব বিনবিনা চর হতে লক্ষীটারি ইউনিয়নের পশ্চিম ইচলী সংযোগ বেড়িবাঁধটি ভেঙে গেছে। এতে বাগেরহাট বাজার এলাকাসহ আশ্রয়ন প্লাবিত হয়ে পানিবন্দী হয়ে আছে হাজারো মানুষ। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগে বালু ভরাট করে রাখলেও তা ভাঙন স্থানে না ফেলায় মানুষজনের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এর আগের ভাঙনে ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিনবিনার স্বেচ্ছাশ্রমের বাঁধটি ও পূর্ব বিনবিনার ভাঙা মসজিদ বিলীন হয়েছে। এবার আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়ায় লক্ষ্মীটারির কেল্লারপাড় চরে স্বেচ্ছাশ্রমের উপবাঁধটিও ভেঙে যাচ্ছে। ভাঙনে পূর্ব বিনবিনা ও পশ্চিম ইচলীর ১৭টি পরিবারের বসতবাড়ি তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়েছে।

এদিকে প্লাবিত গ্রামগুলোর রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় চলাচলে সমস্যা দেখা দিয়েছে। নদীর কোল ঘেঁষা এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, মসজিদ ও আবাদি জমি ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। পানিবন্দী মানুষগুলো রাস্তাসহ উঁচু স্থানে পলিথিনের ছাউনি তৈরি করে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি ও ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। পানিবন্দী অনেক নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে না পেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

বন্যা কবলিত কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা, উত্তর চিলাখাল, সাউথপাড়া, মটুকপুরসহ চার গ্রামের কমপক্ষে তিন হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নের চরইশরকুল, ইছলি, পূর্ব ইছলি, পশ্চিম ইছলি ও শংকর, বাগেরহাটহ ছয়টি গ্রামের সাড়ে তিন হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে আছে।

গঙ্গাচড়ায় আকস্মিক বন্যা, পানিবন্দী ১০ হাজার পরিবার

গঙ্গাচড়ায় আকস্মিক বন্যা, পানিবন্দী ১০ হাজার পরিবার


একই অবস্থা নোহালীর মিনার বাজার, কচুয়াচর, বৈরাতী বাাঁধের ধার, চর নোহালী, বাগডহরা চর, মর্নেয়া ইউনিয়নের মর্নেয়া চর, তালপট্টি, আলাল চর, নরসিং চর, গজঘন্টা ইউনিয়নের কালির চর, ছালাপাক, গাউছিয়া বাজার, জয়দেব, মইশাসুর, রামদেব চরসহ আলমবিদিত ও গঙ্গাচড়া ইউনিয়নের তিস্তা বেষ্টিত নিম্নাঞ্চল এলাকায়। এসব এলাকায় আরও সাড়ে তিন হাজার পরিবার পানিবন্দী রয়েছে।

বাড়িঘর, দুয়ারে পানি উঠায় ঠিক মতো রান্না করে খেতে না পাওয়ায় অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটছে পানিবন্দী পরিবারগুলোর। শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে এসব এলাকায়। চলাচল ব্যহত হওয়াতে অনেকেই ছোট নৌকা, বাঁশ ও কলা গাছের ভেলায় চলাফেরা করছে।

পশ্চিম ইচলীর ফজলু মিয়া বলেন, চার-পাঁচদিন আগে পানিবন্দী হয়ে ছিলাম। সেই পানি না শুকাতে না শুকাতে আবারও পানিবন্দী হলাম। আমাদের কষ্টের জীবন। এভাবেই চলছে। বৃষ্টি নাই। এক রাইতোতে হঠাৎ পানি উঠিল। শুকনা জাগাও নাই যে সেটে (সেখানে) যায়া উঠমো।

কেল্লারপাড়ের মহির উদ্দিন জানান, যতদিন নদীর কাজ হবার নায়, ততদিন হামার কপাল থাকি দুঃখ শেষ হবার নায়। খালি তো শুনি, সরকার নাকি চীনের সাথে চুক্তি করছে। তিস্তায় নাকি অনেক কিছু হইবে, কিন্তুক কিছুই হইলে না। আর কত ভাঙন, ক্ষয়ক্ষতি আর ধ্বংস দেখলে সরকার হামার বাঁচাবার জনতে কাজ করবে? হামরা নদীপাড়ের মানুষ, এটাই হামার দোষ।  

লক্ষ্মীটারি ইউনিয়ন পরিষেদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহেল হাদী  বলেন, ‌ভারত পানি ছেড়ে দেওয়ায় এক রাতেই তিস্তার ভাটি অংশে পানিতে ভরে উঠল। আমার ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ এখন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তাদের এখন শুকনা খাবার প্রয়োজন, বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন। কিন্তু আকস্মিক ভাবে সৃষ্ট বন্যার কারণে এসব শুকনা খাবার দ্রুত সময়ের মধ্যে দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। এর আগে দু-দফায় মাত্র সাড়ে ৬শ পরিবারকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। এখনও অনেক পরিবার ত্রাণ সহায়তা পায়নি।

কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব আলী রাজু  জানান, পানি বৃদ্ধির তার ইউনিয়নের বিনবিনা চরে সাত পরিবারের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এখন ৩ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এর আগে ৫৭৫ পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসলীমা বেগম জানান, ‘পানিবন্দী মানুষের তালিকা করা হচ্ছে। শুকনা খাবারসহ ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া ভাঙন কবলিত এলাকাগুলোর ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়ে রাখা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন  জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। শুক্রবার বেলা ১১টায় কিছুটা কমে ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিস্তা ব্যারেজের সব কটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সব কর্মকর্তা–কর্মচারীকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এফবি/আরএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  তিস্তা   গঙ্গাচড়ায   বন্যা  


আপনার মতামত দিন
করোনা
প্রতি মাসে ২ কোটি  মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. মোশাররফ হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
সহযোগি সম্পাদক
এনামুল হক ভূঁইয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
এম. এ হান্নান
সহকারি সম্পাদক
মোহাম্মদ রুবাইয়াত আনোয়ার
মেবিন হাসান
যোগাযোগ
টেলিফোন
০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবাইল ফোন
০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল
[email protected]
ফেসবুক
facebook.com/deshsangbad10

Developed & Maintenance by i2soft
logo
up