রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১ || ১০ শ্রাবণ ১৪২৮
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ খুলনা বিভাগে একদিনে ৪৫ জনের মৃত্যু ■ খালাসের অপেক্ষায় ২০০ টন অক্সিজেন ■ মতিঝিলে গাড়ির গ্যারেজে আগুন ■ ময়মনসিংহ মেডিকেলে আরও ১৭ জনের মৃত্যু ■ রাজশাহী মেডিকেলে আরও ১৪ জনের মৃত্যু ■ কুষ্টিয়ায় আরও ১৯ জনের মৃত্যু ■ সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব দেয়ার নির্দেশ ■ বহিস্কার হলেন হেলেনা জাহাঙ্গীর ■ বাকপ্রতিবন্ধীকে কুপিয়ে হত্যা ■ দেশে এলো ২৫০ ভেন্টিলেটর ■ আ.লীগের মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা ■ ঈদে সারাদেশে ৯১ লাখ পশু কোরবানি
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
জাতীয় শুদ্ধাচার পুরষ্কার পেলেন রবিউল
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
Published : Thursday, 15 July, 2021 at 8:12 PM, Update: 16.07.2021 12:38:38 AM
Zoom In Zoom Out Original Text

জাতীয় শুদ্ধাচার পুরষ্কার পেলেন রবিউল

জাতীয় শুদ্ধাচার পুরষ্কার পেলেন রবিউল

কর্মক্ষেত্রে সততা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ পুলিশের ২০১৯-২০ অর্থ বছরের জন্য জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার পেয়েছেন হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের প্রাক্তন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল ইসলাম (পিপিএম-সেবা)। ২০১৯-২০ সালে হবিগঞ্জ সদর সার্কেলে পুলিশের পেশাগত দক্ষতা, যোগ্যতা, সততা, ভালো আচরণ, নেতৃত্বসহ শুদ্ধাচার চর্চা-বিষয়ক বিভিন্ন সূচকে সর্বোচ্চ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এই পুরস্কার পান। এই বছরই বাংলাদেশ পুলিশে শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান শুরু হয়।

প্রথমবারই এই পুরস্কার অর্জন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম। পুরস্কার হিসেবে তাকে একটি সনদ ও এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করা হয়। পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে অতিরিক্তি পুলিশ রবিউল ইসলাম বলেন, যেকোনো পুরস্কারই আনন্দের। জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার আমার জন্য নিঃসন্দেহে একটা বিশাল সম্মানের বিষয়। এই পুরস্কার আমাকে ভালো কাজে আরও বেশি উৎসাহ দেবে এবং মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করতে শক্তি জোগাবে। শুদ্ধাচার সনদ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বাংলাদেশ পুলিশে চালু হওয়া অভিন্ন মানদন্ডের ভিত্তিতে অর্জন করেছেন শ্রেষ্ঠ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ পুরস্কার। দাঙ্গা প্রবল এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল জেলা হবিগঞ্জ। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারি, হানাহানি এবং রক্তারক্তির মত জঘণ্য খেলায় মেতে উঠতো সাধারণ জনগণ। বংশ পরম্পরায় চলতে থাকে তাদের এই বিরোধ। মামলা মোকাদ্দমায় জর্জরিত হয়ে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হতে হয় অনেক পরিবারকে। কালের বিবর্তনে দাঙ্গার কালো ছায়া যখন হবিগঞ্জবাসীকে গ্রাস করেছিল ঠিক সেই মূহুর্তে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অদম্য প্রতিনিধি হয়ে হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়িত হন মোঃ রবিউল ইসলাম (পিপিএম-সেবা)।

পুলিশ সুপার মোঃ মোহাম্মদ উল্ল্যা বিপিএম-পিপিএম এর সার্বিক নির্দেশনায় অদম্য, বিচক্ষণ এবং সততার মূর্ত প্রতীক মোঃ রবিউল ইসলাম পিপিএম-সেবা হবিগঞ্জ সদর সার্কেল যোগদান করে তাঁর আওতাধীন (হবিগঞ্জ সদর মডেল, লাখাই, শায়েস্তাগঞ্জ) থানাসমূহে সংঘটিত অপরাধ পর্যালোচনা করেন। গ্রামে গ্রামে ঘুরে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেন। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার কারণ চিহ্নিত করেন। বংশ পরম্পরায় থাকা বিরোধের মূল কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। থানা এলাকার প্রায় প্রত্যেক গ্রামে প্রায় পাঁচ শতাধিক বিট ও কমিউনিটি পুলিশিং সভা করেন। দাঙ্গা-হাঙ্গামার কুফল সম্পর্কে সর্বস্তরের জনগণকে সচেতন করেন। ফিকল টেটার কাল সংস্কৃতি থেকে হবিগঞ্জবাসীকে বের করার চেষ্টা করেন। হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষদের প্রাপ্ত সেবাটুকু প্রদানের প্রয়াসে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেন এবং খুব শ্রীঘ্রই তিনি অভিনব এক পদ্ধতি অবলম্বন করেন। মহৎ এই উদ্যোগের নাম ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি’ কার্যক্রম।

জাতীয় শুদ্ধাচার পুরষ্কার পেলেন রবিউল

জাতীয় শুদ্ধাচার পুরষ্কার পেলেন রবিউল



দীর্ঘ মেয়াদী বিরোধ কিংবা ছোটখাট যেকোন ঘটনার অভিযোগপ্রাপ্ত হলে বিষয়টি মামলা-মোকদ্দমা পর্যন্ত ঠেলে না দিয়ে অত্যন্ত মানবিক বিবেচনায় স্ব-উদ্যোগে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদেরকে নিয়ে বিরোধগুলো সার্কেল অফিস ও থানায় বসে নিস্পত্তি করেছেন। প্রায় ৬ শতাধিক সমস্যা বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তি পদ্ধতিতে নিস্পত্তি করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে তার কর্মকালীন এই সার্কেলাধীন থানাসমূহে পূর্বের তুলনায় (হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা-২২০ টি, লাখাই-১২৪ টি, শায়েস্তাগঞ্জ- ১০৫ টি) সর্বমোট ৪৪৯ টি মামলা কম রুজু হয়েছে। তাঁর মানবিক কর্মকান্ডে দিনে দিনে অসহায় হতদরিদ্র ও নিপীড়িত মানুষের ভরসাস্থলে পরিণত হয় হবিগঞ্জ সদর সার্কেল কার্যালয়। ভুক্তভোগীগণ অত্র কার্যালয়ে আসার পর মোঃ রবিউল ইসলাম, পিপিএম-সেবা তাদের সকল অভিযোগ মনোযোগসহকারে শুনতেন। ভুক্তভোগীদের নিকট থেকে প্রাপ্ত অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করতেন এবং অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে অত্র কার্যালয়ে আসার জন্য নোটিশ প্রেরণ করেন। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ ধার্য্য তারিখে উপস্থিত হলে তিনি মনোযোগসহকারে একে একে সকলের বক্তব্য শুনতেন। খুবই বিচক্ষণতার সাথে তিনি সকলের বক্তব্য পর্যালোচনা করতেন এবং বাস্তবমুখী নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত প্রদান করতেন। নিরপেক্ষতার কারণে পক্ষ-বিপক্ষদ্বয় অকপটেই সিদ্ধান্তে একমত পোষণ করতেন ও তাদের মধ্যকার বিরোধ খুব সহজেই মিমাংসা হতো। অত্র সার্কেলে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে তিনি প্রায় ছয় শতাধিক বিরোধ বিকল্প পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করেন। যার ফলশ্রুতিতে বংশ-গোষ্ঠীগত বিরোধ এবং দাঙ্গা হাঙ্গামা হ্রাস পায়।

সাধারণ মানুষ মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে পরিত্রাণ পেয়েছে। শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা হয়েছে এবং মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নত হয়েছে। মানুষের মূল্যবোধের পরিবর্তন এসেছে। মানুষ বুঝতে শিখেছে, মামলা-মোকদ্দমায় অর্থ ব্যয় করা মূল্যহীন। তিনি শুধু বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে পারদর্শী নয়, তিনি একাধারে অনেক গুণাবলি সম্পন্ন একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি সৎ, বিচক্ষণ, সাহসী, দক্ষ এবং ধৈর্য্যশীল। তিনি অভিনব কৌশল অবলম্বন করে বিভিন্ন ক্লু-লেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছেন। যেসকল মামলার আসামী গ্রেফতার নয়, বরং মৃতদেহের পরিচয় শনাক্তে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়েছে সেই সকল মামলার মূল রহস্য উদঘাটন এবং আসামী গ্রেফতার করতে তিনি সক্ষম হয়েছেন। কর্মকালীন সময়ে তিনি প্রায় ২৫ টি ক্লু-লেস হত্যা মামলা রহস্য উদঘাটন এবং আসামী গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন।

এক সময়ে হবিগঞ্জ জেলাবাসীর এক আতংকের নাম ছিল ‘ডাকাতি’। আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্যগণ হবিগঞ্জ জেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহে ডাকাতি পরিচালনা করতো। প্রায় সময় ডাকাতি সংবাদ শুনা গেলেও ডাকাতরা থাকত ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ফলশ্রুতিতে তারা তৈরী করেছিল বিভিন্ন গ্রুপ এবং দল। মোঃ রবিউল ইসলাম, পিপিএম-সেবার সঠিক নেতৃত্ব, সাহসি অভিযান এবং নিরলস প্রচেষ্ঠায় প্রায় ৩৯ জন ডাকাতকে গ্রেফতার এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

তাঁর এরকম কর্মকান্ডে হবিগঞ্জ সার্কেলের প্রায় ৯৫ ভাগ দাঙ্গা হ্রাস পেয়েছে। জনজীবনে শান্তি ও স্বস্তি এসেছে। ফিকল টেটার সংস্কৃতি আজকে ইতিহাস হতে চলেছে। মাডার,ডাকাতি হ্রাস পেয়েছে। জনসাধারণের মধ্যে দাঙ্গা, মাদক, ইভটিজিং, বাল্য বিবাহ, যৌতুক, প্রযুক্তির অব্যবহার বিরোধী মনস্তত্ব তৈরী হয়েছে। এতে মামলা মোকদ্দমায় না জড়ানোয় হবিগঞ্জ সার্কেলাধীন থানাগুলোর জনগণ কোটি কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হতে রক্ষা পেয়েছে। ফলে প্রতিটি পরিবার, গ্রাম, ইউনিয়ন, সর্বোপরি সার্কেলাধীন এলাকায় শান্তিময় অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিবেশ বিরাজ করেছে। এটি হবিগঞ্জের মানুষের দীর্ঘদিনের কাঙ্খিত প্রত্যাশা ছিল। যেটি তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম পেশাদারিত্ব, সততা, ন্যায়-নিষ্ঠা, আন্তরিকতার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এভাবে পুলিশ ও জনগণের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের টেকসই সেতু বিনির্মিত হয়েছে।

২০১৮ সালের ৫ মার্চ অত্র সার্কেলে যোগদান করেন। চলতি বছরের ১৪ মার্চ ন্যায় নিষ্ঠ ও সততার প্রতীক মানবিক এই পুলিশ কর্মকর্তা হবিগঞ্জ জেলা হতে বদলি হন। তাঁর এই বিদায়ে হবিগঞ্জ বাসী অশ্রুসিক্ত। সততা, দক্ষতা, বিচক্ষণতা, সাহসিকতা, মানবিকতা এবং নিরলস কর্ম প্রচেষ্টায় হবিগঞ্জবাসীর হৃদয়ে তিনি যে জায়গা করেছেন, তা হবিগঞ্জবাসী কখনো ভুলতে পারবে না। তাঁর কীর্তি গাঁথা কর্মের কথা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এফএইচ/বিটি


আরও সংবাদ   বিষয়:  রবিউল ইসলাম  


আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা
খুলনা বিভাগে একদিনে ৪৫ জনের মৃত্যু
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
সহযোগি সম্পাদক
এনামুল হক ভূঁইয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
এম. এ হান্নান
সহকারি সম্পাদক
মোহাম্মদ রুবাইয়াত আনোয়ার
মেবিন হাসান
যোগাযোগ
টেলিফোন
০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবাইল ফোন
০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল
[email protected]
ফেসবুক
facebook.com/deshsangbad10

Developed & Maintenance by i2soft
logo
up