রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ || ৪ আশ্বিন ১৪২৮
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ হোটেল ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা ■ আরও ২৩২ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি ■ ঢাবির হল ৫ অক্টোবর খুলছে ■ দেশে করোনায় আরও ৩৫ জনের মৃত্যু ■ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে ফাইজারের টিকা ■ বাসচাপায় অটোরিকশার ৪ যাত্রী নিহত ■ ৩২ হাজার শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া ■ চীন থেকে আসছে আরও ৫০ লাখ ভ্যাকসিন ■ দেশে করোনায় আরও ৫১ জনের মৃত্যু ■ খালেদার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ■ আশ্রয়ণ প্রকল্পে দুর্নীতি তদন্তে দুদককে নির্দেশ ■ চার বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস
দেশে শুরু হতে যাচ্ছে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব
নিজস্ব প্রতিবেদক
Published : Sunday, 12 September, 2021 at 8:56 PM, Update: 12.09.2021 11:39:40 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

ড. শামসুল আলম

ড. শামসুল আলম

বাংলাদেশ ন্যানো সোসাইটি এর আয়োজনে "বঙ্গবন্ধুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভাবনা' শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায়  জুম এপের মাধ্যমে উক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, চতুর্থ বিপ্লবকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আমাদের প্রস্ততি প্রয়োজন, অনেক গবেষণা প্রয়োজন, বিজ্ঞানীদের প্রণোদনা প্রয়োজন।

আমরা  অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় সেটি ব্যাপকভাবে বলেছি। আমাদের দেশে এখন চতুর্থ বিল্পব শুরু হতে যাচ্ছে, যে সময় অনেক দেশে পঞ্চম বিপ্লবের কথা বলা হচ্ছে। এমন একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। সুতরাং বুঝাই যাচ্ছে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অন্যরকম একটা বিপ্লব ঘটতে যাচ্ছে।  এটিকে আমাদের ধারণ করতে হবে, অবগাহন করতে করতে হবে এবং আমাদের জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে হবে। আপনারা জানেন, এইটা সেই সময় যখন আমরা আর্থ ও সামাজিকভাবে অনেক উন্নতি করেছি, দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছি।

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে  মাথাপিছু আয়ে, প্রবৃদ্ধি অর্জনে, নারীর ক্ষমতায়ন ও  শিক্ষায়নে আমরা এখন ১ নম্বরে চলে গেছি এবং মাতৃ মৃত্যুহারও সবচেয়ে কম এখন আমাদের বাংলাদেশে। গত ১ যুগে বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করেছে, বিশ্বে অনেক এগিয়ে গেছে। আমি এটাকে বলি পরিকল্পনার যুগ, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সোনালি যুগ।  আমরা সেভাবেই পরিকল্পনা তৈরি করেছি এবং মোটাদাগে সেভাবেই পরিকল্পনা গুলো বাস্তবায়িত হয়েছে। একটি সুপরিকল্পনা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে  সম্পদের বণ্টন এবং বাজেটিং আমরা সেভাবেই করেছি এবং দ্রুত আর্থসামাজিকভাবে এগিয়ে গিয়েছি।

দ্রুত প্রবৃদ্ধির কারণ হলো উপযুক্ত পরিকল্পনা আমাদের হাতে থাকা। উপযুক্ত দূর লক্ষ্য আমাদের সামনে থাকা। এ প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা প্রণয়নে আমি নেতৃত্ব দিয়েছি। শুধু ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা নয় আমরা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২০-২১ এবং ভিশন ২০৪১ এর ভিত্তিতে দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা তৈরি করেছি। আগামী ৪১ সালের মধ্যে আমাদের দেশ উন্নত দেশ হবে। ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ হবো। আমাদের সুনির্দিষ্ট পথচিত্র তৈরি করে রেখেছি। ক্রমান্বয়ে আমরা একটা উন্নত দেশের দিকে যাবো। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলবো।

আমি জাতির  পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি, যার সুপরিকল্পিত উদ্যোগ ও সূদুর প্রসারী চিন্তা-ভাবনার কারনে আজকে আমরা এতদূর এগিয়ে যেতে পারছি। আজ কৃষির যতটুকুই উন্নয়ন, তার ভিত রচনা করে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। কৃষিতে ব্যাপক রুপান্তর ঘটাতে চেয়েছিলেন তিনি।  স্বাধীনতার পরে যখন কোষাগার ছিলো শূন্য, কৃষিতে ছিলো নাজুক অবস্থা, সে সময়েই কৃষকের প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা থেকে বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন কৃষি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন।  মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও কৃষিকে বিশেষ গুরত্ব দিয়ে থাকেন। এখনো, কৃষি বিষয়ে কোন প্রজেক্ট তার হাতে গেলে তিনি সেটি কখনোই ফিরিয়ে দেন না। এমনকি অন্যান্য প্রজেক্টের টাকা কম-বেশি হলেও তিনি কৃষি,চিকিৎসা  গবেষণার প্রকল্পের টাকা বিন্দুমাত্র কমান না। আমরা চাই, আপনারা ভালো মানের গবেষণা, প্রকল্প আমাদের দেন।  টাকা-পয়সা নিয়ে আপনাদেরকে ভাবতে হবে না। যত টাকা লাগে আমরা দিতে প্রস্তত আছি। গবেষণা খাতকে এগিয়ে নিতে গত বাজেটে ১০০ কোটি টাকা গবেষণা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বিশেষ করে চিকিৎসা বা স্বাস্থ্যক্ষেত্রে গবেষণা কাজের জন্য আমাদের বাধা নেই। আপনারা কাজ করেন, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করার জন্য সব সময়ই প্রস্তুত আছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ন্যানোটেকনোলজির কার্যকরী চর্চা ও শিল্পে প্রয়োগ শুরু হওয়া দরকার। এজন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন উন্নত গবেষণা ও সরকারি উদ্যোগ।দেশের বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ, চিকিৎসক, কৃষিবিদ, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিগণকে ন্যানোটেকনোলজি বিষয়ে সংগঠিত হয়ে এর চর্চা ও শিল্পে প্রয়োগের পন্থা উদ্ভাবনের জন্য আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যের পূর্বে স্বাগত বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইবিজিই এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও প্লান্ট বায়োটেকনোলজি ডিসিপ্লিন এর হেড অধ্যাপক ড. মো: তোফাজ্জল ইসলাম, কৃষি ও চিকিৎসা বিজ্ঞানে ন্যানো টেকনোলজির ব্যবহার,  বাংলাদেশে ন্যানো টেকনোলজি ইনস্টিটিউট তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ন্যানো টেকনোলজির বেশিরভাগ সুবিধা হয়তো ভবিষ্যতের কয়েক দশকের মধ্যে দেখতে পাওয়া যাবে কিন্তু বর্তমানেও এই প্রযুক্তি নানান ভাবে আমাদের পৃথিবীকে পরিবর্তিত করতে সাহায্য করছে। আপনি হয়তো ভাবছেন ন্যানো টেকনোলজি একে বারে অসাধারণ জিনিষ এবং এটি সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তি—কারণ “টেকনোলজি” বলতে আমরা মানুষের তৈরি টেকনিককেই মনে করি। কিন্তু আমাদের জীবন নিজে থেকেই ন্যানো টেকনোলজির এক বিরাট উদাহরণ। আমাদের শরীরে প্রোটিন, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, কোষ ইত্যাদি ন্যানো টেকনোলজির সূত্রেই কাজ করে।
 
ন্যানো সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ও এআইউবির সহযোগী অধ্যাপক  ড.মোহাম্মদ মাহবুব রব্বানী সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে  বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.লুৎফুল হাসান। মূখ্য আলোচক বক্তব্য রাখেব চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সায়েন্টিস্ট এন্ড ডিরেক্টর ড. সেঁজুতি সাহা। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ন্যানো সোসাইটির সভাপতি, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য  অধ্যাপক ড. আল- নকীব চৌধুরী। ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি,  অস্ট্রেলিয়া সহ দেশ-বিদেশের ১৭৩ জন জ্ঞানী-গুনী ব্যক্তিবর্গ সংযুক্ত হয়েছেন।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এফএইচ/বিটি


আরও সংবাদ   বিষয়:  ড. শামসুল আলম  


আপনার মতামত দিন
করোনা
দেশে করোনায় আরও ৩৫ জনের মৃত্যু
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. মোশাররফ হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
সহযোগি সম্পাদক
এনামুল হক ভূঁইয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
এম. এ হান্নান
সহকারি সম্পাদক
মোহাম্মদ রুবাইয়াত আনোয়ার
মেবিন হাসান
যোগাযোগ
টেলিফোন
০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবাইল ফোন
০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল
[email protected]
ফেসবুক
facebook.com/deshsangbad10

Developed & Maintenance by i2soft
logo
up