ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০ || ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ জাসদ নেতা মিন্টু গ্রেফতার ■ ফের নির্বাচনের দাবিতে ইসিকে স্মারকলিপি দেবে ঐক্যফ্রন্ট ■ নতুন মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ রোববার ■ বিবিসি’র সেই ভিডিও নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী ■ বিদেশিদের বিএনপির ভরাডুবির কারণ জানালেন শেখ হাসিনা ■ বিশ্ব গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন ■ সংবিধান লঙ্ঘনে ইসির বিচার দাবি খোকনের ■ শপথ গ্রহণে যাচ্ছে না ঐক্যফ্রন্টের সংসদ সদস্যরা! ■ আ’ লীগের দুই গ্রুপের কোন্দলে যুবলীগ নেতা নিহত ■ বিদেশি পর্যবেক্ষক ছিল একেবারেই আইওয়াশ ■ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় গভীর উদ্বেগ টিআইবি’র ■  আ’লীগের জয়জয়কার, মুছে গেল বিরোধীরা
পটুয়াখালীতে নারীরা হোগলা বুনে জীবিকা নির্বাহ
রেজাউল ইসলাম, পটুয়াখালী :
Published : Saturday, 28 July, 2018 at 4:08 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

পটুয়াখালীতে নারীরা হোগলা বুনে জীবিকা নির্বাহ

পটুয়াখালীতে নারীরা হোগলা বুনে জীবিকা নির্বাহ

পটুয়াখালীর বিলবিলাস গ্রামে শতাধিক পরিবার হোগলা পাতার ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছে। সপ্তাহের মঙ্গল-রবিবার ৬ দিন জুড়ে থাকে হোগলা বুনার কর্ম ব্যস্ত। সোমবার দিন ওই এলাকার কালাইয়া বাজারে হোগলা সয়লাভ থাকে। ওই গ্রামের কর্মব্যস্ত নারীরা সোমবার দিন কর্ম বিরতী পালন করেন। গৃহের প্রধান পুরুষ বাজারে হোগলা বিক্রি মহাব্যস্ত থকেন। দক্ষিণাঞ্চল এর বিখ্যাত হাটে সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত হোগলা বিক্রি করে থাকেন।

সরেজমিন আলাপচারিতার মাধ্যমে জানাগেছে, ৩/৪ হাত দৈর্ঘ্য প্রস্থ হোগলা তৈরি করা হয়। চৌকা হোগলা, কাইছা হোগলা এবং কাইত্যা হোগলা নামে বিভিন্ন হোগলার প্রকারভেদ রয়েছে। মাঠে ধান শুকানো কাজ এবং মাছের ঢোল তৈরি করার জন্য চৌকা হোগলার বেশি চাহিদা রয়েছে। গৃহ পরিবারের শোয়ার ঘরে ব্যবহার করার জন্য কাইত্যা গোগলা বেশি কদর। হোগলা পাতার দামের সাথে হোগলার দামবাজারে ওঠানামা করে। প্রতি হোগলার মূল্য কুড়ি (২০টি) মূল ১০০০ টাকা, ১শ হোগলা ৫ হাজার টাকা, ১ হাজার ৫০ হাজার  টাকা। মাছের গদীতে যখন বিক্রি করা হয় তখন শত হিসাবে বিক্রি করা হচ্ছে। এ ছাড়া বাজারে খুচরামূল্যে হোগলা বিক্রি হয়। প্রতিটি চৌকা হোগলা মূল্য হচ্ছে ৮০ টাকা, কাইতা হোগলা ৬০ টাকা এবং তেকাছি হোগলা ৮০ টাকা। মাছ রাখার ঢোল তৈরি, ধান শুকানো, মসজিদ ও মাহফিলে নামাজ বসার জন্য এবং গৃহস্তালি কাজে হোগলা ব্যবহার কার হয়।

উপক’লীয় এলাকায় দক্ষিনাঞ্চলে লোহালিয়া ও ত্তেুলিয়া নদীর কুল ঘেষে রয়েছে ইলিশ মাছের আড়ৎ। ওই সব আড়ৎে বেশির ভাগ মাছের ঢোল তৈরি করার জন্য হোগলার ব্যবহার করা হয়। হোগলা পাতা কেটে রৌদ্রে শুকাতে হয়। পাতার পিটের নীল কেটে হোগলা বুনা হয়। ২/৩ জন একসাথে হোগলা বুনে থাকে। আবার বেশি হোগলা বোনার প্রতিযোগিতা চলে। দক্ষিানঞ্চলে দেড় শতাধিক বাজারে হোগালা বিক্রি করা হয়। উপজেলার কালাইয়া, বগা, বিলবিলাস, কালিশুরী, কনকদিয়া সহ পাশ্ববর্তী উপজেলা দশমিনা, গলাচিপা, দুমকী হাটবাজারে বিলবিলাস হোগলা বেচাকেনা হয়। পটুয়াখালী জেলা শহর পাটি দোকানে এবং মৎস্য আড়ৎ পাইকারী হেগালা অর্ডার মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। জৈষ্ট -শ্রাবন মাসে বেশি হোগলা বিক্রি হয়।

বিলবিলাস গ্রামে সরেজমিন দেখা গেছে, প্রতিটি বাড়িতে গৃহের নারী একত্র হয়ে হোগলা বুনার কাজে ব্যস্ত। তার মধ্যে রয়েছে পিয়া রানী, আলো রানী, বিছা রানী, গোলাপি, জয়লক্ষী এবং শিখা রানী। প্রতিটি হোগলা থেকে ১০ টাকা মজুরী পেয়ে থাকে। দৈনিক ৩/৪ টি গোগলা বুনতে পারে বলে তারা জানান। তাছাড়া উপজেলার গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসহায় নারী যারা হেগালা বুনে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। চরাঞ্চলে হোগলা বোনা হচ্ছে নারীদের প্রথম মাছ ধরার পর দ্বিতীয় পর্যায় কাজ। জানা গেছে, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায় বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক, আশা, গ্রামীন ব্যাংক, পিডিও, ভিডিও, গ্রানাউস হোগলা বোনার ওপর ক্ষুদ্র ঋন প্রদান করছে।

বিলবিলাস গ্রামের মনি মোহরের সাথে কথা হয়। ছোট সময় থেকে ব্যবসা করছেন। মনি মোহর দাদামোহ হোগলার ব্যবসা করতেন। তার বাবা মোনো মোহর হোগলার ব্যবসা করেছিল। পিতার থেকে শিখে আসা হোগলা ব্যবসা ধরে রাখতে মনি মোহর সংগ্রাম করে যাচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে ১৫-২০ হাজার টাকার হোগলা বিক্রি করেন। প্রতি মাসে ৭/৮ হাজার টাকা আয় করেন। ৪০ হাজার টাকা পূজি নিয়ে প্রথম ব্যবসা করেন তিনি। বর্তমানে লক্ষাধীক টাকার পূজি রয়েছে তার। ব্যক্তিগত জীবনে ২ ছেলে ২ মেয়ে তার। এলাকার অমল শিকদার, নিতাই ব্যাপারী, সতীষ মিস্ত্রী হোগালা ব্যবসা করেন।


চরাঞ্চলে হোগলা পাতার চাষ হয়। বিশেষ করে দশমিনা উপজেলার চর হাদি, চরশাহজাল, চরবোরহান চরবাসুদেবপাশা এবং চরআমরখালী এলাকায় হোগলা পাতার বেশি চাষ হয়েছে। ওই সব হোগলা পাতা বাউফল ও দশমিনা উপজেলার বড়ো বাজারে বিক্রি করা হয়। উপজেলার ছোট বড় খালের দু পাশে  হোগলা পাতার চাষ করে হচ্ছে। ২/৩ হাত ছোটার এক মুটি হোগলা পাতার মূল্য হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। একমুটি হোগলা পাতায় ৭ থেকে ৮ টি হোগলা তৈরি করা যায়। প্রতি একর জমি থেকে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার হোগলা পাতা উৎপাদন করা যায়। বছরে দু বার হোগলা পাতা কাটা হয়। হোগলা পাতার মাটির নিচের ঘিরা কাদা মাটিতে কুপিয়ে রাখলে হয়। হোগলা পাতার ঘিরা থেকে ১০/১২ ইঞ্চি রেখে কাটতে হয়। জোয়ার ভাটা নিচু জমিতে হোগলা পাতার চাষ বেশ লাভজনক।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/আইশি


আরও সংবাদ   বিষয়:  পটুয়াখালী   নারী   হোগলা   জীবিকা   নির্বাহ  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
আ'লীগ সরকারী দল, বিরোধী দল জাতীয় পার্টি
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up