ঢাকা, বাংলাদেশ || বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০ || ৩১ আষাঢ় ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ সিটি নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রস্তুত করার নির্দেশ ■ ফখরুলকে যে প্রশ্ন করলেন হানিফ ■ বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে হামলা ■ তওবা করে নতুন বছর শুরু করি ■ নববর্ষে দেশবাসীকে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা ■ অবৈধদের ফেরত না পাঠানোর লিখিত আশ্বাস চায় বাংলাদেশ ■ ২০১৯ সালে কর্মক্ষেত্রে নিহত ৯৪৫ জন শ্রমিক ■ হাইকোর্টে আইনজীবী হতে এবার এমসিকিউ পরীক্ষা ■ আন্তর্জাতিক কলরেট ৬৫ শতাংশ কমাতে যাচ্ছে বিটিআরসি ■ ভারতের নয়া সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানে ■ পররাষ্ট্র সচিব হলেন মাসুদ বিন মোমেন ■ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে ঢাকায় আসছেন ম্যারাডোনা
শিক্ষক, শিক্ষা ও বাংলাদেশ
রাশেদুজ্জমান রনি, জাককানইবি
Published : Wednesday, 7 August, 2019 at 6:02 PM, Update: 07.08.2019 9:48:24 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

শিক্ষক, শিক্ষা ও বাংলাদেশ

শিক্ষক, শিক্ষা ও বাংলাদেশ

গ্রীক দার্শনিক মহামতি সক্রেটিস কোন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা শেখাননি। তিনি নিজেও  কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেননি। তবুও তাকে শিক্ষাকদের শিক্ষক, দার্শনিকদের দার্শনিক হিসাবে অাখ্যায়িত করা হয়। সক্রেটিসকে তৎকালীন গ্রীক শাসকদের রোষানলে পড়ে জীবন দিতে হয়েছিলো তবে তাঁর জীবনদান পৃথিবীবাসীর জন্য আর্শিবাদ হিসাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। আজও সক্রেটিস বেঁচে আছেন কোটি কোটি মহান শিক্ষক ও সচেতন গ্রীকবাসীর হৃদয়ে।

গ্রীকবাসী মহামতি সক্রেটিসকে ভুলে যাননি তাঁর স্মৃতি ও আদর্শ রক্ষার্থে গড়ে তুলেছেন বড় বড় লাইব্রেরী, গবেষণাগার, স্মৃতিস্তম্ভ ও বিভিন্ন স্থাপনা। দার্শনিক সক্রেটিসের প্রিয় ছাত্র ছিলেন প্লেটো, তিনি প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য রচনা করে গেছেন বিখ্যাত গ্রন্থ 'অ্যাপোলজি' যে গ্রন্থটি পড়লেই গ্রীকের তৎকালীন সমাজ, সভ্যতা, রাজনীতি ও সক্রেটিসের মৃত্যুদন্ডের কারণ জানা যায়। প্লেটোর ছাত্রের নাম এ্যারিস্টটল যাকে  প্রাণীবিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। পশ্চিমা বিশ্বে এখনও সক্রেটিসের ' নিজেকে জানো’ দর্শন প্রচার হয়, প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের পদ্ধতি প্রয়োগ হয় আর এ্যারিস্টটলের সরকার ব্যবস্থা প্রয়োগে ব্যাপক গুরুত্ব দেয়া হয়, অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় আড়াই  হাজার বছরের পুরানো প্রথা-পদ্ধতিকে এখনও গ্রীকবাসী তথা পশ্চিমাবিশ্ব অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং তা প্রয়োগের যথার্থ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

পশ্চিমাবিশ্বে শিক্ষকদেরকেই মনে করা হয় জাতি গঠনের মূল কারিগড়। শিক্ষকদেরকে উন্নত বিশ্ব যতটা পারে সকল প্রকার ঝামেলা থেকে মুক্ত রেখে বড় বড় গবেষণা প্রকল্প ও পরিকল্পনার কাজে মনোনিবেশ করানোর চেষ্টা করে। বাংলাদেশে শিক্ষকদের কে কত টুকু গুরুত্ব দেন, মূল্যায়ন করেন সেটার চেয়ে বড় কথা হলো শিক্ষকরা সঠিক মূল্যায়ন কতটুকু প্রত্যাশা করেন? এক্ষেত্রে প্রায় সকল শিক্ষকবৃন্দই বলবেন, সবার উচিৎ জাতির শিক্ষাগুরুদের যথার্থ মূল্যায়ন করা এবং সুযোগ সুবিধা অন্যান্য দেশের মতো বাড়িয়ে দেয়া। সবার সাথে এ কথায় আমিও শতভাগ একমত।

তবে, এখানে শিক্ষক বলতে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বুঝানো হয়েছে। গ্রাম কিংবা শহরের যে শিক্ষকেরা সময় মতো ক্লাস নেন না, ক্লাসে ছাত্রদের পড়া বুঝিয়ে দেন না, কানোমতো দ্বিতীয় শ্রেণী নিয়ে কলেজের শিক্ষক হয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও গবেষণা করেন না, গবেষণাকে ভয় পান, অপরাজনীতি করে সময় পার করে দেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও অশোভন আচরণ করেন, অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেন, সহকর্মীকে  বিনাশ করার হুমকী দেন, কলেজের শিক্ষক হয়ে ম্যানেজিং কমিটিকে ম্যানেজ করে মাসে একদিন কলেজে আসেন, ক্লাসে প্রেমের কবিতা বলে কাটিয়ে দেন, স্কুলের শিক্ষক হয়ে প্রাইভেট না পড়লে খাতায় নাম্বর কম দেন, ছাত্রীদের দিকে ভিন্ন নজরে দৃষ্টি দেন, প্রাইভেট পড়ানোর নামে একসাথে একশত জনের ক্লাস নেন, এই জাতি এই সমাজ তাদের কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?? প্রশ্ন হলো সক্রেটিস আর এসব শিক্ষকদের মধ্যে পার্থক্য কাথোয়? পার্থক্য হচ্ছে সক্রেটিস নিজ জাতি, নিজের দেশের যুবকদের সুশিক্ষা দেবার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে জীবন দিয়েছেন, আর আমাদের দেশের এই সব শিক্ষকেরা নিজ দেশ, নিজ জাতিকে ধ্বংস করছেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশের হাজার হাজার মেধাবী, দায়িত্ববান ও যত্নশীল শিক্ষক রয়েছেন যাদের মূলমন্ত্র জাতির সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রয়েছেন যারা গবেষণা, ক্লাসে পড়া শিল্প-সাহিত্যে নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। জাতির সন্তানদের সু-উপদেশ, গবেষণায়  ভাল মানুষ হওয়ার জন্য নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যান কিন্তু দু:খের বিষয় হলো আমাদের সমাজ, দেশ ও জাতি তাদের প্রকৃত সম্মান দেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষক আছেন যারা অর্থের অভাবে ভালা মানের গবেষণা করতে পারেন না, অর্থের অভাবে তত্ত্ব দাঁড় করাতে পারেন না, ফান্ড ও লাকোবলের অভাবে নিজেদের মেধা থাকা সত্ত্বেও সেটা পরিস্ফুটন করতে পারেন না।

সরকার, দেশ ও জাতি যদি তাদের সঠিক মূল্যায়ন করেন,  কারা ভালা মানের গবেষণা করতে চান তাদের খুঁজে বের করে অর্থের যোগান দিতেন তাহলে আমাদের এই সানোর বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যেত। তাহলে  এদেশের বাড়ীতে বাড়ীতে জন্ম হতো সক্রেটিস আর প্লেটাদের।

সংসারের অভাব নিয়ে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন বা নিউটনকে ভাবতে হয়নি কিন্তু বাংলাদেশের শত শত প্রাইমারী বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, স্কুল কলেজের শিক্ষকদের সীমিত বেতনের জন্য পরিবার, সংসার নিয়ে দু:চিন্তা করতে হয় যে কারণে তাদের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তারা ক্লাসে শিক্ষার্থীদের ভালো  মতো যত্ন নিয়ে পড়াতে পাড়েন না। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকলে যদি শিক্ষকদের সমস্যার সমাধান করতেন তাহলে জাতি উপকৃত হতো। কল্যান হতো বাংলা মায়ের।

মো: রিয়াজুল ইসলাম
প্রভাষক
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এনকে


আরও সংবাদ   বিষয়:  শিক্ষক   শিক্ষা   বাংলাদেশ  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
ফাতেমা হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up