ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ২৫ মে ২০২০ || ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ সিটি নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রস্তুত করার নির্দেশ ■ ফখরুলকে যে প্রশ্ন করলেন হানিফ ■ বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে হামলা ■ তওবা করে নতুন বছর শুরু করি ■ নববর্ষে দেশবাসীকে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা ■ অবৈধদের ফেরত না পাঠানোর লিখিত আশ্বাস চায় বাংলাদেশ ■ ২০১৯ সালে কর্মক্ষেত্রে নিহত ৯৪৫ জন শ্রমিক ■ হাইকোর্টে আইনজীবী হতে এবার এমসিকিউ পরীক্ষা ■ আন্তর্জাতিক কলরেট ৬৫ শতাংশ কমাতে যাচ্ছে বিটিআরসি ■ ভারতের নয়া সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানে ■ পররাষ্ট্র সচিব হলেন মাসুদ বিন মোমেন ■ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে ঢাকায় আসছেন ম্যারাডোনা
দুর্নীতিবিরোধী অভিযান ও জব্দকৃত অর্থের পরিণতি
প্রফেসর ড. সৈয়দ মোঃ এহসানুর রহমান ও প্রফেসর মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন
Published : Friday, 27 September, 2019 at 12:24 PM, Update: 27.09.2019 12:26:18 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

প্রফেসর ড. সৈয়দ মোঃ এহসানুর রহমান ও প্রফেসর মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন

প্রফেসর ড. সৈয়দ মোঃ এহসানুর রহমান ও প্রফেসর মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন

সাম্প্রতিক সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত দুর্নীতি বিরোধী অভিযান চলমান আছে যা সর্বক্ষেত্রেই প্রশংসিত হয়েছে এবং সাধারণ জনগণ এখন অনেকটাই স্বস্তিবোধ করছে। দুর্নীতি শব্দটির ভেতর নিহিত আছে অনেকগুলো বিষয়ঃ ঘুষ, চাঁদা, টেন্ডার, মাদক, নারী, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, দখল, ঋণখেলাপি, অনিয়ম, জঙ্গী, মানি লন্ডারিং সহ আরও অনেক কিছু। আজকে দুর্নীতির যে চিত্রটি আমরা দেখতে পাচ্ছি তা নতুন কিছু নয়।

ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকেই এ দেশে দুর্নীতির বীজ বপিত আছে, যা এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে। স্বাধীনতা উত্তর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যা সশস্ত্র বাহিনীর একটি অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্য (১১ ই জানুয়ারি, ১৯৭৫) থেকে আমরা শুনতে পাই। কিন্তু ঐ একই বছরের ১৫ আগস্ট দুর্নীতিবাজ ও দেশদ্রোহীদের হাতেই সপরিবারে শহীদ হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু যদি বেঁচে থাকতেন তাহলে হয়তো অনেক আগেই এদেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল হতো। তাইতো দেশবাসী জননেত্রীর নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বিগ্ন; কেননা বিশ্বের কোন রাষ্ট্রনায়কের উপর ২১ বার হত্যা চেষ্টার জন্য হামলা হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই যা কিনা আমাদের দেশরত্ন শেখ হাসিনার উপর হয়েছে। চলমান এ অভিযানের ব্যাপ্তি ও প্রসার শুধু দলের ভেতর সীমাবদ্ধ না রেখে অন্যান্য খাত ও পর্যায়ে বিস্তৃত করতে পারলে দেশ থেকে দুর্নীতি পুরোপুরি নির্মূল না হলেও এর মাত্রা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা যায়।

শেখ হাসিনার দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান শক্ত অবস্থানকে নিন্দুকেরা/রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা যেভাবেই ব্যাখ্যা করুক না কেন সাধারণ জনগণ এটাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে এবং সেই সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অধিকতর নিরাপত্তা দাবি করছে। একইসাথে দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে জব্দকৃত অর্থের পরিণতি কি হবে এটা নিয়ে সাধারণের মধ্যে নানাবিধ আলোচনা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে আমাদের কিছু পর্যবেক্ষণ ও মতামত পেশ করতে চাই। অতি সম্প্রতি কিছু বিষয় আমাদের হৃদয়কে স্পর্শ করেছে:

০১. রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার চকসিংগা গ্রামের হতদরিদ্র ভ্যান চালক একরাম হোসেনের ছেলে জাহিদ হাসান ব্রেইন টিউমারে ভুগছে ও বর্তমানে নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল, আগারগাঁও- এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। ডাক্তারের ভাষ্যমতে মাত্র ২.৫ লাখ টাকা হলেই শিশুটির অপারেশন ও চিকিৎসা ব্যয় মিটিয়ে সুস্থ করা সম্ভব (যুগান্তর, ২২ সেপ্টেম্বর)।

০২. রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ৫ বছরের শিশু আল মাহমুদ মুন হার্টে ছিদ্র নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। ভারতে নিয়ে সুচিকিৎসার মাধম্যে তাকে সুস্থ করতে প্রয়োজন মাত্র ৫ লাখ টাকা যা তার হতদরিদ্র পরিবার বহন করতে পারছে না বলে বুকের ব্যথায় ছটফট করে দিন যাপন করছে শিশুটি (বরেন্দ্র এক্সপ্রেস, ১৯ সেপ্টেম্বর)।

০৩. চাঁপাই নবাবগঞ্জের নাচোলে তাসফিয়া জাহান মুনিরা বিরল এক রোগের কারণে ক্রমশই রোমশ হয়ে ওঠছে ও তীব্র শারীরিক যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে (বিবিসি নিউজ বাংলা, ১৭ সেপ্টেম্বর)।

এই শিশুরা কি পারে না রাষ্ট্রের সহযোগিতায় সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে?? বর্তমানে বাংলাদেশে নানা কারণেই মানুষের মাঝে পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থার সংকট তৈরী হয়েছে, তাই মানুষ বিপদগ্রস্থ হলেও আর্থিক সাহায্যের যোগান দেওয়া কষ্টসাধ্য। তাই বিত্তশালী ও হৃদয়বান মানুষ সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও একসাথে অনেক অর্থ দান করতে এগিয়ে আসেন না। অন্যদিকে গরীব সাহায্য প্রার্থীরা রোগীকে নিয়ে ব্যস্ত থাকার পাশাপাশি দুর্বল সামাজিক অবস্থানের কারণে অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি সমন্বয় করতে পারে না। এছাড়াও সাহায্য প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে অর্থ সংগ্রহের কাজটি কেউ করতে গেলে তাকেও অনেকভাবে বিব্রত হতে হয়।

প্রসঙ্গতই আমাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা যে, দুর্নীতি বিরোধী অভিযান হতে জব্দকৃত সম্পদ, খেলাপি ঋণ বা বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ যদি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসে গরীব, দুঃখী ও আর্ত-মানবতার সেবায় কাজে লাগানো যায় তাহলে হয়ত অনেকগুলি জীবনই বেঁচে যেত নিশ্চিত অকালমৃত্যুর হাত থেকে। এছাড়াও জব্দকৃত অর্থ-সম্পদ হতদরিদ্র ও ভ’মিহীনদের পূর্নবাসন, বেকারদের কর্মসংস্থানসহ নানা ধরণের কল্যাণমুখী কাজে বিনিয়োগ করা যেতে পারে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে বঙ্গবন্ধু কন্যা বিজয়ী হবেন - জনগণ পাবে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ এবং শেখ হাসিনা পাবেন অমরত্ম; বেঁচে থাকবেন বাঙালীর হৃদয়ে যুগ থেকে যুগান্তর।

লেখক :
প্রফেসর ড. সৈয়দ মোঃ এহসানুর রহমান

প্রফেসর মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন
নীল দল, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়


দেশসংবাদ/এফএইচ/বি


আরও সংবাদ   বিষয়:  প্রফেসর ড. সৈয়দ মোঃ এহসানুর রহমান ও প্রফেসর মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজে সক্রিয় পুলিশ
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up