ঢাকা, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২০ || ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ সিটি নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রস্তুত করার নির্দেশ ■ ফখরুলকে যে প্রশ্ন করলেন হানিফ ■ বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে হামলা ■ তওবা করে নতুন বছর শুরু করি ■ নববর্ষে দেশবাসীকে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা ■ অবৈধদের ফেরত না পাঠানোর লিখিত আশ্বাস চায় বাংলাদেশ ■ ২০১৯ সালে কর্মক্ষেত্রে নিহত ৯৪৫ জন শ্রমিক ■ হাইকোর্টে আইনজীবী হতে এবার এমসিকিউ পরীক্ষা ■ আন্তর্জাতিক কলরেট ৬৫ শতাংশ কমাতে যাচ্ছে বিটিআরসি ■ ভারতের নয়া সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানে ■ পররাষ্ট্র সচিব হলেন মাসুদ বিন মোমেন ■ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে ঢাকায় আসছেন ম্যারাডোনা
মারতে মারতে ঘেমে যায় অনিক, পা ধরে অনুনয় করেছিলো আবরার
দেশসংবাদ ডেস্ক
Published : Saturday, 12 October, 2019 at 7:29 PM, Update: 14.10.2019 10:39:56 AM
Zoom In Zoom Out Original Text

মারতে মারতে ঘেমে যায় অনিক, পা ধরে অনুনয় করেছিলো আবরার

মারতে মারতে ঘেমে যায় অনিক, পা ধরে অনুনয় করেছিলো আবরার

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর ছাত্র আবরার ফাহাদের উপর যে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে তার বর্ণনা উঠেছে এসেছে আসামিদের জবানবন্দীতে।

গ্রেফতারের পর এই হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সমাজ সেবা বিষয়ক উপসম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল ও বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন।

শুক্রবার ঢাকা মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরাফুজ্জামান আনছারীর আদালতে জবানবন্দি দেয় জিয়ন। তার আগে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার ইয়াসির আহসান চৌধুরীর আদালতে জবানবন্দি দেয় ছাত্রলীগ নেতা ইফতি মোশাররফ সকাল।

আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বর্ণনা দিয়েছে ইফতি ও জিয়ন। ইফতির কক্ষেই সেসহ অন্যরা ৬ই অক্টোবর রাতে পিটিয়ে হত্যা করে ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে।

আদালতে দেয়া জবানবন্দি ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাত আটটার দিকে আবরারকে ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় তার ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই রুমে যাওয়া মাত্রই আবরারকে অকথ্য ভাষায় গালি দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আবরার তখন মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিলো। ছাত্রলীগ নেতাদের ধারণা ছিলো আবরার শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ চেক করা হয়। এতে শিবির সংশ্লিষ্ট কিছু না পেলেও আবরারের কাছে বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল জানতে চায়, ক্যাম্পাসে কারা, কারা শিবির করে? এসময় আবরারকে কয়েকটি চড় মারে মেহেদি। সেইসঙ্গে ওই রুমে থাকা ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতাদের নির্দেশ দেয় আবরারকে পিটিয়ে তথ্য জানতে হবে। ওই নির্দেশ দিয়ে মেহেদি রুম থেকে বের হয়। এসময় তার সঙ্গে ছিলো বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন।

ওই নির্দেশের পরেই শুরু হয় বেদম মার। প্রথমে চড় ও লাথি। একপর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতা সামসুল আরেফিন রাফাত স্ট্যাম্প এনে দেয় ইফতির হাতে। স্ট্যাম্প হাতে নিয়ে আবরারের কাছে ইফতি জানতে চান, ক্যাম্পাসে শিবির করে কারা, কারা? আবরার জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। তারপর দু’হাত টান টান করে স্ট্যাম্প দিয়ে আঘাত করেন আবরারকে। আবরার ‘মাগো মাগো’ বলে চিৎকার করেন। এভাবে কয়েকবার মারার পর স্ট্যাম্পটি ভেঙ্গে যায়।

পরে অন্য স্ট্যাম্প দিয়ে আবরারকে পিটাতে থাকে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অনিক সরকার। ইফতির বর্ণনা অনুসারে আবরারের হাঁটু, পা, পায়ের তালু ও বাহুতে আঘাত করছিলো অনিক সরকার। পায়ের তালুতে আঘাত করলে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করে আবরার। এসময় অংশ নেয় ছাত্রলীগের আরেক নেতা মেফতাহুল। একই কায়দায় সেও পেটায় আবরারকে। এভাবে মার চলছিলো রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। এরমধ্যেই রাতের খাবার খেতে ক্যান্টিনে যায় ইফতি। খাবার খেয়ে ফিরে এসে দেখতে পায় আবরার মেঝেতে পড়ে আছে। এসময় ধমক দিয়ে তাকে উঠে দাঁড় করিয়ে পিটাতে থাকে ইফতি। মোটা দড়ি দিয়ে আবরারকে এই দফায় পিটাতে থাকে মুজাহিদুর রহমান। তারপর আবার ইফতি। তারপর তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর, রবিন।

প্রায় একটানা এক ঘন্টা পিটিয়েছে বুয়েট ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার। রাত ১১টার দিকে আবার ওই কক্ষে যায় অনিক। এসময় অনিক স্টাম্প দিয়ে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে এলোপাতাড়ি শতাধিক আঘাত করে আবরারকে। আবরার তখন পা ধরেছিলো বারবার। মারবেন না, মারবেন না বলে অনুনয় করেছিলো। অনিক খুবই অনিয়ন্ত্রিতভাবে আবরারকে মারতে থাকে। রাত ১২টা পর্যন্ত আবরারকে মারতে থাকে সে। মারতে মারতে ঘেমে যায়। আবরারের কথা তখন অস্পষ্ট। কথা বলার শক্তি নেই প্রায়। অনিক তখন বের হয়ে যায়।

জবানবন্দিতে ইফতি জানিয়েছে, তখন আবরার অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘন ঘন নিশ্বাস নিচ্ছিলো। ওই সময়ে আবরার বমি করেন। পরপর দু’বার বমি করেন। ভয় পেয়ে যায় ইফতি। ফোনে এ বিষয়ে কথা বলে অনিকের সঙ্গে। অনিক পরামর্শ দেয় আবরারের শরীরে মলম লাগিয়ে দিতে। পরে ২০০৫ নম্বর কক্ষে বিছানায় রাখা হয় আবরারকে। এসময় ম্যাসেজ পাঠায় বুয়েট ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা। অমিত সাহা সবকিছু জানার পরে নির্দেশ দেন তাকে আরও মারতে হবে। মেরে তথ্য বের করতে হবে। কিছুক্ষণ পর বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী ও অনিক ২০০৫ নম্বর কক্ষে যায়। মেহেদি তখন বলে, ‘কিচ্ছু হয়নি। ও নাটক করতেছে’।

ওই সময়ে আবার বমি করেন আবরার। মেহেদী তখন আবরারকে পুলিশের হাতে দেয়ার জন্য নিচে নামাতে বলে। তোশকসহ আবরারকে দোতলা ও নিচতলার সিঁড়িতে নামিয়ে রাখা হয়। ওই সময়ে আবরার অস্পষ্টভাবে কয়েকবার তাদের বলেছিলো, ভাইগো, ভাই শরীরটা খুব খারাপ লাগছে।

সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেল তখন নিচে নেমে হলের প্রধান ফটকে পুলিশের সঙ্গে কথা বলে। তখন মুনতাসির জানায়, আবরারের হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। ইসমাইল ও মনির তখন অ্যাম্বুলেন্সে ফোন দেয়। অ্যাম্বুলেন্স আসতে দেরি হওয়ায় তামিম বাইক নিয়ে বুয়েট মেডিকেলের চিকিৎসক নিয়ে আসে। চিকিৎসক আসার পরপরই অ্যাম্বুলেন্স আসে। সিঁড়িতে আবরারকে দেখে চিকিৎসক জানান, আবরার মারা গেছে। আবরার মারা গেছে জানার পর  হলের কক্ষে শুয়ে থাকে ইফতি।

মেসেঞ্জারে কথোপকথন
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে মারধর করে হল থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছিল ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। আবরার হত্যায় গ্রেফতার বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের  ফেসবুক মেসেঞ্জারে গোপন কথোপকথনে বিষয়টি ফাঁস হয়েছে। ছাত্রলীগের এই নেতারা মেসেঞ্জারে গ্রুপ খুলে নিজেদের মধ্যে আগে থেকেই কথা বলতেন।

গত শনিবার দুপুর ১২টা ৪৭ মিনিটে বুয়েট ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে রবীন গ্রুপে লেখেন, আবরারকে মেরে বের করে দিতে হবে। সে শিবির করে। মনিরুজ্জামান নামে একজন মেহেদীর কথায় সাড়া  দেয়। পরে মেহেদী মনিরুজ্জামানকে বলে, আবরারের রুমমেট মিজানের সঙ্গে পরামর্শ করার জন্য। এ জন্য  মেহেদী তাকে দুই দিন সময় দেওয়ার কথা বলে। পরে রবিবার রাতে আবরারকে ধরে আনা হয়।

রাত দেড়টার দিকেও মেসেঞ্জার গ্রুপে আবরারকে ধরে আনার বিষয়ে  আলোচনা হয়। কেউ একজন আবরারকে ধরে আনার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে। তখন বুয়েট ছাত্রলীগের উপ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক ইফতি মোশাররফ (গ্রেফতারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে) বলে, আবরার মরে যাচ্ছে। মাইর বেশি হয়ে  গেছে। এরপরই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান মেধাবী আবরার।

দেশসংবাদ/এনকে


আরও সংবাদ   বিষয়:  অনিক   আবরার   আসামিদের জবানবন্দী  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up