ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০ || ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ সিটি নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রস্তুত করার নির্দেশ ■ ফখরুলকে যে প্রশ্ন করলেন হানিফ ■ বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে হামলা ■ তওবা করে নতুন বছর শুরু করি ■ নববর্ষে দেশবাসীকে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা ■ অবৈধদের ফেরত না পাঠানোর লিখিত আশ্বাস চায় বাংলাদেশ ■ ২০১৯ সালে কর্মক্ষেত্রে নিহত ৯৪৫ জন শ্রমিক ■ হাইকোর্টে আইনজীবী হতে এবার এমসিকিউ পরীক্ষা ■ আন্তর্জাতিক কলরেট ৬৫ শতাংশ কমাতে যাচ্ছে বিটিআরসি ■ ভারতের নয়া সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানে ■ পররাষ্ট্র সচিব হলেন মাসুদ বিন মোমেন ■ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে ঢাকায় আসছেন ম্যারাডোনা
পেঁয়াজ সিন্ডিকেট আসলে কি চায় অন্য কোন প্ল্যান নেই তো?
অ আ আবীর আকাশ
Published : Monday, 18 November, 2019 at 6:05 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

অ আ আবীর আকাশ

অ আ আবীর আকাশ

পেঁয়াজকে কেন্দ্র করে সরকারের ভাবমূর্তি ব্যাখ্যাতীত প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পথে। সত্যিকার অর্থে একটা সিন্ডিকেট পেঁয়াজকে কেন্দ্র করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণাধীন গুদামে আড়তে এমনকি রড-সিমেন্টের দোকানে লুকিয়ে রাখা হয়েছে শত শত টন পেঁয়াজ যা কিনা সংকট দেখিয়ে বাজারমূল্য চড়া করে তুলবে, হাহাকার সৃষ্টি করবে, দেশে-বিদেশে পেঁয়াজকে ইস্যু করে সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য একটা সিন্ডিকেট অসৎ সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।

তবে এ সিদ্ধান্তকে ভেতরে ভেতরে সরকারদলীয় কিছু অসৎ লোক সমর্থন দিয়ে মাসোহারা গ্রহণ করছে ক্যাসিনো ব্যবসার মতো। এমনটাই ধারণা করেন জনসাধারণ। যখন পেঁয়াজের দাম ছিল ৪৫ টাকা তখনই দৈনিক ৫০ কোটি টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে পেঁয়াজের সিন্ডিকেট। এখন তো পেঁয়াজের দাম ৫ গুন ৬ গুণ বেশি। তাহলে বোঝা যাচ্ছে দৈনিক এ সিন্ডিকেট কত টাকা করে হাতাচ্ছে! দেড়শ থেকে দুইশ কোটি টাকা করে হাতাচ্ছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ক্যাসিনো ব্যবসা এত বিশাল ডালপালা ছড়িয়ে বিদেশেও দেশের বস্তা বস্তা টাকা চলে যাচ্ছিল নীরবে-নিভৃতে। কেউ কোনদিন অণু পরিমাণ টের পায়নি। প্রধানমন্ত্রীর দূরদৃষ্টিসম্পন্নতার কারণে যখন তা সামনে আসে তখন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন থাকা নেতারাও এর সাথে জড়িত থাকার খবরটিও সামনে চলে আসে।  পেঁয়াজ সিন্ডিকেটেও তেমনটি মনে হচ্ছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদ দখলে রাখা ব্যক্তিদের যোগসাজশ না থাকলে পেঁয়াজের লাগাম ছিঁড়া যাচ্ছে না কেনো? নইলে দেশে প্রথম পেঁয়াজের দাম ৩০০ টাকার ঘরে পৌঁছলো।

সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী যেভাবে পেঁয়াজ নিয়ে সংলাপ আওড়ান তাতে আমজনতারা মনে করে মন্ত্রী নিজেই পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের সাথে সরাসরি যুক্ত। নইলে পেঁয়াজের বাজার লাগামহীন। পেঁয়াজের কেজি ১২ টাকার স্থলে তা বেড়ে হলো ২৬০ টাকা। তাহলে জনগণ এমন বিশ্বাস করা মোটেও ভুল নয়। কারণ বারবার জনগণ দেখে আসছিে পেঁয়াজের বাজারই নয়, রেল দুর্ঘটনায় বিটিভি ও তৎসংশ্লিষ্টরা আওড়াচ্ছে চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে কিন্তু বেসরকারি গণমাধ্যমে ১৭ জনের মৃত্যুর সংবাদ প্রচার করছে। তাহলে জনগণ আস্থা হারিয়ে ফেলছে এ সমস্ত মিথ্যা বানোয়াট কথাবার্তার কারণে।

পেঁয়াজের বাণিজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রাখতে একটা সিন্ডিকেট তো অবশ্যই কাজ করছে। তা অবশ্যই বাণিজ্যমন্ত্রীসহ সরকারের অসৎ লোকদের ছত্রছায়ায়। নইলে ভারত বন্ধ করে দেয়ার পরও গত দুই মাসে বিকল্প উৎস থেকে সোয়া দুই লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে গত শনিবারও তিন জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভীড়েছে পেঁয়াজ নিয়ে। মিশর থেকে আসা তিনটি জাহাজের মধ্যে মেরিন বে-তে তেরোটি কন্টেইনারে আসছে ৩৭৯ টন পেঁয়াজ। মাক্স ব্লাডি ভস্টক জাহাজে ৫৮ টন ও বিএল গ্রেস জাহাজে আছে ৭৯ টন পেঁয়াজ। আর এ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মোট সাড়ে সাত হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করা হলো। তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে পাওয়া।

প্রশ্ন হল এত বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ দেশে আসার পরও কেন দাম না কমে দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে! পেঁয়াজ সিন্ডিকেট ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে যে তারা চুয়াডাঙ্গায় দুই ম্যাজিস্ট্রেটকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় পেঁয়াজ মজুদের গোডাউনের খবর পেয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রাক্কালে ব্যবসায়ীরা অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় এক সাংবাদিক দুই পুলিশ সদস্যকে মারধর করে তারা।

অবরুদ্ধ অবস্থায় ম্যাজিস্ট্রেটের গায়ে হাত তোলেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে খবর এসেছে। জানা গেছে শনিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৯ দুপুরে চুয়াডাঙ্গার কাঁচাবাজারে (নিচের বাজার) জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমজাদ হোসেন আদালত পরিচালনা করেন। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা ও অপর আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এনডিসি শিব্বির আহমদ বলেন -'জরিমানার টাকা আদায় করা হলে ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে অপ্রীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেন ও অভিযানে থাকা সাংবাদিক ও দুই পুলিশকে লাঞ্ছিত করেন তারা।'

এদিকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী, চাক্তাই নদী ও খাতুনগঞ্জের ডাস্টবিনে বিভিন্ন আড়তে মজুদ রাখা পেঁয়াজ পঁচে যাওয়ায় বিভিন্ন ডাস্টবিনে ফেলা হচ্ছে। এ সব টনে টনে পঁচা পেঁয়াজ নির্ভয়ে ফেলছে ব্যবসায়ীরা। তারা এসব বাজারজাত না করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে মজুদ করেছে অধিক দর সৃষ্টি করার জন্য। এখন দ্রুত পঁচে যাওয়ায় এইসব পঁচা পেঁয়াজ রাতের অন্ধকারে ডাস্টবিনে বা নদীতে ফেলা হচ্ছে।

পেঁয়াজ যখন ডাস্টবিনে ফেলা হচ্ছে, নদীতে ফেলা হচ্ছে তখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন কোথায় ছিল? কবে কখন ফেলা হচ্ছে তা প্রশাসনের লোকজন টের পেল না কেন? কোন আড়তে, কোন গুদামে কত টন পেঁয়াজ রক্ষিত আছে তার হিসেব কি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে থাকা তথ্যদাতাদের হাতে ছিলো ? তারা পেঁয়াজের অস্থির বাজার নিয়ে কি দায়িত্ব পালন করছে? তারা কি আদৌ সিন্ডিকেটের সিন্ডি ভাঙতে কোন ধরনের মুখ্য ভূমিকা পালন করছে?

এসব প্রশ্নের উত্তর কে দিবে? আমরা মনে করি পেঁয়াজের বাজারে এরকম একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করার পেছনে ক্যাসিনো কাণ্ডের মতো সরকারের খুব কাছের লোকদের ইন্ধন রয়েছে। তাদের পকেটে পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের টাকা ঢুকে। সিন্ডিকেট দৈনিক প্রায় দুশো কোটি টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে।

আমরা এমন এক দেশে বাস করি যেখানে ক্ষুদ্র মশার কাছে মানুষ হেরে যায়, অকালে মৃত্যুকে গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। চালকের ঘুমের কাছে রেল যাত্রীরা মৃত্যু উপহার নিয়ে ছুটে, পেঁয়াজের ঝাঁজে চোখ দিয়ে পানি ঝরে, বিদেশ থেকে নারী শ্রমিকের লাশ আসতে মন্ত্রী বলেন ৫৩ জনের নারী শ্রমিকের লাশ তো খুবই নগণ্য!

হায় কপাল! হায় জাতি! হায় সময়! হায় হায় জীবন! এখন কচু পাতায় জমা পানির মত জন্ম-মৃত্যুর কোন হিসেব নেই, ভেদাভেদ নেই, দাম নেই, মূল্য নেই, আমজনতার কোন চাওয়া নেই, পাওয়া নেই, ভোগ নেই বিলাস নেই।

প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বারবার বলছেন- সিন্ডিকেটকে খুঁজে বের করবেন, পেঁয়াজের দাম নাগালের ভিতরে নিয়ে আসবেন, তবুও পেঁয়াজের এতো ঝাঁজ এতো  পাওয়ার, যা-নিয়ন্ত্রণে মোটেও আসেনি। এর থেকে আমরা কি শিক্ষা পেতে পারি?

যেখানে প্রধানমন্ত্রীর কথা পর্যন্ত পৌঁছে না সেখানে পেঁয়াজ সিন্ডিকেট কত ভয়ানক, কত শক্তিশালী, পেঁয়াজ পঁচে যাবে, নদীতে ফেলে দেবে, তবু মানুষকে খাওয়াবে না।  দাম ছাড়বে না, বাজারে দেবে না, এতে কি বুঝা যাচ্ছে!

তবে কি দেশের ভেতরে একটা সিন্ডিকেট তৈরি হচ্ছে শেখ হাসিনাকে বেকাদায় ফেলার জন্য? সরকার কি শক্ত হাতে বাজার নিয়ন্ত্রণে এনে সকল সিন্ডিকেট ভেঙ্গে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে না?

আর কিছু না বলে একটাই বলতে চাই, পেঁয়াজ কেনা বন্ধ করি মাত্র একমাস, দেখবো পেঁয়াজ সিন্ডিকেট আপনা-আপনিই ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। চাক্তাই নদী কর্ণফুলী নদী কিবা ডাস্টবিনে ফেলে দেয়ার মত পেঁয়াজ সব পঁচে গেছে। আর এ দম্ভ আমরাই সৃষ্টি করতে পারি না পেঁয়াজ না কেনার মাধ্যমে।

লেখক : কবি প্রাবন্ধিক কলামিস্ট মানবাধিকার ও উন্নয়ন কর্মী।
সম্পাদক : আবীর আকাশ জার্নাল।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এনকে


আরও সংবাদ   বিষয়:  পেঁয়াজ   কেন্দ্র   সরকারের ভাবমূর্তি   ব্যাখ্যাতীত   প্রশ্নবিদ্ধ   পথ  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
ফাতেমা হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up