ঢাকা, বাংলাদেশ || বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০ || ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ সিটি নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রস্তুত করার নির্দেশ ■ ফখরুলকে যে প্রশ্ন করলেন হানিফ ■ বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে হামলা ■ তওবা করে নতুন বছর শুরু করি ■ নববর্ষে দেশবাসীকে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা ■ অবৈধদের ফেরত না পাঠানোর লিখিত আশ্বাস চায় বাংলাদেশ ■ ২০১৯ সালে কর্মক্ষেত্রে নিহত ৯৪৫ জন শ্রমিক ■ হাইকোর্টে আইনজীবী হতে এবার এমসিকিউ পরীক্ষা ■ আন্তর্জাতিক কলরেট ৬৫ শতাংশ কমাতে যাচ্ছে বিটিআরসি ■ ভারতের নয়া সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানে ■ পররাষ্ট্র সচিব হলেন মাসুদ বিন মোমেন ■ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে ঢাকায় আসছেন ম্যারাডোনা
মুক্তিযুদ্ধের কথা মনে হলে চোখ দিয়ে নোনা পানি ঝরে
ইসমাইল হোসেন বাবু, কুষ্টিয়া
Published : Sunday, 8 December, 2019 at 12:31 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

মুক্তিযোদ্ধা আফসার আলী

মুক্তিযোদ্ধা আফসার আলী

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সহযোদ্ধার মৃত্যু আজও তাড়া করে বেড়ায় কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সদরপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আফসার আলীকে। অনেক স্মৃতি ভুলে গেলেও সহযোদ্ধার শহীদ হওয়ার এই দৃশ্যটি আজও চোখ বন্ধু করলেই না-কি দেখতে পান তিনি।

মুক্তিযোদ্ধা আফসার আলী বলেন, আমি তখন দশম শ্রেণির ছাত্র। মারফত ভাই ছিল কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক। তার হাত ধরেই ছাত্রলীগ করতাম। ছাত্রলীগের ডাকে বিভিন্ন সময় সংগ্রাম, আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। মিছিল-মিটিংয়ে যেতাম মারফত ভাইয়ের সঙ্গে। ৭০ এর নির্বাচনের পর পাকিস্তান সরকার ক্ষমতা না ছাড়ার কারণে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছিলাম।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ যখন বঙ্গবন্ধু ভাষণ দিয়েছিলেন, তখন মারফত ভাইয়ের কথা মতো আমরা প্রায় মরিয়া হয়ে গিয়েছিলাম যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য। তখন আমরা ভারতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। আমি চার ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। বাড়িতে তখন মাকে বলেছিলাম ভারতে যাব। দেশের মানুষের জন্য যুদ্ধে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। তারপর পরিবারের লোকজনও আমাকে উৎসাহ দিলে আমি ভারতে যাই।

আমি যুদ্ধে গেছি, তা জানতে পেরে যায় রাজাকার ও পাকসেনারা। তারা তাদের ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যায়। অনেক অত্যাচার করে। আমার আব্বাকে অনেক টর্চার করেও যখন আমার খোঁজ পায়নি, তখন আমার আব্বাকে ছেড়ে দেয়।

আফসার আলী আরো বলেন, আমি ভারতে চলে গেছি। প্রথমে অভ্যর্থনা ক্যাম্পে গিয়ে যুদ্ধের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নিলাম। তারপর সেখানে প্রশিক্ষণ শেষে উচ্চ প্রশিক্ষণের জন্য বিহারে চলে যাই। বিহারের চাকুলিয়া থেকে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র চালানো এবং গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়েছি।

আমি ৩৬ গ্রেনেড, ৭৬ গ্রেনেড, এসএলআর, এসএমজি, এসএমসি, থ্রি নাট থ্রি, থ্রি নাট ফোর চালানোর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। এরপর আমরা ১৪ থেকে ১৫ জনের একটা গ্রুপ করে দেশে চলে আসি। তখন আমার কাছে ছিল একটা এসএমসি।

এরপর মারফত ভাইয়ের নেতৃত্বে আমরা বিভিন্নস্থানে গেরিলা যুদ্ধে অংশ নিই। আমার কাছে সবচেয়ে বড় যুদ্ধ ছিল কাকিলাদহের যুদ্ধ। সেখানেই আমার সহযোদ্ধা, বন্ধু জহুরুলকে হারিয়েছিলাম। জোর করেও আটকাতে পারিনি তাকে। পরে তার কথা মতো তার লাশটা যুদ্ধ শেষে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিলাম।

মিরপুরের কাকিলাদহ ভয়াবহ যুদ্ধে আমাদের গ্রুপের কমান্ডার ছিল নওদা আজমপুরের আ.স.ম মুসা। তবে এই যুদ্ধের নায়ক ছিল মারফত ভাই।

যুদ্ধের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, একসঙ্গে বেশ কয়েকজন থাকতাম। কোথায় থাকতাম, কার বাড়ি থাকতাম, তার কোনো ঠিক থাকতো না।

 কাকিলাদহ সম্মুখ যুদ্ধ ছাড়াও মিরপুর উপজেলার নওদাপাড়া ব্রিজের কাছ থেকে বেশ কয়েটি রাজাকারকে ধরে নিয়ে এসেছিলাম। আমরা চারদিক থেকে ঘেরাও করি। তখন তারা আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

মুক্তিযুদ্ধের কথা মনে হলে আজও চোখ দিয়ে নোনা পানি ঝরে। তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কে বুকে ধারণ করে রেখেছি। টিনের ছোট্ট ঘরে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে ইতিহাস জানানোর জন্য একটা কক্ষ খুলে রেখেছেন তিনি। সেখানে প্রতিনিয়তই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, প্রতিবেশী, সুধীজন আসেন তার গৌরবময় ইতিহাস জানতে। নতুন প্রজন্মদের কে তিনি যুদ্ধের কথা ইনিয়ে-বিনিয়ে তুলে ধরেন। যা শুনতে দিন কেটে যায়।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এসকে


আরও সংবাদ   বিষয়:  মুক্তিযুদ্ধ   কুষ্টিয়া   মিরপুর   উপজেলা   সদরপুর   গ্রাম   




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
ফাতেমা হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up