ঢাকা, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০ || ৩১ আষাঢ় ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ সিটি নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রস্তুত করার নির্দেশ ■ ফখরুলকে যে প্রশ্ন করলেন হানিফ ■ বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে হামলা ■ তওবা করে নতুন বছর শুরু করি ■ নববর্ষে দেশবাসীকে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা ■ অবৈধদের ফেরত না পাঠানোর লিখিত আশ্বাস চায় বাংলাদেশ ■ ২০১৯ সালে কর্মক্ষেত্রে নিহত ৯৪৫ জন শ্রমিক ■ হাইকোর্টে আইনজীবী হতে এবার এমসিকিউ পরীক্ষা ■ আন্তর্জাতিক কলরেট ৬৫ শতাংশ কমাতে যাচ্ছে বিটিআরসি ■ ভারতের নয়া সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানে ■ পররাষ্ট্র সচিব হলেন মাসুদ বিন মোমেন ■ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে ঢাকায় আসছেন ম্যারাডোনা
অনুপস্থিত থেকেও বেতন নেন বায়তুল মোকাররমের খতিব
দেশসংবাদ ডেস্ক
Published : Thursday, 26 December, 2019 at 5:03 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

 বায়তুল মোকাররম

বায়তুল মোকাররম

দীর্ঘ প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে নিজ কর্মস্থলে অনুপস্থিত বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব অধ্যাপক মাওলানা মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। ভারপ্রাপ্ত খতিব দিয়ে চলছে বায়তুল মোকাররম। কিন্তু খতিব হিসেবে নিয়মিত বেতন-ভাতা নিচ্ছেন মাওলানা সালাহউদ্দিন।

সম্প্রতি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) ওপর পরিচালিত সিভিল অডিট অধিদফতরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে অনুমোদিতভাবে কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকায় বেতন-ভাতা পরিশোধের বিষয়ে আপত্তি উঠেছে।

খতিবের পারিবারের এক সদস্য জানিয়েছেন, মাওলানা সালাহউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগসহ বার্ধক্যজনিত কারণে শয্যাশায়ী। তিনি দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্মও করতে পারছেন না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে জানা গেছে, মাওলানা সালাহউদ্দিন ভারতে চিকিৎসার জন্য ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৪৫ দিনের ছুটি নেন। কিন্তু ছুটি শেষ হওয়ার পর তিনি আর কোনো খুতবা দেননি। কিন্তু নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন তিনি।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা যায়, সাড়ে চার বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও খতিব সালাহউদ্দিনের বেতন ভাতা বাবদ ২৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন অডিট বিভাগকে জানায়, চিকিৎসা শেষে খতিব যথারীতি বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তবে তিনি শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় খুতবা প্রদান থেকে বিরত রয়েছেন। কিন্তু তার সার্বিক দিক-নির্দেশনায় সিনিয়র পেশ ইমাম ও পেশ ইমামগণ খুতবা প্রদানের দায়িত্ব পালন করছেন।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জবাবকে স্বীকৃতিমূলক আখ্যায়িত করলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। বলা হয়েছে, দায়িত্ব পালন না করে বা অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই।

মাওলানা সালাহউদ্দিনের ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন দেয়া হলে ধরেন তার স্ত্রী সুফিয়া আক্তার। বলেন, ‘তিনি (মাওলানা সালাহউদ্দিন) এখন অসুস্থ, বেশিরভাগ সময়ই তিনি শুয়ে থাকেন। বাইরে বের হন না। তার হার্টসহ অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও রয়েছে।’

সুফিয়া আক্তার বলেন, ‘তিনি (সালাহউদ্দিন) বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, অ্যাকাউন্টে জমা হয়, এটা আমরা উঠাই।’

অনুপস্থিত থাকার পরও বেতন নেয়া হচ্ছে, এজন্য আপত্তি উঠেছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তার স্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তো এ বিষয়ে কেউ কিছু বলেনি। আমাদের কাছে কোন চিঠি-টিঠিও আসেনি। এটা ইসলামিক ফাউন্ডেশন বলতে পারবে।’

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি (অনুপস্থিত থাকার পরও বেতন নেয়ায় আপত্তি) আমিও শুনিনি। সেখানে ভারপ্রাপ্ত খতিব হিসেবে পেশ ইমাম দায়িত্ব পালন করছেন।’

সচিব বলেন, ‘ওখানে একটা ট্রেডিশন (ঐতিহ্য) আছে, এর আগের সব খতিবই আমৃত্যু দায়িত্ব পালন করেছেন। এর বেশি কিছু আমি বলতে পারব না।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর ও বাংলাদেশ ইসলামি ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘খতিবের বিষয়টা হলো, সালাহউদ্দিন সাহেবের আগে যারা খতিব ছিলেন সবাই আমৃত্যু এ পদে ছিলেন। এখন এটাকে একটা অজুহাত হিসেবে নিয়ে উনি সাড়ে চার বছর আসলেন না। বিবেকের তাড়নায় উনিও রিজাইন (পদত্যাগ) করতে পারতেন। আমৃত্যু খতিব থাকার নির্দিষ্ট কোনো আইন নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশনে এটা নিয়ে একাধিকবার কথা হয়েছে। সবাই মনে করেছিল উনি হয়তো সুস্থ হয়ে যাবেন, ফিরে আসবেন। দীর্ঘ সময় পার হলো কিন্তু সেটা এখনও হয়নি।’

‘আমৃত্যু কেউ খতিব থাকবে, বিষয়টি তাও নয়। একবার তো খতিব উবায়দুল হক সাহেবকে অপসারণ করা হলো, আমি তখন মুসল্লি কমিটির সভাপতি ছিলাম। আমরা এটার প্রতিবাদ করেছি, আদালতে পর্যন্ত গিয়েছি। পরে তিনি ফিরে এসেছেন’ বলেন মিছবাহুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘আগের খতিবরা তো কর্মরত অবস্থায়ই মৃত্যবরণ করেছেন। এখন আমরা যদি সেটাকে রেফারেন্স হিসেবে নিয়ে বলি, দায়িত্ব পালন না করেই ১০ বছর বেতন নেব, সেটা কেমন হবে!’

বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর বলেন, ‘দেশবাসী জাতীয় মসজিদের দিকে তাকিয়ে থাকে, সমসাময়িক বিষয়ে সেখানে কী বলা হয়! বায়তুল মোকাররমে এখন একজন খতিব খুবই জরুরি। এটা মুসল্লিদের চাহিদা।’

২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি খতিব হিসেবে নিয়োগ পান মাওলানা সালাহউদ্দিন। তিনি ঢাকার মাদরাসা-ই-আলিয়ার সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ও মহাখালী মসজিদে গাউসুল আজমের সাবেক খতিব। তাকে নিয়োগের পর বায়তুল মোকাররমে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। ‘ভন্ড পীরের মুরিদ’ আখ্যায়িত করে তার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানাতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে জুমআর নামাজের সময় মসজিদের ভেতরে সংঘর্ষ হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হাতাহাতি, জুতা ছোড়াছুড়ি ও জুতা মিছিলের ঘটনা ঘটে।

পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর পাহারার মধ্যে মাওলানা সালাহউদ্দিন খুতবা দেয়া অব্যাহত রাখলে পরিস্থিতি আস্তে আস্তে শান্ত হয়। কিন্তু কওমি আলেমদের বড় একটি অংশ তখন থেকে বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজ বর্জন করে আসছেন।

দেশসংবাদ/জেএন/এনকে


আরও সংবাদ   বিষয়:  অনুপস্থিত   বায়তুল মোকাররম   খতিব অধ্যাপক মাওলানা মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন   বেতন-ভাতা  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
ফাতেমা হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up