ঢাকা, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২০ || ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ সিটি নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রস্তুত করার নির্দেশ ■ ফখরুলকে যে প্রশ্ন করলেন হানিফ ■ বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে হামলা ■ তওবা করে নতুন বছর শুরু করি ■ নববর্ষে দেশবাসীকে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা ■ অবৈধদের ফেরত না পাঠানোর লিখিত আশ্বাস চায় বাংলাদেশ ■ ২০১৯ সালে কর্মক্ষেত্রে নিহত ৯৪৫ জন শ্রমিক ■ হাইকোর্টে আইনজীবী হতে এবার এমসিকিউ পরীক্ষা ■ আন্তর্জাতিক কলরেট ৬৫ শতাংশ কমাতে যাচ্ছে বিটিআরসি ■ ভারতের নয়া সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানে ■ পররাষ্ট্র সচিব হলেন মাসুদ বিন মোমেন ■ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে ঢাকায় আসছেন ম্যারাডোনা
গাজীপুরে পরিবহন বিপর্যয়, ভাড়া বাণিজ্যে যাত্রীদের ভোগান্তি
শেখ রাজীব হাসান, টঙ্গী (গাজীপুর)
Published : Sunday, 29 December, 2019 at 10:49 AM
Zoom In Zoom Out Original Text

গাজীপুরে পরিবহন বিপর্যয়, ভাড়া বাণিজ্যে যাত্রীদের ভোগান্তি

গাজীপুরে পরিবহন বিপর্যয়, ভাড়া বাণিজ্যে যাত্রীদের ভোগান্তি

গাজীপুরে যাত্রীর তুলনায় পরিবহন কম না থাকলেও যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ ওঠেছে। গাজীপুরে রুট পারমিট ও ফিটনেস সনদ ছাড়াই চলছে বেশ কয়েকটি কোম্পানির ৫০০টির ও বেশি বাস। রুট পারমিট ও ফিটনেসবিহীন বাস চলাচলে দেশজুড়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকলেও এসব বাসগুলো হরহামেশাই গাজীপুরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আর এসমস্ত ফিটনেসবিহীন ব্যাসগুলোর যান্ত্রিক সমস্যার কারণে হারাচ্ছে যাত্রী ও পথচারীদের প্রাণ।

গাজীপুরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সূত্রে যোগাযোগ করে জানা গেছে, গাজীপুর থেকে কোনো বাসের রুট পারমিট নেই। অথচ দীর্ঘদিন ধরে পলাশ, কালিয়াকৈর পরিবহন (কেপি), রাজদূত-পথের সাথী, চ্যাম্পিয়ন ও ভিআইপি নামের বেশ কয়েকটি কোম্পানির কয়েক শতাধিক বাস চলছে। এসব বাসের বেশির ভাগের নেই ফিটনেস সনদ। পলাশ পরিবহন শিমুলতলী-চন্দ্রা-নবীনগর, কেপি পরিবহন জয়দেবপুর-কালিয়াকৈর, রাজদূত-পথের সাথী পরিবহন গাজীপুর-কাপাসিয়া, চ্যাম্পিয়ন গাজীপুর চৌরাস্তা-মাওনা-ভালুকা এবং ভিআইপি পরিবহন গাজীপুর-ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির রুটে চলাচল করে। পুলিশ ও প্রশাসনের চোখের সামনে রুট পারমিট ছাড়া এসব গাড়ি দীর্ঘদিন ধরে কিভাবে চলছে তাই নিয়ে জনসাধারণের প্রশ্ন থেকেই যায়।

পরিবহন চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভিআইপি পরিবহন রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে টঙ্গীর চেরাগ আলী পর্যন্ত চলার রুট পারমিট নিয়ে অবৈধভাবে গাজীপুর শহর পর্যন্ত চলছে। বাসের গায়ে ও টিকিটে রুট নম্বর এ/২০৭ লিখে বেশ কয়েক বছর ধরে দাপটের সঙ্গে চলছে ভিআইপি পরিবহন।

বিআরটিএর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মেট্রোপলিটন রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট কমিটির অনুমোদিত বাস রুটের তালিকায় ‘ভিআইপি পরিবহন’ নামে কোনো সার্ভিস নেই। এ/২০৭ নম্বর রুটটি টঙ্গী (চেরাগ আলী) থেকে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী পর্যন্ত চলাচলকারী দুলদুল সার্ভিস/বিভিন্ন ব্যক্তির নামে অনুমোদন দেওয়া। দুলদুল পরিবহনের বাসের সিলিং ৩০ (বাস ছয়টি, মিনিবাস ২৪টি)। অথচ দুলদুলের রুট নম্বর ব্যবহার করে টঙ্গীর পরিবর্তে গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে চলছে দুই ভিআইপির শতাধিক বাস। রুট পারমিটের শর্ত অনুযায়ী নিজস্ব টার্মিনালে বাস পার্কিংয়ের কথা থাকলেও করা হচ্ছে সড়কেই। এতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এসব বাসের মধ্যে লোকাল গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে ঢাকার আজিমপুর ও সিটিং সার্ভিস গাজীপুর শহরের শিববাড়ী থেকে আজিমপুরে চলাচল করে।

সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, গাজীপুর-টঙ্গী-ঢাকা রুটে বাসগুলোতে প্রায় প্রতিটি বাসেই যাত্রীদের কাছ থেকে দিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। একই দৃশ্য টঙ্গীর স্টেশন রোড থেকে চান্দনা চৌরাস্তা সেখান থেকে জয়দেবপুর শহরে যাওয়ার পথেও। এসময় ভিআইপি পরিবহন, বলাকা সিটিং সার্ভিস, আনাবিল, স্কাই-লাইন সহ বিভিন্ন বাসে উঠলে দেখা মেলে ভাড়ার অনিয়ম। যেখানে ৫টাকার ভাড়া মহানগরীর ভোগড়া বাইপাস থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত রিকশা ভাড়াও তিনগুণ বৃদ্ধি ২৫টাকা দিয়ে ও রেহাই পায়না যাত্রীরা। এসময় টঙ্গীর স্টেশন রোড বাস স্টান্ড থেকে বেশীর ভাগ ফিটনেস বিহীন গাড়ীগুলো ছাড়তে দেখা যায়। ট্রাফিক বক্সের সামনে থেকেই এরা ডাকতে থাকে ‘চ্রৌাস্তা পর্যন্ত ভাড়া ২০টাকা’ এতে চরম বিপাকে পড়ে বাধ্য হয়েই বাড়তি ভাড়া মিটিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে যাত্রীদের। অপরদিকে বিআরটিসি বাস গুলোতেও ইদানিং বারতি ভাড়া নেওয়া দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। চান্দনা চৌরাস্তা থেকে ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলগামী যাত্রীদের কাছ থেকেও দিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পরিবহনের এই সব অভিযোগ বাড়ার পাশাপাশি সরকারি নির্দেশ অমান্য করে এখনো মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ছোট, বড় ও মাঝাড়ি আকারের অটো বা ব্যটারি চালিত রিকসা, দিনের বেলায় কিছুটা কম চললেও রাতে বেলায় এরা পথের রাজা। সড়কে অবরোধ বা সমস্যা দেখা দিলে এ সমস্ত অটো চালকরা পথের রাজা হয়ে যায়, ২০টাকার ভাড়া এরা ২০০টাকাও নিয়ে থাকে। ইদানিং টঙ্গী পূর্ব থানার সামনে এ অবৈধ অটো রিকসার স্টান্ড দেখা যাচ্ছে এসব অটোরিকসার অব্যাবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খল চলাফেরার জন্য প্রতিনিয়ত স্টেশন রোড এলাকায় যানজট সহ ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে লেগুনাগুলো শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা পর্যন্ত চলাচল করলেও এ পরিবহন গুলোকে ভালুকা, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ ও মুক্তাগাছা পর্যন্ত চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে।

লাইসেন্সবিহীন অধিকাংশ লেগুনা চালকের অদক্ষতায় মহাসড়কে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে গাজীপুরের মহাসড়কে বর্তমানে পুলিশের পাশাপাশি, আনসার ও কমিউনিটি পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও এসব পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না তাদের।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এনকে


আরও সংবাদ   বিষয়:  গাজীপুর   পরিবহন বিপর্যয়  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up