ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০ || ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ সিটি নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রস্তুত করার নির্দেশ ■ ফখরুলকে যে প্রশ্ন করলেন হানিফ ■ বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে হামলা ■ তওবা করে নতুন বছর শুরু করি ■ নববর্ষে দেশবাসীকে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা ■ অবৈধদের ফেরত না পাঠানোর লিখিত আশ্বাস চায় বাংলাদেশ ■ ২০১৯ সালে কর্মক্ষেত্রে নিহত ৯৪৫ জন শ্রমিক ■ হাইকোর্টে আইনজীবী হতে এবার এমসিকিউ পরীক্ষা ■ আন্তর্জাতিক কলরেট ৬৫ শতাংশ কমাতে যাচ্ছে বিটিআরসি ■ ভারতের নয়া সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানে ■ পররাষ্ট্র সচিব হলেন মাসুদ বিন মোমেন ■ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে ঢাকায় আসছেন ম্যারাডোনা
তেলে যেন পেঁয়াজের ঝাঁজ না লাগে, সতর্ক সরকার
দেশসংবাদ ডেস্ক
Published : Sunday, 29 December, 2019 at 8:13 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

তেলে যেন পেঁয়াজের ঝাঁজ না লাগে, সতর্ক সরকার

তেলে যেন পেঁয়াজের ঝাঁজ না লাগে, সতর্ক সরকার

আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার অজুহাত দেখিয়ে দেশের বাজারেও এর দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমতি ছাড়াই ইতোমধ্যে সবধরনের ভোজ্যতেলের দাম এক মাসের ব্যবধানে পাঁচ থেকে ছয় টাকা বাড়ানো হয়েছে। এ অবস্থায় নড়েচড়ে বসেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সরকার চায় না কোনোভাবেই ভোজ্যতেলের দাম পেঁয়াজের পরিণতির দিকে যাক।

গত সেপ্টেম্বর থেকেই পেঁয়াজের ঝাঁজে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। ৩০ টাকার পেঁয়াজ ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায় উঠে নজিরবিহীন এক পরিস্থিতির তৈরি করে। এর পাশাপাশি আগের মাসের চেয়ে গত নভেম্বর মাসে ঢাকার বাজারে ১৮টি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে চাল, খোলা আটা, খোলা ভোজ্যতেল, সরু দানার মসুর ডাল ও চিনির মতো পণ্য ছিল।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের তথ্যমতে, গত আগস্ট থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত সাড়ে তিন মাসের বেশি সময়ে এক লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ আমদানি করেছে ৪৭টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। তারা প্রায় ৪০০ কোটি টাকা খরচে এক লাখ চার হাজার ৫৫৮ টন, অর্থাৎ ১০ কোটি ৪৫ লাখ ৫৮ হাজার কেজি পেঁয়াজ আমদানি করেছে। অর্থাৎ প্রতি কেজি পেঁয়াজ আমদানিতে তাদের খরচ হয়েছে গড়ে ৩৮ টাকা ২৬ পয়সা। অথচ সেই পেঁয়াজ তারা পাইকারি বাজারেই বিক্রি করেছে বাজারভেদে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়।

এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার অজুহাত দেখিয়ে দেশের বাজারেও দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেয় এ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমতি ছাড়াই ইতোমধ্যে সবধরনের ভোজ্যতেলের দাম এক মাসের ব্যবধানে পাঁচ থেকে ছয় টাকা বাড়ানো হয়েছে।

এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে আজ (রোববার) ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও পরিবেশকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন। বৈঠকে ব্যবসায়ী ছাড়াও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর রোজা শুরুর ঠিক তিন থেকে চার মাস আগেই ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ট্যারিফ কমিশনে দাম বাড়ানোর একটি প্রস্তাব দেয়া হয়। তবে ওই প্রস্তাবে সরকারের অনুমতির তোয়াক্কা করে না ব্যবসায়ীরা। তারা আগেই ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে দেয়। এবারও সরকারের অনুমতি ছাড়াই ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এভাবে দাম বৃদ্ধির ঘটনাকে ব্যবসায়ীদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বলছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, কোনোভাবেই ভোজ্যতেলের দাম বাড়তে দেয়া যাবে না। কারণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে কঠোর নির্দেশনা দেবেন। ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার বিষয়টিকে পেঁয়াজের মতো হতে দিতে চায় না বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন বলেন, ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আজ বসেছিলাম। এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বলার মতো তেমন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভাব হয়নি। আগামীতে এ বিষয়ে আরও বৈঠক করতে হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্মতি দেয়নি। ট্যারিফ কমিশন ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবটি বিবেচনায় নিয়ে মন্ত্রণালয়ে দুই রকম সুপারিশ পাঠিয়েছে। কিন্তু কোথাও ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়নি।

সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এক মাসে খুচরা বাজারে ভোজ্যতেলের দাম ছয় টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আজ ঢাকার বিভিন্ন বাজারে সয়াবিন তেল (লুজ) প্রতি লিটার বিক্রি হয়েছে ৮৬ থেকে ৮৮ টাকায়। যা গত মাসের ২৯ নভেম্বর ছিল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। যা গত মাসের একই দিনে ছিল ৯৫ থেকে ১১০ টাকা।

এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই আগামী মে মাসে শুরু হচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। রমজান শুরুর দেরি থাকলেও সে সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাজার নিয়ে চিন্তিত সরকার। সে লক্ষ্যে আগামী বৃহস্পতিবার রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত, সরবরাহ, আমদানি, মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বৈঠকে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব ও হঠাৎ করে দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচিত হওয়ার কথা রয়েছে। একইসঙ্গে দাম বৃদ্ধি পাওয়া ১৮টি পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

দেশসংবাদ/জেএন/এসকে


আরও সংবাদ   বিষয়:  তেলে   পেঁয়াজ   সরকার  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজে সক্রিয় পুলিশ
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up