ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০ || ১৪ চৈত্র ১৪২৬
শিরোনাম: ■ ইতালিতে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াল ■ রোববার থেকে সীমিত আকারে ব্যাংক চালু থাকবে ■ করোনার গুজব নিয়ে যে সতর্কবার্তা দিলো সরকার ■ সময় ফুরাবার আগেই চিন্তা করতে হবে কোন পথে হাঁটবো? ■ করোনায় আক্রান্ত জাতিসংঘের ৮৬ কর্মী ■ ব্রিটেনে ২৪ ঘণ্টায় ২৬০ জনের মৃত্যু ■ করোনা পরীক্ষার কিট তৈরি করলেন ভারতীয় নারী! ■ আকিজের হাসপাতাল বানানোর খবরে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ■ সারা বিশ্বেই সরকারের ওপর আস্থা হারাচ্ছে মানুষ ■ বাংলাদেশ থেকে ২৫ মেডিক্যাল আইটেম নেবে যুক্তরাষ্ট্র ■ সুস্থ হয়ে আবারও করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে চীনে ■ নিউইয়র্কে করোনায় আরও ৪ বাংলাদেশির মৃত্যু
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা কার জন্য, কারা এর সুফলভোগী?
অ আ আবীর আকাশ
Published : Friday, 24 January, 2020 at 3:28 PM, Update: 24.01.2020 3:31:59 PM

অ আ আবীর আকাশ

অ আ আবীর আকাশ

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি যে নির্দেশনা দিয়েছে তা মোটেও দেশ বান্ধব নয়। সরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য নিতে হলে কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হবে তা একদিকে যেমন জনবান্ধব কোন নির্দেশনা হতে পারে না অপরদিকে এ নির্দেশনা দুর্নীতি সহায়ক কিবা দুর্নীতিকে আরো সুগম বলে ভাবা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে সরকারকে উদ্দেশ্য করে ব্যাখ্যা বিবৃতি উপস্থাপন করছে। কোন কোন সংস্থা, প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নির্দেশনাকে প্রত্যাহার করে নেয়ার দাবিও জানিয়েছেন।

নির্দেশনা অনুযায়ী বলা হচ্ছে -দেশের সব ধরনের সরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান গবেষণা জরিপ ও অন্য কোনো উদ্দেশ্যে তথ্য বা সংবাদ সংগ্রহের অনুমতি গ্রহণের বাধ্যবাধকতা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। যা বর্তমান সময়ে অচিন্তনীয় এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষের উপনিবেশিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। এর মাধ্যমে অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত এ সরকার ঘোষিত ও আইনগত ভাবে প্রতিষ্ঠিত নাগরিক অধিকার নিশ্চিতের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। শুধু তাই নয় হাসপাতালে তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সম্মতি গ্রহণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে তা যেমন স্বাস্থ্য খাতে সবরকমের গবেষণা ও তথ্য প্রকাশের দ্বার রুদ্ধ করবে তেমনি এই খাতের সব অনিয়ম দুর্নীতি রাষ্ট্রীয় সম্পদের আত্মসাৎ ও অপচয়কে সুরক্ষা দেবে।

আপাতদৃষ্টিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই নির্দেশনা তথ্য যাচাইয়ে হাস্যকর যুক্তি হিসেবে উল্লেখ করার মতো। প্রকৃত অর্থে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে ধামাচাপা দেয়ার জন্যই এ ধরনের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে যা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আরো কঠিন ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

'সরকারি হাসপাতালে দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনা'র বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও অবাস্তবসম্মত নির্দেশনার অবতারণাই ঘটাননি নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মত অপরিহার্য বিষয়গুলিও হালকা বিবেচনায় দেখা হয়েছে বলে বিজ্ঞ মহল মনে করেন। তবে এ কাজ গুলোই হচ্ছে জরুরি- যা আমরা মনে করতে পারি। কিন্তু তা করতে গিয়ে হাসপাতাল কিছু সেবার মান, দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনা, গবেষণা জরিপ বা অন্য উদ্দেশ্য তথ্য সংগ্রহের উপর বাধানিষেধ আরোপ এবং অনুমতি ছাড়া হাসপাতালের ভেতরে রোগী বা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কার্যক্রমের স্থির চিত্র বা ভিডিও ধারণের উপর নিষেধাজ্ঞা নির্দেশনা অবিবেচনাপ্রসূত।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি-নিষেধ রোগী, রোগীর আত্মীয় স্বজন কিবা দর্শনার্থী কারোর জন্য মঙ্গলকর যেমনি নয় তেমনি এ ধরনের স্বার্থ জড়িত নির্দেশনা শুধু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিরাপদ রাখার উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে মর্মে সচেতন মহল মনে করেন।

হাসপাতালে যদি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করেন তাহলে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা কেন? চিকিৎসক চিকিৎসা দেবেন এটাই নিয়ম। সরকারি হাসপাতালে আসা প্রায় চল্লিশ প্রকারের ঔষধ প্রাপ্য অনুযায়ী রোগীদের মাঝে বিতরণ করবেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা (সংশ্লিষ্ট হাসপাতলে রক্ষিত অনুযায়ী) ব্যবস্থা করে দেবেন। এর বাহিরে রোগীর চাহিদা কোথায়?

খাবারের মান তো এমনিতেই শোচনীয়। ঠিকাদার কর্তৃক যা খাওয়ানো হয় তা তো আর বলার নেই। সংবাদকর্মী তার দক্ষতা অনুযায়ী তথ্য বের করে এনে প্রকাশের ব্যবস্থা করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর করান, এসব অন্যায়ের কিছু নেই। তাহলে অনুমতি কিসের? এসবের যদি একটাও না পাওয়া যায় তাহলে তো সংবাদকর্মীরা এমনি এমনি খবর প্রকাশ করবেন না। যদি পাওয়া যায় তাহলে কি হাসপাতালে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক, আরএমও, তত্ত্বাবধায়ক বা প্রশাসন খবর প্রকাশের অনুমতি দিবেন? নিশ্চয়ই দেবেন না।

মূলত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নির্দেশনা পুরোটাই স্বাস্থ্য খাতকে আরো প্রশ্নবিদ্ধ করবে। স্বাস্থ্য সেবা সংক্রান্ত জড়িত সবার আরো বুকের পাটা বাড়িয়ে দেবে। বিভিন্ন অনিয়ম করার জন্য সাহস যোগাবে। যা মোটেও কাম্য নয়। এধরনের নির্দেশনা মানে স্বাস্থ সেবা খাতে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট হয়।এ খবর যেনো প্রকাশ না পায়। এটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নয় শুধু পুরো স্বাস্থ্য সেবাখাতকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এমনিতেই সরকার প্রতিষ্ঠান সমূহ যাচ্ছেতাই ব্যবস্থাপনায় চলছে। তার উপরে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য সেবা খাত তো আরো বেশি অনিয়মে ভরা। রোগী ভর্তি থেকে শুরু করে সিট বাণিজ্য, পরীক্ষা-নিরীক্ষা (যন্ত্রাদি বিকল থাকে বা করে রাখে প্যাথলজি মালিক কমিটির কাছে বিক্রি হয়ে) ঔষধ সাপ্লাই নেই বলে কোম্পানির ঔষধ লেখে, অন কলে চিকিৎসক প্রাইভেটে দৌড়ে, খাবারের মান সর্বনিম্ন, আর এতে করে রোগীর আত্মীয় কিছু বললেই অমনিই রোগীকে রেফার করে দেয়া, নার্স,সহকারী ও আয়াদের অর্থ দাবী, শৌচাগারের শোচনীয়, প্রস্রাবখানার অবস্থা ধরাশায়ী, ময়লা দুর্গন্ধ। মাঝে মাঝে পানির সাপ্লাই বন্ধ থাকাসহ অনিয়ম তবুও এত সব জেনে বুঝে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় সাংবাদিকদের ধন্যবাদ না দিয়ে কেনো নির্দেশনা দিয়েছেন সত্যিই ভাবার বিষয়। এখানে কার স্বার্থটা মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে? তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে।

আশা করছি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্তৃপক্ষ, মন্ত্রী, সচিব এবং দায়িত্বে থাকা তথ্য নির্দেশনা দেয়া কর্তাব্যক্তিরা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করবেন। আপনারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে 'সাম্প্রতিক যে নির্দেশনা' দিয়েছেন তা কার জন্য দিয়েছেন? কারা এর সুফল ভোগ করবেন? এমন চিন্তা মাথায় এনে নির্দেশনার বিষয়ে  পুনঃবিবেচনা করবেন।

লেখক : কবি প্রাবন্ধিক ও কলামলেখক
সম্পাদক : আবীর আকাশ জার্নাল


দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এনকে


আরও সংবাদ   বিষয়:  স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়   নির্দেশনা   সুফলভোগী  



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft