ঢাকা, বাংলাদেশ || শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২০ || ২৭ চৈত্র ১৪২৬
শিরোনাম: ■ ৫৯১১ কোটি টাকা জরুরি সহায়তা চায় বাংলাদেশ ■ ব্রিটেনজুড়ে লাশের মিছিল, ২৪ ঘন্টায় ৯৫৩ জন ■ বিশ্বব্যাপী ১ লাখ ছাড়ালো মৃতের সংখ্যা ■ লকডাউন নোয়াখালী ■ প্রস্তুত ১০ জল্লাদ ■ মাজেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে কারাগারে পরিবার ■ ১৪ ভাগ নিম্নআয়ের মানুষের ঘরে কোন খাবার নেই ■  ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে মার্কেট ■ ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত পোশাক কারখানা বন্ধ ■ কুমিল্লা লকডাউন ঘোষণা ■ পণ্যবাহী ট্রাক-অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে পারাপার হচ্ছে যাত্রী ■ সন্ধ্যা ৬টার পর ঘরের বাইরে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা
কালিয়ায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে চাদাবাজীর অভিযোগ
সাজিদুল ইসলাম শোভন, কালিয়া (নড়াইল)
Published : Sunday, 2 February, 2020 at 8:32 PM

কালিয়ায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে চাদাবাজীর অভিযোগ

কালিয়ায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে চাদাবাজীর অভিযোগ

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বাঐসোনা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য রকিত শেখের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও চাদাবাজীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে থানায় মামলাসহ প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ করে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছে এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী এবং অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাত্র কয়েক বছর আগেও রকিত শেখ যুক্ত ছিলেন বিএপির রাজনীতির সাথে, ছিলেন বাঐসোনা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। ২০০৮ সালে রকিত শেখ দল বদল করে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। এরপর সক্ষতা গড়ে তোলেন এলাকার এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে।

এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। অপরদিকে তার মদদে, ভাই কাবুল শেখ ব্রাক এনজিও থেকে লোন এনে সেই টাকা দিয়ে এলাকায় সুদের কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পান না। অনেকেই বর্তমানে এলাকা ছাড়া হয়েছেন তাদের অত্যাচারে। এলাকার কেউ তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে তাদের উপর নেমে আসে রকিত বাহিনীর অত্যাচার ও নির্মম নির্যাতন। হাত-পা ভেঙ্গে দেওয়াসহ বাড়ী থেকে উচ্ছেদের ঘটনাও ঘটেছে ওই এলাকায়। সুদের টাকার ভয়ে অনেকে পৈত্রিক বাড়ী ছেড়ে এখন নিরুদ্দেশ রয়েছেন।

অষ্ট্রিয়া প্রবাসী,  অষ্টিয়া আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শেখ শামসুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, রকিত মেম্বার ও তার ২ভাই এবং সন্ত্রাসী বাহিনী তার কাছে ১০ লক্ষ টাকা চাদা দাবি করেছে, চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তারা বিভিন্ন ভাবে তাকে উপর অত্যাচার চালিয়েছে এমনকি তার বাড়িতে ঢুকে ডাকাতির ঘটনা ও ঘটিছে। তিনি এলাকায় একটি মসজিদ নির্মাণ করেছি তারা মসজিদ থেকে মুছে ফেলেছে তার নামফলক।
মসজিদের মোয়াজ্জিন বলেন, মসজিদটা নির্মাণ করেছেন হাজী শামসুর রহমান। কিন্তু নামের কারনে বাধা হয়। এই বাধার কারনে নামফলক মুছে দেওয়া হয়। এই নামফলক মুছলে যে লোকগুলো অভিযোগ দিয়েছিলো তারা পুনরায় নামাজ পড়তে আসেন।

এলাকার ভুক্তভোগি বৃদ্ধা অভিযোগ করে বলেন, সুদের টাকা দিতে না পারায় রকিত ও তার দলবল তার ছেলেকে বাড়িতে এসে মারধর করে। তিনি প্রতিবাদ করলে তাকেও মারধর করে, তিনি এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে থানা পুলিশ কোন পদক্ষেপ না নিয়ে তার ছেলেকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে, সে এখন গোপালগঞ্জে বসবাস করছে।

এলাকাবাসী রকিত শেখ এবং তার ভাইদেরর সুদের কারবারের বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বলেন, রকিত শেখ, শাহানুর শেখ, কাবুল শেখ, বাবুল শেখ তাদের সুদের কারবারের জন্য বিল্লাল, তারিকুল, খোকনসহ অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। রকিত শেখের ভাই কাবুল শেখ ব্রাক এনজিও থেকে লোন এনে সেই টাকা দিয়ে এলাকায় শাপলা সমবায় সমিতি নামে সুদের কারবার করার সত্যতা স্বীকার করে সমবায় সমিতির রেজিট্রেশন রয়েছে বলে দাবি করেন। তবে তিনি কোন কাগজ পত্র দেখাতে পারেননি। নেই কোন নিজস্ব কার্যালয়। নিজেই স্বীকার করেন ব্রাক অফিস থেকে কিছু লোন এনে তিনি এটি শুরু করেছিলেন। ব্রাক অফিসে মাসে একবার কিস্তি নেয় আর তিনি প্রতিদিন নেন। ব্রাক অফিসকে মাসে শতকরা ১০ টাকা লাভ দিতে হয়, অপরদিকে তিনি প্রতিদিন ঘুরোয় তার শতকরা ১৫ টাকা লাভ হয়। এই ৫টাকা লাভের আশায় ব্রাক থেকে লোন এনে তিনি এই ব্যাবসা করেন বলে জানান।

এ ব্যাপারে রকিত শেখের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি বিএনপি সাধারণ সম্পাদক ছিলেন অনেক আগে, এখন তিনি আওয়ামী লীগের দল করেন। এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এর সাথে চলাফেরা করেন তিনি। মসজিদে দাতা শেখ সামসুর রহমানের নাম মুছে ফেলা প্রসঙ্গে বলেন, কিছু লোক নামাজ পড়তে আসতো না, তখন ফতোয়া আনা হয়। তখন সবাই বললো নাম মুছে দিতে হবে। তারা নাম মুছে দিলে নামাজ পড়তে আসবেন। তখন ঐ নাম মুছে ফেলা হয়েছে। কে মুছে দিয়েছে, কবে মুছেছে এটা তিনি জানেন না বলে জানান। তিরি আরও জানান, তার বিরুদ্ধে চাদাবাজির যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পুর্ন মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।

এ ব্যাপারে নড়াইল জেলার পুলিশ সুপার মো: জসিম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিজ্ঞ আদালতে অষ্ট্রিয়া প্রবাসী শেখ শামসুর রহমান বাদি হয়ে রকিত শেখ, শাহানুর শেখ, বাবুল শেখ গংসহ আরো কয়েকজনের নামে মামলা দিয়েছেন। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। প্রমানিত হলে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকার শান্তি শৃংখলা রক্ষা করতে ইউপি সদস্য রকিত শেখ ও  তার দোসরদের আইনের আওতায় আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসি।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/আইশি


আরও সংবাদ   বিষয়:  কালিয়া   ইউপি   সদস্য   চাদাবাজী   অভিযোগ   



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft