ঢাকা, বাংলাদেশ || বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০ || ২৪ চৈত্র ১৪২৬
শিরোনাম: ■ দেশজুড়ে করোনা আতঙ্ক ■ গণস্বাস্থ্যকে করোনার কিট তৈরির চূড়ান্ত অনুমোদন ■ এবার গাজীপুর জেলা লকডাউন ■ লকডাউন নারায়ণগঞ্জ জেলা ■ ১৬ এপ্রিলের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের নির্দেশ ■ মাজেদের সর্বশেষ পথ রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়া ■ প্রবাসে করোনায় প্রাণ হারালেন ১২৭ বাংলাদেশি ■ ঢাকায় নতুন করে ৯টি এলাকা লকডাউন ■ মাজেদের রায় কার্যকরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু ■ মুজিববর্ষেই বঙ্গবন্ধুর বাকি খুনিদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব ■ রাশিয়ায় ১ম বারের মতো ২৪ ঘণ্টায় ১০০০ আক্রান্ত ■ বিশ্বের এই ক্ষতির জন্য চীন দায়ী
মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নীলফামারীর কাওসার
নিজস্ব প্রতিবেদক
Published : Friday, 14 February, 2020 at 10:23 PM, Update: 14.02.2020 10:52:19 PM

মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নীলফামারীর কাওসার

মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নীলফামারীর কাওসার

‘ভালো মানুষ আছে বলেই, পৃথিবী টিকে আছে’, এ বাক্যের বাস্তব দৃষ্টান্ত দেখালেন রংপুর বিভাগের নীলফামারীর কৃতি সন্তান কাওসার আল হাবীব। তার গ্রামের বাড়ি নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলা চিকনমাটি গ্রামে। সে মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে।

তিনি শিক্ষা জিবনে নীলফামারী আলিয়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করে ঢাকায় আসেন। ঢাকার একটি কলেজ থেকে এইচ এসসি পাস করার পর ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভাসিটি থেকে বিবিএ ও এমবি শেষ করেন।

কর্মজিবন শুরু করেন দৈনিক মানবকন্ঠ দিয়ে, এরপর খোলা কাগজে সার্কুলেশন নির্বাহী এবং দৈনিক বর্তমান পত্রিকার সার্কুলেশন সহকারী ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি সততার সাথে স্বদেশ প্রতিদিনের সার্কুলেশন ম্যানেজার হিবাবে কর্মরত।

গত মঙ্গলবার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডির সেই ঘটনার সম্পুর্ন বিবরন পোস্ট করেন। পাঠকদের জন্য সেই পোস্টের আংশিক বিবরন তুলে ধরা হলো-

১০ ফেব্রুয়ারি সোমবার এক অন্যরকম মানবতার দৃষ্টান্ত করে দেখালেন জানা গেছে সোমবার রাতে তিনি অফিসের কাজ করে ফেরার সময় বনানী ফ্লাইওভারে এক অজ্ঞাত লাশ পরে থাকতে দেখেন। লাশটি দেখে তিনি বাইক বাঁকা করে দাঁড় করে রাখেন যাতে করে লাশটির উপর দিয়ে কোন গাড়ি যেতে না পারে এবং লাশটি ক্ষতবিক্ষত না হয়।এরপর বাইক দাঁড় করিয়ে চলন্ত গাড়িতে আসা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জায়গাটাও ছিল নির্জন সকল লাইট ছিল বন্ধ ছিল অনেক অন্ধকার সেই জন্য কেউ তার কথায় দাঁড়ায়নি।

এসময় তিনি একাই লাশের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এক অন্ধকারের ভয় অন্যদিকে দুরন্ত গতিতে গাড়িতে চাপা পরার ভয়। তবুও লাশটি ছেড়ে আসতেও পারেননি কারণ তিনি চলে আসলেই শত শত গাড়ির চাকার পিষ্ঠে ক্ষতবীক্ষত হবে লাশটি। মরার পরে লোকটা কষ্ট পাচ্ছে বা পাবে এই ভেবে দাড়িয়ে ছিলেন একাই আধা ঘন্টা।

সাভারের বাসিন্দা মিলন বলেন আমি বাইকে গাজীপুর থেকে মহাখালী যাচ্ছিলাম । পথে ফ্লাইওভারের এক যুবক দাড়িয়ে আকুতি করছে তার আকুতি দেখে বাইক থামিয়ে তার কাছে গেলে উনি আমাকে সাহায়্যের জন্য আকুতি করেন । পরে আমি আর উনি মিলে ৯৯৯ ফোন করে সাহায্য চাই পরে পুলিশ আসলে আমি চলে যাই। উনি কাওছার আল হাবীবের প্রশংশা করে বলেন সত্যি তিনি এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন অজ্ঞাত লাশের পাশে একাই আধাঘন্টা ধরে জিবন বাজি রেখে সংগ্রাম করায়।

এদিকে জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল-এর ভাইস প্রেসিটেন্ট আরেফিন রাফি আহমেদ বলেন আমরা প্রাইভেট গাড়িতে করে ফ্লাইওভারের অপরদিক দিয়ে উত্তরা যাওয়ার সময় দেখতে পাই একজন ভদ্রলোক লাশের পাশে দাড়িয়ে বিভিন্ন লোকের দৃষ্টি আর্কষন করতে আকুতি করছেন। এরপর উত্তরা থেকে ফিরে আসার সময় দেখি উনি দাড়িয়েই আছেন । উনি যে মানবিকতার দৃষ্টান্ত দেখালেন যা দেখে আমরা সত্যিই অবাক। পরে আমরা কয়েকজন পুলিশের গাড়ি না আসা পর্যন্ত দাড়িয়ে ছিলাম উনার সাথেই। যাওয়ার সময় পরিচয় জানতে চাইলে জানতে পারি উনি স্বদেশ প্রতিদিনের সার্কুলেশন ম্যানেজার।

ফেসবুক পোষ্টেও অনেকে তার কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া কামনা করতে দেখা গেছে। ময়মনসিংহের সাংবাদিক নাফিউল্লাহ সৈইকত লিখেন “ সবটুকু পড়ে ভাষা নেই কিছু বলার,আল্লাহ আপনার মঙ্গল কামনা করুক। সাইফুল আলম নামের একজন লিখছেন আপনার মত সন্তান ঘরে ঘরে জন্মগ্রহণ করুক। হাবিবুর রহমান লিখছেন খুব বড় হৃদয়ের মানুষ ছাড়া এরকম দৃষ্টান্ত দেখা যায় না, অনেক বড় হোন ভাই। হামিদুল প্রামানিক লিখেছেন সকলে মানুষ হতে পারে কিন্তু সকলে ভালো মানুষ হতে পারে না। ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর সম্রাট খান লিখেন আল্লাহ আপনাকে প্রতিদান দিন।

নিম্নে তার ফেজবুক স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো


এই ছবি পোষ্ট দেওয়া যদিও ঠিক না তবুও দিলাম! গতকাল রাতে ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী হয়ে ছিলাম।

রাত ১১টায় অফিসের কাজে বনানী ফ্লাইওভারে বাইক দিয়ে আসার সময় হটাৎ দেখলাম অজ্ঞাত একজন পরে আছেন। কাছে গিয়ে বাইক থামালাম। শতশত গাড়ি চলছে দুরন্ত গতিতে। আমি বাইক বাকা করে দাঁড় করলাম যাতে কোন গাড়ি লাশটার উপর দিয়ে যেতে না পারে এবং ক্ষতবীক্ষত না হয়। বাইক দাঁড় করে আমি দাড়িয়ে চলন্ত গাড়িতে আসা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি দাড়াতে। সকল লাইট বন্ধ, অনেক অন্ধকার, কেউ আমার কথায় দাঁড়াচ্ছেনা।

এদিকে একাই লাশের পাশে দাঁড়িয়ে আছি। এক অন্ধকারের ভয় অন্যদিকে দুরন্ত গতিতে গাড়িতে চাপা পরার ভয়। আবার লাশটি ছেড়ে আসতেও পারছি না কারন আমি চলে আসলেই শত শত গাড়ির চাকার পিষ্ঠে ক্ষতবীক্ষত হবে লাশটি। মরার পরে লোকটা কষ্ট পাচ্ছে বা পাবে এই ভেবে দাড়িয়ে ছিলাম একাই আধা ঘন্টা। শেষমেশ একজন ভদ্রলোক আমার আকুতি শুনে এগিয়ে এলো বল্লাম ভাই এই লাশটি এভাবে পরে আছে কিছু একটা করি। তারপর আমি এবং উনি দুজনে ৯৯৯ এ কল করা শুরু করলাম। ৯৯৯ যেন ঘুমিয়ে গেছে। কল রিসিভ হচ্ছে না। অনেকক্ষন পর কল রিসিভ হলো, লোকেশন সহ বিস্তারিত বলা হলো এর কিছুক্ষণ পর ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে পুলিশের গাড়ি আসলো। পুলিশ লাশ দেখে অনেক কিছু লিখলো। লাশ ধুবরে পড়ে আছে মুখ দেখা যাচ্ছে না। পুলিশ লাশ উল্টানোর জন্য একে অপরকে বলছে কিন্তুু কেউ উল্টাচ্ছে না। আমি নিজেই লাশের পরনে থাকা টি সার্টটি টান দিয়ে উল্টিয়ে দিলাম যাতে লোকটার মুখ দেখে কেউ পরিচয় পায়। ছবি ফেসবুকে ছাড়লে হয়তো তার আপনজনেরা চিনতে পারে।

এসআই আমান ভাই আমার এ কৃতকর্মের জন্য অবাক। উনি আমাকে বললেন ভাই এতো হাজারো লোকের মাঝে আপনি একা এই নির্জন স্থানে জীবন বাজি রেখে যেভাবে দাঁড়িয়ে আছেন এবং লাশটি উল্টালেন আমি ভাষা খুজে পাচ্ছিনা আপনাকে বলার মতো। আমি বল্লাম ভাই এই লাশটা যদি আমার আপন কেউ হতো? বা আমিও তো একদিন লাশ হবো। মানুষ হয়ে একটি মানুষের লাশ ফেলে রেখে চলে যাওয়া অমানুষের পরিচয় বহন করে। অতঃপর পুলিশ ভাইদের কাছে লাশ বুঝিয়ে দিয়ে বাসায় ফিরে আসি।

যাই হোক গতকাল দেখেছি ঢাকার অধিকাংশ মানুষেরা অনেক স্বার্থপর। এরা দেখেও না দেখার ভান করে থাকে, এরা মানুষের বিপদ দেখে এড়িয়ে চলে।

হে মানুষ কেন এমন আপনারা? আমরা তো সবাই মানুষ একে অপরের ভাই।

এমনতেই গতকাল এই ঘটনার পুর্বে মোবাইল পানিতে পড়ে নষ্ট হয় এর কিছুক্ষণ পরেই অনেক কিছুসহ ব্যাগ হারিয়ে ফেলায় মনটা খারাপ ছিলো। এই ঘটনাটি দেখার পর সব ভুলে গিয়েছিলাম। জানিনা কেন এমন হলো একই দিনে এবং একই রাতে।

আসুন একটু ভেবে দেখি। আমি দাড়িয়ে ছিলাম আমার তো কোন ক্ষতি হলো না। হলেও হতো কারন মানুষের জন্যই তো মানুষ।

অনেক লেখতে ইচ্ছে থাকার পরেও লেখলাম না সময় স্বল্পতার কারনে। তবে দোয়া করবেন আমি যেন মানুষের জন্যেই হতে পারি তবে অপকারে নয় উপকারে , সুখে নয় দুঃখে।

তবে কালকে মানুষের আচরণে হচ্ছে শুধু আফসোস ! আফসোস ! আফসোস।

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এর মেয়র, ফ্লাইওভার কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আমার অনুরোধ ঢাকার ফ্লাইওভার গুলোতে লাইট বন্ধ না রেখে চালু রাখার ব্যাবস্থা করুন।

এই ফ্লাইওভারগুলোতে অন্ধকার থাকায় অনেক ভয়াবহ ঘটনা ঘটে চলছে।

আল্লাহ তুমি এসব দুর্ঘটনা থেকে সবাইকে রক্ষা করো।

দেশসংবাদ/আইশি


আরও সংবাদ   বিষয়:  কাওসার আল হাবীব  



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft