ঢাকা, বাংলাদেশ || বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০ || ২৪ চৈত্র ১৪২৬
শিরোনাম: ■ দেশজুড়ে করোনা আতঙ্ক ■ গণস্বাস্থ্যকে করোনার কিট তৈরির চূড়ান্ত অনুমোদন ■ এবার গাজীপুর জেলা লকডাউন ■ লকডাউন নারায়ণগঞ্জ জেলা ■ ১৬ এপ্রিলের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের নির্দেশ ■ মাজেদের সর্বশেষ পথ রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়া ■ প্রবাসে করোনায় প্রাণ হারালেন ১২৭ বাংলাদেশি ■ ঢাকায় নতুন করে ৯টি এলাকা লকডাউন ■ মাজেদের রায় কার্যকরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু ■ মুজিববর্ষেই বঙ্গবন্ধুর বাকি খুনিদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব ■ রাশিয়ায় ১ম বারের মতো ২৪ ঘণ্টায় ১০০০ আক্রান্ত ■ বিশ্বের এই ক্ষতির জন্য চীন দায়ী
জাককানইবি’তে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে আন্দোলন
জাককানইবি প্রতিনিধি
Published : Sunday, 16 February, 2020 at 11:47 PM

জাককানইবি’তে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে আন্দোলন

জাককানইবি’তে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে আন্দোলন

র‌্যাগিংয়ের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, বিনা অপরাধে বহিষ্কার প্রত্যাহারের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে আন্দোলন করছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) শিক্ষার্থীরা। এই রিপোর্ট লেখা অবধি প্রশাসনিক ভবনে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী তালা দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, সাজাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ২৪ ঘণ্টার মাঝে বহিষ্কারাদেশ তুলে না নিলে তারা প্রশাসনিক ভবনে আমরণ অনশনে বসবে।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তক্রমে দুই শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সময় র‌্যাগিংয়ের দায়ে ৫ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়। তবে র‌্যাগিংয়ের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেউ বলছেন, এ ঘটনায় তিনি জড়িত না। আবার কেউ কেউ বলছেন, র‌্যাগিংয়ের শিকারের সঙ্গে তাদের আগে মীমাংসা হয়ে গেছে।

অবশ্য তদন্ত কর্মকর্তা তাদের তদন্ত নিখুঁত বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার আগে পরের ঘটনা মিলিয়ে অভিযুক্তদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ফারহানা রহমান লিয়োনাকে র‌্যাগিংয়ের দায়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তোয়াবা নুশরাত মিম ও একই বিভাগের শায়রা তাসনিম আনিকাকে এক শিক্ষাবর্ষ (২ সেমিস্টার)-এর জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। সেইসাথে চারুকলা বিভাগের মৌমিতা পারভীনকে সতর্কতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তিনি ও তার অভিভাবকের কাছে থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে ।

কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আল ইমরানকে র‌্যাগিংয়ের দায়ে স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়ন বিভাগের জাকির হোসেনকে তিন শিক্ষাবর্ষ (৬ সেমিস্টার), একই বিভাগের তানভীরুল ইসলাম (সুজন)-কে দুই শিক্ষাবর্ষ (৪ সেমিস্টার) এবং ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মেহেদী হাসান (মিশু)-কে দুই শিক্ষাবর্ষ (৪ সেমিস্টার)-এর জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন, এই র‌্যাগিংয়ের সাথে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তাকে অন্যায়ভাবে এত বড় শাস্তি দেওয়া হয়েছে৷

তিনি আরও বলেছেন, র‌্যাগিংয়ের শিকার আল ইমরান আমার বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল, তার সাথে আমার সুসম্পর্ক ছিল। আমি অসুস্থ থাকার কারণে গত ২৯ ডিসেম্বর সকল জুনিয়রদের বলি, আমার ৫ পেজের একটা অ্যাসাইনমেন্ট কেউ লিখতে পারবে কিনা, তখন আল ইমরান স্ব-ইচ্ছায় লেখার সম্মতি জানিয়েছিল এবং এক ঘণ্টা পর আমায় ফোন দিয়ে জানিয়েছিল ভাই লেখা শেষ। এরপর জানুয়ারি ৬ তারিখ জুনিয়র-সিনিয়রদের একটা প্রোগ্রাম শেষে আল ইমরান তার ফেসবুক টাইমলাইনে সকল বড় ভাইদের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে একটা পোস্টও করে, যেখানে আমার নাম ছিল। তখন পর্যন্ত সে সম্পূর্ণ সুস্থ। এরপর তার সাথে আমার কোন কথা বা র‌্যাগিংয়ের কিছু হয়নি। কিন্তু আজ আমি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার। আমার সাথে অন্যায় করা হচ্ছে।

একই মেসের অন্য শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম শিপু জানিয়েছেন, আমি তদন্ত কমিটির সাক্ষাৎকারে কারা কারা অভিযুক্ত ছিল তাদের নাম বলেছি। কিন্তু এখানে অনেকের নামে কোনো অভিযোগ আসেনি। কিন্তু সম্পৃক্ত না থেকেও কয়েজনের নাম চলে আসছে। এটা কিভাবে হলো আমার জানা নেই।

অপরদিকে, নাট্যকলা বিভাগের লিয়োনাকে র‌্যাগিংয়ের অপরাধে বহিষ্কৃত মীম, আনিকা,ও মৌমিতা কয়েকজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে একটি আপোষনামা করেছেন যে, তারা পারিবারিকভাবে এই বিষয়টি সমাধান করেছেন, ভবিষ্যতে তারা এই ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সম্পৃক্ত হবেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা শেখ সুজন আলী জানান, আমরা সুষ্ঠু তদন্ত করেছি। আমাদের তদন্তে কোনো গ্যাপ নেই। ইমরান অসুস্থ হওয়ার আগের একটা রেকর্ড পেয়েছি। সেই সূত্র ধরে সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আমরা তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করেছি।

আর আপোষনামার বিষয়ে তিনি বলেন, ওরা আপোষ করার আগেই আমরা তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছি। আর ওদের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার কারণেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট কমিটির সভাপতি উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান গনমাধ্যমে জানান, আমরা তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। সেই তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী  সিন্ডিকেট কমিটির সকলের সিদ্ধান্তে শাস্তি হয়েছে। যদি তদন্ত নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

উপাচার্য আরও বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিনা অপরাধে কেউ শাস্তি পাবে একজন উপাচার্য হিসেবে আমি সেটা হতে দেবো না।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এফএইচ/mmh


আরও সংবাদ   বিষয়:  জাককানইবি   র‌্যাগিং  



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft