ঢাকা, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০ || ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ ঢাকা মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে ৪৯ জনের মৃত্যু ■ করোনায় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু ■ চীন-ভারত সীমান্তে যুদ্ধের দামামা ■ রাজধানীমুখী মানুষের উপচেপড়া ভিড়! ■ ইউনাইটেডে আগুনে পুড়ে ৫ করোনা রোগীর মৃত্যু ■ ইউনাইটেডে আগুন, পুড়লো করোনা ইউনিট ■ গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত ■ গণপরিবহন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১৫ জুন পর্যন্ত বন্ধ ■ দিনাজপুরে মদ পানে নারীসহ ৫ জনের মৃত্যু ■ হাসপাতালেই বিয়ে সারলেন ডাক্তার-নার্স! ■ বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে ঘরে, ৩ জনের মৃত্যু ■ সিলেটে পানিবন্দি ৩০ হাজার মানুষ
চট্টগ্রামে বিএনপির মেয়র পদে আলোচনায় ৫ নেতা
দেশসংবাদ ডেস্ক
Published : Monday, 17 February, 2020 at 5:01 PM, Update: 17.02.2020 8:13:44 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

চট্টগ্রামে বিএনপির মেয়র পদে আলোচনায় ৫ নেতা

চট্টগ্রামে বিএনপির মেয়র পদে আলোচনায় ৫ নেতা

২৯ মার্চ ভোটগ্রহণের দিন ঠিক করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেখ তারিখ ২৭ ফেব্রুয়ারি, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১ মার্চ ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ মার্চ।

এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সংসদে বিরোধী দল তাদের নিজ নিজ দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। আওয়ামী লীগ নগর কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমকে প্রার্থী ঠিক করেছে। আর জাতীয় পার্টি নগর কমিটির আহ্বায়ক সোলায়মান শেঠকে প্রার্থী করেছে।

এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি। ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়ে দলটি চট্টগ্রামে এখনও প্রার্থী ঠিক করতে পারেনি। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠঘাট চষে বেড়াচ্ছেন। তারা মনোনয়ন পেলে প্রতিপক্ষকে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত।

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে বিএনপির অতীত অভিজ্ঞতা অনেকটাই সুখকর। ২০১৫ সালের নির্বাচন বাদে অন্যান্য নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা ভোট করে মোটামুটি সফল হয়েছে। বেশ কয়েকবার বিএনপির মেয়ররা চট্টগ্রামে কর্তৃত্ব করেছেন। হারলেও প্রতিপক্ষকে ভয় ধরিয়ে ছেড়েছেন। এবার যে কোনো উপায়ে চট্টগ্রাম সিটিতে দলীয় মেয়র চায় বিএনপি।

চসিকে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বেশ কয়েকজন প্রার্থী আলোচনায় আছেন। তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ব্যস্ত রেখেছেন। প্রত্যেকেই দলীয় মনোনয়ন পেলে দলকে বিজয় এনে দিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

চট্টগ্রামে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে- এবার ৪-৫টি নাম জোরোশোরে উচ্চারিত হচ্ছে মেয়র পদে। তারা হলেন- নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এরশাদউল্লাহ ও নগর কমিটির বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চসিকের সাবেক কাউন্সিলর নিয়াজ মোহাম্মদ খান। এ ছাড়া নগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ানের নামও এতদিন জোরোশোরে উচ্চারিত হয়েছে। কয়েক দিন আগে চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরে যান আবু সুফিয়ান। নির্বাচনে ব্যাপক কারচুরির অভিযোগ তোলা সুফিয়ান কিছুটা হতাশ। তাই সিটি নির্বাচনে তিনি খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই ৫ জনের মধ্যে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি মেয়র পদে নির্বাচন করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। এমনকি চট্টগ্রামের নেতৃত্ব দিতে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ ছেড়ে দেন। রাজনীতির মাঠেও সক্রিয় তিনি। নেতাকর্মীদের আপদে-বিপদে তিনি পাশে দাঁড়ান। এসব কারণে দলীয় হাইকমান্ডের সুনজর ডা. শাহাদাত হোসেনের দিকে।

চসিক নির্বাচন সামনে রেখে গত ১১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির এক প্রতিনিধিসভায় অংশ নেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওই দিন তিনি দলের সম্ভাব্য দুই প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন ও আবুল হাশেম বক্করের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তারা দুজনই নিজেদের আগ্রহের কথা মহাসচিবকে জানান। তবে দল থেকে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হোক, তার জন্য কাজ করার কথা বলেন তারা।

৩০ ডিসেম্বরের একাদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেন ডা. শাহাদাত। কারাগারে থেকেই নির্বাচন করেন তিনি। সেই নির্বাচনে কারাগারে থেকে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে হেরে যান বর্তমান শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের কাছে। এর পর থেকে অবশ্য সিটি নির্বাচন সামনে রেখে কাজ শুরু করেন তিনি।

অন্যদিকে জাতীয় কিংবা স্থানীয় কোনো নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পাননি নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। এবার সেই সুযোগ নিতে জোরেশোরেই মাঠে নেমেছেন তিনি।

আবুল হাশেম বক্কর গণমাধ্যমকে বলেন, ইতোপূর্বে আমি কোনো নির্বাচনে অংশ নিইনি। দলের প্রার্থীদের জন্যই কাজ করেছি। ৩০ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে শাহাদাত হোসেনের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়ে কাজ করেছি। তাই এবারের সিটি নির্বাচনে আমি সুযোগ চাই।

ডা. শাহাদাত হোসেন টেলিফোনে বলেন, আমি মেয়র পদে নির্বাচন করতে প্রস্তুত। দীর্ঘদিন ধরে মাঠে শ্রম দিচ্ছি। সবসময় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছিলাম। সব পর্যায়ের নেতাকর্মী আমার সঙ্গে আছে। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে ধানের শীষের বিজয় এনে দিতে পারব বলে আমার বিশ্বাস।

এর আগে ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন এম মনজুর আলম। তিনি আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দিয়ে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাও হন।

কিন্তু নির্বাচনের দিন সকাল ১০টায় দলের নির্দেশে ভোট বর্জন নিয়ে তাকে সংবাদ সম্মেলন করতে হয়। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি। কিন্তু বিএনপির হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত মানতে তিনি বাধ্য ছিলেন। এ কারণে পরে তিনি বিএনপির সব পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে ৪ লাখ ৭৯ হাজার ১৪৫ ভোট পেয়ে নিজের রাজনৈতিক গুরু এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে প্রায় ৯৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে মেয়র হয়েছিলেন বিএনপি প্রার্থী মনজুর। পরে তাকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা করা হয়। বিএনপির টিকিটে মেয়র হলেও মনজুর আওয়ামী লীগের খোলস ছাড়তে পারেননি। সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করতেন নগর আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরীকে। এ ছাড়া বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান করে সেটির ব্যানারে সমাজসেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। এ নিয়ে বিএনপি নেতাদের ক্ষোভ ছিল তার প্রতি। তবু পরের নির্বাচনে তাকেই ধানের শীষের টিকিট দেয় বিএনপি। কিন্তু মনজুর নির্বাচনে আ জ ম নাছিরের কৌশলের কাছে কুলিয়ে উঠতে পারেননি।

এর আগে ১৯৯০ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উন্নীত হওয়ার পর বিএনপি থেকে মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করে সাবেক মন্ত্রী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন। মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন ১৯৯১ সালের ১২ মে থেকে ১৯৯৩ সালের ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর টানা তিনবার চট্টগ্রামের মেয়র হন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরী। এমনকি ২০০১ সালে বিএনপির সরকারের সময় অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও মীর নাছিরকে প্রায় এক লাখ ভোটে হারান মহিউদ্দিন। তবে মহিউদ্দিনের কর্তৃত্বে ভাগ বসান তারই শীর্ষ মনজুর। তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষের টিকিটে মহিউদ্দিনকে হারিয়ে দেন। পরবর্তীতে মনজুর আলম ২০১০ সালের ২০ জুন থেকে ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন ছাড়াও ৪১টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১৫টি সংরক্ষিত নারী আসনে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী দিবে বিএনপি। এজন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে দলটি। দলের পক্ষ থেকে কাউন্সিলর পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকা তৈরির কাজও চলছে।

দেশসংবাদ/জেআর/এনকে


আরও সংবাদ   বিষয়:  চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন   বিএনপি  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
টিকা না আসা পর্যন্ত করোনাকে সঙ্গী করেই বাঁচতে হবে
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up