ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২০ || ২২ চৈত্র ১৪২৬
শিরোনাম: ■ আজ থেকে ব্যাংক লেনদেন ৩ ঘণ্টা ■ ৮৯ শতাংশ রোগীর বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাস নেই! ■ আজ সংবাদ সম্মেলন করবেন প্রধানমন্ত্রী ■ ছুটির মধ্যেই অনলাইনে এনআইডি সেবা শুরু ■ করোনায় মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ৬৪ হাজার ■ ফতুল্লায় করোনায় হোসিয়ারি ব্যবসায়ীর মৃত্যু ■ অবশষে পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ■ নিউইয়র্কে ২৪ ঘণ্টায় ৬৩০ জনের মৃত্যু ■ ১১ এপ্রিল পর্যন্ত পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার আহ্বান ■ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত খেলাধুলা বন্ধ থাকবে ■ কারখানায় না এলে শ্রমিকদের চাকরি যাবে না ■ সব ভবিষ্যদ্বাণীকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে করোনা
জীবননগরে গৃহহীনদের ঘর নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম
জামাল হোসেন খোকন, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা)
Published : Tuesday, 18 February, 2020 at 1:33 PM

জীবননগরে গৃহহীনদের ঘর নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম

জীবননগরে গৃহহীনদের ঘর নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় গৃহহীনদের বরাদ্দকৃত বিনা মুল্যে ও ৫৬ টি ঘর নির্মানে ব্যাপক অনিয়ম দুর্ণীতি অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘর নির্মানে নিন্মামানের ইট, বালু, রড, নকশা পরিবর্তন ও সচ্ছলদেও মাঝে ঘর বরাদ্দ দেয়ায় সরকারের মহতি কাজ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জীবননগর উপজেলা ত্রান ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিস সুত্র জানা গেছে, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষন(টিআর) কর্মসুচির আওতায় গৃহহীনদের জন্য দূর্যোগ সহনীয় ৫৬ টি ঘর হতদরিদ্রদের মধ্যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। দুই কক্ষ বিশিষ্ট প্রতিটি ঘর হবে ২০ ফুট লম্বা ও প্রস্থ ৮ ফুট। চারদিকে ইটের দেয়াল আর ওপরে টিনের ছাউনি।

নিয়ম অনুযায়ী ঘরের ছাউনির কাজে মেহগুনি কিংবা কড়াই কাঠ ব্যবহার করতে হবে। ঘরের মেঝেতে তিন ইঞ্চি ঢালাই হবে। অন্যদিকে একই সাথে নির্মিত রান্না ও টয়লেট হবে ১৩ ফুট। ব্যবহৃত ইট হবে এক নম্বর এবং টিন হতে হবে পয়েন্ট ৪৬ মিলিমিটার পুরুত্বের রঙিন ঢেউটিন। নানা অজুহাতে নির্মাণাধীন ঘরগুলোর নির্মান কাজ চলছে ধীরগতিতে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুবিধাভোগীদের মধ্যে ঘর হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ঘটতে পারে। ঘর ও রান্না ঘরের মাঝখানে সাত ফুট করিডোর থাকতে হবে। যার ওপরে থাকবে টিউনের ছাউনি। এ প্রকল্পের উপজেলা কমিটির সভাপতি হলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সদস্য সচিব প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এবং প্রতিটি ঘরই একটি প্রকল্প। প্রতিটি ঘর নির্মানের ক্ষেত্রে নয় সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়েছে। গঠিত ওই কমিটি ঘর নির্মানের কাজ সম্পন্ন করবেন।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরজমিনে দেখা গেছে,প্রতিটি ঘর নির্মানে নানা অনিয়ম-দূর্ণীতির চিত্র। এসব অনিয়ম-দূর্ণীতি মেনে নিয়েই সুবিধাভোগীরা ঘর পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন। ঘর নির্মানের ব্যাপারে সুবিধাভোগীদের একাধিক ব্যাক্তির সাথে হলেও তারা ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। আবার অনেক সুবিধাভোগী অনিয়ম-দূর্ণীতির ব্যাপারে আংশিক তথ্য দিলেও তাদের প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

এলাকার হতদরিদ্রদেরকে ঘর না দিয়ে অপেক্ষাকৃত সচ্ছল ব্যাক্তিদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ঘর দেয়া হয়েছে মর্মে অনেক চেয়ারম্যান-মেম্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ঘর বরাদ্দ দিতে মোটা টাকা নেয়ার ব্যাপারে এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন থাকলেও ভয়ে মুখ খুলছেন না ভুক্তভোগীরা। ঘর নির্মানে সমস্ত ব্যয়ভার সরকার বহন করার কথা থাকলেও অনেক জায়গায় ঘরের মাটি ও বালু ক্রয়ে ভুক্তভোগী টাকা দিতে হয়েছে এমনও অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের সুটিয়া গ্রামের রিপন হোসেনের অভিযোগ তার নিকট থেকে ৪৭ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। ঘর নির্মাণে নকশা পরিবর্তন ও  নিন্মমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সুবিধাভোগীদের দাবী তারা ঘরের ব্যাপাওে মুখ খুললে পরে আর কোন সুবিধা তারা পাবে না। আবার পরে কোন ঝামেলায় পড়ে কিনা এমন আশঙ্কাও তাদের মধ্যে কাজ করছে। টাকা নিয়ে ঘর বরাদ্দ দেয়ার ঘটনা বাঁকা ইউনিয়ন ছাড়াও অন্যান্য ইউনিয়নেও ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অধিকাংশ ঘরই দেয়া হয়েছে দলীয় বিবেচনা আর স্বজনপ্রীতিতে।

উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে নতুন চাকলার সুবিধাভোগী  হাফিজুর রহমান হাফি বলেন,আমরা মুর্খ মানুষ কি ভাবে বুঝব ইট-বালু ভাল দিচ্ছে না খারাপ দিচ্ছে। ঘর নির্মানে ব্যবহৃত রড অত্যন্ত নিন্মমানের। মিস্ত্রি মিঠু বলছেন ১০০ কেজি রড। আবার চেয়ারম্যান বলছেন ৮৫ কেজি। তবে আমরা কোন কিছু মেপে দেখিনি।

বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের প্রধান বলেন,আমি বিধি অনুযায়ী হতদরিদ্রদের মধ্যে সরকারী ঘর বরাদ্দ দিয়েছি। কারো নিকট থেকে কোন টাকা পয়সা নিইনি। আমার নাম করে কেউ টাকা নিয়ে থাকলে তার দায়-দায়িত্ব তো আর আমি নিব না। আমার নামে যারা এসব কাজ করে বেড়াচ্ছে তারা কোন ভাবেই টাকা নেয়ার ব্যাপারটি প্রমান করতে পারবে না। তবে আমাকে রাজনৈতিক ভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে আমার প্রতিপক্ষরা আমাকে সুবিধাভোগীদেরকে নানা ভাবে হুমকি ধামকী দিয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আদায়ের চেষ্টা করছেন। সবচেয়ে বড় কথা সব ইউনিয়নে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠলেও একটি চক্র শুধুই আমার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে আমাকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন,যে সব ইউনিয় ঘর বরাদ্দ পেয়েছে,তারা অনেকটাই বাধ্য হয়েই টাকা নিচ্ছে। কারণ প্রতি ঘরের অনুকুলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে মোটা অংকের টাকা গুনতে হয়। তাহলে তারা ওই টাকাটা পাবে কোথায়?

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের সহকারী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম টগর বলেন,আমি একা দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলার দায়িত্ব পালন করে থাকি। একার পক্ষে দু’টি অফিসের সমস্ত কাজ সামাল দেয়া কঠিন। তারপরও কাজের ব্যাপারে অভিযোগ যখন উঠেছে,তখন পরিদর্শন করে জড়িতদের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিরাজুল ইসলাম বলেন,বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের প্রধানের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে ঘর বরাদ্দ দেয়ার ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকার ঘর নির্মানের ব্যাপারে যে ভাবে নির্দেশনা দিয়েছে সে ভাবেই করতে হবে। অন্যথায় অভিযোগ পাওয়া গেলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এনকে


আরও সংবাদ   বিষয়:  চুয়াডাঙ্গা   জীবননগর   ঘর নির্মান   অনিয়ম  



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft