ঢাকা, বাংলাদেশ || শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২০ || ২১ চৈত্র ১৪২৬
শিরোনাম: ■ রোববার থেকে ১০ টাকায় চাল ■ চীনে করোনায় মৃত্যু ৪৭ হাজার ■ বাংলাদেশে ২০-৫০ লাখ মৃত্যুর আশঙ্কা অতিরঞ্জিত ■ বাংলাদেশকে ১০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্ব ব্যাংক ■ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি ■ অকারণে বাইরে গেলে কঠিন ব্যবস্থা নেয়া হবে ■ চাকরি বাঁচাতে ঢাকামুখী মানুষের ঢল! ■ নিউইয়র্কে ঘণ্টায় ২৩ জনের মৃত্যু! ■ করোনায় বিশ্বব্যাপী মৃত্যু সংখ্যা ৬০ হাজার ■ কথাবার্তা ও স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাসেও করোনা ছড়াতে পারে ■ একদিনে করোনায় আক্রান্ত একলাখ মানুষ ■ রোববার খুলছে সব পোশাক কারখানা
হাবিপ্রবিতে শিক্ষককে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ প্রতিবাদে মানববন্ধন
হাবিপ্রবি প্রতিনিধি
Published : Tuesday, 18 February, 2020 at 4:01 PM

হাবিপ্রবিতে শিক্ষককে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ প্রতিবাদে মানববন্ধন

হাবিপ্রবিতে শিক্ষককে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ প্রতিবাদে মানববন্ধন

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) রিজেন্ট বোর্ড এর সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদের সভাপতি এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. ফাহিমা খানমকে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদ।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। মানববন্ধনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদ এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ” রিজেন্ট বোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম। সেই রিজেন্ট বোর্ড এর একজন সম্মানিত সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদের সভাপতি এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. ফাহিমা খানমকে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি চালক মো. জাহাঙ্গীর আলম । যেখানে বর্তমান সরকার কর্মক্ষেত্রে নারীদের সর্বোচ্চ মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের উপর জোর দিয়ে যাচ্ছেন সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বয়োজেষ্ঠ্য নারী অধ্যাপককে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ করা কি পরিমাণ ধৃষ্টতার পরিচয় বহন করে তা আপনারা দেশবাসী ও দেশের পুরো নারীসমাজ নির্ধারন করবেন।

বক্তারা বলেন, অসুস্থ মানুষিকতার এসব মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়, দেশ ও সমাজের শত্রু। গাড়ি চালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের এধরণের ধৃষ্টতা এটাই নতুন নয়। এর পূর্বেও ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ সালে এই কর্মচারী শিক্ষক ফোরামের একটি সভায় পূর্বানুমতি ব্যতীত প্রবেশ করে প্রশাসনের সহায়তাকারী শিক্ষকদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে লাঞ্চিত করেন। এছাড়াও ঐ কর্মচারীর নেতৃত্বে ৩, ৪ জন উশৃঙ্খল কর্মচারী বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকবৃন্দকে কুরুচিপূর্ণভাবে ব্যঙ্গ করে থাকেন।

মানববন্ধনে শিক্ষকরা দাবি জানায়, কয়েকদিন আগে আমরা জানতে পেরেছিলাম, গাড়ি চালক মো. জাহাঙ্গীর আলম এর নেতৃত্বে কর্মচারীরা প্রশাসনে সহায়তাকারী শিক্ষকদের শহরের বিভিন্ন জায়গায় লাঞ্চিত করার পরিকল্পনা নিয়েছিল। যাতে আমরা সদা শঙ্কিত ও ভীতসন্ত্রন্ত থাকি। এর পরিপ্রেক্ষিতে দিনাজপুর কোতয়ালি থানায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরিও করেন উক্ত শিক্ষকগণ। এই কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সামনে পেলেই কটুক্তি করে গালিগালাজ করেন যা তার নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। তার এ ধরণের কর্মকান্ডের জন্য সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মোশাররফ হোসেন মিঞাঁ ও প্রফেসর ড.এম. আফজাল হোসেন এর সময় ওই কর্মচারীকে ওএসডি করে রাখা হয়েছিল। সদ্য সাবেক উপাচার্যের সময় অনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ কয়েকটি ইনক্রিমেন্ট গ্রহণ করে। যা সম্প্রতি রিজেন্ট বোর্ড তা বাতিল করে দেয়।

গাড়ি চালক মো. জাহাঙ্গীর আলম যে একজন সন্ত্রাসী তার প্রমাণ হচ্ছ,তারই সাবেক স্ত্রীর করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা এবং হাবিপ্রবির দুই শিক্ষার্থী তথা জোড়া খুনের মামলারও অন্যতম প্রধান আসামী হওয়া।নারী নির্যাতন, মারপিট, গালিগালাজ এসব কোন কিছুই তার জন্য নতুন ঘটনা নয়। একটি বিশেষ মহলের আস্কারা পেয়ে সে দিন দিন আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে। এই সন্ত্রাসীর হাতে নারী, শিশু, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ কেউই নিরাপদ নয়। আমরা শুধু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছেই নয়,দেশের নারী সমাজসহ পুরো দেশবাসীর এবং বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই সন্ত্রাসী গাড়ি চালকের বিচার চাই ।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ডা. মো.ফজলুল হক বলেন, ” স্বাধীনতার এতো বছর পর মুজিববর্ষে এসে তারই প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন নারী প্রফেসর এভাবে অপমানিত হবেন তা কল্পনা করতেও খারাপ লাগছে। আমরা  মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদের পক্ষে থেকে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। অন্যথায় আমরা আরো কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হব।”

মানববন্ধনে আরো বক্তব্য প্রদান করেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. ভবেন্দ্র কুমার বিশ্বাস, সহ-সভাপতি প্রফেসর ড.মো.শাহাদত হোসেন খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড.মো.তারিকুল ইসলাম, প্রফেসর ড.মো.খালেদ হোসেন, প্রফেসর রোজিনা ইয়াসমিন লাকী, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর ড. ইমরান পারভেজ প্রমুখ।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/আইশি


আরও সংবাদ   বিষয়:  হাবিপ্রবি   অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ   গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদ  



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft