ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ৩১ মে ২০২০ || ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ এবার পাসের হারে এগিয়ে রাজশাহী ■ জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ শিক্ষার্থী ■ যেভাবে জানা যাবে এসএসসি ও সমমানের ফল ■ এসএসসি-সমমানে পাসের হার ৮২.৮৭ শতাংশ ■ বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, আরও ৯৬০ জনের মৃত্যু ■ ৬৬ দিন পর অফিস খুলছে আজ, চলবে বাস ট্রেন লঞ্চ ■ ভাসছে ধান ভাসছে কৃষকের স্বপ্ন ■ আপাতত বন্ধ একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ■ মহাকাশের পথে প্রথম প্রাইভেট রকেটের যাত্রা ■ ডিসেম্বরের আগেই বাজারে আসছে করোনা ভ্যাকসিন ■ আজ সকাল ১১টায় এসএসসি’র ফল প্রকাশ ■ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১৮ নির্দেশনা
আজমিরীগঞ্জে সম্পত্তির লোভে বাবাকে গলাকেটে হত্যা
দেশসংবাদ, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
Published : Thursday, 20 February, 2020 at 10:14 AM
Zoom In Zoom Out Original Text

আজমিরীগঞ্জে সম্পত্তির লোভে বাবাকে গলাকেটে হত্যা

আজমিরীগঞ্জে সম্পত্তির লোভে বাবাকে গলাকেটে হত্যা

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে সম্পত্তির জন্য বাবাকে গলাকেটে হত্যার পর মাথা নদীতে আর দেহ ফেলে দিয়েছে জঙ্গলে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনও করেছে।

এদিকে হত্যার পর ভূয়া মোবাইল ফোন নাম্বার ব্যবহার করে বাবা নিখোঁজের সংবাদ জানিয়ে নিজেই থানায় সাধারণ ডায়রি করেছে। অপরদিকে নিহতের ভাই আদালতে সাধারণ ডায়রির বাদি, তার মা, ভাই ও বোনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সাধারণ ডায়রি আর মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসে হত্যার লোমহর্ষক সব তথ্য।

বুধবার রাতে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে হত্যায় অংশ নেয়া গ্রেফতারকৃত এক আসামীর আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা। নিহত ব্যক্তি আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের কুমেদপুর গ্রামের বাসিন্দা হাজী উমর আলী (৬৫)। তিনি দু’টি বিয়ে করেছেন। দ্বিতীয় বিয়ে করায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রথম স্ত্রী ও সন্তানরা এমন লোমহর্ষক হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা বলেন, হত্যায় সরাসরি অংশ নেয় ৩ জন। পরিকল্পনা এবং সহযোগিতায় জড়িত ছিল আরও একাধিক ব্যক্তি। সোর্স নিয়োগ ও প্রযুক্তির ব্যবহার করে হত্যায় সরাসরি অংশ নেয়াদের মধ্যে মনির আহমেদ (৩০) নামে একজনকে সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সাধারণ কৃষক সেজে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। সে জকিগঞ্জ পৌর এলাকার দক্ষিণ নয়াগ্রাম এলাকার এমাদ উদ্দিনের ছেলে।

পরে মনিরের দেয়া তথ্যে তার শাশুড়ি একই জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার কালাইউড়া গ্রামের মৃত জুবেদ আলীর স্ত্রী সুফিয়া খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়। মনিরকে নিয়ে হত্যার ঘটনাস্থল কালাইউড়ায় সোনাই নদীর তীরে যায়। পরে বিয়ানীবাজার থানায় তথ্য নিয়ে মস্তকবিহীন বেওয়ারিশ লাশের কঙ্কাল উদ্ধারের কথা জানতে পারে পুলিশ। থানায় নিহতের জ্যাকেটসহ কাপড়চোপড় দেখে গ্রেফতারকৃত মনির তা সনাক্ত করে। এসব ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব আহমেদ তালুকদারের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

জবানবন্দিতে সে জানায়, নিহত হাজী উমর আলীর ছেলে কাউসার আহমেদ সিলেট এমসি কলেজে পড়াশোনা করতো। আর সিলেটে একটি মুরগীর দোকানে কাজ করতো মনির আহমেদ। সেখানেই তাদের মধ্যে পরিচয় হয়। সে কাউসারকে মামা বলে ডাকতো। একদিন কাউসার নিজের এলাকার একজন খারাপ লোককে শায়েস্তা করতে হবে বলে জানায়। এতে সেও রাজি হয়ে যায়। পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী বাবা হাজী উমর আলীকে সে বিয়ানীবাজারের কালাইউড়ায় নিয়ে যায়।

সেখানে মনিরসহ অন্যান্য আসামীদের সহায়তায় তাকে জবাই করে হত্যার পর মাথা নদীতে ফেলে দেয়। আর মৃতদেহ একটি টিলায় ফেলে রাখে। হত্যার পর সে কাওয়াসারের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকাও নেয়। ওই দিন রাতে মনিরের শ^শুর বাড়িতে খাওয়া দাওয়া ও রাত যাপন করে হত্যাকারীরা।
পুলিশ জানায়, নিহত হাজী উমর আলী দ্বিতীয় বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা বসবাস করছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথম স্ত্রী আদালতে স্বামীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন আছে।

প্রথম স্ত্রীর ঔরষজাত সন্তান কাউসার আহমেদ গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বাবাকে মামলার আপোষের কথা বলে প্রথমে হবিগঞ্জ এবং পরবর্তীতে সিলেট যেতে বলে। ছেলের কথামতো তিনি প্রথমে হবিগঞ্জ এবং পরবর্তীতে সিলেট যান। কিন্তু যাওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। গত ৬ জানুয়ারী কাউসার আজমিরীগঞ্জ থানায় বাবার নিখোঁজের সংবাদ জানিয়ে সাধারণ ডায়রি করে। এতে নিজের ভূয়া মোবাইল ফোন নাম্বার ব্যবহার করে।

সাধারণ ডায়রি করার পর বাড়িতে এসে সে বাবার পালিত ৪টি গরু বিক্রি করে দেয়। বাবার জমির দলিলপত্র নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করে। এতে স্বজনরা বাধা দেন। এক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরী হয় তার চাচা মো. নায়েব আলীর। বাবার নিখোঁজে ছেলে ব্যথিত হওয়ার বদলে গরু বিক্রি করছে। জমির দলিপত্র খোঁজছে। এমতাবস্থায় তিনি ভাবী, ভাতিজা, ভাতিজিসহ ৫ জনকে আসামী করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য আজমিরীগঞ্জ থানায় প্রেরণ করেন। এরপর থেকে কাউসার আহমেদসহ তার সঙ্গীয়রা আত্মগোপন করে। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় আজমিরীগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত মোহাম্মদ আবু হানিফকে।

তিনি বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মো. সেলিমের সহায়তা ও নির্দেশনায় মামলাটির তদন্ত শুরু করেন। বিভিন্ন স্থানে সোর্স নিয়োগ করেন। একই সাথে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমেও আসামীদের সনাক্ত করার চেষ্ট অব্যাহত রাখেন।

অবশেষে হত্যায় সরাসরি অংশ নেয়া মনির আহমেদকে সনাক্ত করে তাকে গ্রেফতারে অভিযানে নামেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা একজন সাধারণ কৃষক সেজে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেন। মামলার অন্য আসামীরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এনকে


আরও সংবাদ   বিষয়:  হবিগঞ্জ   আজমিরীগঞ্জ   গলাকেটে হত্যা  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
ইউনাইটেডে আগুনে পুড়ে ৫ করোনা রোগীর মৃত্যু
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up