ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০ || ১৪ চৈত্র ১৪২৬
শিরোনাম: ■ ইতালিতে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াল ■ রোববার থেকে সীমিত আকারে ব্যাংক চালু থাকবে ■ করোনার গুজব নিয়ে যে সতর্কবার্তা দিলো সরকার ■ সময় ফুরাবার আগেই চিন্তা করতে হবে কোন পথে হাঁটবো? ■ করোনায় আক্রান্ত জাতিসংঘের ৮৬ কর্মী ■ ব্রিটেনে ২৪ ঘণ্টায় ২৬০ জনের মৃত্যু ■ করোনা পরীক্ষার কিট তৈরি করলেন ভারতীয় নারী! ■ আকিজের হাসপাতাল বানানোর খবরে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ■ সারা বিশ্বেই সরকারের ওপর আস্থা হারাচ্ছে মানুষ ■ বাংলাদেশ থেকে ২৫ মেডিক্যাল আইটেম নেবে যুক্তরাষ্ট্র ■ সুস্থ হয়ে আবারও করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে চীনে ■ নিউইয়র্কে করোনায় আরও ৪ বাংলাদেশির মৃত্যু
বইমেলা হোক বিশ্বমুখী
এম. জুবায়ের হোসেন
Published : Tuesday, 25 February, 2020 at 5:41 PM, Update: 25.02.2020 5:45:17 PM

বইমেলা

বইমেলা

পরোক্ষভাবে হলেও সব কিছুরই একটা বাহ্যিক রুপ আছে। বাঙ্গালীর জ্ঞানের বাহ্যিক রুপ হলো বইমেলা। আহমদ ছফার সাক্ষাৎকারে ‘যদ্যপি আমার গুরু’ বইয়ে প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক বলেছেন- কোন এলাকার মানুষ কেমন বা কতটুকু জ্ঞানী তা বুঝা যায় ঐ এলাকার লাইব্রেরীর বই দেখে।

সংজ্ঞত কারনেই বই মেলাকে শুধু বই বিকিকিনির মেলা ভাবা যুক্তিযুক্ত নয়। বইমেলা হলো বাঙ্গালীর জ্ঞানের প্রতিচ্ছবি। আগামী প্রজন্মের জেগে ওঠার সম্ভাবনা,শিল্প,সংস্কৃতি,ধর্ম,নারীর ক্ষমতায়ন,গবেষণা,জাতীয়তা, মানবতা,রাজনীতি,বিজ্ঞান সব কিছুরই একটা ক্ষুদ্র প্রতিবিম্ব হলো এ মেলা। জ্ঞানের কোন সীমা নেই,নেই জাত ধর্মও। তাই এই মেলাকে ছড়িয়ে দিতে হবে বিশে^র আনাছে-কানাছে। বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করতে পেরেছি কিন্তু আমরা কি বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক দরবারে পৌঁছাতে পেরেছি ?

বইমেলাকে বিশ্বমুখী করা গেলে অতি সহজে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিশ্ববাসী চর্চা করতে বাধ্য হবে। বিশ্বগ্রামের যুগে বাংলাদেশের প্রায় সব উৎসব এবং মেলাই আন্তর্জাতিক মানদন্ডে হয় শুধু বইমেলাটাই জাতীয় রয়ে গেল। ফোক ফেস্ট, লিট ফেস্ট ও ফিল্ম ফেস্ট সব গুলোতেই  প্রকৃত আন্তর্জাতিক রুপ-রেখার দেখা মিলে শুধু বইমেলাটা ছাড়া। আমরা যদি কলকাতা বই মেলার দিকে তাকাই -এটিকে অনেক জরিপে বিশে^র তৃতীয় বইমেলা হিসেবে ধরা হয়। এই মেলায় প্রতি বছরই একটি বিদেশি দেশকে থিম কান্ট্রি হিসেবে রাখা হয়। এ বছরও ২৯ জানুয়ারী উদ্বোধন হওয়া বই মেলাতে থিম কান্ট্রি ছিল রাশিয়া।

প্রতিদিনই ইউরোপ,আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রখ্যাত লেখক,প্রকাশক ও দর্শকদের অংশগ্রহন ঘটেছে। কলকাতার সাহিত্যের কথা ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপ,আমেরিকাতেও। এজন্যই ইন্ডিয়াতে আন্তর্জাতিক মানের বড় বড় সাহিত্যিক সৃষ্টি হচ্ছে এবং ইন্ডিয়ার ভাষা ও সাহিত্য ঘষা-মাজা হচ্ছে বিশ^ব্যাপী। একুশে বইমেলার প্রাচীন চিন্তার আয়োজন থেকে আমাদেরকে বের হয়ে আসতে হবে। বইমেলার আয়োজন করা বাংলা একাডেমীর কাজ ও উদ্দেশ্য কোনটাই নয়। এ মেলা করার মত অতীতে আমাদের শক্তি ছিল না বলে ঠেকায় পড়ে এ কাজ বাংলা একাডেমির কাঁধে পরে গিয়েছিল।

এ ঠেকায় পড়া আয়োজন বাদ দিয়ে আমরা সময় উপযোগী মেলার আয়োজন করতে হবে। আমরা যদি বিশ্বের বড় বড় বই মেলাগুলোর দিকে তাকাই ধরা যাক- ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা জার্মানি,তুরিন বইমেলা ইটালী,লন্ডন বইমেলা লন্ডন,টকিও বইমেলা জাপান এবং আমাদের কলকাতার বইমেলার দিকে তাকাই তাহলে সবগুলোর আয়োজকই হলো লেখক-প্রকাশকরা বা প্রকাশনা সংস্থা।

একুশে বইমেলার ক্ষেত্রেও তাই করা অপরিহার্য। বইমেলার আয়োজকরা সারা বছর শুধু বইমেলা নিয়েই কাজ করবেন,ভাববেন। কিন্তু বাংলাদেশের লেখক, প্রকাশক থেকে শুরু করে মেলার আয়োজ্ক পর্যন্ত প্রতিটি স্তরেই গলদ আছে  বিস্তর। ভাবতে হবে লেখক-প্রকাশকের কাজের মান এবং সুযোগ-সুবিধা নিয়েও। সারা জীবন জ্ঞানের পিছনে ব্যয় করে ভিক্ষা করে যেন চিকিৎসা চালাতে না হয়,অনাহারে যেন মারা না যায়। বই কিনতে যেয়ে স্টল আর বই খুঁজতে খুঁজতে মানুষ যেন হয়রান না হয়। স্টল খুঁজা,পছন্দের বই খুঁজে পাওয়ার জন্য ভালো এ্যাপস তৈরি করা যেতে পারে।

একটু বৃষ্টি হলেই যেন ষোল কোটি মানুষের জ্ঞান বুদ্ধি পানিতে না ভাসে। অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা মাথায় রেখেই স্টল স্থাপন করতে হবে। প্রচার না, লেখক-প্রকাশকের হকারি বন্ধ করতে হবে। লেখকের লেখার মান নিয়ে যেমন প্রশ্ন আছে, ঠিক তেমনি প্রশ্ন আছে প্রকাশকের অর্থ বিনিয়োগের পুজি বা জ্ঞানের পুজি নিয়েও। তড়িগড়ি করে কোন রকমে একটা বই ছাপিয়ে লেখক হয়ে সামাজিক প্রতিপত্তি অর্জন করা মূল লক্ষ্য অধিকাংশেরই। অবশ্যই সবাইকে লেখক হতে হবে না,তবে পাঠক হতেই হবে।

বই পড়া  বা প্রকাশ করা যেন ফ্রেবুয়ারি মাস কেন্দ্রিক হয়ে গেছে। মাসব্যাপী ব্যস্ত ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে বইমেলা করাটা কতটা যুক্তিযুক্ত গভীর ভাবনার বিষয়! প্রকাশক ও দর্শকের ভিত্তিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বইমেলা হলো জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের যা অনুষ্ঠিত হয় মাত্র পাঁচ (০৫) দিনের জন্য,এতে অংশগ্রহন করে একশত দশটি (১১০+) দেশের ও বেশী লোক।

বিশ্ববিখ্যাত লন্ডন বইমেলা হয় সাতদিন (০৭) ধরে। ইতালির তুরিন বইমেলা হয় পাঁচদিন (০৫) ধরে,আমাদের পার্শবর্তী কলকাতার বইমেলা হয় দশ-বারো (১০-১২) দিন ব্যাপী। জগৎ বিখ্যাত মেলাগুলো অল্পদিন ব্যাপীই আয়োজন করা হয় এতে করে মেলার খরচ,সৌন্দর্য,নিরাপত্তা,আকর্ষণ সবকিছুই ঠিক রাখা যায়। তবে যেহেতু একুশে বইমেলাকে বাংলা ভাষার উৎসব বলা হয় সেহেতু আমরা বছরে দুইটি মেলা করতে পারি।

পাঁচদিন জাতীয় বইমেলা  আর পাঁচদিন আন্তর্জাতিক বইমেলা। একমাস ধরে মেলা করলে যাদের অংশগ্রহন ঘটবে,পাঁচ দিন ধরে করেলেও যে খুব কম হবে তা নয় কিন্তু। সহজভাবে বলা যায় পাঁচ দিনের কাজ একমাসে করাটা এক প্রকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেওয়া। বইমেলাকে বিশ্বমুখী করা গেলে মেলার সৌন্দর্য,নিরাপত্তা,গ্রহনযোগ্যতা,প্রচারনা ও লেখক-প্রকাশকের মান ও হবে বিশ^মানের। মেলার উদ্বোধনী দিনে দেশীয় খ্যাতিমান লোকদের সাথে বিদেশী লেখক ও প্রকাশক দ্বারা মেলা উদ্বোধন করা গেলে দেশী সাহিত্যের সেতু বন্ধন ঘটবে বিশ্বসাহিত্যের সাথে।

বুদ্ধিজীবী, আমলা, এমপি-মন্তীসহ সমাজের উঁচুস্তরের লোকদের নিয়মিত পদচারণা ঘটবে মেলায়। প্রতিদিন বইমেলায় দেশী-বিদেশী বিখ্যাত ব্যক্তিদের অংশগ্রহন ঘটলে আমাদের নতুন প্রজন্ম লেখালেখির প্রতি আরো বেশী উদ্বুদ্ধ হবে। জ্ঞান সংক্রান্ত কাজগুলো হবে আন্তর্জাতিক মান চিন্তা করে। বইয়ের প্রচ্ছদ,লেখার মানে আসবে বিশাল পরিবর্তন । আমাদের সাহিত্য ধোয়া-মোচা হবে, ট্রান্সলেট হবে বিশ্বজুরে। সাহিত্যে আন্তর্জাতিক পুরস্কার আরো বাড়বে। দূর হবে বিশ্ববাসীর নেতিবাচক ধারনা বাংলা ভাষা-সাহিত্য ও বাঙালী জাতি সম্পর্কে।

এভাবে এ মেলাই হতে পারে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্বমুখী করার একটা যুগউপযোগী প্রক্রিয়া। বইমেলা বিশ্বমুখী করার জন্য সরকার, বুদ্বিজীবী, লেখক, প্রকাশক, মিডিয়াসহ সকল জ্ঞানপ্রেমীদের মনে শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।

এম. জুবায়ের হোসেন
শিক্ষক ও গবেষক।
সাবেক শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ইংরেজি বিভাগ।         

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এনকে


আরও সংবাদ   বিষয়:  বইমেলা   এম. জুবায়ের হোসেন  



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft