ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০ || ১৪ চৈত্র ১৪২৬
শিরোনাম: ■ ইতালিতে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াল ■ রোববার থেকে সীমিত আকারে ব্যাংক চালু থাকবে ■ করোনার গুজব নিয়ে যে সতর্কবার্তা দিলো সরকার ■ সময় ফুরাবার আগেই চিন্তা করতে হবে কোন পথে হাঁটবো? ■ করোনায় আক্রান্ত জাতিসংঘের ৮৬ কর্মী ■ ব্রিটেনে ২৪ ঘণ্টায় ২৬০ জনের মৃত্যু ■ করোনা পরীক্ষার কিট তৈরি করলেন ভারতীয় নারী! ■ আকিজের হাসপাতাল বানানোর খবরে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ■ সারা বিশ্বেই সরকারের ওপর আস্থা হারাচ্ছে মানুষ ■ বাংলাদেশ থেকে ২৫ মেডিক্যাল আইটেম নেবে যুক্তরাষ্ট্র ■ সুস্থ হয়ে আবারও করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে চীনে ■ নিউইয়র্কে করোনায় আরও ৪ বাংলাদেশির মৃত্যু
বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা প্রক্রিয়া কেমন হওয়া উচিত?
কাজী এস. ফরিদ
Published : Thursday, 27 February, 2020 at 11:00 AM

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা

আমাদের দেশে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর প্রায় সকল শিক্ষার্থীর আশা আকাঙ্খা থাকে তারা মেডিকেলে অথবা একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষা প্রক্রিয়া শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের জন্য একটি কষ্টদায়ক অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়ায় যেখানে অনেক ভোগান্তির সাথে সাথে তাদের সময় ও অর্থের প্রভূত অপচয় হয়।  শিক্ষার্থীদের এই দুর্ভোগ লাঘব করার জন্য অনেক দিন থেকেই সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার দাবী উত্থাপিত হয়ে আসছে। যদিও সেটার বাস্তবায়ন সম্ভবপর হচ্ছিল না।

কয়েক বছর আগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ মুহম্মদ জাফর ইকবাল পরীক্ষামূলকভাবে গুচ্ছ পরীক্ষার দ্বারপ্রান্তে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছিলেন। তারপর মহামান্য রাষ্ট্রপতির একান্ত উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) প্রচেষ্টায় কৃষি-সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তরিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে কৃষি-সংশ্লিষ্ট ৭টি বিশ্ববিদ্যালয় সফলভাবে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করে। যদিও ভর্তি পরীক্ষায় ইউজিসির আহবায়কের দায়িত্বে থাকার বিষয়টি নিয়ে অনেকে অসন্তুষ্ট ছিল। এই সফলতা ইউজিসিকে সকল বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করার জন্য সাহসী করে তোলে। তদানুযায়ী সমগোত্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ নিয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়।

কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে আলোচনার নাটকীয় মোড় নেয়। ইউজিসি সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ধারণা থেকে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে যায়। কিছুদিন আগে অনেকটা আকস্মিকভাবে গুচ্ছভিত্তিক বা সমন্বিত পরীক্ষার পরিবর্তে কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, কলা, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য শাখার বিষয়গুলোর জন্য তিন দিনে তিনটি পৃথক ভর্তি পরীক্ষা হবে। এই নব্য আবিষ্কার কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এমনকি ১৯৭৩ এর অধ্যাদেশে পরিচালিত ৪টি বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েট ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে তাদের অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা


বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট প্রায় সবাই মনে করে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার ধারণাটি সম্পূর্ণভাবে অবিবেচনা প্রসূত। ইউজিসিকে মনে রাখতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা অথবা গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা আর কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা এক বিষয় নয়। কৃষি-সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক সমাজ শিক্ষার্থীদের কষ্টের কথা অনুধাবন করে তা দূর করার  আন্তরিকতা থেকেই  গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় রাজি হয়েছিল, অন্য কিছুতে নয়। এই সুযোগে কোন ভুল মডেল চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা কোনভাবেই ঠিক হবে না। এই চেষ্টা অপচেষ্টা হওয়ার এবং সূদুরপ্রসারী কোন চক্রান্তের অংশ হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে বলেই বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের কষ্ট দূর করার জন্যে নয় বরং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইউজিসির কর্তৃত্ববাদী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করারই অপচেষ্টা এটা।

কৃষি-সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে হলেও ভর্তি প্রক্রিয়ায় জটিলতা বেড়েছে। এই কারণে  ভর্তি পরীক্ষা কমিটি ও শিক্ষার্থীদের ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। তাই সকল বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে এই প্রক্রিয়ায় কতটুকু সফল হওয়া যাবে বা এই প্রক্রিয়া পরিচালনার সক্ষমতা আদৌ আছে কিনা  তা নিয়ে সংশয় আছে। কেউ কেউ মনে করেন ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যে পারিশ্রমিক পান তা বন্ধ হয়ে যাবে বলেই তারা সমন্বিত বা কেন্দ্রীয় পরীক্ষার বিরোধিতা করেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৫% শিক্ষকের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এটা একটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া অভিযোগ। ভর্তি বাণিজ্য নিয়ে যে একটা কথা সমাজে চালু আছে তার সাথে অন্তত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষক সমাজের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার পক্ষে কথা বলতে গিয়ে অনেকেই মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষার সফলতার কথা বলেন। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষা আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা এক বিষয় নয়। মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষার পরিসরটি অনেক ছোট, সেটাকে উদাহরণ হিসেবে নেওয়া ঠিক হবে না। মেডিকেলের ক্ষেত্রে শুধু কলেজের অপশন দিতে হয়। অপরপক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপশন দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈচিত্রময় অনেকগুলো বিষয়ের অপশন দিতে হবে যেটার ব্যবস্থাপনা অনেক জটিল হবে। 

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা


তার চেয়ে ও বড় কথা হচ্ছে, বাংলাদেশে পাবলিক পরীক্ষা বা চাকুরীর নিয়োগ পরীক্ষা বা মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় নকল, দুর্নীতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস ইত্যাদি নিত্য নৈমত্তিক ঘটনা। তাই কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়া নিয়ে সংশয় আছে এবং এটার অভিজ্ঞতা ভাল হওয়ার সুযোগ নাই। তাছাড়া কোন শিক্ষার্থী যদি দুর্ঘটনাবশত বা অসুস্থতাজনিত কারণে কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় অঙশগ্রহন করতে না পারে অথবা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয় তাহলে তার আর কোন অপশন থাকবেনা। ফলশ্রুতিতে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। তাই এটা নিয়ে আমাদের ভাবার যথেষ্ট অবকাশ আছে। আপাতত কাছাকাছি বৈশিষ্ট্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ে সমন্বিত অথবা গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা হতে পারে, কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা নয়। কারণ কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা শুধু বিশৃঙ্খলা তৈরী করবে, কোন সমাধান দিতে পারবে না।

এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্তটি আত্নঘাতী হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কখনোই তাড়াহুড়ো করে হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় নয়।  কারণ দূরদৃষ্টি নিয়ে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে যদি এ ধরণের কাজ না করা হয় তাহলে মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যাবে। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেধার সঠিক মূল্যায়ন হয় বলেই এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখনো গরিব পরিবারের সন্তানেরা ভর্তির সুযোগ পায়। কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা তাদের সেই সুযোগ সীমিত করে দিতে পারে। তাই আপাতত এই চিন্তা বাদ দিয়ে সমগোত্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ নিয়ে ১৩টি (মেডিকেল সহ) গুচ্ছ অথবা সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে (সারণিতে প্রদত্ত ক্রম অনুযায়ী, গুচ্ছ নিয়ে ভাবার অবকাশ আছে)। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের ৩য় শনিবার থেকে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়ে প্রতি শনিবার চলবে এবং একটি গুচ্ছ পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৪ দিনের মধ্যে অর্থাৎ বুধবারের মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করতে হবে। তাহলে কোন একজন শিক্ষার্থী উক্ত পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়ে গেলে পরবর্তী আর কোন পরীক্ষায় সে অংশগ্রহণ করবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা


সারণি: বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের গুচ্ছসমূহ

ক্রমিক-বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের গুচ্ছ-সমন্বয়কারী বিশ্ববিদ্যালয়

০১. বুয়েট ও অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট, রুয়েট, কুয়েট ও ডুয়েট)-বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)
০২. মেডিকেল কলেজ সমূহ-ঢাকা মেডিকেল কলেজ
০৩. ১৯৭৩ এর অধ্যাদেশভুক্ত ৪টি বিশ্ববিদ্যালয় (বিজ্ঞান)-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
০৪. কৃষি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় (বিজ্ঞান)-বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)
০৫. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও টেক্সটাইল (বিজ্ঞান)-শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
০৬. অন্যান্য সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়  (বিজ্ঞান)-খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
০৭. ১৯৭৩ এর অধ্যাদেশভুক্ত ৪টি বিশ্ববিদ্যালয়  (বাণিজ্য)-রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়  
০৮. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বাণিজ্য)-হাজি মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
০৯. অন্যান্য সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় (বাণিজ্য)-ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়
১০. ১৯৭৩ এর অধ্যাদেশভুক্ত ৪টি বিশ্ববিদ্যালয় (কলা)-চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়  
১১. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান)-মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
১২. অন্যান্য সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় (কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান)-জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
১৩. ১৯৭৩ এর অধ্যাদেশভুক্ত ৪টি বিশ্ববিদ্যালয় (সামাজিক বিজ্ঞান ও ল)-জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

লেখক :
কাজী এস. ফরিদ
সহযোগী অধ্যাপক, গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।    

দেশসংবাদ/কেএসএফ/এফএইচ/mmh


আরও সংবাদ   বিষয়:  বিশ্ববিদ্যালয়   ভর্তি পরীক্ষা  



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft