ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০ || ২৯ আষাঢ় ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ এবার খুলনায় মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে ■ মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আগুন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ■ করোনায় যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের মৃত্যু ■ পানিবন্দি দেড় লক্ষাধিক মানুষ ■ অনলাইন নিউজপোর্টাল নিবন্ধন চলতি মাসেই ■ এবার ঈদের ছুটি বাড়ছে না ■ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৩০৯৯, মৃত্যু ৩৯ ■ ভারতে একদিনে আক্রান্ত ২৮ হাজার, মৃত ৫০০ ■ সাহেদের দুর্নীতির অনুসন্ধানে দুদক ■ তিন দিনের রিমান্ডে সাবরিনা ■ একদিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণের রেকর্ড ■ শৈলকুপায় একই পরিবারের ৯ জনের আত্মহত্যা
পাহাড় পর্বতে খানিকটা সময়!
মোঃ রাসেল আহম্মেদ
Published : Tuesday, 10 March, 2020 at 4:38 PM
Zoom In Zoom Out Original Text

পাহাড় পর্বতে খানিকটা সময়!

পাহাড় পর্বতে খানিকটা সময়!

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগ করতে হাইস্কুলের বন্ধুদের সাথে দীর্ঘ ১৭ বছর পরে একদিনের ট্যুরে যাই। হাইস্কুল জীবন শেষ করার পরে রোজার ঈদের ১/২ দিন আগে বেশ কয়েকবার একত্রে ইফতার করার সুযোগ হয়েছিল তাদের সাথে। কিন্তু একত্রে বেড়ানো সময় সুযোগ হয়ে উঠেনি কখনো। তাই এবছর প্রবাস থেকে দেশে বেড়াতে এসে দারুণ একটি ভ্রমণের অংশ হয়ে যাই।

পাহাড় পর্বতে খানিকটা সময়!

পাহাড় পর্বতে খানিকটা সময়!

দেশের দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলের পার্বত্য জেলা সমূহ পর্যটন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন ও মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে দেশীয় পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেখানে প্রতি বছর। এর পূর্বে খাগড়াছড়ির রামগড় ও রাঙ্গামাটি কাপ্তাই হ্রদে বেড়ানো হয়েছে। তাই এবার বান্দরবান বেড়ানোর আগ্রহ ছিল।

পাহাড় পর্বতে খানিকটা সময়!

পাহাড় পর্বতে খানিকটা সময়!

লিসবন থেকে বাড়ি আসার পর ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও ব্যবসায়িক বিভিন্ন কাজে বেশির ভাগ সময়ে বাড়ির বাহিরে থাকতে হয়। আমাদের এই ভ্রমনের দিনেও ঢাকায় ছিলাম। বৃহস্পতিবার সাধারণত ঢাকা থেকে ফিরতে বাসের টিকিট পেতে ভালই ঝামেলা পোহাতে হয়। কিন্তু দুদিন পরের ঢাকা সিটি নির্বাচন সেই ভোগান্তিকে আকাশ সমান করেছে।

পাহাড় পর্বতে খানিকটা সময়!

পাহাড় পর্বতে খানিকটা সময়!

সন্ধ্যা ছয়টা বাড়ি ফিরতে বাস কাউন্টারে এসে দেখি কোন টিকিট নেই। ওদিকে আমি পরিবার নিয়ে বন্ধুদের সাথে যাব বলে আগে থেকে সব নির্ধারিত ছিল। তাদের সাথে যোগ দিতে না পারলে আমার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারনা জন্মাবে। তাই যেকোন উপায়ে বাড়ি ফিরতে হবে। কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী এবং চট্টগ্রামের প্রায় সকল কাউন্টার খুজেও ঐ রাতের কোন বাসের টিকিট পেলাম না। অবশেষে উপায় অন্ত না দেখে লক্ষীপুরের লোকাল একটি বাসের ইঞ্জিনের উপরে বসে যাত্রা শুরু করলাম!

পাহাড় পর্বতে খানিকটা সময়!

পাহাড় পর্বতে খানিকটা সময়!

রাত বারটায় বাড়ি পৌছায় আবার ৩ টায় বান্দরবানের উদ্দেশ্য রওনা হই। রাস্তায় মাঝারি মানের যানযট উপেক্ষা করে ৭ ঘন্টায় ২৫০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে বান্দরবান সদরে গিয়ে পৌঁছায় সকাল ১০ টায়। এই ৭ ঘন্টার ভ্রমন মোটেও সুখকর ছিল না কারন একের অধিক সদস্য পথিমধ্যে বমি করে একাকার করে ফেলেছে! তাই সদরে গিয়ে একটু বিশ্রাম ও সকালের নাস্তা সেরে নিলাম।

বান্দরবান সদর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরের পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ পেরেছি নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র। উঁচু নিচু দূর্গম পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সেই পথ পাড়ি দিতে প্রয়োজন স্থানীয় বিশেষ এক বাহন। লোকে এটিকে চান্দের গাড়ী বলে, মূলত এটি একটি শক্তিশালী ইঞ্জিনের জীপগাড়ি। এই ৪৫ কিলোমিটার পথ মূলত আমার কাছে নীলগিরি ভ্রমণের মূল আর্কশন বা এ্যডভেঞ্চার মনে হয়েছে।

পাহাড় পর্বতে খানিকটা সময়!

পাহাড় পর্বতে খানিকটা সময়!

সরু এই পথে দূর্বল হৃদয়ের কোন মানুষের পক্ষে ভ্রমন করা হয়তো সম্ভব হবে না। আঁকাবাঁকা পাহাড়ের ঢাল বেয়ে চলা রাস্তায় সজোরে ছুটে চলে চান্দের গাড়ী। একপাশে উঁচু পাহাড় অন্য পাশে নিচু ঢাল বা কখনো কখনো দুই পাশে নিচু ঢাল বা উঁচু পাহাড় সত্যি অসাধারণ এক সৃষ্টি। প্রকৃতি বা পাহাড় প্রেমীদের কাছে এই এক স্বর্গ মনে হবে। চারিদিকে শুধুই বিশাল বিশাল পাহাড় ও বৃক্ষরাজি। মাঝেমধ্যে দুই-চারটা বাড়ির দেখা মিলে কোন বিশাল পাহাড়ের পাদদেশে।

নির্জনতা যাদের প্রিয় তাদের মনের মধ্যে শখ জাগতেই পারে এমন কোন একটি পাহাড়ের পাদদেশে নিজেদের একটি ঘর বাধতে! খানিকের মধ্যে মন রোমাঞ্চকর হয়ে উঠবে এমন পরিবেশ দেখলে, যেখানে নীল আকাশ সবুজ পাহাড়ের মধ্যে হারিয়ে গেছে। দিগন্ত-বিস্তৃত সবুজের মাঝে নির্মল বাতাসে হারিয়ে যাবে মন নিমিষেই!

দুই তিনটা চেকপোস্ট পেরিয়ে ঘন্টা খানিকের মধ্যে আমরা পৌঁছে গেলাম নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রে। মনে হচ্ছে আশেপাশের সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ে দাড়িয়ে আছি আমরা। চতুর্দিকে পাহাড়ঘেরা সেই এক অন্যরকম পরিবেশ। মূল পর্যটন কেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশ করে বেশখানিকটা সময় পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগ করলাম। পর্যটন কেন্দ্রের ভেতরে রেস্তোরাঁ, কাপড়ের দোকান, বিশ্রামাগার, মসজিদ, বসার জায়গা সহ পুরুষ মহিলাদের জন্য আলাদা আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা রয়েছে।

দেশীয় পর্যটকের জন্য এমনটি যথেষ্ট ব্যবস্থা বা সুযোগ সুবিধা হলেও বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে এটি যথেষ্ট নয়। নীলগিরির ভৌগোলিক অবস্থান, এই জায়গায় সৌন্দর্য এবং আকর্ষন বিদেশি পর্যটক টানতে সহায়ক। শুধুমাত্র সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করে এটিকে আন্তজার্তিক মানের করে তৈরি করতে হবে। ইন্ডিয়া, নেপাল ও মালেশিয়া এর দৃষ্টান্ত হতে পারে কিভাবে পাহাড় ও প্রকৃতিকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন শিল্পকে বিশ্বের দরবারে হাজির ধরেছেন।

দেশের বাহিরে ভারতের দার্জিলিং, নেপালের ঈলাম, থাইল্যান্ডের ফুকেট সহ বিভিন্ন লোকেশন এবং ইউরোপের বেশকিছু দেশে এমন প্রাকৃতিক পাহাড়ি পরিবেশে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। পাহাড় প্রকৃতিকে আধুনিকতার সমন্বয়ে বিশ্ব মানের সুযোগ সুবিধা দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে সেই সকল স্থানে সমূহকে। ফলে দেশীয় পর্যটকের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক ভীর জমায় সেইসব স্থানে। সেই এলাকায় উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হচ্ছে।
পাহাড় পর্বতে খানিকটা সময়!

পাহাড় পর্বতে খানিকটা সময়!


নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রের বাহিরে এবং রাস্তায় বিভিন্ন ছোট ছোট বাজারে উপজাতির মানুষজন স্থানীয় ফল মূল এবং তাদের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করছে। একেবারে টাটকা পাহাড়ি ফল ও অনন্য সামগ্রী সাধারণ বাজার মূল্যের অনেক কম দামে বিক্রি করছে তারা। ফলে পর্যটকরা তাদের যাতায়াতের মধ্যে বিরতিতে এসব প্রকৃতিক ও ভেজালমুক্ত ফলমূলের স্বাদ গ্রহনের সুযোগ পাচ্ছে।

শহরের নিকটে নীলাচল পর্যটন কেন্দ্রটিও মন কেড়েছে। এখান থেকে সমগ্র বান্দরবান শহরকে দেখার সুযোগ রয়েছে। নীলগিরি আর নীলাচলের গঠন সৌন্দর্য ও পাহাড়ি আকর্ষন একই মনে হয়েছে। তবে যারা এডভেঞ্চার প্রিয় তাদের জন্য নীলগিরি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে। আর বান্দরবান শহরের কাছাকাছি বেড়াতে নীলাচল উৎকৃষ্ট জায়গা।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এসকে


আরও সংবাদ   বিষয়:  পাহাড় পর্বত  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
করোনায় যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের মৃত্যু
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
ফাতেমা হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up