ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২০ || ২৩ চৈত্র ১৪২৬
শিরোনাম: ■ করোনায় আক্রান্ত হয়ে কানাডায় ২ বাংলাদেশির মৃত্যু ■ করোনা কেড়ে নিল দুদক পরিচালকের প্রাণ ■ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভোগাবে করোনা ■ বাতিল হতে পারে চ্যাম্পিয়নস ও ইউরোপা লিগ ■ করোনায় লিবিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু ■ জাপানে জরুরি অবস্থা জারি ■ টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে ২ মাদক ব্যবসায়ী নিহত ■ লকডাউন নারায়ণগঞ্জ ■ করোনার কারণে বেড়েছে নারী নির্যাতন ■ করোনায় মৃতের সংখ্যা ৬৯ হাজার ছাড়িয়েছে ■ করোনায় আক্রান্ত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে ■ দেশব্যাপি ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস
কোর্ট ম্যারেজ: পদ্ধতি-খরচ-বৈধতা-তালাক ও অন্যান্য
নূরুন্নবী সবুজ
Published : Tuesday, 17 March, 2020 at 12:32 AM

নূরুন্নবী সবুজ

নূরুন্নবী সবুজ

অনেকেই প্রেমের টানে পরিবারকে না জানিয়ে গোপনে বিবাহ করে। আবার অনেকে বাসা থেকে পালিয়ে বিবাহ করে। এমনও কিছু লোক পাওয়া যায় যারা বৈধভাবে লিভ টুগেদার করার ব্যবস্থা গ্রহন করে। আর এসকল ক্ষেত্রে কোর্ট ম্যারেজ বা আদালতে বিবাহ এখন একটি অতি জনপ্রিয় মাধ্যম। অনেককে এ বিবাহ নিয়ে নানা রকম প্রশ্ন করে  অনেকে যেমন এর খরচ এবং পদ্ধতি জানতে চায় তেমনি অনেকে জানতে চায় এটি আইনগত ভাবে বা ধর্মীয়ভাবে বৈধ কিনা? আবার অনেকে এই বিবাহ সম্পাদন করার পর  কিভাবে তালাক দিবেন সেটি নিয়ে বেশ ঝামলোয় আছেন।

প্রচলিত কোর্ট ম্যারেজ কি এবং কিভাবে করতে হয় ও খরচ কেমন

আমরা আমাদের বাস্তব জীবনে নানা বিষয়ে হলফনামা তৈরী করে থাকি। অনেকে আমরা অনেক কথার সত্যতা প্রমাণ স্বরূপ রাখার জন্যও হলফনামা তৈরী করে থাকি। আর এ হলফনামা আমাদের অনেক আইনী ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকতে সাহায্য করে। কোর্ট ম্যারেজ বা আদালতে বিবাহ এমনই একটি হলফনামা যা আমরা বিভিন্ন মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে করতে পারি। ৫০, ১০০, ২০০ বা ৫০০ টাকা যে কোন মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে আমরা হলফনামা হিসেবে এ বিবাহ করে থাকি। এটি মূলত কাউকে কোন কথা দেয়া বা কারো প্রতি দ্বায়বদ্ধতা তৈরী করে। আর এ প্রকিয়া সম্পূর্ণ করতে আপনি যত টাকা মূল্যের স্ট্যাম্প ব্যবহার করবেন তত টাকা এবং অতিরিক্ত হিসেবে কিছু উকিল ফি দিতে হবে। নোটারি পাবলিক কিংবা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে এই বিবাহের সকল প্রণালী সম্পূর্ণ করা হয়।

কোর্ট ম্যারেজের ধর্মগত বা আইনগত বৈধতা

রাসূল (ছাঃ) এরশাদ করেন,‘অলী ছাড়া বিবাহ সিদ্ধ নয়’(আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৩১৩০)। তিনি বলেন, ‘কোন নারী অলী ছাড়া বিবাহ করলে তা বাতিল, বাতিল, বাতিল’ (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৩১৩১)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘কোন নারী অপর নারীকে বিবাহ দিতে পারে না এবং কোন নারী নিজে নিজে বিবাহও করতে পারে না’ (ইবনু মাজাহ হা/১৮৮২, মিশকাত হা/৩১৩৭)। অতএব এভাবে বিবাহ করলে তা বাতিল বলে গণ্য হবেএবং তাদেরকে পুনরায় বৈধভাবে বিয়ে করতে হবে। দ্বিতীয় বিবাহের পূর্ব পর্যন্ত বর-কনের একত্রে বসবাস অবৈধ ও ব্যভিচারের অন্তর্ভুক্ত হবে। সঠিক পন্থায় বিবাহ সম্পাদনের পর তাদের এই ঘৃণ্য অপকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দরবারে খালেছ অন্তরে তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। বৈধ বিবাহের জন্য মেয়ে ও অলী উভয়ের সম্মতি আবশ্যক। সাবালিকা ও বিধবা নারীগণ বিবাহের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অলীর চাইতে বেশী হকদার (মুসলিম, মিশকাত হা/৩১২৭)। কিন্তু তারা অলীকে বাদ দিয়ে বিবাহ করবে না। যা উপরের হাদীছে বলা হয়েছে।

মুসলিম-বিবাহ-ও-তালাক-(রেজিষ্ট্রীকরণ)-আইন,-১ঌ৭৪, মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ ও বিশেষ বিবাহ আইন, ১৮৭২ এ প্রচলিত আইনেও বিবাহের যে বিধান করা হয়েছে বিবাহের ক্ষেত্রে তা আমাদের মানা বাধত্যতামূলক।

কোর্ট ম্যারেজ করার পর যদি কাজীর মাধ্যমে বিবাহ নিবন্ধন না করা হয়, তা হলে আইনগত কোনো ভিত্তি থাকে না। আবার এর   ধর্মগত ভিত্তিও নেই। কোর্ট ম্যারেজ বিয়ের একটি ঘোষণা মাত্র। বৈধ উপায়ে বিয়ে করে কাজীর কাছ থেকে নিবন্ধন করিয়ে নিয়ে তবেই কেউ ‘কোর্ট ম্যারেজ’ বা অ্যাফিডেভিট করতে পারেন। নিবন্ধন বা কাবিননামা যদি না থাকে, তবে অ্যাফিডেভিটে আইনগত অধিকার আদায় করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

আর এভাবে বিবাহ করে যারা একত্রে বসবাস করে বা করছে তাদের সে বিবাহ বৈধ নয়। প্রত্যেক ধর্মে বিবাহের কিছু নিয়ম কানুন আছে কোর্ট ম্যারেজের ক্ষেত্রে তার সামান্যতমও পালন করা হয় না। আবার বিবাহের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের বিধান কোর্ট ম্যারেজে মাধ্যমে পালন করা হয় না। আর তাই কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে যারা সংসার করছে তাদের সম্পর্ক বৈধ নয়। আর তাই কোন সময় দাম্পত্য কলহ দেখা দিলে বা সন্তানের বৈধতা বা উত্তরাধিকার চাইলে কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়ার সম্ভাবনা নাই।

তালাক, শাস্তি এবং অন্যান্য

যেহেতু কোর্ট ম্যারেজ বা আদালতে বিবাহ কোন বিবাহ না সেটা ধর্ম বা আইন যে ভাবেই বলা হোক না কেন তাই এতে তালাকের কোন কথাই আসে না। উপরন্তু কেউ যদি এই পদ্ধতিতে বিবাহ করার পর সঠিক সময়ে কাজীর মাধ্যমে নিবন্ধন না করে তাহলে তার শাস্তিও হতে পারে। এ সমন্ধে মুসলিম-বিবাহ-ও-তালাক-(রেজিষ্ট্রীকরণ)-আইন,-১ঌ৭৪-এর৫ ধারা অনুযায়ী:

(১) নিকাহ নিবন্ধক কর্তৃক অনানুষ্ঠিত প্রত্যেক বিবাহ এই আইনের অধীনে রেজিষ্ট্রীকরণের উদ্দেশ্যে তাহার নিকট এইরূপ বিবাহ অনুষ্ঠিত করিয়াছেন এমন ব্যক্তি কর্তৃক প্রতিবেদন পেশ করিতে হইবে।

(২) যে কেহ (১) উপ-ধারার বিধান লংঘন করিলে সে তিন মাস পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য মেয়াদের বিনাশ্রম কারাবাসে বা পাঁচশত টাকা পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য জরিমানায় বা উভয়বিধে শাস্তিযোগ্য হইবেন।

আমদের তাই আইনী প্রতিকার পেতে এবং সামাজিক শান্তির জন্য বিবাহের মত একটি সামাজিক কাজকে আরো সামাজিক করতে ধর্ম এবং আইন উভয় মেনে বিবাহ করা উচিত। সবার ভিতর এ সচেতনতা কাজ করুক।

লেখক : নূরুন্নবী সবুজ
আইন বিশ্লেষক ও কলামিস্ট
ইমেইল: [email protected]


দেশসংবাদ/এনএস/এফএইচ/mmh


আরও সংবাদ   বিষয়:  কোর্ট ম্যারেজ  



মতামত দিতে ক্লিক করুন
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft