ঢাকা, বাংলাদেশ || শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০ || ১৯ আষাঢ় ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দিল্লি ■ ভারতে করোনার ভ্যাকসিন চালু হচ্ছে ১৫ আগস্ট ■ সকাল থেকে ২১ দিনের লকডাউনে ওয়ারী ■ পরিবর্তন হচ্ছে করোনা, কমবে মৃত্যুঝুঁকি ■ ছাত্রীর সঙ্গে অশ্লীল প্রেমালাপের দায়ে ইবি অধ্যাপককে শোকজ ■ ভারতকে নতুন হুশিয়ারি দিল চীন! ■ পাটকল শ্রমিকদের জন্য প্রধানমন্ত্রী চোখের পানি ফেলেছেন ■ গোটা বিশ্ব দেখেছে ভারতীয় সেনাদের শক্তি কত ■ ২৪ ঘণ্টায় পুলিশের আরও ২১০ সদস্য আক্রান্ত ■ সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ৪ দিন বন্ধ ■ ঈদের পর দেশে করোনা রোগী আরো বাড়ার আশঙ্কা ■ করোনার নতুন ‘ধরন’ দ্রুত ছড়ালেও ‘খুব বেশি অসুস্থ’ করছে না
ভারতের নাগরিকত্ব আইনের নেপথ্যে বাংলাদেশের শঙ্কা!
মোঃ মাজহারুল হাসান নাহিদ
Published : Wednesday, 18 March, 2020 at 11:52 PM, Update: 19.03.2020 8:24:11 AM
Zoom In Zoom Out Original Text

মোঃ মাজহারুল হাসান নাহিদ

মোঃ মাজহারুল হাসান নাহিদ

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে আজ আমরা যে সাম্প্রদায়িকতার চিত্র বর্তমানে দেখতে পাচ্ছি তা প্রতিনিয়ত আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। শুধুমাত্র ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন নতুন আইন তৈরি করা হচ্ছে ভারতে। ধর্মের অজুহাতে যেভাবে মানুষ মারা হচ্ছে, ঘর বাড়িতে আগুন দেয়া হচ্ছে, সংখ্যালঘুদের ঘর বাড়ি, সম্পত্তিতে আক্রমণ করা হচ্ছে এবং ভারতের সংখ্যালঘুদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছে তা আমাদেরকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে ভারত কতোটা সাম্প্রদায়িক চিন্তা পোষণ করছে। বিজেপি সরকার কোনভাবেই এর দায় এড়িয়ে যেতে পারেনা।  

আরএসএসের আদর্শিক ভিত্তি থেকে জন্ম নেয়া বিজেপির মোদি-অমিত জুটি পৃথিবীব্যাপী সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে! উগ্র হিন্দুত্ববাদী এই দলটির দর্শনই হলো ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্রে পর্যুসিত করা। ফলে এই উদ্যোগে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষই হচ্ছে মুসলমান। সমসাময়ীক রাম মন্দির, সিএএ, কাশ্মীর এবং সর্বোপরি দিল্লীর ঘটনা তারই ইঙ্গিত বহন করছে। কিছুদিন আগে  ‘ভারতীয় গনতন্ত্র নিয়ে অমর্ত্য সেনের আশা ও শঙ্কা" অনুবাদ করা প্রথম আলোর এক সাক্ষাৎকারে  নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেন, ‘ভারতের হিন্দুত্ববাদী চিন্তায় যে  ধরনের সংকীর্ণতা আছে বাংলাদেশের মুসলমানদের চিন্তায় সেই রকমের সংকীর্ণতা নেই’।
                 
সমগ্র পৃথিবীব্যাপী ভারত বহু ভাষা, ধর্ম, জাতি, গোত্রের দেশ হিসেবে পরিচিত। অসাম্প্রদায়িকতা এবং বৈচিত্র্যময়তা ভারতের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য কিন্তু বর্তমানের এই ভারত তার চিরচেনা রূপ হারাতে বসেছে। দিন দিন সহিংস হিন্দুত্ববাদ সেখানে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এটা শুধু মুসলমানদের জন্য নয় সমগ্র বিশ্বের হিন্দুদের জন্যও হুমকির ব্যাপার। কারন একথা বলতে কোন দ্বিধা নেই যে, অধিকাংশ হিন্দুরাও সম্প্রীতি চায়, শান্তি চায়। যার অনেক উদাহরণ আমরা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে পাই। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লি হামলার সময়েও অনেক হিন্দু নিজেদের জীবন বাজি রেখে মুসলমানদের বাঁচিয়েছেন।

এই যে ভারতে বর্তমানের এত আন্দোলন তার সবগুলো আন্দোলনের মূল কেন্দ্র হচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ের এন.আর.সি, সি.এ.বি এবং সর্বশেষ সি.এ.এ আইন। এগুলি সম্পর্কে প্রাথমিক পর্যায়ে কিছুটা আলোচনা করা যেতে পারে। এন.আর.সি এর পূর্ণরূপ হলো ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস বা জাতীয় নাগরিক তালিকা। অর্থাৎ আপনি যে ভারতীয় নাগরিক তার জন্য বিভিন্ন প্রমাণপত্রের ভিত্তিতে আপনাকে যে বিশেষ কার্ড বা নির্দিষ্ট সংখ্যা বিশিষ্ট পরিচয়পত্র দেওয়া হবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সেটাই নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি।  সিএবির  পূর্ণরূপ হচ্ছে  সিটিজেনশিপ এমেন্ডমেন্ট বিল  বা নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল যা  ২০১৯ সালে ভারতীয় পার্লামেন্টে পাস হয়ে এবং ভারতের রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মাধ্যমে গত ১০ ডিসেম্বর আইনে পরিণত হয়েছে।

আইনে পরিণত হবার পর এর নাম হয়ে যায় সিএএ বা সিটিজেনশিপ এমেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট। সি.এ.বি বা ক্যাবের উদ্দেশ্য হলো ভারতের তিন প্রতিবেশী দেশ, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান হতে ধর্মীয় নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার কারনে সেসব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ভারতে পালিয়ে এসেছে সেসব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া। এ বিলে হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টান, জৈন, বৌদ্ধ এবং পার্সী-এ ছয় অমুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা ৩১শে ডিসেম্বর ২০১৪ সাল বা তার পূর্বে ভারতে প্রবেশ ও আশ্রয় প্রার্থী হয়ে থাকলে তারা ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য হবে। মোদ্দা কথা এক্ষেত্র বিশেষ করে মুসলমানদের উপেক্ষিত করা হয়েছে যা সাম্প্রদায়িকতায় মোড়ানো নতুন এক ভারতের চিত্রই আমাদের সামনে ফুটে ওঠে!

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএবি) এবং জাতীয় নাগরিক তালিকা (এনআরসি) সংক্রান্ত নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিতর্কিত আইন নিয়ে পুরো ভারতজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া, ক্ষোভ-বিক্ষোভ ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠেছে সমগ্র ভারত। দেশটার অধিকাংশ জাতীয় এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলসমূহ নাগরিক ও পেশাজীবী সমাজসহ গোটা ভারতীয় জনগণের মধ্যে একাধিক কারণে ক্যাব ও এনআরসি’র বিরুদ্ধে প্রচন্ড ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কারন হিসবে তারা বলছে এগুলোর মাধ্যমে মুসলমান জনগোষ্ঠীর নাগরিক মর্যাদাকে অবনমিত করা হয়েছে, ভারতীয় জাতি ও জনগণের মধ্যে বিভক্তির বীজবপন করা হয়েছে। নাগরিকত্বের প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এবং মনে হয় তার সঙ্গে দেশের ভেঙে পড়া অর্থনীতি ও পদে পদে সামাজিক অনিরাপত্তার বিরুদ্ধেও জমে থাকা ক্ষোভ প্রতিবাদী স্বর এক হয়ে মিলে যাচ্ছে। তাই কোথাও ১৪৪ ধারা জারি করে, কোথাও ইন্টারনেট পরিসেবা বন্ধ রেখেও এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদের কণ্ঠ রোধ করা যাচ্ছে না। প্রতিবাদীদের গ্রেপ্তার,লাঠি,গুলি চালিয়ে এমনকি আন্দোলনকারীদের হত্যা করেও সেই প্রতিবাদের আগুন কিছুতেই দেশের কর্ণধাররা নিভাতে পারছেননা!

প্রকৃতপক্ষে এই আইন সম্পর্কে অথবা ধর্ম সম্পর্কে ভারতের সংবিধান কী বলে সেটা জানাটা প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়। তাহলে ভারত তার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং আদর্শ থেকে কতটুকু ছিটকে পরেছে তা উপলদ্ধি করবার সুযোগ থাকবে। উক্ত তালিকা এবং আইন ভারতীয় নাগরিক আইন-১৯৫৫ এবং ভারতীয় সংবিধানে ঘোষিত সকল নাগরিকের সমানাধিকার নীতির পরিপন্থী। সিএবি এবং এনআরসি দেশের সংবিধান স্বীকৃত ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিগুলোর সাথে বিরোধপূর্ণ এবং সংবিধানের ১৩, ১৪, ১৫, ২৬ ও ২১ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। মূলত সংবিধানে এ অনুচ্ছেদগুলো সন্নিবেশিত করে নাগরিকের মধ্যে সমতা-সাম্য ও ভারতীয় রাষ্ট্র দ্বারা নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্যমূলক আচরণ না করার প্রতিশ্রুতি এবং নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিলো।

সিটিজেন এমেন্ডমেন্ট বিল বা সিএবি পর্যালোচনা করে দেখা যায়,ভারতীয় নাগরিকদের ধর্মীয় ভিত্তিতে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং এর ফলে মুসলমানরা সম্পূর্ণভাবে বঞ্চনার মুখোমুখি হয়েছেন। অনেকটা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবেই তাদেরকে ঘোষনা  দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবিধানের ২৫ নম্বর ধারায় ‘ধর্মাচরণ, ধর্মীয় বিশ্বাস বেছে নেওয়া ও অনুসরণের অবাধ অধিকার এবং ধর্মীয় প্রচারের স্বাধীনতা স্বীকৃত হয়েছে’। বলপূর্বক ধর্মান্তরের কোনো ঘটনা ঘটলে তা ইতোমধ্যেই ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩(এ) উপধারায় আনা হয়েছে। এই উপধারা অনুযায়ী ধর্মের নামে বলপ্রয়োগ করা একটি ফৌজদারি অপরাধ। সংবিধানের ২৬নং ধারায় ধর্মীয় ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও তা রক্ষণাবেক্ষণের অধিকার দেওয়া হয়েছে প্রতি ধর্মকে। ২৮ নং ধারাতে সম্পূর্ণভাবে বা আংশিকভাবে সরকারি অর্থ দ্বারা পরিপোষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, ভারতীয় সংবিধান তৈরীর সময় বিশিষ্ট সংবিধান প্রণেতারা কোনো ধর্মীয় আঙ্গিকের থেকে ইতিহাস, যুক্তি এবং বাস্তবতা কেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ‘নানা ভাষা, নানা মত, নানা পরিধান’ এর এই ধারাকে বজায় রেখে পরবর্তী কালে ১৯৭৬ সালে, ৪২ তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দটি যুক্ত করা হয়। বর্তমানে ভারতীয় সংবিধানে, ভারতকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র (Secular State) হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। কোনো বিশেষ ধর্মকে ভারতের রাষ্ট্রীয়ধর্ম (State Religion) হিসেবে স্বীকার করা হয়নি। ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী জাতি, ধর্ম ও ভাষার পার্থক্যের জন্য রাষ্ট্র কোনো বৈষম্যমূলক আচরণ করবে না। প্রত্যেক নাগরিকই স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম আচরণ করতে পারবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বাভাবিক কতকগুলি বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃত ভারতীয় রাষ্ট্র তাঁর সংবিধানের মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য কয়েকটি মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করেছে এবং এসব অধিকারের মধ্যে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার হল অন্যতম।

এ দুটি আইনের বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে ভারতের মৌলিক বহুজাতিক বৈচিত্র্যপূর্ণ কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ভিত্তিক বহুত্ববাদী রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক চরিত্র পরিবর্তিত হয়ে যাবে এবং ভারত অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র থেকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত হবে এবং এটা হবে ভারতের প্রতিষ্ঠাতা কারিগর এবং সর্বোপরি ভারতের জনগণের লালিত ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক চরিত্রের ভারত রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ বিপরীত এক অবস্থান। বাস্তবিক অর্থে সি.এ.এ.হচ্ছে,‘মিঁয়া-মুক্ত’ ভারত গঠনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়ার একটি পদক্ষেপ মাত্র কিন্তু এ স্বপ্নের বাস্তবায়ন যেন কখনোই না হয় সেটিই আমাদের প্রাণের চাওয়া।

এসব আলোচনার প্রেক্ষিতে একথা সুনিশ্চিত যে, এই আইন ভারতের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক এবং সংবিধান পরিপনন্থী। সুতরাং ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের উচিত অতি দ্রুত এই আইন স্থগিত এবং বাতিল ঘোষনা করা। এই আইন বাতিল ঘোষণার মাধ্যমেই কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘একই বৃন্তে দুটি কুসুম’ হিসাবে আখ্যায়িত হিন্দু-মুসলমানের সম্প্রীতি পুনরুজ্জীবিত হবে।

একই সাথে আমাদের একথা স্বীকার করতেই হবে যে, ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ ভারতের উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অনেকাংশেই নির্ভরশীল। ভারতের কোথাও কোনো মুসলমানের উপর আঘাত হলে তার প্রভাব প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমাদের দেশে পরিলক্ষিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লিতে মুসলমানদের উপর হামলার পর আমাদের দেশে তার প্রতিবাদ স্বরূপ বিভিন্ন মিছিল, মিটিং, সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইতিহাস থেকে দেখা যায়, মাঝে মাঝে এইসব আন্দোলনই আমাদের দেশে সময়ের পরিক্রমায় সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। আমরা দেখতে পাই,১৯৯২ সালে ভারতে বাবরী মসজিদ ভাঙ্গাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশী হিন্দু পরিবারগুলোর উপর নেমে আসে নির্যাতন। এসময় প্রায় ৩৫২ টি মন্দির আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয় এর পাশাপাশি সংখ্যালঘু পরিবার গুলোর উপর ধর্ষণ ও লুটতরাজের ঘটনাও ঘটে।

২০০১ সালে আবারও নির্বাচন উত্তর সহিংসতার শিকার হন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। গণহত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, ধর্মান্তরিত করা, জোরপূর্বক বিয়ে,চাঁদা আদায় ও সম্পত্তি দখল কোন কিছুই যেন বাদ ছিল না সে সময়ে। তখন দিনাজপুর, জয়পুরহাট, নাটোর, যশোর, চারঘাট, ময়মনসিংহ, নেত্রকোকাণা ও পিরোজপুরে সংখ্যালঘু নির্যতনের ঘটনা ঘটেছে। এইবার যেন বাংলাদেশে কোন ভাবেই এসব আন্দোলন সহিংসতার দিকে ধাবিত না হতে পারে সেদিকটাতেও আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রতিবাদ মিছিল  হতে পারে তবে সেটি যেন কখনোই সহিংসতায় রূপ না নেয় কিংবা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাকে উসকিয়ে না দেয় সেদিকে আমাদের সদা সতর্ক থাকতে হবে। ভারতের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশের কোনো স্বার্থান্বেষী মহল এখানকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অপচেষ্টা যাতে না করে সেটি আমদের লক্ষ্য রাখতে হবে।আমরা যেমন চাই না ভারতে কোন মুসলমান অত্যাচারিত, নির্যাতিত হোক ঠিক তেমনি একটি আঁচড় যেন আমাদের হিন্দু ভাই বোনদের উপর না পরে সেদিকটাও আমাদের সুনিশ্চিত করতে হবে। আমরা আশাবাদী সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই ব্যাপারে দেশের সর্বত্র কঠোর নজর রাখবে। দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণে পিছপা হবে না। সেই সঙ্গে মিডিয়াসহ সব সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন সামাজিক সচেতনতামূলক কাজ করে যাবে।

সাম্প্রদায়িকতা, জাতীয়তাবাদ এবং উগ্রতা ব্যতিরেকে সমগ্র পৃথিবীব্যাপী সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে পরুক প্রতিটি পরতে পরতে এবং সেই সাথে ভারত তার পুরনো অসাম্প্ররদায়িক চেতনা বজায় রাখুক রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে স্তরে! সকল কিছুর উর্ধ্বে গিয়ে মানবিক হয়ে ওঠুক পুরো বিশ্ব সেরকমটাই প্রত্যাশা! রাষ্ট্র এবং ধর্ম নিয়ে বঙ্গবন্ধুর একটি উক্তি দিয়ে লেখাটি শেষ করতে চাচ্ছি, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়।মুসলমান তার ধর্ম -কর্ম পালন করবে, হিন্দু তার ধর্ম-কর্ম পালন করবে, বুদ্ধিস্ট তার ধর্ম-কর্ম পালন করবে।কেউ কাউকে বাঁধা দিতে পারবে না ।তবে একটা কথা হলো, এই ধর্মের নামে আর ব্যবসা করা যাবে না।’

মোঃ মাজহারুল হাসান নাহিদ
মাস্টার্স শিক্ষার্থী
ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগ
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, টাংগাইল


দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এফএইচ/mmh


আরও সংবাদ   বিষয়:  ভারত   নাগরিকত্ব আইন   বাংলাদেশ  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
ভারতে করোনার ভ্যাকসিন চালু হচ্ছে ১৫ আগস্ট
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up