ঢাকা, বাংলাদেশ || শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০ || ২০ আষাঢ় ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দিল্লি ■ ভারতে করোনার ভ্যাকসিন চালু হচ্ছে ১৫ আগস্ট ■ সকাল থেকে ২১ দিনের লকডাউনে ওয়ারী ■ পরিবর্তন হচ্ছে করোনা, কমবে মৃত্যুঝুঁকি ■ ছাত্রীর সঙ্গে অশ্লীল প্রেমালাপের দায়ে ইবি অধ্যাপককে শোকজ ■ ভারতকে নতুন হুশিয়ারি দিল চীন! ■ পাটকল শ্রমিকদের জন্য প্রধানমন্ত্রী চোখের পানি ফেলেছেন ■ গোটা বিশ্ব দেখেছে ভারতীয় সেনাদের শক্তি কত ■ ২৪ ঘণ্টায় পুলিশের আরও ২১০ সদস্য আক্রান্ত ■ সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ৪ দিন বন্ধ ■ ঈদের পর দেশে করোনা রোগী আরো বাড়ার আশঙ্কা ■ করোনার নতুন ‘ধরন’ দ্রুত ছড়ালেও ‘খুব বেশি অসুস্থ’ করছে না
করোনা মোকাবিলায় সরকারের তথাকথিত প্রস্তুতি বনাম বাস্তবতা
কাজী এস. ফরিদ
Published : Friday, 20 March, 2020 at 5:02 PM, Update: 23.03.2020 10:03:14 AM
Zoom In Zoom Out Original Text

করোনা মোকাবিলায় সরকারের তথাকথিত প্রস্তুতি বনাম বাস্তবতা

করোনা মোকাবিলায় সরকারের তথাকথিত প্রস্তুতি বনাম বাস্তবতা

চীনে করোনা সংক্রমণ শুরু হবার পর আমরা নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে প্রায় দুই মাস সময় পেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের দেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ কেউই শুরুতে বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। যদিও মন্ত্রীসভার সদস্যদের কেউ কেউ বলেছেন, ‘উন্নত দেশের চেয়েও আমাদের প্রস্তুতি ভালো’, ‘সরকার সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিধায় দেশে মাত্র ১০ জন সংক্রমিত হয়েছে’, ‘করোনা নিয়ে ভয়ের কিছু নেই - এটা সামান্য সর্দি-জ্বর’, ‘আমরা করোনা রুখে দিয়েছি’, ইত্যাদি ইত্যাদি।

কিন্তু এগুলো যে বাগাড়ম্বর-ফাঁকা আওয়াজ সেটা তখনই বুঝা গিয়েছিল যখন বিদেশ ফেরত মাত্র কয়েকশ প্রবাসীকে চরম অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে ইমিগ্রেশন পরবর্তী কার্যক্রমগুলো সম্পন্ন করতে হয়েছিল। তাই বলা চলে, আমাদের করোনা মোকাবিলার প্রস্তুতিতে যথেষ্ট ঘাটতি রয়ে গেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব যেভাবে নিয়মিত ব্রিফিং দিচ্ছেন, সেখানে আমাদের শীর্ষ পর্যায়ের আশ্চর্যজনক নীরবতাই প্রমাণ করে বিষয়টাকে আমরা কতটা হালকা ভাবে নিয়েছি। সবাই যেখানে সব ধরণের জনসমাগম বন্ধ করে দিচ্ছে আমাদের সরকার সেখানে নির্বাচন চালিয়ে যাওয়ার মত হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে আসে।

এটা বললে খুব বেশি ভুল হবে না যে, করোনার সংক্রমণ রোধে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে সমন্বিত কোন পরিকল্পনা ছিল না। গতকাল কিছু কার্যক্রম হাতে নেওয়ার কথা বলা হলে ও, এখন ও তেমন কোন পরিকল্পনার ছাপ নেই। যে কারণে হয়ত সরকারের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ বলতে বাধ্য হয়েছে, বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে, পরিস্থিতি এখন ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন’ পর্যায়ে রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, করোনার বিস্তার কতটা হয়েছে তা বোঝার জন্য পৃথিবীর অনেক দেশেই ব্যাপক হারে পরীক্ষা করা হলেও বাংলাদেশে সে ব্যবস্থাই নেই,  পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য পর্যাপ্ত উপাদান ও নেই। তাই আমাদের দেশে কত জন আক্রান্ত হয়েছে তা জানা প্রায় অসম্ভব। রোগী হাসপাতালে আসলে কোথায়, কিভাবে রাখা হবে- সে প্রস্তুতিটা ও এখনো ভালোভাবে নেওয়া হয়নি। খবরে প্রকাশ, যেসব চিকিৎসক আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিবেন, তাদের বেশির ভাগ নিজেদের সুরক্ষার জন্য পার্সোনাল প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট ও পাননি।

করোনা মোকাবিলায় সরকারের তথাকথিত প্রস্তুতি বনাম বাস্তবতাকরোনাভাইরাস

করোনা মোকাবিলায় সরকারের তথাকথিত প্রস্তুতি বনাম বাস্তবতাকরোনাভাইরাস


পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যখন প্রবাসীদের আগমন ঠেকানোর জন্যে তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিচ্ছিল, তখনও বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেয়নি। অভিযোগ রয়েছে যে, বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা স্ক্রিনিং করার কার্যক্রমটিও শুরু থেকে যথাযথ হয়নি। স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত থার্মাল স্ক্যানারের বেশিরভাগই নাকি অকার্যকর ছিল। সরকারি পরিসংখ্যানই বলছে, যে পরিমাণ বাংলাদেশি বিদেশ থেকে ফিরছেন- তার মধ্যে অতি অল্প সংখ্যককে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফলে অনেকেই পরীক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। বিদেশ থেকে আসা যে সব ব্যক্তির হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা তারা থাকছে কিনা সে বিষয়ে কার্যকর নজরদারি নেই। এমনকি জেলায় জেলায় বিদেশ ফেরতদের তালিকা সিভিল সার্জন-পুলিশ-স্থানীয় প্রশাসন কারো কাছেই নেই।

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সব দেশের প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বার্তা হচ্ছে– ‘টেস্ট, টেস্ট, টেস্ট’। অর্থাৎ করোনা আক্রান্ত হিসেবে কাউকে সন্দেহ হলে প্রথম কাজ হলো পরীক্ষা করানো। কারণ দ্রুত রোগী শনাক্ত করা গেলে সংক্রমণ বন্ধ করা সহজ। কিন্তু বাংলাদেশে শুধু ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে একমাত্র সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পরীক্ষা হচ্ছে। আইসিডিডিআর,বি সহ অন্যান্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নমুনা পরীক্ষায় সক্ষম হলে ও সরকার তাদের অনুমতি দেয়নি। ১৮ই মার্চের সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আইইডিসিআর মাত্র ২৬৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করেছে। ১৭ কোটি লোকের এই দেশে এখন সরকারের হাতে করোনাভাইরাস পরীক্ষার কিট রয়েছে আর মাত্র ১৭৩২টি। আরও ভয়ংকর তথ্য হলো নতুন কিট আসছে বলা হলে ও কবে আসবে তা কেউ জানে না। রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কিট সংগ্রহের বিষয়টি আমাদের পরিকল্পনায় তেমন একটা অগ্রাধিকার পায়নি যা আমাদের প্রস্তুতির গলদকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।

করোনা মোকাবিলায় সরকারের তথাকথিত প্রস্তুতি বনাম বাস্তবতাকরোনাভাইরাস

করোনা মোকাবিলায় সরকারের তথাকথিত প্রস্তুতি বনাম বাস্তবতাকরোনাভাইরাস


সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিনের জন্য ন্যূনতম প্রস্তুতি সরকার নেয়নি। করোনার বিস্তার ঠেকানোর জন্য ডব্লিউএইচও’র আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হচ্ছে, যারা আগের সপ্তাহে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছেন, তাদের সবাইকে চিহ্নিত করে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা ও তাদের সবাইকে পর্যবেক্ষণে রাখা। কিন্তু এই নির্দেশনা ঠিকমত অনুসরণ করা হচ্ছে না। শুধু আইইডিসিআরের ওপর নির্ভরতাই প্রমান করে বাংলাদেশ পরীক্ষার ক্ষেত্রে করোনা সংক্রমণ ঠেকানোর মূল নীতির উল্টো পথেই হাঁটছে। সামনে পরিস্থিতি খারাপ হলে এবং সংক্রমণের মাত্রা বেড়ে গেলে, এই ব্যবস্থা হুড়মুড় করে ভেঙে যাবে। অতএব, বাগাড়ম্বর পরিহার করে কার্যকর পদক্ষেপের পাশাপাশি হাসপাতালগুলোর স্বক্ষমতা বাড়ানো অতি জরুরি। দ্রুত করোনা শনাক্তকরণ ব্যবস্থার ঘাটতি দূর করতে হবে এবং এর বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। তাই বিভাগীয় পর্যায়ে পরীক্ষার ব্যবস্থা খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে করতে হবে। সরকার সম্ভবত করোনা সংক্রান্ত সব তথ্য-উপাত্তের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ রাখতে চায়। যদিও ডব্লিউএইচও নাগরিকদের সময়মতো সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্যে প্রতিটি দেশকে অনুরোধ করেছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ আক্ষেপ করছে এই বলে যে, কেউ করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেও জানা যাবে না যে সে করোনায় মারা গেছে !

সত্যিকার অর্থেই সরকারের প্রস্তুতির ঘাটতি হতাশাজনক। মানতে সমস্যা নেই যে, আমাদের সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতার মাধ্যমে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণ করাটাই সরকারের বাঞ্ছনীয়। সব ধরনের নির্বাচন করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই মুহুর্তে বন্ধ করতে হবে। মানুষের মধ্যে সামাজিক মেলামেশা বন্ধ করতে হবে। এটি করতে পারলেই করোনার সংক্রমণ বহু মাত্রায় কমানো সম্ভব। এখন ও সময় শেষ হয়ে যায়নি। আমাদের এই মুহূর্তেই কাজ শুরু করতে হবে। সরকার, রাজনৈতিক দলসহ সর্বস্তরের জনগণ যদি সতর্ক হয় তাহলে এখনো করোনার বড় আকারের গণসংক্রমণ প্রতিহত করা যাবে।

লেখক:
সহযোগী অধ্যাপক, গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ
email: [email protected]/[email protected]


দেশসংবাদ/এফএইচ/mmh


আরও সংবাদ   বিষয়:  করোনাভাইরাস   সরকার  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
ভারতে করোনার ভ্যাকসিন চালু হচ্ছে ১৫ আগস্ট
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up