ঢাকা, বাংলাদেশ || শনিবার, ৩০ মে ২০২০ || ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ নিহত ২৬ বাংলাদেশিকে লিবিয়ায় দাফন! ■ লিবিয়ায় গুলিতে নিহত ৫ জন ভৈরবের ■ চার্টার্ড প্লেনে সস্ত্রীক লন্ডন গেলেন মোরশেদ খান ■ ভারতে ৪ দশমিক ৬ ভূমিকম্পের আঘাত ■ বহিষ্কারের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জের ঘোষণা দিলেন মাহাথির ■ দেশে নতুন করে গরিব হলো ২৩ শতাংশ মানুষ ■ হাইকোর্টে স্থায়ী হলেন ১৮ বিচারপতি ■ সোমবার থেকে বাস চলবে, খালি রাখতে হবে অর্ধেক আসন ■ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি বাড়ল ১৫ জুন পর্যন্ত ■ বাংলাদেশে চাকরির সার্কুলার কমেছে ৮৭ শতাংশ ■ লিবিয়ার ঘটনায় হতাহত বাংলাদেশিদের পরিচয় মিলেছে ■ আমের মৌসুম শুরু হলেও জমেনি কেনা-বেচা
নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও প্রশাসনের সুস্পষ্ঠ নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও
সরকারি নির্দেশনা অমান্য, এনজিও’র কিস্তি আদায় অব্যাহত
ফখরুদ্দিন ইমন ও গোলাম মোস্তফা রবি
Published : Wednesday, 25 March, 2020 at 9:28 AM, Update: 25.03.2020 9:36:19 AM
Zoom In Zoom Out Original Text

ক্ষুদ্রঋণ

ক্ষুদ্রঋণ

প্রাণঘাতি মহামারি করোনাভাইরাস আতঙ্কে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্ব যখন কাঁপছে, ঠিক তখনও আশা, গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক, বুরো বাংলাদেশ, টিএমএসএস, এসএসএস, সুরা, জাগরণী চক্র, প্রত্যাশী সহ বিভিন্ন ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারি এনজিওগুলো এখনো বন্ধ করেনি তাদের বিতরণ করা ঋণের কিস্তি আদায়ের কার্যক্রম। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষেরা।

কোভিড-১৯ নভেল করোনা ভাইরাসের বিপদ অব্যাহত থাকায় দেশজুড়ে শ্রমজীবি মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর আয় ব্যাপকহারে হ্রাস পেয়েছে। এই সময়টিতে চাল-ডাল, পেয়াজ-রসুন, আদা, সবজি সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় সংসার চালাতেই তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে সরকার ইতিমধ্যেই জনগণকে নিজ গৃহে কোয়ারান্টাইনে থাকার নির্দেশ প্রদান করেছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বাস, ট্রেন, লঞ্চ-স্টীমারসহ সব ধরনের গণ পরিবহন। বাতিল করা হয়েছে সব অভ্যন্তরীন ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটসমূহ। বন্ধ রাখা হয়েছে অতীব প্রয়োজনীয় ব্যাতিত সব ধরনের মার্কেট ও দোকান পাট। সীমিত করা হয়েছে আদালতের কার্যক্রম, ব্যাংকিং সেবা ও জনগণের চলাচল। রাস্তায় নামানো হয়েছে সেনাবাহিনী। লকডাউন করা হচ্ছে একের পর এক উপজেলা।

অথচ এই বিরূপ সময়টিতেও ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারি স্থানীয় ছোট-বড় এনজিওগুলো তাদের সাপ্তাহিক ও মাসিক ঋণ (কিস্তি) কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এমতাবস্থায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে ঋণ গ্রহণকারি দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে।

করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত দুর্যোগের এই সময়টিতে ঋণের কিস্তি আদায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার জন্য ঋণ গ্রহীতাদের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে। কিন্তু তাদের সমস্যার কথা কানেই তুলছে না এনজিওগুলো। ফলে বিশেষ করে শ্রমজীবি ও নিম্ন আয়ের মানুষরা কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে এনজিওদের চাপে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

দেশের যেসব এনজিও থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ঋণ নিয়ে ব্যবসা করছেন, আগামী জুন পর্যন্ত ঋণের কিস্তি দিতে না পারলে তাদের খেলাপি করা যাবে না বলে ইতিমধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)।

গত রোববার (২২ মার্চ) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপণ জারি করেছে তারা। এটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়, বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব বাণিজ্যের পাশাপাশি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দেশের সার্বিক অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে যারা ব্যবসা করছেন, তাদের ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এতে অনেকে নিয়মিত ঋণ শোধ করতে না-ও পারেন। ফলে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ক্ষুদ্রঋণ

ক্ষুদ্রঋণ


এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত কোন গ্রাহক যদি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারেন, তাহলে তাদের ঋণকে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলেও ঋণকে নিয়মিত রেখে প্রয়োজনে নতুন ঋণ দিতে হবে। তবে কোন ঋণের অর্থ পরিশোধিত হলে ওইসব ঋণের মান যথাযথভাবে উন্নীত করা যাবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও ব্যাংকিং খাতের কোন গ্রাহক জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কোনো ঋণের কিস্তি বা ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে তাদেরকে খেলাপি করা যাবে না- এ মর্মে একটি সার্কুলার জারি করা হয়।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসন থেকে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের আয় ও কাজের পরিধি কমে যাওয়ায় জনস্বার্থে জেলার আওতাধীন সকল এনজিও’র ঋণের কিস্তি আদায় কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দিলেও জেলার বিভিন্ন স্থান সহ চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আজও সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে কিস্তি আদায়ের ক্যাপসনসহ ছবি ভাইরাল হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অসংখ্য গ্রাহক মোবাইল ফোনে অভিযোগ করে সাংবাদিকদের জানান, সন্ধ্যার পর এমনকি রাতেও কোন কোন এনজিও কর্মীরা বাড়ী বাড়ী গিয়ে কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে।

এ বিষয়ে একাধিক এনজিও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের মোবাইল ফোনে কল করে বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করা হলে তারা সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করে লাইন কেটে দেন। প্রত্যাশী নামে একটি এনজিও এর এক ফিল্ড অফিসারের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে আপনারা ব্যবস্থা নেন বলে তিনি মোবাইল সংযোগটি কেটে দেন।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী জুন পর্যন্ত ঋণের কিস্তি পরিশোধ কার্যক্রম সহজ করা হয়েছে। কোন ঋণ গ্রহিতা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে কোন প্রকার চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। লিখিত অভিযোগ পেলে অভিযুক্ত এনজিও-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ প্রসঙ্গে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি-এমআরএ’র নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান অমলেন্দু মুখার্জি বলেন, ঋণের কিস্তি কেউ পরিশোধ করতে পারলে করবেন। তবে কেউ করতে না পারলে তাঁকে খেলাপি হিসেবে গণ্য করা যাবে না অন্তত ৩০ জুন পর্যন্ত।

দেশসংবাদ/প্রতিনিধি/এফএইচ/mmh


আরও সংবাদ   বিষয়:  এনজিও   কিস্তি   করোনাভাইরাস   ক্ষুদ্রঋণ   চৌদ্দগ্রাম  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
ইউনাইটেডে আগুনে পুড়ে ৫ করোনা রোগীর মৃত্যু
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up