ঢাকা, বাংলাদেশ || শনিবার, ৩০ মে ২০২০ || ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ ভারতে করোনা পরিস্থিতির আরও অবনতি ■ শপথ নিলেন ১৮ বিচারপতি ■ দেশে মৃত্যুর সংখ্যা ৬০০ ছাড়াল! ■ ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমিত ১৭৬৪, মৃত্যু ২৮ ■ লিবিয়ায় যেভাবে প্রাণ গেল ২৬ বাংলাদেশির ■ ভিডিও কনফারেন্সে শপথ নেবেন ১৮ বিচারপতি ■ অগ্নিগর্ভ যুক্তরাষ্ট্র, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েন ■ পদ্মা সেতুতে ৩০তম স্প‌্যান, দৃশ্যমান সাড়ে ৪ কিমি ■ করোনার পিক সময় আসতে অনেক দেরি ■ ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু ১২২৫ ■ নিহত ২৬ বাংলাদেশিকে লিবিয়ায় দাফন! ■ লিবিয়ায় গুলিতে নিহত ৫ জন ভৈরবের
অঘোষিত লকডাউনে দেশ
দেশসংবাদ ডেস্ক
Published : Friday, 27 March, 2020 at 1:20 PM, Update: 30.03.2020 1:07:58 AM
Zoom In Zoom Out Original Text

অঘোষিত লকডাউনে দেশ

অঘোষিত লকডাউনে দেশ

বৈশ্বিক মহামারীর রূপ নেওয়া নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে জনগণকে ‘ঘরে’ রাখার চেষ্টায় অঘোষিত লকডাউনে পড়েছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতা দিবসের ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক আর সাধারণ ছুটিতে রাজধানী ছিল নীরব, নিস্তব্ধ। বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার আগে অনেকে ঢাকা ছাড়তে পারলেও যারা রাজধানীতে রয়ে গেছেন, তারা এখন ‘ঘরবন্দী’। স্বাধীনতা দিবসের আগে বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতিকে যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে সবাইকে ঘরে থেকে এ যুদ্ধ জয়ের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

সকাল থেকে রাজধানীসহ সারা দেশেই সেনাবাহিনীর তৎপরতা দেখা যায়। মানুষের ‘অহেতুক’ রাস্তায় ঘোরাঘুরি বন্ধে তৎপর ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অপ্রয়োজনে রাস্তায় বের হলেই পড়তে হচ্ছে পুলিশের সামনে; মৃদু পিটুনির খবরও পাওয়া গেছে। কান ধরে উঠবোসও করতে হয়েছে বিনা কারণে রাস্তায় বের হওয়ার অপরাধে। এ অবস্থায় রাজধানীর রাজপথ-অলিগলি হয়ে পড়ে প্রায় জনশূন্য। মাঝেমধ্যে একান্ত প্রয়োজনে বের হওয়া কিছু যানবাহন আর রিকশার ঘণ্টার আওয়াজ কানে আসে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটা ছাড়া পারতপক্ষে মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছে না।

বৈশ্বিক মহামারী রূপ পাওয়া কভিড-১৯ প্রতিরোধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ লকডাউন ঘোষণার পর বাংলাদেশে এর সংক্রমণ এড়াতে আগেই বন্ধ করা হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর পরও আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ছুটি ঘোষণা করে সরকার। বন্ধ হয় বিপণিবিতান, গণপরিবহন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে কাজ করেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। আইএসপিআর জানায়, বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের বাংলাদেশে সংক্রমণ এবং বিস্তৃতির ঝুঁকি বিবেচনায় সরকারের সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ মার্চ থেকে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

গতকাল সেনাবাহিনীর ২৯০টি দল দেশের ৬১টি জেলায় করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একযোগে কাজ করেছে। বাইরে কোনো ক্যাম্প স্থাপন না করে স্থানীয় সেনানিবাসগুলো থেকেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেনাবাহিনী। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে সেনাবাহিনী বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোয় সামাজিক দূরত্ব ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জনগণকে উৎসাহিত করছে। পাশাপাশি তারা বিদেশফেরত ব্যক্তিদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনের বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করছে। এ কার্যক্রমে সেনাবাহিনীর আড়াই হাজারের বেশি সদস্য যুক্ত রয়েছেন বলে জানায় আইএসপিআর।

১৭ পদাতিক ডিভিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারীতে রূপ নিয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়ায় বাংলাদেশ এ ভাইরাসের সংক্রমণের ক্ষেত্রে বিশেষ ঝুঁকির মধ্যে আছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার বদ্ধপরিকর। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানে সারা দেশে সশস্ত্র বহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ পদাতিক ডিভিশন সিলেট বিভাগের চার জেলা সিলেট, মৌলভীবজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে ২৪ মার্চ থেকে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় নিয়োজিত রয়েছে। সেনাসদস্যরা মূলত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, যে কোনো সমাবেশ, জনসমাবেশ, জনসমাগম প্রতিহত করা এবং বিদেশফেরত ও সন্দেহভাজন সংক্রমিত ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতে বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা প্রদান করছেন। বিশেষ ক্ষেত্রে জনসাধারণকে আইন মানতে বাধ্য করা, বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়ানো ও মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার অপপ্রায়স রোধকল্পে সেনাসদস্যরা প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ঢাকা এখন ফাঁকা

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গতকাল শুরু হয়েছে সাধারণ ছুটি। গণপরিবহন, দোকানপাট বন্ধ হওয়ার পর ফাঁকা হয়েছে রাজধানী ঢাকা। সকাল থেকে ঢাকার সড়কে জনসাধারণের চলাচল ছিল খুবই কম। দু-একটি রিকশা, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার ছাড়া তেমন কোনো পরিবহনও ছিল না রাস্তায়। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে সেনাটহল।

আবার কোথাও কোথাও জনসচেতনতা বাড়াতে মাইকিং করতে দেখা যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। ওষুধ ও মুদিদোকানের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকানগুলো খোলা থাকলেও বেচাকেনায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। তবে পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষের চলাচল কিছুটা লক্ষ্য করা গেছে। রাজধানীর দনিয়া, যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান, পুরানা পল্টন, কাকরাইল, মগবাজার, হাতির ঝিল, গুলশান এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে।

যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা ছিল একেবারেই ফাঁকা। কোনো গণপরিবহন ছিল না সড়কে। গুলিস্তানের রূপ যেন একেবারেই অচেনা। ঈদ বা অন্য বড় ছুটিগুলোতেও গুলিস্তানের ফুটপাথে থাকে হকারদের হরেক পণ্যের পসরা। তবে গতকাল এমন চিত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি। পুরানা পল্টনের চিরচেনা যানজটও ছিল না গতকাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার প্রবেশপথগুলো বাঁশ বেঁধে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মগবাজার ছিল একেবারেই ফাঁকা। দু-একজন পথচারী ছাড়া দেখা যায়নি কোনো যানবাহন। গুলশানে ছিল শুনশান নীরবতা। হাতির ঝিলে ছিল না দর্শনার্থীর ভিড়। সকাল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন সড়কে সেনাবাহিনীর টহল দেখা গেছে। জনসচেতনতা বাড়াতে পুলিশের গাড়ি থেকে মাইকিং করতেও দেখা গেছে।

এদিকে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে নগরীর বিভিন্ন স্থানে নিম্ন আয়ের মানুষদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করতেও দেখা গেছে। বরিশালে রাস্তাঘাট ছিল অনেকটাই জনমানবশূন্য। বাস টার্মিনাল, নদীবন্দর, এমনকি নগরের অভ্যন্তরেও সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ ছিল। ওষুধ ও মুদিদোকান ছাড়া বন্ধ ছিল সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। করোনা এড়াতে জনগণকে নিজ ঘরে রাখতে টহল দিতে দেখা যায় সেনাবাহিনী। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করে জনসমাগম রোধে কাজ করছে পুলিশ। করোনার হাত থেকে নিজেকে এবং অন্যকে নিরাপদ রাখতে সরকারি নির্দেশ মেনে সবাইকে নিজ নিজ ঘরে অবস্থানের অনুরোধ করেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী।

গাজীপুরে গাজীপুরে হাসপাতাল, কাঁচাবাজার, খাবার ও ওষুধের দোকান ছাড়া সব ধরনের বিপণিবিতান ও শপিং মল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। করোনা প্রতিরোধে গতকাল সকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এ গণবিজ্ঞপ্তিতে। এদিকে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ব্যস্ততম ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সকাল থেকে অনেকটা ফাঁকা ছিল। বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, বাগেরহাটে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। মোংলা উপজেলায় বুধবার দুপুর থেকে নৌবাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।

গতকাল সকাল থেকে জেলা সদরসহ উপজেলাগুলোয় সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। শুধু খোলা রয়েছে ওষুধ, জ্বালানি, মুদি, তরিতরকারি ও মাছের দোকান। রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে গেছে। মাস্ক পরে লোকজন চলাচল করছে।

বদরগঞ্জে (রংপুর)  গতকাল পৌরশহরের বাজার ঘুরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যস্ততম সড়ক জনমানবহীন হওয়ার দৃশ্যই চোখে পড়ে। সেই সঙ্গে চোখে পড়ে কাঁচাবাজারের দোকানগুলোর পাশে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্ধারিত দূরত্ব চিহ্ন, যেখান থেকে ক্রেতারা একজন আরেকজনের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে মালামাল কিনবেন।

ফেনীতে জেলায় পূর্বঘোষণা অনুযায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী ও ওষুধের দোকান ছাড়া বন্ধ রয়েছে সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। সকাল থেকে শহরজুড়ে চলে সেনাসদস্যদের টহল। ফলে লোকসমাগম কম দেখা গেছে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে মাঠে আছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

চুয়াডাঙ্গায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গণপরিবহন ও বেশির ভাগ ব্যবসা কেন্দ্র বন্ধ থাকায় অঘোষিত লকডাউনে পরিণত হয়েছে শহর। সকাল থেকে জেলা থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার কোনো রুটে বাস চলাচল করতে দেখা যায়নি। ছোটখাটো যান চলাচলও ছিল সীমিত। রাস্তাঘাট ছিল অনেকটা জনমানবহীন।

ঝিনাইদহে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে ঝিনাইদহে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন করেছে পুলিশ বিভাগ। সকালে পুলিশ লাইনসে টিম গঠন করে তাদের বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান। পরে থানা ও ডিবি পুলিশ শহরের পোস্ট অফিস মোড়, হামদহ, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, পাগলা কানাই এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে টহল দেয়।

ঝালকাঠিতে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সিভিল প্রশাসনকে সহায়তা করতে গতকাল প্রথমবারের মতো ঝালকাঠিতে সেনাবাহিনীর টহল শুরু হয়েছে। সকালে পটুয়াখালীর লেবুখালী শেখ হাসিনা সেনানিবাস থেকে দুটি গাড়িতে করে ঝালকাঠিতে পৌঁছায় সেনাবাহিনীর একটি দল। সেনাবাহিনী মাইকিং করে সতর্ক করছে। একান্ত প্রয়োজনে মাস্ক ছাড়া বের হলে এবং অযথা ঘোরাঘুরি করলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয় তারা।

কুড়িগ্রামে কুড়িগ্রামে করোনা প্রতিরোধে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সকাল থেকে মাঠে নামে সেনাবাহিনী। এতে একজন ক্যাপ্টেন সহায়তায় মাঠে রয়েছেন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যৌথ মোবাইল টিমের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন এলাকায় তাদের টহল দিতে দেখা যায়। বুধবার রাত থেকে শিশুখাদ্য ও ওষুধের কিছু দোকান ছাড়া সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল।

শরীয়তপুরে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ওষুধ, কাঁচামাল, খাদ্যদ্রব্য ও প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের দোকান ছাড়া জেলার শপিং মল, হোটেল, ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে নড়িয়া উজেলায় ইতালিপ্রবাসী বেশি হওয়ায় সেখানেও বেশ গুরুত্বের সঙ্গে সেনাবাহিনীর টিম কাজ করছে বলে জানা গেছে।

 করোনা মোকাবিলায় পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা পুলিশদের নিরাপদে দায়িত্ব পালনের জন্য সুরক্ষা (পিপিই) মাস্ক ও ১ হাজার হ্যান্ড গ্লাভস হস্তান্তর করেছেন।

শেরপুরে করোনা ঠেকাতে লকডাউন ঘোষণা হয়নি। কিন্তু শেরপুরে অঘোষিত লকডাউন চলছে। বুধবার রাত থেকে দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ হওয়ায় এবং দোকানপাট বন্ধ থাকায় জেলা শহরে চলছে শুনশান নীরবতা। ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের গুটিকয় দোকান ছাড়া সব বন্ধ।

চট্টগ্রামে বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে ঘরবন্দী মানুষ। অনেক জায়গায় চলছে নিজ উদ্যোগ হোম কোয়ারেন্টাইন। সবার মধ্যে ভর করেছে আতঙ্ক, উদ্বেগ, শঙ্কা ও উৎকণ্ঠা। গতকাল স্বাধীনতা দিবস হলেও নগরীর কোথাও উদযাপিত হয়নি। নগরের প্রধান সড়কে কোনো যানবাহন, পথচারী ও সাধারণ মানুষকে চলাচল করতে দেখা যায়নি। সড়ক ও গলিগুলোও মানবশূন্য। গণমাধ্যমকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ওষুধ ও খাবারের দোকানি এবং স্বল্প আয়ের হাতেগোনা কিছু মানুষ ছাড়া কাউকেই সড়কে দেখা যায়নি। গতকাল সকাল থেকে প্রশাসনের সঙ্গে মাঠে কাজ করছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। শহরের সড়ক, অলিগলিতে টহল দেওয়া হচ্ছে। চলছে সচেতনতামূলক মাইকিং।

নারায়ণগঞ্জে নারায়ণগঞ্জ প্রশাসনের আলটিমেটামের পর চিরচেনা শহর এখন অচেনা নগরীতে পরিণত হয়েছে। বুধবার রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার শহরে জনসমাগম বজায় থাকায় কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। রাস্তায় নামিয়ে দেন পুলিশ। এর পরই রাত থেকে ফাঁকা হতে থাকে শহর। গতকাল সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত শহর ও শহরতলি সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় প্রায় জনমানবশূন্য। রাস্তায় রিকশা ছাড়া ছিল না কোনো যানবাহন। শহরজুড়ে স্প্রে করা হয় জীবাণুনাশক পানি।

মানিকগঞ্জে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জে বাসস্ট্যান্ডসহ কোথাও লোকজনের জটলা দেখা যায়নি। কিছু পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করলেও গণপরিবহন একেবারেই বন্ধ। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া লোকজনকে ছোট ট্রাকে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানিকগঞ্জে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান ছাড়া অন্যান্য দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তার জন্য ইতিমধ্যে হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ রয়েছে। নেই আগের মতো জনসমাগম। জরুরি প্রয়োজনে কিছু লোক বের হলেও বাকিরা রয়েছেন বাড়িতে।

নাটোরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টিতে জেলায় সেনাবাহিনীর টহল চলছে। গতকাল সকাল থেকেই সেনাসদস্যরা বিভিন্ন স্থানে টহল দিতে শুরু করেন। করোনা আতঙ্ককে কাজে লাগিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম যেন কেউ বাড়াতে না পারেন সে বিষয়টি তারা নিশ্চিত করছেন। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করেই সেনাসদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন।

সাভারে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সাভার ও আশুলিয়ার পোশাকশিল্প এলাকায় শুরু হয়েছে সেনাটহল। প্রবাসীদের পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থানকারী বিদেশিরা হোম কোয়ারেন্টাইন মানছেন কি না তা কঠোরভাবে তদারকি শুরু হয়। সকাল থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সহযোগিতায় টহল শুরু করেন সেনাসদস্যরা। এ সময় তারা বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় গিয়ে অযথা রাস্তায় অবস্থান না নিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। ভিড় এড়িয়ে বাসায় ফিরে যেতে মাইকিংও করেন তারা। না মানলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন সেনাসদস্যরা।

দিনাজপুরে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসমাগম এড়াতে মাঠে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছেন সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। জেলায় যাত্রী পরিবহনসহ যান চলাচল নিরুৎসাহিত করতে রাস্তায় রাস্তায় অভিযান চালাচ্ছেন তারা। টহল দেওয়ার পাশাপাশি করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে হ্যান্ডমাইকে প্রচারণা চালাচ্ছেন সেনাসদস্যরা। মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে শহরে টহল দিচ্ছেন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস যাতে না ছড়ায় সে জন্য সড়কে জীবাণুনাশক স্প্রে করতে দেখা গেছে ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের।

ময়মনসিংহে গণপরিবহন বন্ধ থাকার ঘোষণা হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ময়মনসিংহে এখনো চলছে ইঞ্জিনচালিত ও ব্যাটারিচালিত গণপরিবহন। এ ছাড়া কাঁচাবাজারগুলোতেও নেই জনদূরত্ব। এমনকি বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের অধিকাংশই ব্যবহার করছে না নিরাপত্তা সামগ্রী। গতকাল বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দিঘারকান্দা বাইপাস এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে কয়েকটি যাত্রীবাহী বাস ময়মনসিংহে এসেছে। এ ছাড়া পিকআপ, ত্রি-হুইলার, সিএনজি ও মাহেন্দ্র এবং ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে চেপে গাদাগাদি করে যাতায়াত করছে সাধারণ মানুষ। তবে রেলস্টেশনসহ নগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলো জনশূন্য হয়ে পড়েছে। চা স্টলসহ দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে মাস্ক পরা ছাড়া কেউ রাস্তায় বের হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের কান ধরে ওঠবস করিয়েছেন। কাউকে কাউকে লাঠিপেটা করেছেন তারা। নগরীতে সেনাবাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টহল দিচ্ছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এর আগে সকালে কুমিল্লা সেনানিবাস থেকে বেঙ্গল ছয় সদস্যরা এসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৌঁছান। গতকাল সেনাবাহিনী শহরের টিএ রোড, হাসপাতাল রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় টহল দেয়। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের বেশ কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ আদালত শহরজুড়ে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করছেন। সকাল থেকেই হাসপাতাল, খাবারের দোকান, ফার্মেসি, মুদি দোকান ছাড়া সরকার নির্দেশিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

বগুড়ায় করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে ফাঁকা হয়ে গেছে শহর। জরুরি সেবা ছাড়া কোথাও কোনো দোকানপাট খোলা ছিল না। সাধারণ ছুটির প্রথম দিন গতকাল প্রায় জনশূন্য ছিল শহরের জিরো পয়েন্ট সাতমাথা। পুলিশ, সেনাসদস্য, র‌্যাব সদস্যদের এ সময় বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে। স্বাধীনতা দিবসের কোনো অনুষ্ঠানও ছিল না। সকালে শহরের সাতমাথায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ও কর্মীরা জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটিয়েছেন।

খাগড়াছড়ি জেলায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ছিল প্রশাসনের কঠোর নজরদারি। রাস্তাঘাট ফাঁকা। খোলেনি দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটের যান চলাচল। সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ভোর থেকে সব ধরনের যান চলাচল নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। জনসমাগম এড়াতে মাঠে নেমেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। টহলে আছে সেনাবাহিনী।

ফরিদপুরে করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জেলায় ওষুধ ও খাবারের দোকান ছাড়া সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে জেলা প্রশাসন। পুরো জেলায় অঘোষিত কারফিউ চলছে। কেউ বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। দোকানে আসা কাস্টমারদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার জন্য তিন থেকে পাঁচ ফুট দূরত্বে লাল রঙের গোল চিহ্ন দিয়ে রাখা হয়েছে।

দেশসংবাদ/বিডি/এনকে


আরও সংবাদ   বিষয়:  লকডাউন   করোনাভাইরাস  




আপনার মতামত দিন
আরো খবর
করোনা আপডেট
ইউনাইটেডে আগুনে পুড়ে ৫ করোনা রোগীর মৃত্যু
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
English Version
More News...
সম্পাদক ও প্রকাশক
এম. হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
এনামুল হক ভূঁইয়া
যোগাযোগ
ফোন : ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবা : ০১৭১৩ ৬০১৭২৯, ০১৮৪২ ৬০১৭২৯
ইমেইল : [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
logo
up