অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনের সময় শেষ হয়েছে মন্তব্য করে এখন ‘এক্সিট পলিসি’ নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও সিপিডি’র সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
বুধবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে ‘ডেমোক্র্যাসি ডায়াস বাংলাদেশ’ আয়োজিত এক সেমিনারে এ পরামর্শ দেন তিনি।
ডা. দেবপ্রিয় বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপকে পরবর্তী সরকার কী পরিমাণ বৈধতা দেবে, তা এখনই চিন্তা করতে হবে। বিশেষ করে যেসব সংস্কার কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারে পরিপূর্ণ স্বচ্ছতা প্রয়োজন। এখন এক্সিট পলিসি ও অর্জনের স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়ার সময় এসেছে।’
সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, ‘সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছু নয়, আবার প্রয়োজনের কমও নয়—এমন ভারসাম্যপূর্ণ সংস্কার নীতিই গ্রহণযোগ্য। নইলে আমরা আবারও অসংস্কার প্রক্রিয়ায় ফিরে যাবো।
ক্ষমতা হস্তান্তর বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘যখন কোনও রাজনৈতিক শক্তি সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে ব্যর্থ হয়, তখনই রাষ্ট্র ব্যবস্থায় চরম দুর্বলতা দেখা দেয়। তখনই জরুরি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন দেখা দেয়, যা কখনও কখনও অবাঞ্ছিত পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে।’
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস বলে দুর্বল রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন না থাকার কারণে অন্তর্বর্তী সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসেছে। ইতিহাস বলে রাষ্ট্র ব্যবস্থার এই রকম ভঙ্গুর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এরশাদ সাহেবের শেষের দিকে, আমরা ‘৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করার মধ্য দিয়ে তা কাছে থেকে দেখেছি।
সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেন, সংস্কারের নামে সময়ক্ষেপণ করে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে এই সরকার। নির্বাচন অক্টোবরে হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। বলেন, পিআর পদ্ধতি ভালো হলেও এখন তা সময়োপযোগী নয়।
সভায় আরও অংশ নেন- বিশিষ্ট নাগরিক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বক্তারা সুশাসন, গণতন্ত্র ও নীতিনির্ধারণে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়-দায়িত্ব ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করেন।