ক্ষুধায় ৩০ কোটি মানুষ মারা যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ
খাবার সংকটে পড়ে ক্ষুধায় বিশ্বের ৩০ কোটি মানুষ মারা যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। গত এক বছরে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা তৈরির কারণে জাতিসংঘ এ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
জাতিসংঘ শুক্রবার (১৬ মে) ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস (জিআরএফসি)’ প্রকাশ করে, যেখানে এসব তথ্য ওঠে এসেছে।
নতুন এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ নিয়েও কথা বলেছে জাতিসংঘ। যার ভিত্তিতে এক বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
ওই প্রতিবেদনের বলা হয়, গত এক বছর এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ছিল বাংলাদেশ। এশিয়ার চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় থাকা মানুষের মধ্যে ৩৬ শতাংশই বাংলাদেশের। এর পেছনে প্রধান কারণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় রিমালের ক্ষয়ক্ষতির কথাও উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে গত অক্টোবর-ডিসেম্বরে যত মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ছিল, এই সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে বেশি।
এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাপক বন্যা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার সম্মিলিত প্রভাবের কারণে বাংলাদেশ এশিয়া অঞ্চলের বৃহত্তম খাদ্য সংকটে থাকা এলাকায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশসহ এশিয়ার ৫ দেশের ২৯ শতাংশ মানুষ চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি। সংখ্যায় এটি প্রায় ৭ কোটি।
এই প্রতিবেদনের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, ইসরায়েলি আগ্রাসনে যুদ্ধবিধ্বস্থ গাজা ও গৃহযুদ্ধে থাকা সুদানে ক্ষুধায় মৃত্যুর সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। জাতিসংঘের ধারণা করা ৩০ কোটির মধ্যে ৯৫ শতাংশই এ দুটি অঞ্চলে ঘটার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া গ্যাং সহিংসতায় জর্জরিত দক্ষিণ অ্যামেরিকার দেশ হাইতি, বিদ্রোহী ও সরকারের দ্বন্দ্বে থাকা আফ্রিকার দেশ মালি, কঙ্গো ও দক্ষিণ সুদানেও তীব্র খাবার সংকটের কথা বলা হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে মিয়ানমারে খাদ্য সংকট তৈরির সম্ভাবনার কথা বলা হলেও গাজা বা সুদানের মতো তীব্র নিরাপত্তাহীনতার কথা বলা হয়নি।
শুক্রবার প্রকাশিত খাদ্য সংকট সংক্রান্ত ২০২৫ সালের বৈশ্বিক প্রতিবেদন অনুসারে, ৫৩টি দেশ ও অঞ্চলের ২৯ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি, যা গবেষণার আওতায় থাকা মোট জনসংখ্যার ২২.৬ শতাংশ। প্রতিবেদনে ৩৬টি দেশ এবং অঞ্চল চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে দীর্ঘস্থায়ী খাদ্য সংকট রয়েছে। এসব এলাকায় ২০১৬ সাল থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ প্রতি বছর চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হচ্ছেন।
এ ছাড়া ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ভয়াবহ স্তরের সম্মুখীন হওয়া মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২৪ সালে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ ছিল অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও যুদ্ধ।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে এমন ১৯টি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে যেখানে যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে ক্রমাগত পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে। এসব দেশের তালিকায় মিয়ানমার, নাইজেরিয়া ও কঙ্গো রয়েছে। এ ছাড়া খরার মতো পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে ইথিওপিয়া, কেনিয়া, সোমালিয়া, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে।