Desh Sangbad
Desh Sangbad
শিরোনাম: ■ খুলনায় আদালত চত্ত্বরে গুলি ও কুপিয়ে দুই দুজনকে হত্যা ■ জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি ■ সোমবার থেকে সেন্টমার্টিন যাবে পর্যটকবাহী জাহাজ ■ রংপুর-নীলফামারী রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ ■ গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মৃত্যু ছাড়াল ৭০ হাজার ■ এশিয়ার চার দেশে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস, মৃত্যু ৬০০ ■ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ
৮ ঘণ্টার পথ শেষ হচ্ছে না ১৮ ঘণ্টাতেও
Published : Friday, 6 June, 2025 at 6:00 PM

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে গাবতলী থেকে গাড়িতে উঠলাম। আজ সকাল সাড়ে দশটায় এসে মডার্ন মোড়ে নামলাম। টানা ১৮ ঘণ্টা গাড়িতে দাঁড়িয়ে, বসে কষ্ট করে এলাম। পুরো সড়কে শুধু জ্যাম আর জ্যাম। সাভার, বাইপাইল, নবীনগর, চন্দ্রা, এলেঙ্গা, যমুনা সেতু- ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকেছি। সেতুর এ প্রান্তে সিরাজগঞ্জ মোড়, পলাশবাড়ী, গোবিন্দগঞ্জ ও শঠিবাড়ি এলাকাতেও যানজট ছিল। গরম ও যানজটে অনেক কষ্ট হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বাড়ি ফিরতে পারছি, এটাই আনন্দ।’

টানা ১৮ ঘণ্টার ঈদযাত্রা শেষে রংপুর নগরীর প্রবেশদ্বার মডার্ন মোড় এলাকায় এসে ট্রাক থেকে নেমে কথাগুলো বলছিলেন আব্দুল মমিন নামে এক যুবক। রাজধানী ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার বুড়িরহাটে এই যুবকের বাড়ি।

তিনি জানান, গাবতলীতে দ্বিগুন দামে টিকেট বিক্রি হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে তেমন তদারকি নেই। যে যার কাছে যেমন পাচ্ছে তেমন ভাড়া নিচ্ছে। দুই হাজার টাকা বাসের টিকেট, এ কারণে ট্রাকে পাঁচশ টাকা দিয়ে কষ্ট করে ঢাকা থেকে রংপুরে এসেছেন। আগে যেখানে আট থেকে নয় ঘণ্টা সময় লাগতো, সেখানে ১৮ ঘণ্টা সময়েও পুরো পথ শেষ হয়নি তার। মডার্ন মোড় থেকে তিনি সিএনজি অথবা অন্য কোনো বাহনে করে তারাগঞ্জে যাবেন।

শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রংপুরের প্রবেশদ্বার মডার্ন মোড়ে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে অনেককেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস, ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে করে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। যেন ঈদযাত্রার শেষ দিনেও ভোগান্তির শেষ নেই।

যাত্রীরা বলছেন, তীব্র রোদে খোলা গাড়িতে করে ঈদযাত্রা কিছুটা কষ্টকর মনে হলেও সড়কে বড় ধরনের কোনো হয়রানি বা দুর্ঘটনা নেই। তবে এবারও মহাসড়কে যানজট, টিকেট সিন্ডিকেট, পথে পথে ভোগান্তিতে সবচেয়ে বেশি কষ্টের শিকার হয়েছেন বয়স্ক নারী-পুরুষ ও শিশুরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে রংপুর বিভাগের উদ্দেশে ছেড়ে আসা বাসগুলোতে যাত্রী ভরপুর। বাস তো বটেই ট্রাক ও পিকআপভ্যানে জায়গা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে তাদের জন্য। ঢাকা থেকে রংপুরমুখী প্রতিটি যানবাহনেই রয়েছে যাত্রীর ভিড়। ঘরমুখো মানুষের চাপে যানবাহনের ছোট জায়গাও যেন হয়ে উঠেছে মূল্যবান। যাত্রীদের বেশিরভাগই পোশাক শ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষ।
মডার্ন মোড়ে বাস থেকে নেমে গন্তব্যে যেতে রিকশায় চড়েন জহুরুল ইসলাম নামে আরেক যাত্রী। তিনি ঢাকার কল্যাণপুর থেকে বাসে করে রংপুরে এসেছেন প্রায় ১৬ ঘণ্টায়। এজন্য তাকে ১৮০০ টাকা বাসভাড়া গুনতে হয়েছে।

জহুরুল ইসলাম বলেন, পরিবার ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে আয় রোজগার করছি। বছরে দুইবার পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে ঈদ উদযাপন করতে আসি। গতবারের চেয়ে এবার কষ্টটা একটু বেশি মনে হলো। সড়কে সেনাবাহিনী-পুলিশ সবাই আছে, তারপরও তীব্র যানজটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়েছে।

সেলিম-জহুরুলের মতো অন্যদের কাছেও ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। সেই ঈদের আনন্দ পরিবারের সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করতে ঈদ এলেই ছুটিতে বাড়ি যান তাদের মতো হাজারো কর্মমুখী মানুষ।

ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পিকআপভ্যান ও ট্রাকে চড়ে রংপুর বিভাগের হাজারো নারী-পুরুষকে বাড়ি ফিরতে দেখা যায়। শুধু ট্রাক বা পিকআপভ্যান নয় এ যাত্রায় বাহন হিসেবে রয়েছে বাস, মাইক্রোবাসসহ ছোট ছোট গণপরিবহনও।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মুনসুর আলী স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে বাস না পেয়ে একটি খোলা পিকআপে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। তিনি বলেন, যানজটের কারণে ভোগান্তি দ্বিগুণ হয়েছে। একই কথা জানান রাজা। তিনি বলেন, ঈদের সময় তো বাড়ি আসতেই হবে। কিন্তু এভাবে খোলা গাড়িতে আসতে হবে এটা কল্পনাও করিনি।

রংপুর বিভাগের প্রবেশদ্বার গাইবান্ধা। এ জেলার গোবিন্দগঞ্জ থেকে পলাশবাড়ী পর্যন্ত মাত্র ১৭ কিলোমিটার মহাসড়কে। এই অল্প পথ পাড়ি দিতে যাত্রীদের সময় লাগছে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা!

যাত্রীরা বলছেন, অতিরিক্ত যানবাহন, মহাসড়কের পাশে বসা পশুর হাট, বৃষ্টিতে ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা এবং নির্মাণাধীন মহাসড়ক এই দুর্ভোগের মূল কারণ। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা জেলা পুলিশ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরাও।

ঢাকা থেকে গাইবান্ধায় ফেরা মিজানুর রহমান বলেন, গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় গাবতলী থেকে রওনা দিয়েছিলাম। আজ (শুক্রবার) বেলা সাড়ে ১১টায় গাইবান্ধায় নেমেছি। সবমিলিয়ে সময় লেগেছে প্রায় ১৮ ঘণ্টা। এখান থেকে আমার বাড়ি সুন্দরগঞ্জ যেতে আরও দুই ঘণ্টার বেশি লাগবে।

একই রকম অভিজ্ঞতার কথা জানান বাবুল শেখ নামের আরেক যাত্রী। তার ভাষায়, মহাখালী থেকে গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাস ছাড়ে। সকাল ৭টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ পৌঁছাই। এরপর গোবিন্দগঞ্জ থেকে পলাশবাড়ি পর্যন্ত মাত্র ১৭ কিলোমিটার পথে ৫ ঘণ্টা আটকে ছিলাম। স্ত্রী আর ছোট বাচ্চাকে নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

ভাড়া দ্বিগুণ নেওয়ার অভিযোগও এসেছে। ঢাকায় রাত ৯টায় বাসে উঠে গাইবান্ধা পৌঁছানো সুমন চন্দ্র বর্মন বলেন, ১৫ ঘণ্টা লেগেছে। ভাড়া দিয়েছে ১ হাজার ১০০ টাকা, যা স্বাভাবিক সময়ের দ্বিগুণ।

কুড়িগ্রামের যাত্রীদেরও একই অভিযোগ। আজিমুল, রকি মিয়া ও শাহিন হোসেন নামে তিন পোশাক শ্রমিক বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় রওনা দিয়েছি, শুক্রবার দুপুর ১২ টায় কুড়িগ্রামে পৌঁছেছি। টাঙ্গাইল বাইপাইল, সিরাজগঞ্জ ও গোবিন্দগঞ্জে ভয়াবহ যানজট। এরকম যানজট গত ৭ বছরে দেখি নাই।

মডার্ন মোড়ে কথা হলে ট্রাকচালক মতিউর রহমান জানান, ঈদে তো এই ট্রিপ আমি নিতে চাই না। সবাই ধরলো। আর নিলে তো লাভ যদিও আসা লাগবে খালি। জনপ্রতি ৫শ থেকে ৮০০ টাকা করে নিচ্ছি। মালামাল থাকলে সেটা ফ্রি নিয়ে নেই।

এদিকে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রংপুর নগরীর মডার্ন মোড়ে দেখা যায়, বাস, ট্রাক ও পিকআপভ্যান থেকে ঘরমুখো মানুষ নামছেন। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বাসে মডার্ন মোড় নেমে অন্য বাসে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে যাচ্ছেন সেসব জেলার বাসিন্দারা।

ট্রাকে ঢাকা থেকে প্রায় ১৪ ঘণ্টা যাত্রা শেষে রংপুরে পৌঁছান জিকরুল ইসলাম। সঙ্গে তার এলাকার আরও কয়েকজন পোশাকশ্রমিক রয়েছে। জিকরুল বলেন, ঝুঁকি তো থাকেই। বাসের তুলনায় ট্রাকে ভাড়া কম কিন্তু কষ্ট বেশি। বাসের যাত্রীদেরও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

সড়কে যানজট প্রসঙ্গে গাইবান্ধা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আশরাফুল আলম বাদশা বলেন, ঢাকা থেকে গাইবান্ধায় ফিরতে এখন ১৪ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। বিশেষ করে গোবিন্দগঞ্জ-পলাশবাড়ি অংশে দুর্ভোগ বেশি। অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য পরিবহন, অস্থায়ী পশুর হাট, বৃষ্টির কারণে ভেজা রাস্তা এবং নির্মাণাধীন সড়কে জমে থাকা পানিই এই যানজটের প্রধান কারণ।

এদিকে ঈদে ঘরে ফেরার দীর্ঘ যাত্রাপথে অসুস্থ হওয়া যাত্রীদের সেবা দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দিয়েছে র্যাব ও পুলিশ। ঘরমুখো যাত্রীদের সমস্যা ও ভোগান্তি কমাতে মডার্ন মোড়ে অস্থায়ী সেবাকেন্দ্র স্থাপন করার পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্সও। এই সেবা ঈদের পরবর্তী সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে জেলা র‍্যাব ও পুলিশ।

এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী বলেন, ঈদে ঘরে ফেরা মানুষেরা অনেক সময় পথে বিপদগ্রস্ত হন। তাদের সাহায্য করার মতো কেউ থাকে না। তবে এখন র‍্যাব ও পুলিশ সদস্যরা তাদের সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত। এ ছাড়া চিকিৎসা সহায়তার জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে

তিনি আরও বলেন, রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাতে না হয়, সে জন্য সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি। যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে যানজট সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাইওয়ে পুলিশ রংপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, বগুড়া-রংপুর-সৈয়দপুর-দশমাইল-বাংলাবান্ধা ২৫০ কিলোমিটার মহাসড়কটি যানজট ও অপরাধমুক্ত রাখতে হাইওয়ে পুলিশের অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় গোবিন্দগঞ্জ, বড়দরগা এবং তারাগঞ্জ হাইওয়ে থানা এলাকায় ৮টি দুর্ঘটনায় চারজন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১০-১২ জন।

এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কে জরুরি প্রয়োজনে সেবা দিতে ‘হ্যালো এইচপি’ অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এই অ্যাপে জরুরি সাহায্য বাটন চেপে মহাসড়কে যে কোনো পরিস্থিতিতে হাইওয়ে পুলিশের নিকটবর্তী টহল টিমের সাথে সয়ংক্রিয়ভাবে যোগাযোগ স্থাপন করা যাবে। এছাড়া মহাসড়কে যানজট, বিকল্প রাস্তা, ভাড়ার তালিকা, টোলের হারসহ নানা তথ্য পাচ্ছেন অ্যাপ ব্যবহারকারীরা।

দেশসংবাদ/এনএস


আপনার মতামত দিন
ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন, রেল যোগাযোগ বন্ধ
নিজস্ব প্রতিবেদক
Tuesday, 11 November, 2025
মেট্রোরেল কর্মীদের সব ছুটি বাতিল
নিজস্ব প্রতিবেদক
Sunday, 9 November, 2025
সব রুটে মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
Monday, 27 October, 2025
মেট্রোরেলে সময় ও ট্রিপ বাড়ছে
নিজস্ব প্রতিবেদক
Wednesday, 15 October, 2025
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
https://deshsangbad.com/ad/1699508455_1491666999_th.jpg
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
সম্পাদক
এম. মোশাররফ হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
ঠিকানা
৮০২ ভিআইপি রোড, কাকরাইল
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
Developed & Maintenance by i2soft
যোগাযোগ
ফোন: +৮৮ ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবাইল: +৮৮ ০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল: info@deshsangbad.com
up