ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের জেরে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ইরান। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির অবস্থান করা প্রায় ৭০ জন বাংলাদেশিকে পাকিস্তান হয়ে দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি চলছে।
ঢাকা, তেহরান ও ইসলামাবাদ থেকে কূটনৈতিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে প্রায় ২ হাজার ৫০০ বাংলাদেশি আছেন। এর মধ্যে প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৩০০ ব্যক্তিকে দূতাবাসের ব্যবস্থাপনায় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হতে পারে।
ইসরায়েলের হামলায় তেহরানের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে কূটনীতিকেরা থাকেন- এমন একটি এলাকায় অনেকগুলো বাসভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব ওয়ালিদ ইসলামের বাসভবনটিও রয়েছে। তবে হামলার সময় তিনি বাসার বাইরে ছিলেন।
বাংলাদেশ সময় বুধবার (১৮ জুন) ভোরে ফেসবুকে ওয়ালিদ ইসলাম বলেন, নৌবাহিনীর বেজক্যাম্পের পাশে অবস্থিত সবগুলো বাসায় গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তার নিজের বাসাটিও অক্ষত নেই- এমনটা তিনি শুনেছেন।
ইরান নৌবাহিনীর বেজক্যাম্পের পাশে হওয়ায় প্রতিটি বাসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে- এমনটা উল্লেখ করে ওয়ালিদ বলেন, আমার বাসার উদ্দেশে হামলা চালানো হয়নি।
এদিকে ইরানে ঝুঁকির মুখে থাকা বাংলাদেশিদের সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ টি এম আবদুর রউফ মণ্ডল বলেন, এ বিষয়ে মিশন (দূতাবাস) তৎপর রয়েছে। ঢাকা থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
কূটনৈতিক একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ দূতাবাসের কূটনীতিক ও কর্মীদের পরিবারের সদস্য সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ জন। তাদের মঙ্গলবার তেহরান থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। কূটনীতিক আর কর্মীরাও রাতে সেখানেই অবস্থান করেন। আজ সকালে আবার দূতাবাসে এসে কাজ করেছেন। রাতে আবার তাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। দিনের চেয়ে রাতে হামলা বেশি হওয়ায় তেহরানের বাইরে রাত কাটাতে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
সূত্রটি জানায়, বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে ইরান ছেড়ে যেতে ইচ্ছুক এমন ৭০ ব্যক্তিকে পাকিস্তান হয়ে স্থলপথে দেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চলছে। পাকিস্তান সরকার এ বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেশটির সরকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক সম্মতি পাওয়া ও তাদের পাঠাতে সপ্তাহখানেক লেগে যেতে পারে।
মঙ্গলবার ইসলামাবাদে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তা জানান, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ চলছে। তবে ইরান থেকে বাংলাদেশের নাগরিকদের প্রথম ব্যাচটি কবে নাগাদ পাকিস্তানে ঢুকতে পারবে, সে বিষয়ে এখন নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।