রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধরত ইউক্রেনকে স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে সুরক্ষা দিতে ইউরোপের ২৬টি দেশ যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এ ছাড়া দেশটির সুরক্ষায় একটি আন্তর্জাতিক বাহিনীও অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় নেতাদের এক সম্মেলনে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান ফরাসি প্রেসিডেন্ট। এ সময় তিনি জানান, সম্মেলনটির মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘যেদিন সংঘাত বন্ধ হবে, সেদিন থেকেই নিরাপত্তা গ্যারান্টি কার্যকর হবে।’ ফরাসি প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ এলিসি প্যালেসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির পাশে দাঁড়িয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সম্মেলনের পরে সাংবাদিকদের ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আজ আমাদের ২৬টি দেশ রয়েছে যারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে — কিছু দেশ এখনও তাদের অবস্থান জানায়নি — তারা নিশ্চয়তা প্রদানকারী বাহিনী ইউক্রেনে মোতায়েন করবে, বা স্থল, সমুদ্র কিংবা আকাশপথে উপস্থিত থাকবে।’
তিনি জানান, এই বাহিনী সরাসরি ফ্রন্টলাইনে মোতায়েন করা হবে না, বরং তাদের লক্ষ্য হবে নতুন কোনো বড় ধরনের আগ্রাসন প্রতিরোধ করা।
প্রথমে ম্যাক্রোঁ বলেছিলেন, এই ২৬টি দেশ ইউক্রেনে বাহিনী পাঠাবে, তবে পরে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, কিছু দেশ বাহিনী না পাঠিয়ে বিকল্পভাবে সহায়তা দেবে। তারা ইউক্রেনের বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহ করবে। তবে কতজন সৈন্য এতে যুক্ত থাকবে তা তিনি জানাননি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, অনেক দিন পর আজ প্রথমবারের মতো এতটা গঠনমূলক ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ সম্পর্কিত বিস্তারিত শিগগিরই চূড়ান্ত হবে বলে ম্যাক্রোঁ জানান।